বাংলাদেশী চুদাচুদি
রাতের বেলা ছেলে আমার ঘরের দরজায় কান
পেতে শুনে আমি একা একা কি করি গত কয়েক
রাত ধরে খেয়াল করছি ছেলে আমার ঘরের বাইরে
দাঁড়িয়ে থাকে রাতে যখন আমি ঘরে একা থাকি
তখন সে দরজার কাছে এসে দাঁড়ায় আজ রাতে
স্পষ্ট বুঝলাম সে কান পেতে শুনছে আমি কি
করছি আমি আস্তে করে দরজা খুলে দিলাম সে
চমকে উঠলো বললাম কি ব্যাপার কেন দাঁড়িয়ে
আছে সেখানে সে লজ্জা পেয়ে বলল কিছু না মা
শুধু আমি তাকে ভেতরে ডেকে নিলাম বললাম সব
খুলে বল সে আমার বিছানায় বসে বলল মা আমি
জানতে চাই তুমি রাতে একাকি করো তুমি কি
আমার মত একাকি বোধ করো আমি বললাম আমি তো
স্বাভাবিকভাবেই থাকি কেন সে আমার হাত ধরে
বলল মা আমি জানি তোমার মনে কোন শূন্যতা
আছে বাবা চলে যাওয়ার পর তুমি একা আমি
বললাম হ্যাঁ তা তো আছেই
সে আমার কাছে আরো এগিয়ে এসে বলল মা আমি
এই শূন্যতা পূরণ করতে চাই আমি চাই তুমি
রাতের বেলা একা না থাকো আমি অবাক হয়ে
বললাম মানে সে আমার চোখে চোখ রেখে বলল মা
আমি তোমাকে ভালোবাসি আমি চাই রাতে আমরা
একসাথে থাকি স্বামী স্ত্রী হিসেবে তুমি কি
আমাকে বিয়ে করবে আমি তোমার একাকিত্ব দূর
করে দেব আমার মাথা ঘুরছিল আমি বললাম তুই
কি বলছিস জানিস
সে বলল, মা আমি সিরিয়াস। আমি তোমাকে
সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি এই পৃথিবীতে। তুমি
রাজি হলে আমরা দূরে চলে যেতে পারি। এই
গল্পটি সম্পূর্ণ শুনলে আপনাদের পানি
অটোমেটিক বের হয়ে যাবে। সো যত দ্রুত
সম্ভব হাতের কাছে টিস্যু নিয়ে বসে পড়।
বিছানার চাদর যেন নষ্ট না হয় সেটা
সম্পূর্ণ খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়ে
গল্পটি এখন শুরু করব। তার আগে সর্বশেষ
অনুরোধ দয়া করে এমন পানি বের করার গল্প
নিয়মিত শুনতে আমাদের চ্যানেলটি সকলেই
সাবস্ক্রাইব করুন ধন্যবাদ হ্যালো বন্ধুরা
আমার নাম প্রিয়াঙ্কা দাস আমার বয়স 39
বছর আমার স্বামীর নাম সুব্রত দাস বয়স 52
বছর আমাদের দুই সন্তান শায়েন আর রিয়া
শায়েন 21 বছর বয়সী ইউনিভার্সিটিতে পড়ে
রিয়া 14 বছর বয়সী হাই স্কুলে যায়
আমার এই রহস্যময় গল্পটি শুরু হয়েছিল তিন
মাস আগে। আমার স্বামী সুব্রত দাস একটি
বিশেষ প্রজেক্টে কাজ করার জন্য বিদেশে চলে
গিয়েছিল। তার ফেরার তারিখ নির্দিষ্ট ছিল
না। আমি আর আমার দুই সন্তান শাইন আর রিয়া
একা বাড়িতে থাকতে শুরু করলাম। প্রথম
প্রথম সব স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু দিন যত
গড়াতে লাগলো আমি লক্ষ্য করলাম শাইনের
আচরণে অদ্ভুত পরিবর্তন আসছে। সে আগের
চেয়ে বেশি বাড়িতে থাকতে শুরু করল।
বন্ধুদের সাথে বেরনো বন্ধ করে দিল।
সারাদিন আমার আশেপাশেই ঘোরাঘুরি করতো।
রাতের বেলা যখন আমি আমার ঘরে যেতাম তখন সে
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতো। প্রথমে মনে
করেছিলাম হয়তো কোন কাজ আছে। কিন্তু দরজা
খুলে দেখতাম সে চলে যেত। এই ঘটনা প্রায়
প্রতিদিনই ঘটতে শুরু করল। একদিন রাতে আমি
স্পষ্ট শুনলাম দরজার কাছে কোন শব্দ আমি
চুপচাপ দরজার কাছে গিয়ে কান পাতলাম
বুঝলাম কেউ একজন বাইরে থেকে আমার ঘরের
ভেতরের শব্দ শোনার চেষ্টা করছে আমার গা
শিরশির করে উঠলো পরদিন সকালে সায়েনকে
ডেকে জিজ্ঞেস করলাম কাল রাতে তুই আমার
ঘরের দরজার বাইরে ছিলি সে একটু ইতস্তুত
করে বলল না মা আমি তো ঘুমিয়ে ছিলাম
কিন্তু তার চোখে যে অস্বস্তি দেখলাম সেটা
আমাকে কে সন্ধি আন করে তুলল। রিয়াকেও
জিজ্ঞেস করলাম। সে বলল, মা ভাইজা রাতে
অনেক উঠে। আমি শুনি সে বাথরুমে যায়।
তারপর তোমার ঘরের দিকে হাঁটাহাঁটি করে। কি
এই কথা শুনে আমার মনে আরো সন্দেহ জাগল।
সেই রাত থেকে আমি বেশ সতর্ক হয়ে থাকতে
শুরু করলাম। আমি লক্ষ্য করলাম শায়েন রাত
দুইটা তিনটার দিকে ঘর থেকে হয় এবং আমার
ঘরের দরজার কাছে এসে দাঁড়ায়। কখনো কখনো
সে দরজায় কান পেতে শোনার চেষ্টা করে আমি
কি করছি। একদিন রাতে আমি সাহস করে দরজা
খুলে দিলাম।শাইন চমকে উঠলো এবং তড়িঘড়ি
করে নিজের ঘরে চলে গেল। আমি বুঝলাম যে এই
বিষয়টি নিয়ে তার সাথে খোলামেলা কথা বলতে
হবে। পরের দিন সন্ধ্যায় রিয়া পড়তে বসার
পর আমি শাইনকে ডেকে বসার ঘরে নিয়ে গেলাম।
বললাম, শাইন আমাদের মধ্যে কথা বলতে হবে।
তুই রাতের বেলা আমার ঘরের বাইরে কেন
দাঁড়িয়ে থাকিস? শাইন প্রথমে অস্বীকার
করার চেষ্টা করল। কিন্তু যখন আমি স্পষ্ট
করে বললাম যে আমি তাকে দেখেছি তখন সে মাথা
নিচু করে বসে রইল। মা আমি জানি এটা ঠিক
না। কিন্তু বাবা চলে যাওয়ার পর থেকে আমার
মনে হচ্ছে তুমি একা। আমি ভাবছিলাম তুমি
হয়তো কাঁদো বা কোন সমস্যায় আছো গো। আমি
অবাক হয়ে বললাম, তাহলে তুই সরাসরি এসে
জিজ্ঞেস করতে পারিস না কেন? সে বলল আমি
ভয় পেয়েছিলাম তুমি রেগে যাবে আর আমার
মনে হয়েছিল হয়তো তুমি কোন গোপন কথা বলো
বা কাঁদো যেটা আমাকে বলতে চাও না আগে এই
কথা শুনে আমার মন একটু নরম হয়ে গেল আমি
বুঝলাম যে শায়েন আসলে আমার জন্য চিন্তিত
তার মনে হয়েছিল আমি একাকি বোধ করছি এবং
সে আমাকে সাহায্য করতে চায় শায়েন আমি
বললাম তোর চিন্তা করার দরকার নেই হ্যাঁ
বাবা নেই বলে মাঝে মাঝে একটু একা লাগে
কিন্তু আমি ঠিক আছি তুই আর রিয়া তো আছিস
গো। কিন্তু সায়েন মাথা নেড়ে বলল, না মা
আমি জানি তোমার মনে কষ্ট আছে। আমি দেখি
তুমি কখনো কখনো একা একা বসে থাকো এবং কোন
কিছু ভাবো। সেটা তো স্বাভাবিক। আমি বললাম
সবারই মাঝে মাঝে একা থাকতে ইচ্ছে করে।
শায়েন আমার কাছে আরো এগিয়ে এল এবং বলল,
মা আমি চাই তুমি সবসময় খুশি থাকো। আমি
চাই তোমার কোন কষ্ট না থাকে গিয়ে। তার এই
কথা শুনে আমার চোখে জল এসে গেল। আমি
বুঝলাম যে আমার ছেলে কতটা পরিপক্ক হয়ে
উঠেছে। সে তার মায়ের চিন্তা করে।শাইন
আমি বললাম, তোর এই চিন্তা দেখে আমি খুশি।
কিন্তু তুই যেভাবে রাতে আমার ঘরের বাইরে
দাঁড়িয়ে থাকিস সেটা ঠিক না। এতে আমার
অস্বস্তি হয়। সে মাথা নেড়ে বলল, আমি
জানি মা আমি আর এরকম করবো না আগে। কিন্তু
তারপরেও শায়েনের আচরণে আরো কিছু পরিবর্তন
আমি লক্ষ্য করলাম। সে আমার প্রতি অতিরিক্ত
যত্নশীল হয়ে উঠল। আমার জন্য চা বানিয়ে
দিত। খাবার পরিবেশন করত। এমনকি আমার
কাপড়-চোপড় গুছিয়ে রাখতো। একদিন রিয়া
আমাকে বলল, মা ভাইয়ার আচরণ কেমন যেন
অদ্ভুত লাগছে। সে সবসময় তোমার সাথে থাকতে
চায়ও। আমিও সেটা লক্ষ্য করেছিলাম। শাইন
আমার থেকে দূরে থাকতে চাইতো না। আমি
যেখানেই যেতাম সেও আমার পিছু পিছু আসতো।
একদিন সন্ধ্যায় আমি রান্নাঘরে রান্না
করছিলাম।শাইন শাইন এসে আমার পাশে
দাঁড়ালো। বলল, মা আমি তোমাকে সাহায্য
করতে পারি? আমি বললাম, তুই পড়তে যা গো।
কিন্তু সে আমার পাশেই দাঁড়িয়ে রইল। আমি
লক্ষ্য করলাম সে আমার দিকে এমনভাবে
তাকিয়ে থাকে যেটা একটু অস্বাভাবিক। শাইন
আমি বললাম, কি হয়েছে? তুই ঠিক আছিস তো?
সে একটু ইতস্থ করে বলল, মা আমি তোমাকে
একটা কথা বলবো। বল মা? আমার মনে হয় আমি
তোমাকে খুব বেশি ভালোবাসি গো। এই কথা শুনে
আমি একটু অবাক হলাম। মানে আমার মনে হয়
আমার তোমার প্রতি যে ভালোবাসা সেটা একটা
সাধারণ মা ছেলের ভালোবাসা থেকে আলাদা গো।
আমার মনে সন্দেহ জাগল। আমি রান্না বন্ধ
করে তার দিকে ফিরলাম। তুই কি বলতে চাইছিস?
শাইন মাথা নিচু করে বলল, মা আমি জানি এটা
ভুল। কিন্তু আমার মনে হয় আমি তোমাকে শুধু
মা হিসেবে নয় অন্যভাবেও ভালোবাসি গো।
আমার মাথায় যেন বাজ পড়ল। আমি বললাম
সায়েন তুই কি বলছিস? মা সে আমার দিকে
তাকিয়ে বলল আমি জানি এটা ঠিক না। কিন্তু
বাবা চলে যাওয়ার পর থেকে আমার মনে হচ্ছে
আমি তোমার যত্ন নিতে চাই। আমি চাই তুমি
সবসময় খুশি থাকো। আমি চাই তোমার সব দুঃখ
আমি দূর করে দিই। আমি গভীর শ্বাস নিয়ে
বললাম শায়েন তুই আমার ছেলে। তোর এরকম
চিন্তা করা উচিত না আগে। কিন্তু শায়েন
বলল, মা আমি কি তোমাকে খুশি রাখতে পারি
না? আমি কি তোমার সব দুঃখ দূর করতে পারি
না? আমি বুঝলাম যেশায়েনের মনে একটা
বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তার বাবার
অনুপস্থিতিতে সে নিজেকে পরিবারের পুরুষ
সদস্য হিসেবে দেখতে শুরু করেছে এবং এই
ভূমিকা পালন করতে গিয়ে সে একটু বেশি
দায়িত্বশীল হয়ে উঠেছে শাইন আমি ধৈর্য
ধরে বললাম তুই আমার ছেলে এবং তুই আমাকে
ভালোবাসি সেটা খুবই স্বাভাবিক কিন্তু তোর
বাবার জায়গা তুই নিতে পারিস না আগে সে
বলল কিন্তু মা আমি তো দেখছি তুমি একা
তোমার কেউ নেই কে আমি তুই আছিস রিয়া আছে
আর তোর বাবাও ফিরে আসবে গো। কিন্তু সায়েন
মাথা নেড়ে বলল, না মা আমি জানি তোমার মনে
শূন্যতা আছে। আমি সেই শূন্যতা পূরণ করতে
চাই। ও কথা শুনে আমি বুঝলাম যে বিশ্বাসটি
আরো গভীর।শায়েন শুধু দায়িত্বশীল হতে চাইছে
না। তার মনে কিছু ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে।
ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ করে দরজার কলিং
বেলখাজেল। আমরা দুজনেই চমকে উঠলাম। আমি
দরজার কাছে গিয়ে কে এসেছে দেখতে চেষ্টা
করলাম। দরজা খুলে দেখলাম আমার প্রতিবেশী
মিসেস সেন দাঁড়িয়ে আছেন তার চোখে মুখে
উদ্বেগের ছাপ প্রিয়াঙ্কা উনি বললেন তুমি
কি ঠিক আছো আমি তোমাদের বাড়ি থেকে
চিৎকারের শব্দ শুনেছি গো আমি অবাক হয়ে
বললাম চিৎকার আমরা তো চিৎকার করিনি
গেমিসেস সেন বললেন না আমি স্পষ্ট শুনেছি
মনে হচ্ছিল কেউ কাঁদছে এবং কেউ জোরে কথা
বলছে কে আমি পেছনে তাকিয়ে দেখলাম শাইন
রান্নাঘর থেকে বের হয়ে এসেছে। তার চোখে
একটা অদ্ভুত ভাব। মিসেস সেন আমি বললাম
আমরা শুধু সাধারণ কথাবার্তা বলছিলাম। হয়তো
আপনার ভুল শোনাগে। কিন্তু মিসেস
সেন্দিভাবে বললেন, না প্রিয়াঙ্কা আমি ভুল
শুনিনি। আর শুধু আজ নয়। গত কয়েকদিন ধরেই
আমি তোমাদের বাড়ি থেকে অদ্ভুত শব্দ শুনছি
গো। এই কথা শুনে আমার মনে সন্দেহদায়ও
জাগল। আমি বললাম, কি ধরনের শব্দ? রাতের
বেলা মনে হয় কেউ হাঁটাহাটি করে আর কখনো
কখনো মনে হয় কেউ কাঁদছে গিয়ে আমি শাইনের
[মিউজিক] দিকে তাকালাম সে মাথা নিচু করে
দাঁড়িয়ে আছে মিসেস সেন আমি বললাম আপনি
ভুল বুঝেছেন আমরা সবাই ঠিক আছি কিন্তু
মিসেস সেন বললেন প্রিয়াঙ্কা তোমার স্বামী
নেই তুমি একা দুই বাচ্চা নিয়ে আছো কোন
সমস্যা হলে আমাকে বলো আমি তাকে আশ্বস্ত
করে বিদায় দিলাম কিন্তু মনে মনে ভাবতে
লাগলাম মিসেস সেনের এর কথা কতটা সত্যি।
সেই রাতে আমি বিছানায় শুয়ে ভাবছিলাম
শায়েনের আচরণ নিয়ে। হঠাৎ আমার মনে পড়লো
তার বন্ধু অরিত্র কয়েকদিন আগে এসেছিল। সে
বলেছিল যেশাইন ক্লাসে [মিউজিক] যাচ্ছে না
এবং বন্ধুদের সাথে মেলামেশা বন্ধ করে
দিয়েছে। আমি বুঝলাম যেশাইনের মানসিক
অবস্থা নিয়ে আমাকে গভীরভাবে চিন্তা করতে
হবে। হয়তো তার কোন মনোবিজ্ঞানের সাহায্য
দরকার। পরের দিন সকালে আমি শাইনকে ডেকে
বললাম, শায়েন আমি চাই তুই একজন
কাউন্সিলরের সাথে কথা বলিস। সে তীব্র
প্রতিবাদ করল, কেন মা আমার কোন সমস্যা
নেই। তোর আচরণে কিছু পরিবর্তন এসেছে। আমি
চাই একজন বিশেষজ্ঞ তোর সাথে কথা বলুক।
শাইন রেগে গিয়ে বলল, আমি কোথাও যাবো না।
আমি শুধু তোমার যত্ন নিতে চাই। এ
প্রতিক্রিয়া দেখে আমি আরো চিন্তিত হয়ে
পড়লাম। আমি বুঝলাম যে বিশ্বাসটি [মিউজিক]
আমার ভাবনার চেয়েও জটিল। সেদিন বিকেলে
রিয়া স্কুল থেকে ফিরে এল। আমি তাকে ডেকে
জিজ্ঞেস করলাম, রিয়া তোর ভাইয়ার আচরণ
নিয়ে তুই কি মনে করিস? রিয়া একটু চিন্তা
করে বলল, মা ভাইয়া খুব অদ্ভুত হয়ে গেছে।
সে সবসময় তোমার কথা বলে। আর রাতে সে
ঘুমায় না। মানে আমি শুনি সে রাত জেগে
থাকে। আর তোর ঘরের দিকে যায়ও। এই কথা
শুনে আমার মনে আরো সন্দেহ জাগলো। আমি
বুঝলাম যেশায়ন আমার সাথে কথা বলার পরেও
তার আচরণ পরিবর্তন হয়নি। সেই রাতে আমি
সতর্ক হয়ে থাকলাম। রাত দুই টার দিকে আমি
শুনলাম কেউ আমার দরজার বাইরে হাঁটাহাটি
করছে। আমি চুপচাপ দরজার কাছে গেলাম। দরজার
বাইরে শাইন দাঁড়িয়ে কি যেন বিট পিট করছে।
আমি কান পেতে শোনার চেষ্টা করলাম। শুনলাম
সে বলছে মা আমি তোমাকে ভালোবাসি আমি তোমার
সব দুঃখ দূর করে দেব এই কথা শুনে আমার গা
শিরশির করে উঠলো আমি বুঝলাম যেশানের
মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক নেই হঠাৎ করে
আমার মোবাইলে একটা মেসেজ এল আমি দেখলাম
সেটা আমার স্বামী সুব্রতর কাছ থেকে সে
লিখেছে প্রিয়াঙ্কা আমার প্রজেক্টের কাজ
শেষ আগামীকাল দেশে ফির ছি গো। এই মেসেজ
পড়ে আমার মনে একটা স্বস্তি এলো। আমি
ভাবলাম সুভ্রত ফিরে এলে হয়তো শাইনের এই
অদ্ভুত আচরণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু
আমার এই ভাবনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।
কারণ দরজার বাইরে শাইনের পিটপিট আরো জোরে
হতে লাগলো। এবার সে বলছে, না বাবা এলে আমি
আর মায়ের কাছে থাকতে পারবো না। আমি চাইনা
বাবা ফিরুক। এই কথা শুনে আমার রক্ত
হিমিয়ে গেল। আমি বুঝলাম যে শায়েনের মনে
তার বাবার প্রতিও বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি
হয়েছে। আমি সাহস করে দরজা খুলে দিলাম।
শাইন চমকে উঠে আমার দিকে তাকালো। তার চোখে
একটা অদ্ভুত উন্মাদনার ভাব। শাইন আমি
বললাম তুই কি বলছিলি? সে প্রথমে কিছু বলতে
পারলো না। তারপর বলল, মা আমি শুধু বলছিলাম
যে আমি তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু তুই
বলছিলি যে তুই চাস না তোর বাবা ফিরুক।
কেন? সায়নের মুখ শক্ত হয়ে গেল। সে বলল,
কারণ বাবা এলে তুমি আর আমার প্রতি মনোযোগ
দিবে না। তুমি শুধু বাবার যত্ন নিবে। কি?
আমি অবাক হয়ে বললাম শাইন তোর বাবা তোর
পিতা তুই কেন তার বিরুদ্ধে এরকম কথা বলছিস
কারণ সে আমার কাছে এগিয়ে এসে বলল আমি চাই
শুধু আমি আর তুমি থাকি আমি তোমার সব দুঃখ
দূর করে দেব আমি তোমার সঙ্গী হতে চাই এই
কথা শুনে আমি পেছনে সরে গেলাম আমি বললাম
শাইন তুই কি বলছিস তুই আমার ছেলে কি না মা
সে দৃঢ়ভাবে বলল
আমি এখন পুরুষ হয়ে গেছি। আমি তোমার রক্ষক
হতে চাই। আমি চাই আমরা একসাথে দূরে কোথাও
চলে যাই। ও আমার মাথা ঘুরতে লাগল। আমি
বুঝলাম যেশাইনের মানসিক অবস্থা গুরুতর
পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তার মনে তার মা এবং
নিজের সম্পর্ক নিয়ে একটা বিকৃত ধারণা
তৈরি হয়েছে।শাইন
আমি কাঁপা গলায় বললাম, তুই নিজের ঘরে যা।
আমাদের এই কথা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু সে
আমার হাত ধরে বলল, মা আমি জানি তুমি আমাকে
ভালোবাসো। তুমি শুধু লজ্জা পাচ্ছো। কিন্তু
আমাদের মধ্যে কোন লজ্জার কিছু নেই। আমি
তার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললাম, শাইন তুই
এখনই নিজের ঘরে যা। আমি তোর সাথে এই ধরনের
কথা বলবো না আগে। কিন্তু শায়েন আমাকে
ছাড়তে চাইলো না। সে বলল, মা তুমি আমার
থেকে পালাতে পারবে না। আমি জানি তুমিও
আমাকে ভালোবাসো। হঠাৎ করে রিয়া তার ঘর
থেকে বের হয়ে এল। সে বলল, কি হচ্ছে? এত
জোরে কথা বলছো কেন? রিয়াকে দেখে শাইন
একটু থেমে গেল। আমি সুযোগ নিয়ে রিয়াকে
বললাম। রিয়া তুই তোর ঘরে যা। কিন্তু
রিয়া বলল, মা ভাইয়া কি বলছিল? আমি
শুনলাম সে বলছে তোমার সাথে দূরে
যাবে।শায়েন
রিয়ার দিকে রেগে তাকিয়ে বলল, তুই এসব কথায়
নাক গলাবি না। রিয়া ভয় পেয়ে আমার পেছনে
লুকিয়ে গেল। আমি বুঝলাম যে পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ঠিক সেই মুহূর্তে আমার মনে পড়লো আমার বোন
অনিতার কথা। সে মনোবিজ্ঞানী।
আমি ভাবলাম তার সাহায্য নিতে হবে। আমি
সায়েনকে বললাম, শায়েন তুই এখন নিজের ঘরে
যা। কাল আমরা এ বিষয়ে কথা বলব। শায়েন
অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজের ঘরে চলে গেল।
কিন্তু যাওয়ার সময় বলল, মা আমি ছেড়ে দেবো
না। আমি তোমাকে পেতেই হবে গো। এই কথা শুনে
আমার সারা শরীর কাঁপাতে লাগলো। আমি
রিয়াকে নিয়ে আমার ঘরে গেলাম এবং দরজা
বন্ধ করে দিলাম।
রিয়া ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল, মা ভাইয়ার
কি হয়েছে? সে কেন এরকম কথা বলছে? আমি
রিয়াকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম। বললাম,
রিয়া তোর ভাইয়ার মানসিক সমস্যা হয়েছে।
আমরা তার চিকিৎসা করাবো। সেই রাতে আমি আর
ঘুমাতে পারিনি। আমি সারারাত ভাবলাম কিভাবে
এই পরিস্থিতি সামলাবো? পরের দিন সকালে আমি
প্রথমেই আমার বোন অনিতাকে ফোন করলাম। তাকে
সবকিছু খুলে বললাম। অনিতা শুনে বলল,
প্রিয়াঙ্কা এটা একটা গুরুতর মানসিক
সমস্যা। শাইনের মনে ওডিপাস কমপ্লেক্স তৈরি
হয়েছে। এটা একটা মনোবৈজ্ঞানিক অশোক। কি
করব? আমি জিজ্ঞেস করলাম তুই এখনই তাকে
একজন মনোচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যা এবং তোর
স্বামীকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরিয়ে
আনার চেষ্টা কর গো। আমি সুব্রতকে ফোন করে
সবকিছু বললাম। সে খুব চিন্তিত হয়ে বলল,
আমি আজই ফিরছি গো। দুপুরের দিকে আমি
শায়েনকে ডেকে বললাম যে আমরা ডাক্তারের
কাছে যাব। কিন্তু সে রেগে বলল, আমি কোথাও
যাবো না। আমার কোন সমস্যা নেই। আমি তাকে
বোঝানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু সে কোনভাবেই
রাজি হলো না। সন্ধ্যার দিকে সুব্রত বাড়ি
ফিরে এল।শায়নকে
দেখে তার চোখের অবস্থা দেখে সে খুবই
চিন্তিত হয়ে পড়ল। শায়েন সুব্রত চিৎকার
করে বলল, কি হয়েছে তোর? কিন্তু শায়েন
তার বাবার দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি কেন
ফিরে এসেছো? আমি চাইনি তুমি ফেরো গো।
সুব্রত অবাক হয়ে বলল, কি বলছিস? আমি তোর
বাবা গো। আমি জানি শায়েন বলল, কিন্তু আমি
চাইনা তুমি মায়ের কাছে থাকো। আমি মার যত্ন
নেব। সুব্রত আমার দিকে তাকালো। আমি ইশারায়
তাকে বললাম, পরে কথা বলব। রাতের খাবারের
সময়শায়েন খেতে বসলো না। সে বলল, তার খিদে
নেই। খাওয়ার পর আমি আর সুব্রত আলাদা ঘরে
গিয়ে সবকিছু নিয়ে কথা বললাম। সুব্রত বলল,
এটা খুবই গুরুতর। আমরা কাল সকালেই তাকে
হাসপাতালে নিয়ে যাব। কিন্তু সেই রাতেই
আরো ভয়াবহ ঘটনা ঘটলো। রাত দুটোর দিকে আমি
শুনলাম কেউ আমার ঘরের দরজায় আঘাত করছে।
আমি আর সুব্রত দুজনেই উঠে দরজার কাছে
গেলাম। বাইরে সায়েনের গলা শোনা যাচ্ছে।
সে বলছে মা দরজা খোলো। আমি তোমার সাথে কথা
বলব। সুব্রত দরজা খুলে দিল। দেখলাম শায়েন
দাঁড়িয়ে আছে এবং তার হাতে একটা বোট
ছুরি। শাইন সুব্রত চিৎকার করে বলল, তোর
হাতে ছুরি কেন? শাইন ছুরি তার বাবার দিকে
তাক করে বলল, তুমি চলে যাও। আমি মার সাথে
একা থাকবো। আমার প্রাণ শুকিয়ে গেল। আমি
বুঝলাম যেশাইনের মানসিক অবস্থা সম্পূর্ণ
নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সুব্রত সাহস
করে এগিয়ে গিয়ে বলল,শাইন
ছুরিটা রেখে দে আমরা কথা বলব। কিন্তু শাইন
চিৎকার করে বলল, না তুমি মায়ের কাছ থেকে
দূরে সরে যাও। আমি মাকে নিয়ে এখানে
থাকবো। তারপর হঠাৎ সে ছুরি নামিয়ে রেখে
আমার দিকে তাকিয়ে বলল, মা আমি তোমাকে
বিয়ে করব। আমরা দূরে কোথাও চলে যাব। এই
কথা শুনে আমি আর সুব্রত দুজনেই বুঝলাম যে
পরিস্থিতি খুবই গুরুতর হয়ে গেছে। আমাদের
এখনই পুলিশ আর ডাক্তারের সাহায্য নিতে
হবে। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে একটা অদ্ভুত
ঘটনা ঘটলো। সাইন হঠাৎ করে মাটিতে পড়ে গেল
এবং খিচুনি শুরু হলো। আমরা ভয় পেয়ে তার
কাছে গেলাম। দেখলাম তার মুখ দিয়ে ফেনা
বেরোচ্ছে এবং চোখ উল্টে যাচ্ছে।
অ্যাম্বুলেন্স ডাকো। সুব্রত চিৎকার করে
বলল, আমি তাড়াতাড়ি অ্যাম্বুলেন্স
ডাকলাম। কিছুক্ষণ পরেই অ্যাম্বুলেন্স এসে
পৌঁছালো এবং সাইনকে হাসপাতালে নিয়ে গেল।
হাসপাতালে ডাক্তার পরীক্ষা করে বললেন যে,
সাইনের মানসিক চাপের কারণে মিগি রোগের
আক্রমণ হয়েছে। তার মানসিক অবস্থা খুবই
খারাপ।
ডাক্তার বললেন তাকে মানসিক হাসপাতালে
ভর্তি করতে হবে। গিয়ে আমার চোখে জল এসে
গেল। আমার ছেলে কিভাবে এতটা অসুস্থ হয়ে
গেল? ডাক্তার আরো বললেন, এই ধরনের মানসিক
সমস্যা হঠাৎ করেই হয় না। হয়তো অনেকদিন
ধরেই তার মনে কিছু সমস্যা ছিল যেটা আমরা
বুঝতে পারিনি। কি? পরের দিন সকালে সাইনের
কান ফিরে এল। কিন্তু তার আচরণ আরো বিচিত্র
হয়ে গেল। সে কখনো আমাকে চিনতে পারতো,
কখনো পারতো না। কখনো বলতো আমি তার স্ত্রী।
কখনো বলতো আমি তার মা। ডাক্তার বললেন যে,
এটা একটা জটিল মানসিক রোগ। যার নাম
ডিসোসিয়েটিভ আইডেন্টিটি ডিসঅর্ডার। এই
রোগে রোগীর ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন সময়ে
বিভিন্ন রকম হয়ে যায়। আমরা ফাইনকে একটা
বিশেষজ্ঞ মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করালাম।
কিন্তু এই গল্পের সবচেয়ে অবাক করার
অধ্যায় এখনো বাকি ছিল।
তিন মাস পর যখন সাইনের চিকিৎসা চলছিল তখন
একদিন ডাক্তার আমাদের ডেকে একটা চমকপ্রদ
তথ্য জানালেন। আপনাদের ছেলে সাইনের কোন
মানসিক রোগ নেই। ডাক্তার বললেন, আমরা অবাক
হয়ে বললাম, মানে? আসল কথা হলো সাইন গত ছ
মাস ধরে একটা বিশেষ ধরনের মাদক সেবন
করছিল। যার নাম সিন্থেটিক এলএসটি।
এই মাদক সেবনের ফলে তার আচরণে এই পরিবর্তন
এসেছিল। মাদক আমি চিৎকার করে বললাম, কোথা
থেকে? ডাক্তার বললেন, আমরা তদন্ত করে
জানতে পেরেছি যে তার কলেজের একটা গ্যাং এই
মাদক বিতরণ করে। সাইন তাদের টার্গেট ছিল।
আমাদের মাথায় যেন বাজ পড়ল। আমরা বুঝলাম
যে আমাদের ছেলে আসলে একটা মাদকাশক্তির
শিকার হয়েছিল। কিন্তু সুব্রত বলল, সে তো
এত অদ্ভুত কথা বলতো। এই মাদকের প্রভাবে
রোগীর মনে হ্যালুসিনেশন হয় এবং তারা এমন
কিছু ভাবে যা বাস্তবে নেই। সাইনের মনে
হয়েছিল যে সে তার মায়ের প্রেমে পড়েছে।
কিন্তু এটা ছিল সম্পূর্ণ মাদকের প্রভাব।
আমার চোখে আনন্দের জল এসে গেল। আমার ছেলে
আসলে মানসিক রোগী নয়। সে শুধু মাদকের
শিকার হয়েছিল। ডাক্তার বললেন এখন আমরা
তার ডিটক্সিফিকেশন করব। মাদকের প্রভাব কমে
গেলে সে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
কি? পরের তিন সপ্তাহ চিকিৎসার পর সাইন
সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল। সে
আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলল যে সে বুঝতেই
পারেনি কি করছিল। মা সে কাঁদতে কাঁদতে
বলল। আমি যা যা বলেছিলাম সেটা আমি নিজেও
বিশ্বাস করতে পারি না। আমি তোমাকে কষ্ট
দিয়েছি। আমি তাকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
সাইন এটা তোর দোষ নয়। তুই মাদকের শিকার
হয়েছিলি। পুলিশ সেই মাদকচক্রটিকে ধরল এবং
তাদের বিচার হলো। আজ দুই বছর পর সাইন
সম্পূর্ণ সুস্থ। সে আবার কলেজে পড়তে শুরু
করেছে এবং নতুন বন্ধুদের সাথে মিশছে।
আমাদের পরিবার আবার স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
কিন্তু এই ঘটনা আমাদের শিখিয়েছে যে
আমাদের সন্তানদের উপর আরো বেশি নজর রাখতে
হবে। রিয়া এখন বেশ বড় হয়েছে এবং সে
জানে যে তার ভাইজা একসময় অসুস্থ ছিল।
কিন্তু এখন সব ঠিক। আমার এই গল্প থেকে
সবাই একটা শিক্ষা নিতে পারেন। আমাদের
সন্তানরা যদি কখনো অদ্ভুত আচরণ করে তাহলে
সেটাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। হয়তো
তারা
>> কোন মাদকের শিকার হয়েছে বা অন্য কোন
সমস্যায় পড়েছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে খোলামেলা কথা
বলার পরিবেশ থাকতে হবে। যদি সায়েন আমাদের
বলতো যে কেউ তাকে অদ্ভুত কিছু খেতে
দিয়েছে তাহলে হয়তো এই সমস্যা এতদূর যেত
না আজ আমাদের পরিবার আগের চেয়েও বেশি
একসাথে আছি সুব্রত আর বিদেশে কাজে যায় না
আমরা সবাই মিলে থাকি সায়েন এখন
বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান পড়ছে এবং সে
মাদকবিরোধী একটা সংগঠনের সাথে কাজ করে সে
অন্য তরুণদের মাদকের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন
করে রিয়াও এখন হাই স্কুলে পড়ছে এবং খুব
ভালো ছাত্রী। আমার এই অভিজ্ঞতা বলার
উদ্দেশ্য হলো যেন অন্য মায়েরাও সতর্ক হন।
যদি আপনাদের সন্তানদের আচরণে কোন
অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন তাহলে দেরি না
করে বিশেষজ্ঞের শাহানদীর ধারে সেই গান।
প্রথম অধ্যায় শুরুত। পদ্মা নদীর ধারে
একটা ছোট্ট গ্রাম ছিল। নাম তার রূপসী
গ্রাম। গ্রামের নাম শুনলেই মনে হতো কত
সুন্দর হবে। আর সত্যিই গ্রামটা ছিল অপূর্ব
সুন্দর। সবুজ ধানক্ষেত, নারিকেল আর সুপারি
গাছের শাড়ি আর নদীর শীতল হাওয়া। সব
মিলিয়ে এক স্বর্গের মত জায়গা। এই
গ্রামেই থাকতো একটা ছেলে। নাম তার আলম।
বয়স তখন 17 কি 18 হবে। ফর্সা রং, লম্বা
চুল আর চোখে একটা স্বপ্ন। বড় হয়ে সে
লেখক হবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় নদীর ধারে
বসে সে লিখতো তার ডায়রিতে। কখনো কবিতা,
কখনো গল্প, কখনো শুধু মনের কথা। আলমের
বাবা মুক্তার সাহেব ছিলেন গ্রামের স্কুলের
প্রধান শিক্ষক। মা রহিমা বেগম ছিলেন একজন
নরম মনের মহিলা। যিনি সবসময় সবার জন্য
রান্না করতেন। তাদের ছোট্ট টিনের চালের
বাড়িটা ছিল গ্রামের মাঝখানে। আলমের একটা
ছোট বোন ছিল সামিয়া। বয়স তার 10 বছর।
চঞ্চল দুষ্টু। কিন্তু খুব মিষ্টি। সে
সবসময় ভাইয়ের পিছন পিছন ঘুরতো। ভাইয়া,
আমাকে নিয়ে চলো না। এই ছিল তার প্রিয়
সংলাপ। দ্বিতীয় অধ্যায়। নতুন প্রতিবেশী।
একদিন গ্রামে নতুন একটা পরিবার এলো। তারা
ঢাকা থেকে এসেছিল। বাবা একজন সরকারি
চাকরিজীবী। বদলি হয়ে এই উপজেলায় এসেছেন।
তাদের সাথে ছিল একটা মেয়ে। নাম তার
তানিয়া। তানিয়া ছিল আলমের সময় সে।
লম্বা চুল, বড় বড় চোখ আর মুখে সবসময়
একটা হাসি। সে ছিল খুবই পড়ুয়া। বই পড়তে
তার খুব ভালো লাগতো। প্রথম দিন যখন সে
গ্রামে স্কুলে ভর্তি হলো, তখন সবাই অবাক
হয়ে তাকে দেখছিল। ছিল শহরের মেয়ে।
কিন্তু কোন অহংকার নেই। আলম আর তানিয়ার
প্রথম দেখা হয়েছিল স্কুলের লাইব্রেরিতে।
দুজনেই একই বই খুঁজছিল। রবীন্দ্রনাথের
গোড়াগুলো। তুমিও রবীন্দ্রনাথ পড়ো? আলম
জিজ্ঞেস করেছিল হ্যাঁ আমার খুব প্রিয়
তুমি তানিয়া হেসে জবাব দিয়েছিল সেই থেকে
তাদের বন্ধুত্ব শুরু প্রতিদিন স্কুলে
লাইব্রেরিতে আর কখনো কখনো নদীর ধারে বসে
তারা গল্প করত সাহিত্য নিয়ে জীবন নিয়ে
স্বপ্ন নিয়ে তৃতীয় অধ্যায় স্বপ্নের কথা
একদিন সন্ধ্যায় নদীর ধারে বসে আলম
তানিয়াকে বলল জানো আমি বড় হয়ে লেখক হতে
চাই এমন গল্প লিখবো যেগুলো মানুষের মন
ছুয়ে যাবে গো তানিয়া মৃদু হেসে বলল তুমি
পারবে তোমার লেখার হাত খুব ভালো তুমি যা
লেখো তাতে আন্তরিকতা আছে কি তুমি কি হতে
চাও আলম [মিউজিক] জিজ্ঞেস করল আমি
শিক্ষিকা হতে চাই গ্রামের মেয়েদের পড়াতে
চাই দেখো না এখানে কত মেয়ে স্কুলেই যায় না
আমি চাই সবাই পড়াশোনা করুক তানিয়ার কথা
শুনে আলম অবাক হলো এতটা সরল এতটা
নিঃস্বার্থ [মিউজিক]
স্বপ্ন তুমি সত্যিই অসাধারণ আলম বলল
তানিয়া লজ্জা পেয়ে বলল আরে না আমি সাধারণ
তবে হ্যাঁ আমি মানুষের জন্য কিছু করতে চাই
[মিউজিক] সেদিন থেকে আলমের মনে তানিয়ার
জন্য একটা বিশেষ জায়গা তৈরি হল সে বুঝতে
পারছিল না এটা কি অনুভূতি
কিন্তু তানিয়াকে না দেখলে তার দিন ভালো
যেত না চতুর্থ অধ্যায় বর্ষাকাল
বর্ষা এল পদ্মা নদী ফুলে ভেপে উঠল
চারিদিকে পানি আর পানি স্কুল বন্ধ হয়ে
গেল বৃষ্টি থামার নাম নেই একদিন সন্ধ্যায়
আলম দেখল তানিয়া তাদের বাড়ির সামনে
দাঁড়িয়ে আছে ভিজে একদম কি হয়েছে এভাবে
বৃষ্টিতে ভিজে আসলে কেন আলম চিন্তিত হয়ে
জিজ্ঞেস করল আমার বই আমার প্রিয় বইটা আমি
নদীর ধারে রেখে এসেছিলাম পানিতে ভেসে যাবে
তানিয়া কাদো কাদ স্বরে পড়ল। আলম কিছু না
ভেবে ছাতা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। বৃষ্টি তখন
মুসলধারে পড়ছে। সে নদীর ধারে গিয়ে দেখল
তানিয়ার বইটা একটা পাথরের নিচে চাপা পড়ে
আছে। কিন্তু পানি প্রায় সেখানে পৌঁছে
গেছে। সে দ্রুত বইটা তুলে নিল। সৌভাগ্যবসত
বইটা পুরোপুরি ভিজেনি। সে তার শার্টের
ভিতরে বইটা লুকিয়ে বাড়ি ফিরল। তানিয়া যখন
বইটা পেল তার চোখে পানি এসে গেল। তুমি
এতটা করলে আমার জন্য। তুমি আমার বন্ধু।
বন্ধুর জন্য এটুকু তো করাই যায়। আলম হেসে
বলল। সেদিন থেকে তানিয়াও বুঝতে পারল আলম
তার কাছে শুধু একজন বন্ধু নয়। আরো বেশি
কিছু। পঞ্চম অধ্যায় গ্রামের মেলা। শরৎকাল
এল। গ্রামে বট মেলা বসল। নৌকাবাজ পুতুল
নাচ জারি গান কত কিছু সারা গ্রামে উৎসবের
আমেজ আলম আর তানিয়া একসাথে মেলা ঘুরছিল
সামিয়াও ছিল তাদের সাথে সে দুষ্টুমি করে
বলল ভাইজান তানিয়া আপু তোমার বউ হবে আলম
আর তানিয়া দুজনেই লজ্জা পেয়ে গেল আলম
সামিয়াকে বকা দিল কিন্তু মনে মনে সে
ভাবছিল সত্যিই তো তানিয়াকে ছাড়া তার
জীবন অসম্পূর্ণ মনে হয় মেলায় একটা
পুতুলের দোকানে তানি একটা সুন্দর পুতুল
দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল কিন্তু দাম শুনে হতাশ
হল 50 টাকা তার কাছে এত টাকা ছিল না আলম
চুপি চুপি পুতুলটা কিনে নিল মেলা শেষে যখন
বাড়ি ফিরছিল তখন সে তানিয়াকে পুতুলটা
দিল এটা তুমি আমার জন্য তানিয়া অবাক হয়ে
বলল তুমি যেটা চেয়েছিলে সেটা তোমার হওয়া
উচিত কি আলম মিদু হেসে বলল তানিয়া
পুতুলটা বুকে জড়িয়ে ঝরল ধন্যবাদ আলম
তুমি সত্যিই খুব ভালো সেদিন রাতে আলম তার
ডায়রিতে লিখল আজ আমি বুঝেছি ভালোবাসা
কাকে বলে যাকে দেখলে বুক ভরে যায় যার
জন্য নিজের সবকিছু দিয়ে দিতে ইচ্ছা করে
সেই তো ভালোবাসা
ষষ্ঠ অধ্যায় শংকর কিন্তু জীবন তো সবসময়
সুখের থাকে না একদিন আলমের এর বাবা হঠাৎ
অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ডাক্তার বললেন, তাকে
ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে ভালো চিকিৎসার
জন্য। আলম দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। ঢাকায়
যেতে হলে অনেক টাকা লাগবে। তাদের পরিবার
তো সচ্ছল নয়। তানিয়া যখন এই খবর পেল সে
তার বাবাকে বলল, তানিয়ার বাবা একজন ভালো
মানুষ ছিলেন। তিনি আলমের বাবার চিকিৎসার
জন্য টাকা দিতে রাজি হলেন। না এভাবে আমরা
নিতে পারবো না। মুক্তা সাহেব বললেন, আপনি
আমার মেয়ের শিক্ষকের বাবা। আমার দায়িত্ব
আপনার সেবা পড়া। তানিয়ার বাবা বললেন,
শেষ পর্যন্ত আলমের বাবাকে ঢাকায় নিয়ে
যাওয়া হলো। আলম আর তার মা তার সাথে গেল।
সামিয়া থেকে গেল গ্রামে তানিয়াদের
বাড়িতে। ঢাকায় থাকতে হল প্রায় এক মাস।
সেই এক মাস আলম প্রতিদিন তানিয়াকে চিঠি
লিখতো। মোবাইল ফোন তো তখন সবার ছিল না।
চিঠি ছিল যোগাযোগের মাধ্যম। তানিয়াও
প্রতিদিন চিঠির অপেক্ষায় থাকতো। আলমের
চিঠি পড়ে সে বুঝতে পারতো, আলম কতটা কষ্টে
আছে। কতটা দুশ্চিন্তায় আছে। সে নিজেও
আলমের জন্য দোয়া করত। সপ্তম অধ্যায় ফিরে
আসা। অবশেষে মুক্তা সাহেব সুস্থ হয়ে
উঠলেন। ডাক্তার বললেন, এখন তিনি বাড়ি
যেতে পারবেন কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে।
যেদিন আলম গ্রামে ফিরল। সেদিন পুরো গ্রাম
খুশিতে আত্মহারা। সবাই মুক্তার সাহেবকে
দেখতে এল। তানিয়াও এল। সামিয়াকে নিয়ে
আলম। তানিয়াকে দেখে বলল তোমার চিঠিগুলো
আমাকে শক্তি দিয়েছে। ঢাকায় যখন খুব কষ্ট
লাগতো তখন তোমার চিঠি পড়ে আবার ভালো
লাগতো। আমি জানতাম তুমি ফিরে আসবে। আমি
বিশ্বাস রাখিনি হারায়নি। তানিয়া মৃদু
হেসে বলল। সেদিন বিকেলে নদীর ধারে বসে আলম
তানিয়াকে বলল, তানিয়া আমি তোমাকে কিছু
বলতে চাই। বল তানিয়া বলল, আমি আমি তোমাকে
ভালোবাসি।
ঢাকায় থাকার সময় প্রতিটা মুহূর্তে তোমার
কথা মনে পড়েছে। তুমি ছাড়া আমার জীবন
অর্থহীন গো। তানিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে
রইল। তারপর বলল, আমিও তোমাকে ভালোবাসি
আলম। কিন্তু আমরা এখনো ছোট। আমাদের
পড়াশোনা শেষ করতে হবে। নিজেদের
প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তারপর তারপর আমরা
একসাথে থাকবো। আলম তার কথা শেষ করল। হ্যাঁ
একসাথে থাকবো। তানিয়া হেসে মাথা নাড়লো।
অষ্টম অধ্যায় সময়ের পরীক্ষা। পরের কয়েক
বছর দ্রুত কেটে গেল। আলম আর তানিয়া
দুজনেই খুব ভালো ছাত্র ছিল। এসএসসি
পরীক্ষায় দুজনেই জিপিএ ফাইভ পেল। এরপর
তারা ঢাকায় কলেজে ভর্তি হলো। আলম নটরডেম
কলেজে আর তানিয়া হোলি ক্রস কলেজে। গ্রাম
ছেড়ে শহরে আসতে হল। শহরের জীবন ছিল
অন্যরকম। ব্যস্ততা, বিদশব্দ সবকিছু
গ্রামের থেকে আলাদা। কিন্তু আলম আর
তানিয়া তাদের লক্ষ্য থেকে বিচলিত হলো না।
প্রতি সপ্তাহান্তে তারা দেখা করত। কখনো
রমনা পার্কে, কখনো টিএসসিতে, কখনো কোন
বইয়ের দোকানে। তারা একে অপরকে উৎসাহ দিত,
সাহস দিত। এইচএসসি পরীক্ষায়ও দুজনেই ভালো
ফল করল। আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা
সাহিত্যে ভর্তি হলো আর তানিয়া শিক্ষা
বিভাগে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে
নতুন চ্যালেঞ্জ এল রাজনীতি সেশন ডাট
আর্থিক সংকট নানা সমস্যা কখনো কখনো আলমের
মনে হতো সে হয়তো লেখক হতে পারবে না
তানিয়াও মাঝে মাঝে হতাশ হতো কিন্তু তারা
একে অপরকে সাহায্য করত আলম যখন হতাশ হতো
তানিয়া তাকে মনে করিয়ে দিত তার স্বপ্নের
তানিয়া যখন ভেঙ্গে পড়ত আলম তাকে শক্তি
যোগাতো। নবম অধ্যায় স্বপ্ন পূরণের পথে।
স্নাতক শেষ করার পর আলম একটা পত্রিকায়
চাকরি পেল। সাংবাদিক হিসেবে। বেতন খুব
বেশি না কিন্তু লেখার সুযোগ ছিল। সে ফিচার
লিখত, গল্প লিখতো। তানিয়া একটা স্কুলের
শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দিল। তার স্বপ্ন ছিল
গ্রামে ফিরে যাওয়া। কিন্তু সে জানতো, এখনো
সময় হয়নি। আগে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।
একদিন আলম একটা প্রকাশনা সংস্থায় তার
লেখা গল্পের পান্ডুলিপি জমা দিল। সে একটা
উপন্যাস লিখেছিল নদীর ধারে সেই কাগ। এটা
ছিল তাদের নিজেদের গল্প। তাদের গ্রামের
গল্প। কয়েক মাস পর প্রকাশক ফোন করলেন।
আপনার বই আমরা প্রকাশ করতে চাই। গল্পটা
খুব সুন্দর। আবেগময়।
আলম বিশ্বাস করতে পারছিল না। তার স্বপ্ন
সত্যি হচ্ছে। সে প্রথমেই তানিয়াকে খবরটা
দিল। আমি জানতাম তুমি পারবে। তুমি তো
সত্যিই লেখক। তানিয়া খুশিতে আটখানা। বইটা
প্রকাশিত হওয়ার পর বেশ সাড়া পড়ে গেল।
পাঠকরা ভালো সাড়া দিল। সমালোচকরাও
প্রশংসা করল। দশম অধ্যায় ঘরে ফেরা। পাঁচ
বছর পর আলম আর তানিয়া সিদ্ধান্ত নিল তারা
গ্রামে ফিরে যাবে। ঢাকায় তারা যা অর্জন
করতে চেয়েছিল তা করেছে। এখন সময় এসেছে
নিজেদের সেকেঁদে ফিরে যাওয়ার। তারা বিয়ে
করল সাদা মাটা অনুষ্ঠান। কিন্তু পূর্ণ
আন্তরিকতায়।
পুরো গ্রাম এসেছিল তাদের বিয়েতে। তোমরা
আমাদের গর্ব মুক্তার সাহেব আবেগে বললেন,
বিয়ের পর তারা গ্রামে থেকে গেল। আলম
লেখালেখি চালিনে গেল। সে গ্রামের গল্প
লিখত। সাধারণ মানুষের গল্প। তার বই পরপর
সফল হতে লাগল। তানিয়া গ্রামে একটা স্কুল
খুলল। বিনামূল্যে গরীব মেয়েদের পড়াতে
লাগল সে। তার স্বপ্ন পূরণ করছিল একাদশ
অধ্যায়। নতুন প্রজন্ম।
তিন বছর পর তাদের একটা মেয়ে হল। নাম রাখো
রুপা। ছোট্ট ফুটফুটে ঠিক চ্যামতানিয়ার মত
রুপা বর হতে লাগল গ্রামের মুক্ত পরিবেশে
নদীর ধারে খেলা মাঠে দৌড়ানো গাছে চড়া
সবকিছু আলম তাকে গল্প শোনাতো তানিয়া তাকে
পড়াতো একদিন রুপা জিজ্ঞেস করল বাবা তুমি
আর মা কিভাবে পরিচিত হলে আলম হেসে বলল
সেটা একটা লম্বা গল্প
মা একদিন তোমাকে পুরো গল্প শোনাবো। গো এখন
শোনাও না। রুপা জেদ করল। আলম তানিয়ার দিকে
তাকালো। তানিয়া হেসে মাথা নাড়ল।
ঠিক আছে শোনো তাহলে। অনেক বছর আগে এই নদীর
ধারে দুটো ছেলেমেয়ে পরিচিত হয়েছিল। দশম
শ্রদ্ধায় পূর্ণতা।
বছর কেটে গেল। আলমের বই এখন দেশজুড়ে
জনপ্রিয়। সে একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক।
কিন্তু খ্যাতি তাকে বদলায়নি। সে এখনো সেই
সরল বিনয়ী আলম। তানিয়ার স্কুল এখন বর
হয়েছে। শত শত মেয়ে সেখানে পড়ছে। অনেকে
এখন কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়।
তানিয়া তাদের সবার কাছে একজন আদর্শ।
একদিন সন্ধ্যায় নদীর ধারে বসে আলম
তানিয়াকে বলল, তুমি জানো এই জায়গাটাই
আমার সবচেয়ে প্রিয়। এখানেই আমরা প্রথম
একসাথে বসেছিলাম। স্বপ্নের কথা বলেছিলাম।
আর এখন সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তানিয়া
বলল, শুধু পুরণই না আরো বেশি কিছু
পেয়েছি। তোমাকে পেয়েছি, রুপাকে পেয়েছি।
এই সুন্দর জীবনটা পেয়েছি। রুপা তখন দৌড়ে
এসে তাদের কোলে বসল। বাবা আমি বর হয়ে
তোমার মত লেখক হব। আলম হেসে মেয়ের মাথায়
হাত বুলিয়ে দিল। তুমি যা হতে চাও তাই হবে
মা। আমরা তোমার পাশে আছি। সূর্য তখন অস্ত
যাচ্ছে নদীর ওপারে।
লাল কমলা আকাশ নদীর শীতল বাতাস আর
পরিবারের উষ্ণতা এর চেয়ে সুন্দর আর কি
হতে পারে প্রদশধ্যায়
গ্রামের উন্নয়ন
আলম আর তানিয়া শুধু নিজেদের নিয়েই
ব্যস্ত ছিল না তারা পুরো গ্রামের উন্নয়ন
নিয়ে ভাবতো আলম তার লেখালেখি থেকে যা আয়
করত তার একটা অংশ গ্রামের উন্নয়নে ব্যয়
করত তারা গ্রামে একটা লাইব্র
খুলল হাজার হাজার বই নিয়ে গ্রামের যে কেউ
এসে বই পড়তে পারতো ছোট ছেলেমেয়েরা
বিকেলে এসে বই পড়তো গল্প শুনতো জ্ঞানই
শক্তি আলম সবসময় বলতো আমরা যদি আমাদের
নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করতে পারি তাহলে
গ্রাম এমনিতেই উন্নত হবে তানিয়াদার
স্কুলে শুধু পড়াশোনাই শেখাতো না জীবন
দক্ষতাও শেখাতো মেয়েদের দ শেখাতো কিভাবে
আত্মবিশ্বাসী হতে হয় কিভাবে নিজের মতামত
প্রকাশ করতে হয় কিভাবে স্বাবলম্বী হতে
হয় শিক্ষা মানে শুধু বই পড়া নয় তানিয়া
বলতো শিক্ষা মানে জীবনকে বুঝতে শেখা মানুষ
হয়ে ওঠা গ্রামের মানুষ তাদের এই
প্রচেষ্টায় খুব খুশি ছিল যারা আগে
মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চাইতো না তারাও
এখন পাঠাতে শুরু করেছে একদিন গ্রামের
প্রবীণ হাজী সাহেব আলমকে বললেন, বাবা
তোমরা আমাদের গ্রামের জন্য যা করছো সেটা
আল্লাহ কবুল করুন। তোমরা না থাকলে আমাদের
গ্রাম এখনো অন্ধকারেই থাকতো। আলম বিনয়ের
সাথে বলল, চাচা আমরা তো এই গ্রামেরই
সন্তান। আমাদের দায়িত্ব এই গ্রামের সেবা
করা। চতুর্দশ অধ্যায় বাধা আর সংগ্রাম।
কিন্তু জীবন তো সবসময় মসরিন পথে চলে না।
একদিন গ্রামে একটা বড় সমস্যা দেখা দিল।
পদ্মা নদীর ভাঙ্গন শুরু হলো। প্রতিদিন নদী
গ্রামের জমি গিলে খাচ্ছে। অনেক পরিবার
তাদের বাড়িঘর হারাচ্ছে। ফসলের জমি নদীতে
তলিয়ে যাচ্ছে। মানুষ আতঙ্কিত।
আলম আর তানিয়া বসে থাকলো না। তারা একটা
সভা ডাকল। পুরো গ্রামের মানুষ এল। আমরা
যদি একসাথে কাজ করি তাহলে আমরা নদীর
ভাঙ্গন রোধ করতে পারব। আলম বলল, আমাদের
সরকারের কাছে দরখাস্ত দিতে হবে। আমাদের
নিজেদেরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা
একটা কমিটি গঠন করল। জেলা প্রশাসকের কাছে
দরখাস্ত দিল। সংবাদপত্রে লিখল, আলম তার
লেখনীর মাধ্যমে এই সমস্যা তুলে ধরো।
সারাদেশে কয়েক মাসের সংগ্রামের পর সরকার
নড়ে জোটে বসল। নদীর তীরে বাধ নির্মাণের
কাজ শুরু হল। ধীরে ধীরে ভাঙ্গন থামলো।
গ্রামের মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
তোমরা আমাদের গ্রামকে বাঁচিয়েছো। একজন
বৃদ্ধ আলমকে আশীর্বাদ করলেন। আমরা সবাই
মিলে বাঁচিয়েছি। আলম বলল, এটা সবার
প্রচেষ্টার ফল। পঞ্চদশ অধ্যায়। রুপার
স্বপ্ন রুপা এখন 10 বছরের খুব মেধাবী
মেয়ে স্কুলে সবসময় প্রথম হয় কিন্তু
শুধু পড়াশোনায় নয় সে খেলাধুলায় গানেও
ভালো একদিন রুপা তার বাবা মাকে বলল আমি
ডাক্তার হতে চাই গ্রামের মানুষদের সেবা
করব আলম আর তানিয়া খুশি হল তাদের মেয়ে
অন্যের সেবা করতে চায় এর চেয়ে বড়
গর্ভের আর কি হতে পারে তুমি যা হতে চাও
আমরা তোমাকে সাহায্য করব। তানিয়া বলল,
কিন্তু রুপার একটা শর্ত ছিল। আমি ঢাকায় না
গ্রামেই থাকবো। এখানেই পড়বো। এখানেই
ডাক্তারি করব। আলম হেসে বলল, কেন মা?
ঢাকায় তো ভালো সুযোগ পাবে গো। বাবা তুমি
আর মা যেমন গ্রামে ফিরে এসেছো, আমিও তাই
চাই। গ্রামের মানুষদের সবচেয়ে বেশি
সাহায্যের দরকার। এই কথা শুনে আলমের চোখে
পানি এসে গেল। তার মেয়ে তার আদর্শকে ধারণ
করছে। রুপা খুব পরিশ্রমী ছিল। প্রতিদিন
ভোরে উঠে পড়াশোনা করত। মায়ের স্কুলে
ছোটদের পড়াতে সাহায্য করত। বাবার লেখার
কাজেও হাত লাগাতো। রুপা তুমি এত কাজ করো
ক্লান্ত হয়ে যাও না। তানিয়া একদিন
জিজ্ঞেস করল। না মা আমি যখন মানুষের উপকার
করি তখন আমার ভালো লাগে। ক্লান্তি লাগে
না। রুপা হেসে জবাব দিল। ষষ্ঠ অধ্যায়
পুরস্কার আলেমের লেখালেখি এখন দেশের সীমা
পেরিয়ে গেছে। তার বই অনুবাদ হয়েছে
বিভিন্ন ভাষায়। বিদেশেও পাঠক তৈরি
হয়েছে। একদিন একটা খবর এলো। আলম জাতীয়
সাহিত্য পুরস্কার পেতে যাচ্ছে। এটা দেশের
সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার। পুরো গ্রাম
আনন্দে উদ্বেলিত। আমাদের আলম জাতীয়
পুরস্কার পাবে সবাই গর্ব করে বলতে লাগলো।
পুরস্কার দেওয়ার অনুষ্ঠান হলো ঢাকায়।
প্রধানমন্ত্রী নিজে পুরস্কার তুলে দিলেন
আলমের হাতে। আপনার লেখা আমাদের গ্রাম
বাংলার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে।
প্রধানমন্ত্রী বললেন, আপনি দেশের গর্ব।
আলম বিনয়ের সাথে পুরস্কার নিল। তার মনে
পড়ল সেই দিনগুলোর কথা। যখন সে নদীর ধারে
বসে স্বপ্ন দেখত লেখক হওয়ার। পুরস্কার
পাওয়ার পর আলম একটা বক্তৃতা দিল। এই
পুরস্কার শুধু আমার একার নয় এটা আমার
স্ত্রী তানিয়ার আমার মেয়ে রুপার আমার
গ্রামের সব মানুষের তারা আমাকে অনুপ্রাণিত
করেছে সাহস দিয়েছে তানিয়ার চোখে খুশির
অস্ত্র তার স্বামী এত বড় সম্মান পেল
কিন্তু তবুও সে নিজের কৃতিত্ব সবার সাথে
ভাগ করে নিচ্ছে সপ্ত অধ্যায় তানিয়ার
স্বীকৃতি আলমের পুরস্কার পাওয়ার এক বছর
পর তানিয়াও একটা সম্মান পেল
সরকার তাকে কুসেরা শিক্ষক পুরস্কার দিল।
তার স্কুল থেকে যে মেয়েরা বের হয়ে গেছে
তারা এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।
কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ
শিক্ষক, কেউ উদ্যোক্তা। পুরস্কার নেওয়ার
সময় তানিয়া বলল, আমি শুধু বীজ বপন
করেছি। এই মেয়েরাই আমার আসল পুরস্কার।
তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। সমাজে
অবদান রাখছে। তার স্কুলের একজন প্রাক্তন
ছাত্রী যে এখন একজন সফল ব্যবসায়ী। মঞ্চে
উঠে এসে বলল, ম্যাডাম না থাকলে আমি আজ
এখানে থাকতাম না। তিনি আমাকে শুধু
পড়াশোনা শেখাননি। আত্মবিশ্বাস
শিখিয়েছেন। রুপা তখন মঞ্চের নিচে বসে
মায়ের দিকে তাকিয়েছিল। গর্বিত চোখে।
আমার মা সত্যিই সেরা। সেম
>> মনে বলল অষ্টাদশ অধ্যায় সময়ের প্রবাহ
আরো কয়েক বছর কেটে গেল রুপা এখন অষ্টম
শ্রেণীতে খুব ভালো ছাত্রী তার স্বপ্ন
ডাক্তার হওয়ার সেই স্বপ্ন এখনো অটুট আলম
এখনো লিখে যাচ্ছে তার নতুন একটা উপন্যাস
বের হল জোচনা রাতের স্বপ্ন ওটাও বেশ
জনপ্রিয় হল তানিয়ার স্কুল এখন অনেক বড়
300 জন ছাত্রী 10 জন শিক্ষক একটা
পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গ্রামটা অনেক
বদলে গেছে এখন পাকা রাস্তা বিদ্যুৎ
স্বাস্থ্য কেন্দ্র সবকিছু আছে কিন্তু
গ্রামের আত্মা সেই সরল্য সেই ভালোবাসা
সেটা আছে অক্ষুন্ণ একদিন সন্ধ্যায় পুরো
পরিবার নদীর ধারে বসেছিল আলম তানিয়া রুপা
আর সামিয়া সামিয়া এখন বিবাহিত তার একটা
ছেলে আছে। ভাইয়া মনে আছে যখন আমি ছোট
ছিলাম তুমি আর ভাবী এখানে বসে গল্প করতে।
সামিয়া হেসে বলল, মনে আছে। আলম হেসে বলল,
সেই সময়গুলো কত সুন্দর ছিল। এখনকার সময়ও
কম সুন্দর নাই। তানিয়া বলল, আমরা একসাথে
আছি। সুস্থ আছি, খুশি আছি। এর চেয়ে বড়
সৌভাগ্য আর কি? রুপা বলল বাবা তোমার আর
মায়ের মত আমিও একজন ভালো মানুষকে
জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চাই। ও আলম মেয়ের
মাথায় হাত রেখে বলল তুমি পাবে মা। তবে
তবে তার আগে তোমার স্বপ্ন পূরণ করো।
ডাক্তার হও। তারপর জীবনসঙ্গী খুঁজবে গো।
উনবিংশ অধ্যায় নতুন চ্যালেঞ্জ। রুপা
এসএসসি পরীক্ষা দিল। ফলাফল বের হলো
জিপিএফাইভ।
পুরো গ্রাম খুশি। আলম আর তানিয়া গর্বিত।
কিন্তু এখন একটা বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
রুপা ডাক্তার হতে চায়। আর তার জন্য তাকে
মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে হবে। কিন্তু
গ্রামে তো মেডিকেল কলেজ নেই। বাবা আমি
ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হতে চাই। রুপা বলল।
আলম একটু চিন্তিত হল। কিন্তু তুমি তো
বলেছিলে গ্রামে থাকবে। হ্যাঁ বাবা আমি
গ্রামে ফিরে আসবো কিন্তু ভালো ডাক্তার হতে
হলে ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে পড়তে হবে আমি
পাঁচ বছর ঢাকায় থাকবো তারপর ফিরে আসবো
এবং গ্রামে একটা হাসপাতাল খুলবো তানিয়া
বলল মেয়েটা ঠিকই বলছে আমরাও তো ঢাকায়
গিয়ে পড়াশোনা করেছিলাম তারপর ফিরে এসেছি
গো রুপা ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হলো
প্রথমদিকে গ্রাম ছেড়ে যেতে খুব কষ্ট
হচ্ছিল। কিন্তু সে জানত এটা তার লক্ষ্যের
জন্য প্রয়োজন। আলম আর তানিয়া প্রতি মাসে
ঢাকায় যেত মেয়েকে দেখতে। রুপা ভোনে
প্রতিদিন কথা বলতো। বিংশ অধ্যায় পরিবারের
বন্ধন। পাঁচ বছর খুব দ্রুত কেটে গেল। রুপা
ডাক্তার হয়ে গেল। এমবিবিএস পাশ করেও ভালো
ফলসহ। এখন তার সামনে অনেক সুযোগ। ঢাকার
বড় বড় হাসপাতাল তাকে চাকরির অফার
দিচ্ছে। কিন্তু রুপার লক্ষ্য অন্য। বাবা
আমি গ্রামে ফিরে আসছি। রুপা ফোনে বলল,
তুমি নিশ্চিত ঢাকায় তো অনেক ভালো সুযোগ।
আলম বলল, বাবা আমার স্বপ্ন তো ঢাকায় বড়
ডাক্তার হওয়া নয়। আমার স্বপ্ন গ্রামের
মানুষের সেবা করা আগে। রুপা গ্রামে ফিরে
এল। গ্রামের মানুষ তাকে মাথায় করে নিয়ে
এল। আমাদের নিজের ডাক্তার। সে একটা ছোট
ক্লিনিক খুলল। বিনামূল্যে গরীব মানুষদের
চিকিৎসা দিতে লাগলো। যাদের সামর্থ্য আছে
তারা দিত। যাদের নেই তাদের কাছ থেকে কিছু
নিত না। তুমি কিভাবে চালাবে এভাবে? আলম
একদিন জিজ্ঞেস করল, বাবা তুমি তো লেখক
হয়েছো মানুষের সেবা করার জন্য। মা
শিক্ষিকা হয়েছে সেবার জন্য। আমিও তাই।
টাকা পয়সা পরে দেখা যাবে। ও আলম মেয়েকে
জড়িয়ে ধরল। তুমি আমাদের গোড় বউ। 21 দিন
সধ্যায় নতুন সঙ্গী। রুপা যখন ক্লিনিকে
ব্যস্ত তখন একদিন একজন তরুণ ডাক্তার এল।
তার নাম ফাহিম। সে ঢাকা থেকে এসেছে।
গ্রামাঞ্চলে স্বেচ্ছাসেবা করতে। ফাহিম আর
রুপা একসাথে কাজ করতে লাগল। দুজনেই একই
স্বপ্ন দেখে। গ্রামের মানুষের সেবা করা
ধীরে ধীরে তাদের
>> মধ্যে বন্ধুত্ব হল তারপর সেই বন্ধুত্ব
ভালোবাসায় রূপান্তরিত হল একদিন ফাহিম
আলমের কাছে এল চাচা আমি রুপাকে বিয়ে করতে
চাই ও আলম হেসে বলল তুমি কি রুপাকে
জিজ্ঞেস করেছো হ্যাঁ সে রাজি ফাহিম লজ্জা
পেয়ে বলল তানিয়া খুশিতে আটখানা আমার
মেয়ে মেয়ে একজন ভালো মানুষ পেয়েছে। গিয়ে
রুপা আর ভাইমের বিয়ে হলো। সাদা মাটা
কিন্তু আন্তরিক অনুষ্ঠান। পুরো গ্রাম
এসেছিল।
বিয়ের পর তারা দুজন মিলে ক্লিনিক চালাতে
লাগল। তারা স্বপ্ন দেখে গ্রামে একটা বড়
হাসপাতাল করার। দাবিস অধ্যায় তিন প্রজন্ম
দুই।
দুই বছর পর রুপার একটা ছেলে হল। নাম রাখো।
লায়ান আলম আর তানিয়া দাদা-দাদী হল। দেখো
আমাদের নাতি। আলম আবেগে বলল, তানিয়া
শিশুটিকে কোলে নিয়ে বলল, এই শিশু আমাদের
ভবিষ্যৎ। এর জন্যই তো আমরা এত কাজ করছি।
ওখন বাড়িতে তিন প্রজন্ম। আলম, তানিয়া,
রুপা, ফাহিম আর ছোট্ট আয়ান। প্রতিদিন
সন্ধ্যায় তারা একসাথে বসে আলম গল্প বলে
তানিয়া গান শোনায় রুপা দিনর কাজের গল্প
বলে একদিন আয়ান যখন একটু বর হলো সে
জিজ্ঞেস করল দাদু তুমি কি করো আলম হেসে
বলল আমি গল্প লিখি না তো গো আমাকে একটা
গল্প বলো না ঠিক আছে শোনো তাহলে অনেক বছর
আগে
এই নদীর ধারে কে আর এভাবেই চলতে থাকে
জীবনের গল্প প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে
23 অধ্যায় উত্তরাধিকার
আলম এখন সাত পেরিয়ে গেছে চুল দাড়ি পেকে
গেছে কিন্তু লেখার হাত এখনো অক্ষুন্ণ সে
এখনো প্রতিদিন লেখে তানিয়াও এখন অবসর
নিয়েছে স্কুল থেকে কিন্তু মাঝে মাঝে যায়
ছাত্রীদের সাথে দেখা করতে। একদিন আয়ান যে
এখন পাঁচ বছরের দাদুকে জিজ্ঞেস করল, দাদু
তুমি কত বই লিখেছো? প্রায় কড়িটা। আলম বলল,
আমিও বর হয়ে লেখক হব। আয়ান বলল, রুপা হেসে
বলল, তুমি যা হতে চাও তাই হবে। কি? আলম
নাতিকে কোলে নিয়ে বলল,
লেখক হওয়া মানে শুধু বই লেখা নয় বাবা।
Comments
Post a Comment