বৃষ্টির রাতে দুধ গুলো আপেলের মতো খাচ্ছিলো
আমার বয়স কম আমি আর পারছি না কিন্তু
তারপরও শীতের রাতে জোর করে তার মেশিন আমার
গুহায় এত জোরে জোরে দিল আমি কাঁদছি আর
বলছি আস্তে আস্তে দেও ব্যথা পাচ্ছি হ্যালো
বন্ধুরা আমি তোমাদের নুপুর আপু আজকের
গল্পটি সম্পূর্ণ শুনলে আপনাদের মেশিন
দিয়ে টপটপ করে পানি চলে আসবে তাই হাতের
কাজ করার আগে হাতের কাছে টিস্যু রাখুন
আমার 14 বছরের বউ বিছানার উপর চুপচাপ
বসেছিল সে ছিল খুবই ছোট এবং অবুঝর
বয়স অনুযায়ী সে এখনো জীবনের অনেক কিছু
বোঝেনি। আমাদের বিয়ে খুব তাড়াতাড়ি হয়ে
গিয়েছিল আর আমি জানতাম যে সে মানসিকভাবে
প্রস্তুত নয়। আমি ওর কাছাকাছি গিয়ে ধীরে
ধীরে কথা বলার চেষ্টা করলাম। ও হঠাৎ
বিছানার আরেক প্রান্তে সরে গেল এবং বলল,
এটা তুমি কি করছো? আমি শুনেছি বিয়ের রাতে
বর তার নবাবধুকে একটা উপহার দেয়। তারপর
আলো নিভে যায় এবং পরের দিন সকাল হয়।
কিন্তু তুমি এসব কি করছো? আমি তাকে শান্ত
করে বললাম সবকিছু সময়ের সাথে বুঝে যাবে।
বিয়ের মানে শুধুমাত্র উপহার নয়। এর
পেছনে অনেক বড় দায়িত্ব এবং ভালোবাসা
রয়েছে। আমার কথা শুনে সে একটু শান্ত হলো।
আমি তাকে বোঝালাম যে জীবনের প্রতিটি ধাপকে
সময়মতো গ্রহণ করা উচিত। আমি নিজেকে আর
শান্ত রাখতে পারছিলাম না। তাই ঘরের লাইটটা
আস্তে করে বন্ধ করে দিলাম। তারপর তার কাছে
গিয়ে দাঁড়ালাম। তার চোখে ছিল গভীর
দ্বিধা। আর আমার মনে চলছিল এক ধরনের
অদ্ভুত আবেগের লড়াই আমার ইচ্ছার
বিরুদ্ধে। পরিবার সবাই মিলে আমার এই বিয়ে
ঠিক করে। যদিও আমার মনে কোন অন্য কাউকে
পছন্দ করার বিষয় ছিল না। তবুও এই বিয়েতে
আমি রাজি ছিলাম না। কারণ পায়েলের বয়স
ছিল খুবই কম। পরিবার একবারও ভেবে দেখেনি
তার বয়সের কথা। এত ছোট বয়সের মেয়েকে
বিয়ে করার বিষয়ে আমি কোনভাবেই প্রস্তুত
ছিলাম না। কিন্তু আমার কোন কথা তারা শুনল
না। পরিবারের যেদের সামনে আমি অসহায় হয়ে
গেলাম। আমাদের পরিবারে আমরা দুই ভাই আর
ছোটবেলায় আমাদের বিয়ে ঠিক করে দেয়া
হয়েছিল। আমরা রাজস্থানের মানুষ। যেখানে
বড়দের সিদ্ধান্তে ছোটবেলার বিয়ে ঠিক
হওয়া খুব সাধারণ ব্যাপার। পায়েল ছিল
আমার দিদির ছোট বোন। আর তার সঙ্গেই আমার
বিয়ে হয়। সেদিন রাতে পায়েল সাজানো
বউয়ের মতো বিছানায় বসেছিল। আমি ঘরে ঢুকে
তাকে প্রথমে নমস্কার জানালাম। তার মুখে
ছিল লজ্জার এক চমৎকার মিশ্রণ। আমি ধীরে
ধীরে তার পাশে বসলাম। যদিও বিয়ে নিয়ে
আমার ইচ্ছা ছিল না কিন্তু বিয়ের পর আমার
অনুভূতিগুলোকে সমেত করা কঠিন হয়ে
পড়েছিল। আমি যখন তার কাছাকাছি গেলাম এবং
তার হাতে হালকা স্পর্শ করলাম তখন সে একটু
নড়েচে বসলো। তার চোখে অস্বস্তির ছাপ ছিল।
সে মৃদুস্বরে বলল এমনটা করবেন না আমি হেসে
বললাম তুমি তো এখন আমার স্ত্রী
স্বাভাবিকভাবেই তুমি আমার জীবনের অংশ তার
এই লজ্জা এবং দ্বিধার মধ্যেই আমি তার
সঙ্গে এক অন্যরকম বন্ধন অনুভব করলাম
আমাদের জীবনের এই নতুন অধ্যাসটা কিভাবে
এগিয়ে যাবে সেটা ভেবে আমি আরো দৃঢ়
মনস্থির করলাম আমি তার কাছে গিয়ে কথা
বলার চেষ্টা করছিলাম কিন্তু আমার কথা শুনে
সে বেশ অস্বস্তিতে পড়ে গেল হঠাৎ করেই সে
বলল দেখো আমি এসব কথা শুনতে একেবারেই
পছন্দ করি না। তোমার এই ধরনের আচরণ আমার
একদম ভালো লাগে না। তুমি আমার কাছে আসার
চেষ্টা করো না। এই কথা বলেই সে বিছানা
থেকে উঠে দাঁড়ালো। আমি তার চোখে ভয় ও
দ্বিধার ছাপ স্পষ্ট দেখতে পেলাম। তার এমন
আচরণে আমি নিজেও অবাক হয়ে গেলাম। আমি তার
হাত ধরে তাকে থামালাম এবং বললাম, তোমার
ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। তুমি আমার
স্ত্রী এবং আমি কখনোই তোমার কোন অস্বস্তি
তৈরি করতে চাই না। সে কিছুটা শান্ত হয়ে
বলল। আমি ভেবেছিলাম বিয়ের পর সবকিছু খুব
সহজ হবে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি নতুন
জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এত সহজ নয়।
আমি হাসি মুখে বললাম, আমরা ধীরে ধীরে
সবকিছু শিখবো এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাব।
আজকের রাত শুধুই আমাদের জন্য। আর আমরা একে
সুন্দরভাবে স্মরণীয় করে তুলবো। আমি
কিছুটা অবাক হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম।
তাহলে বলতো স্বামী বিয়ের রাতে তার
স্ত্রীর সঙ্গে কি করে? সে কিছুক্ষণ চুপ
করে থেকে হালকা হাসি দিয়ে বলল, স্বামী তো
প্রথমে তার স্ত্রীর জন্য মুখ দেখানোর
উপহার নিয়ে আসে। আমি মৃদু হেসে বললাম,
এরপর কি হয়? সে বলল, তারপর স্বামী
স্ত্রীর সঙ্গে অনেক কথা বলে। যেমন তার
মা-বাবার যত্ন নেওয়ার কথা, পরিবারের সবার
ইচ্ছা মেনে চলার কথা। আমি অবাক হয়ে
বললাম, তুমি তো সবকিছু বেশ ভালোই জানো। এত
কম বয়সে এত বুদ্ধি কোথা থেকে কে এলো? সে
একটু গম্ভীর হয়ে বলল হ্যাঁ আমি বুদ্ধিমান
আর আমি জানি কিভাবে শ্বশুর শাশুড়িকে আমার
মত করে রাখতে হয় তার কথা শুনে আমি ভেতরে
ভেতরে বেশ অবাক হয়ে গেলাম কিছুক্ষণ তার
দিকে চুপচাপ তাকিয়ে থাকার পর বললাম ঠিক
আছে তুমি অনেক কিছু জানো তবে এরপর কি হয়
সে হাসি মুখে বলল তারপর ঘরের আলো বন্ধ হয়
আর সকালে নতুন দিন শুরু হয় আমি তো টিভি
সিরিয়ালে এমনটাই দেখেছি তার সরল কথা শুনে
আমার মুখে হাসি এল
আমি ধীরে ধীরে তার হাত ধরে কাছে টেনে
বললাম তাহলে আসো আজ আমরা আমাদের নতুন
দিনের গল্প শুরু করি আমি মৃদু হাসি দিয়ে
বললাম আজকের দিনটা বেশ ক্লান্তিকর ছিল তাই
না তোমার যদি আরামদায়ক পোশাক পড়ে একটু
স্বস্তি লাগে তাহলে ভালো হবে তার চোখে
লজ্জা আর একটু দ্বিধা দেখা গেল আমি আলমারি
খুলে একটি আরামদায়ক পোশাক বের করে তার
দিকে বাড়িয়ে দিলাম বললাম তুমি চাইলে এটা
পরে নিতে পারো এতে বেশি স্বস্তি পাবে সে
কিছু না বলে পোশাকটি নিয়ে ওয়াশরুমে গেল।
কয়েক মিনিট পর ফিরে এলো হালকা আরামদায়ক
পোশাকে। মেকাপ ধুয়ে ফেলার পর তার
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন আরো বেশি ফুটে
উঠেছিল। আমি তার পাশে বসে বললাম, তুমি
খুবই সুন্দর লাগছো। আর জীবনটাও অনেক
সুন্দর হবে যদি আমরা একে অপরকে ভালোভাবে
বুঝতে পারি। তার চোখে তখন একটু স্বস্তি আর
একটা মৃদু হাসির আভাস দেখা গেল। সে যখন
তার চুল বাঁধতে যাচ্ছিল। আমি মৃদু হাসি
দিয়ে বললাম তোমার খোলা চুলই তোমাকে
সবচেয়ে সুন্দর দেখায় চুল খোলায় রাখো সে
একটু ইতস্তত করল কিন্তু আমার কথা শুনে তার
চুল আর বাঁধলো না তারপর আমি ধীরে ধীরে তার
পাশে গিয়ে বললাম তুমি এখন পুরোপুরি
আরামদাক তো কারণ আমাদের জীবনের এই নতুন
অধ্যায় শুরু করার সময় এসেছে তার চোখে
কিছুটা লজ্জা আর কিছুটা কৌতুহল দেখা গেল
আমি তার হাত ধরে বললাম চিন্তা করো না আমরা
একে অপরকে ভালোভাবে জানবো এবং একসঙ্গে
নতুন স্মৃতি তৈরি করবো। তার মুখে এক লাজুক
হাসি ফুটে উঠলো। আর আমি বুঝলাম যে আমাদের
নতুন যাত্রা শুরু করার সময় এসেছে। আমি
তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসি দিয়ে বললাম,
তুমি এত নার্ভাস কেন? এটা তো আমাদের নতুন
জীবনের শুরু। চিন্তা করো না সব ঠিকঠাক
হবে। তার মুখে কিছুটা দ্বিধার ছাপ দেখা
গেল। সে ধীরে ধীরে বলল, আমি একটু অস্বস্তি
বোধ করছি। লাইট বন্ধ করতে চাই না। আলো
জ্বালিয়ে রাখাই ভালো। আমি হেসে বললাম,
তুমি কি জানো কেন অনেক সময় লাইট নিভিয়ে
রাখা হয়? এর মানে শুধু অন্ধকার নয় বরং
নতুন অভিজ্ঞতা শুরু করার একটা প্রতীক।
আমরা যখন জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করি
তখন একটু সাহস আর বিশ্বাস দরকার হয়। সে
চোখে কৌতুহলের অভিব্যক্তি নিয়ে আমার দিকে
তাকালো। আমি শান্ত গলায় বললাম, আজকের রাত
আমাদের সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়। এটা
সাজগোজ বা পোশাকের চেয়ে বড় কিছু। এটি
একে অপরের প্রতি বিশ্বাস আর ভালোবাসার এক
সুন্দর যাত্রা। ভয় পেও না আমি তোমার পাশে
আছি। তার মুখে একটু হাসি ফুটে উঠলো। আমি
বুঝতে পারলাম ধীরে ধীরে তার দ্বিধা দূর
হচ্ছে এবং সে নতুন জীবনের গল্প শুরু করতে
প্রস্তুত। আমি ধীরে ধীরে ঘরের লাইট বন্ধ
করলাম। আর চারপাশে একটা নরম নীরবতা নেমে
এল। তারপর বললাম, তুমি যদি ভয় পাও না,
তবে আমরা এই নতুন যাত্রায় একসঙ্গে এগিয়ে
যাব। তার চোখে দ্বিধা থাকলেও এক চিলতে
হাসি ফুটে উঠল। আমি বুঝতে পারলাম এই রাত
শুধু তার জন্য নয় আমাদের জীবনের নতুন
অধ্যায় শুরু করার জন্য আমি তার হাত ধীরে
ধরে বললাম তুমি এত নার্ভাস কেন? একটু আরাম
করো কিন্তু তার মুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট
ছিল। হঠাৎ আমি তাকে নিজের কাছে টেনে
আনলাম। সে চমকে উঠে দ্রুত সরে গিয়ে ঘরের
লাইট জ্বালিয়ে দিল। তার চোখে ভয় আর
বিস্ময়ের মিশ্রণ দেখে আমি একটু মুচকি
হাসলাম। সে বলল, আমাকে আমার দিদির কাছে
যেতে দাও। তার গলা আতঙ্ক এবং কান্নার সুর
ছিল। আমার উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে কারণ আমি
শুধু তাকে একটু ভয় দেখাতে চেয়েছিলাম।
আমি ঠান্ডা সুরে বললাম, তুমি এমন করছো
কেন? শুয়ে পড়ো এখানে। না হলে কিন্তু
আমাকে কঠোর হতে হবে। কিন্তু সে আমার কথা
না শুনে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সে আমার বড় ভাইয়ের
দরজা জোরে জোরে ধাক্কা দিতে শুরু করল।
আমার মুখে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। আমি ভাবলাম
খুব শখ ছিল তো ভাইয়ের নিজের সিদ্ধান্তে
এভাবে আমার বিয়ে দেওয়ার। এবার ফল ভোগ
করো। কিছুক্ষণ পর আমার বাবা-মা এবং বড়
ভাই দরজার সামনে এসে দাঁড়ালেন। পায়েল
তখন আমার ভাবীর বুকে মাথা রেখে কাঁদছিল।
ভাবী তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা
করছিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি
হয়েছে? পায়েল, এত কাঁদছো কেন? পায়েল
শুধু বলল আমি এনার ঘরে ঘুমাতে পারবো না
ভাবি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন কিন্তু সে
কোন ব্যাখ্যা দিল না শেষমেষ সে ভাবীর ঘরে
গিয়ে শুয়ে পড়ল আমার মা আমাকে জিজ্ঞেস
করলেন ওর কি হলো বিয়ের অনুষ্ঠানে তো খুব
খুশি লাগছিল আমি একটু কৌতুকের সুরে বললাম
দেখলেন তো ছোট মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার
ফল কি হয় সামান্য ঘটনায় এত সোরগোল এবার
আপনারাই সামলান আপনাদের নতুন বুকে এই বলে
আমি নিজে নিজের ঘরে ফিরে এলাম এবং গভীর
শ্বাস নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লাম।
কিছুক্ষণ পর আমার বড় ভাই আমার ঘরে এসে
দরজায় ধাক্কা দিলেন। বড় ভাই খুব রেগে
গিয়ে আমার ঘরে এসে বালিশ বিছানার উপর
ছুড়ে ফেলে দিলেন। আমি অবাক হয়ে তার দিকে
তাকাতেই তিনি বললেন, এভাবে শক্ত করে হাত
ধরতে হয় কারো। একটু হালকা থাকতে পারতে না
নিজের স্ত্রীর সঙ্গে আমি মুচকি হেসে
বললাম, আমি তো শুধু হাত ধরেছিলাম। আর কিছু
করিনি। এত বড় বিষয় বানাবে বুঝিনি। তিনি
রাগ করে বললেন, তুমি জানো এই কান্ডের জন্য
আমার রাতটাই মাটি হয়ে গেল। আমি বললাম,
দেখো ভাই যখন 14 বছরের মেয়েকে বউ বানিয়ে
ঘরে পাঠাবে তখন এমন কিছু হওয়া খুবই
স্বাভাবিক। ও এখনো বুঝতেই পারেনি বিয়ে
মানে কি? ওর মাথায় শুধু ছিল যে মুখ দেখার
সময় দামি দামি উপহার পাবে আর নতুন নতুন
জামা পড়বে। বিয়ের দায়িত্ব আর সম্পর্কের
গভীরতা বোঝার বয়সী তো হয়নি তার। ভাই চুপ
হয়ে গেলেন। আর আমি বললাম শুধু তোমার না
আমার রাতও মাটি হয়ে গেল। এখন চুপচাপ
ঘুমিয়ে পড়ো। আমাকে ঘুমাতে দাও। এই বলে
আমি লাইট বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম। কিন্তু
বড় ভাই তখনো ঘুমাতে পারেননি। বিছানায়
এপাশপাশ করতে থাকলেন। আমি বিরক্ত হয়ে
বললাম, ভাই একটু শান্ত হয়ে ঘুমাও। আমারও
ঘুম দরকার। তিনি বললেন ঘুম আসছে না তুমি
একটুও সময় দিতে পারলে না আমার রাতটা নষ্ট
করেই দিলে আমি মনে মনে বললাম তোমার তো
এমনই হওয়া উচিত ছিল নিজের বিয়ের শখ
মেটাতে গিয়ে আমার বিয়ে পর্যন্ত করিয়ে
দিলে আমি বারবার বলেছিলাম
কিন্তু কেউ শোনেনি এই বলে আমি চোখ বন্ধ
করলাম এবং ঘুমানোর চেষ্টা করলাম আর মনে
মনে বিড়বিড় করছিলাম কতবার বলেছিলাম আমি
এখনই বিয়ে করতে চাই না কিন্তু দেখো এখন
তো মজা মজা হচ্ছে তাই না? যখন বিয়ের রাতে
স্ত্রী ছাড়া সময় কাটাতে হবে তখন ভালোই
মজা হবে। এটা তো মাত্র শুরু। দেখো সেই সরল
মেয়েটাকে।
আমি প্রতিদিন ওকে কিভাবে ভয় দেখাবো। সে
প্রতিদিন তোমার ঘরেই এসে থাকবে আর তুমি
থাকবে আমার ঘরে। আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত
নিয়ে ফেলেছি যে বাবা-মায়ের সেই কথাকে
মিথ্যা প্রমাণ করব। এক বাড়ি থেকে দুই বোন
আনা উচিত নয়। আমার এই ব্যবহারের ফলে
ভবিষ্যতে সাত পুরুষ পর্যন্ত কেউ এই ভুল
করবে না। পরের দিন সকালবেলা পুষ্পা ভাবী
আর পায়েল দুজনেই একসঙ্গে ঘর থেকে বের
হলো। মা নাস্তা বানিয়ে রেখেছিল। আমার
ভাইয়ের মেজাজ বেশ খারাপ ছিল। বারবার
পুষ্পা ভাবীর দিকে তাকাচ্ছিলেন। আর ভাবী
বেচারী লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিচ্ছিলেন যেন
বলতে চাইছেন, আমার কি দোষ? পায়েল যখনই
আমার দিকে তাকাতো আমি তাকে তীক্্ণ
দৃষ্টিতে দেখতাম। ও ভয় পেয়ে দ্রুত চোখ
নামিয়ে নিত। আমি চাচ্ছিলাম ওর মনে এমন
ভয় বসিয়ে দিতে যেন সে আমার কাছে আসার
কথা ভাবতেও না পারে এবং আমার ঘরে আসার
সাহসও না করে। আমি মনে মনে বেশ আনন্দিত
ছিলাম। নিজের মনে একটা তৃপ্তিও কাজ করছিল।
এই মেয়ে আর আমার ঘরে আসবে না। পুরো দিনটা
সে ভাবীর ঘরেই ছিল। আর আমার ভাই পুরোদিন
উঠোনে পায়চারি করছিলেন যেন তার মনের
অস্থিরতা প্রকাশ পাচ্ছিল। এদিকে আমিও মনে
মনে ভেবেছিলাম দুই মুহূর্তের জন্য হলেও
তাদেরও কিছু অভিজ্ঞতা হোক। ভাই তার
স্ত্রীকে নিয়ে সেইভাবে সময় কাটানোর
সুযোগ পায়নি। কিন্তু আমি বেশ খুশি ছিলাম।
নিজের ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম।
ইচ্ছে করলেই বন্ধুদের সাথে দেখা করতাম।
চারদিন পর দুই বোনের বাপের বাড়ি যাওয়ার
রীতি ছিল। আজ আমাদের দু ভাইয়ের বিয়ের
ষষ্ঠ দিন। আমাদের বাড়িতে শ্বশুরবাড়ির
লোকেরা এসেছিল। আজ রমেশ ভাই বেশ সাজগোজ
করে বসেছিলেন। তাকে দেখে আমার হাসি আটকানো
যাচ্ছিল না। পায়েল আমার পাশে বসেছিল। আমি
তার হাত চেপে ধরলাম আর তার কানের কাছে
গিয়ে বললাম, তুমি এখন বাপের বাড়ি যাচ্ছ।
কিন্তু ফিরে এলে কোথাও পালাতে পারবে না।
এভাবে কয়েকদিন কেটে গেল। আজ আমরা দুজন ভাই
নিজেদের স্ত্রীদের আনার জন্য শ্বশুরবাড়ি
গেলাম। ফিরে আসার পর আমি আবার পায়েলকে ভয়
দেখালাম। বললাম, আজ কি করবে? কতদিন আর
পালিয়ে থাকবে? আসতে তো তোমাকে আমার ঘরেই
হবে। আর আজ তো তুমি খুব সুন্দর লাগছো। আজ
আমি সত্যিই তোমাকে খুব কাছে টেনে নেব।
কিন্তু সেদিন পায়েল একদম চুপচাপ ছিল। তার
আগের চঞ্চলতা সেই এক রাতে হারিয়ে
গিয়েছিল। সে বারবার আমার হাত থেকে নিজের
হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল।
কিছুক্ষণ পর আমি তার হাত ছেড়ে দিলাম।
আমরা বাড়ি পৌঁছানোর পর ভাই ভাবীকে
পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন যে আজ রাতেই কেউ
যদি দরজায় আঘাত করে দরজা খোলার দরকার
নেই। ভাবী পায়েলকে বোঝানোর চেষ্টা
করছিলেন দেখো এভাবে করা উচিত নয়। কিন্তু
পায়েল তার দিদির দুই হাত ধরে উঠোনে বসে
বলল, আমি তার ঘরে যাবো না। আমি তাকে ভীষণ
ভয় পাই। ভাবী তাকে বোঝাচ্ছিলেন, এভাবে
ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সে তোমাকে
ভালোবাসে। তোমার কোন ক্ষতি করবে না। পায়েল
বলল, আপনার জানা নেই সে আমার সাথে কি
করেছে। আমি কিছুতেই তার ঘরে যাব না। আমি
বিয়ে করতে চাইনি। আমাকে আমার বাবার বাড়ি
পাঠিয়ে দিন। আমি সেখানে থাকবো। ভাবী
বললেন, দেখো এখন আর এসব সম্ভব নয়। তখন তো
তুমি বিয়েতে কোন আপত্তি করোনি। বলেছিলে
ঠিক আছে। পায়েল বলল, আমি জানতাম না যে
বিয়েতে এসব হয়। আমি কিছুই জানিনা। আমি
ঈশানের ঘরে যাবো না। রমেশ ভাই নিজের ঘরের
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে হাত গুটিয়ে ভাবীকে
দেখছিলেন। ভাবী বারবার পায়েলকে বোঝানোর
চেষ্টা করছিলেন। তিনি বললেন, ঈশান তোমাকে
কিছু বলবে না। একটু বুদ্ধি খাটাও। এভাবে
শিশুসুলভ আচরণ করো না। কিন্তু পায়েল জেদ
ধরে বসে রইল। আমি তার ঘরে যাবো না। সে
কাঁদতে কাঁদতে বলছিল, দিদি দয়া করে আমাকে
বাড়ি পাঠিয়ে দিন। সেই সময় আমি আমার ঘরে
ছিলাম না। কিন্তু দরজা খোলা ছিল। ভিতর
থেকে পুরো ঘটনা দেখতে পাচ্ছিলাম। অনেক
বুঝিয়ে সুজিয়ে ভাবী তাকে আমার ঘর
পর্যন্ত নিয়ে এলেন কিন্তু সে ঘরে ঢুকতে
রাজি হচ্ছিল না। ঘরের বাইরে সোফায় বসে
নিজের আঙ্গুল মোছড়াতে লাগলো। তাকে দেখে
মনে হচ্ছিল ঘরে ঢুকলেই যেন তার প্রাণ
হারিয়ে যাবে। এই দৃশ্য দেখে আমি মনে মনে
বেশ আনন্দ পাচ্ছিলাম এবং হেসে উঠছিলাম।
তবে আমি বুঝতে পারিনি যে সে এতটা ভয়
পাবে। সে চুপচাপ ঘরে ঢুকলো। কোন কথা না
বলেই আলমারি খুলল। কিন্তু ঘরের দরজা
পর্যন্ত বন্ধ করল না। আলমারি থেকে নিজের
একটি পোশাক বের করে সোজা ওয়াশরুমে চলে
গেল। আমি তার প্রতিটি কাজ লক্ষ্য করছিলাম।
সে বাইরে এলো সম্পূর্ণ সাধারণ পোশাকে।
তারপর ধীরে ধীরে নিজের বালিশ আর চাদর তুলে
বাইরে যেতে লাগলো। আমি জিজ্ঞাসা করলাম
তুমি কোথায় যাচ্ছো? সে বলল আমি উঠোনে
গিয়ে ঘুমাবো। আমি বললাম তোমার যা ইচ্ছা।
আচ্ছা যাওয়ার আগে লাইট বন্ধ করে দরজা
বন্ধ করে যেও সে তাড়াতাড়ি রাজি হয়ে
গেল। এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিল। সে আমাকে
কিছু বলতো না। বেশিরভাগ সময় সে ভাবী বা
মায়ের সাথে সময় কাটাতো। তারা একসঙ্গে
গল্পগুজব করতো হাসতো। আমার বাবা পর্যন্ত
তার সঙ্গ উপভোগ করতেন। তবে আমি অফিস থেকে
ফিরলেই সে ভয় পেয়ে চুপ হয়ে যেত। ভাবী
রান্নাঘরের কাজ সামলে নিয়েছিলেন কিন্তু
সে রান্নাঘরে পা পর্যন্ত রাখতো না। তার
একমাত্র কাজ ছিল মায়ের সাথে বসে গল্প
করা, হাসা আর মজার কথা বলা। রাত হলে সে
উঠনের সোফায় গিয়ে আরামে ঘুমাতো। সকালে
সবাই উঠার আগেই আমার ঘরে এসে বালিশ রেখে
চলে যেত। তবে ঘরে ঢুকতো না। এভাবে এক মাস
কেটে গেল। একদিন বাবা বললেন সবচেয়ে আগে
রমেশ আর পুষ্পা হানিমুনে যাবে ওরা ফিরে
এলে ঈশান আর পায়েল যাবে ভাই আর ভাবী তো
খুব খুশি ছিলেন কিন্তু পায়েলের মুখ ভার
ছিল সে বলল দিদি তোমরা এখন কেন যাচ্ছো
আমাকে তোমাদের সাথে নিয়ে চলো আমি তোমাদের
সঙ্গে ঘুরে আসবো আমি ঈশানের সাথে যেতে চাই
না পায়েলকে বুঝিয়ে ভাবী চলে গেলেন
কিন্তু এরপর থেকে পায়েল মাঝে মাঝে রমেশ
ভাইয়ের ঘরে গিয়ে ঘুমাতে লাগল
অন্যদিকে আমার মনে এক অন্যরকম অনুভূতি
জাগতে শুরু করল। শুরুতে পিতা ও ভাইয়ের
চাপে বিয়ে করলেও এখন মনে হচ্ছিল সে আমার
ঘরে আসুক আমার সাথে কথা বলুক। এখন আমার
নিজেরই অনুভূতিগুলো আমাকে অস্থির করে
তুলছিল। আমি পায়েলকে অনেক ভয়
দেখিয়েছিলাম। আর সে আমাকে দেখলেই ভীত
হয়ে যেত। একদিন রাতে আমি ঘুমোতে পারছিলাম
না। মনে হলো আমার ভুল স্বীকার করে
পায়েলের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তাকে
আমার ঘরে নিয়ে এসে তার প্রতি সঠিক
ব্যবহার করা উচিত। তাকে ভালোবাসা এবং
সম্মান দেওয়া উচিত যেটা সে অধিকারী। আমিও
আর কতদিন এই দূরত্ব বজায় রাখতে পারি। যা
হওয়ার ছিল তা তো হয়েই গেছে। আমি ঠিক
করলাম এখনই কিছু করা দরকার। এরপর আমি আমার
ঘর থেকে বের হলাম। রমেশ ভাইয়ের ঘরের
দরজায় হাত দিলাম। দরজাটা খোলাই ছিল। আমি
হালকা করে দরজায় নক করলাম। কিন্তু ভেতর
থেকে কোন সাড়া পেলাম না। আমি আবার নক
করলাম। তবুও কোন প্রতিক্রিয়া নেই। তখন
আমি জানালার কাজ একটু খুলে ভেতরে তাকালাম।
পায়েল বিছানায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল।
তার চুলের কয়েকটা গুচ্ছ হাওয়ায় উড়ে
এসে মুখে পড়েছিল যা তাকে আরো সুন্দর করে
তুলছিল। তার সেই রূপ দেখে আমার মনে হলো
এতদিন যা হয়েছে তা যথেষ্ট। এবার সব রাত
ভুলে নতুন করে শুরু করা দরকার। আমি
সিদ্ধান্ত নিলাম রমেশ ভাইয়ের মতো আমিও
আমার দাম্পত্য জীবন শান্তিতে কাটাতে চাই
রমেশ ভাই বাইরে গেছেন আট দিন হলো আর আট
দিন পরেই তিনি ফিরে আসবেন এরপর আমাকে
পায়েলের সঙ্গে যেতে হবে কিন্তু তার আগে
আমি পায়েলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাই আমি
ধীরে ধীরে পায়েলকে ডাকলাম কিন্তু সে গভীর
ঘুমে ছিল জানালাটা এত ছোট ছিল যে ভিতরে
ঢুকে তাকে জাগানো সম্ভব নয় তাই জানালার
কাছে টোকা দিলাম
ভয় ছিল আমার আওয়াজ মা-বাবার ঘরে পৌঁছাবে।
অনেক চেষ্টার পর সে চোখ খুলল এবং জানালার
কাছে এসে আমাকে দেখতে পেল। সে জিজ্ঞেস করল
কি হয়েছে? আমি বললাম প্রতিদিনের এই নাটক
আর ভালো লাগছে না। চলো তোমার নিজের ঘরে
যাও। কিন্তু সে আবারো ভীত হয়ে বলল, না আমি
এখানে ভালো আছি। আমি তাকে বোঝানোর চেষ্টা
করলাম, পায়েল, দেখো আমি সত্যিই দুঃখিত।
আমি আর তোমার সঙ্গে কোন খারাপ আচরণ করবো
না। শুধু চলো। আমার ঘরে যাও। কিন্তু সে
মাথা নেড়ে অস্বীকৃতি জানালো এবং বলল, না
আমি এখানে থাকবো। তার এই জেদের কারণে আমি
নিজেই নিজের বিপদ দেখে এনেছিলাম। এখন সে
ঘরের জানালা দরজা বন্ধ করে ঘুমাতো। তবে
আমাদের একসঙ্গে খেতে বসতে হতো। মা-বাবা
টেবিলের সামনে বসে থাকতেন যখন পায়েল খেতে
বসতো। আমি তার পাশের চেয়ারে বসতাম। রমেশ
ভাই এবং ভাবী থাকলে সে তাদের সঙ্গে খেত।
একদিন আমি তাকে বললাম, আমার প্লেটে ভাত
দাও। সে ভাত দিল। তখন আমি আমার পা তার
পায়ের উপর রাখলাম। সে চমকে উঠে চিৎকার
করে উঠলো। বাকিরাও আমার দিকে তাকালেন। আমি
দেখতে লাগলাম। আর সেই মুহূর্তে তাকেও আমার
দিকে তাকাতে দেখলাম। সে নিজের পাশ সরানোর
চেষ্টা করছিল। কিন্তু আমি রাগ করে নিজের
অবস্থান থেকে নড়িনি। ভাবীর চলে যাওয়ার
পর থেকেই তার জীবনটা যেন এলোমেলো হয়ে
গেছে। সঠিক সময়ে খাবার খাওয়াও বন্ধ করে
দিয়েছে। সব দায়িত্ব যেন একাই কাঁধে তুলে
নিয়েছে মাকে জিজ্ঞেস করে সে রান্নার
দায়িত্ব সামলানোর চেষ্টা করতো। রাতের
বেলা যখন সবাই উঠুনে গল্প করতো তখন আমি
চুপচাপ রান্নাঘরে যেতাম। একদিন তাকে দেখি
ফ্রিজ থেকে পানির বোতল বের করে গ্লাসে
ঢেলে পান করছে। আমি পেছনে গিয়ে দাঁড়াই।
আর সে হঠাৎ চমকে উঠে হাত দিয়ে আমায় ধরে
ফেলে তার মুখে আতঙ্কের ছাপ দেখে আমি
শান্তভাবে বললাম তুমি এত ভয় পাচ্ছ কেন
আমি তো তোমার স্বামী আজ একটু স্বাভাবিক
হওয়ার চেষ্টা করো কাল দিদি আর ভাই আসবে
আমাদের সবার জন্য সবকিছু ঠিকঠাক রাখতে হবে
পূজা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল আমি ধীরে
ধীরে তার দিকে এগিয়ে গেলাম সে আমার দিকে
তাকিয়ে বলল তুমি কি ভাবছো আমি সহজে তোমার
কথা মানবে আমি হাসতে হাসতে বললাম আজ যদি
তুমি আমার সঙ্গে কথা না বলো কাল কিন্তু
নিজে এসে বলবে তার চোখে আতঙ্কের ছাপ ছিল
আমি হয়তো একটু কঠোর হয়ে গিয়েছিলাম সে
হঠাৎ বলে উঠলো আমাকে একা ছেড়ে দাও আমি
দ্রুত সরে এলাম ঠিক তখনই মা-বাবা রান্নাঘর
থেকে বেরিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছে
পূজা ধরা গলায় বলল কিছুই না মনে হলো কেউ
বাইরে ছিল মা অবাক হয়ে বললেন বাইরে
কোথায় সে বলল শুধু একটা ছায়া দেখেছিলাম
হয়তো ভুল দেখেছি আমি বুঝতে পারলাম সে
ইচ্ছে ইচ্ছে করেই এমনটা বলছে যাতে
পরিস্থিতি অন্যদিকে ঘুরে যায়। আমি কিছু
না বলে আমার ঘরে চলে এলাম। পরের দিন দাদা
আর ভাবী বাড়িতে এল। ইতিমধ্যে আমাদের
বিয়ের দুমাস কেটে গিয়েছিল। কিন্তু পূজা
ছিল ঠিক আগের মতোই। নিজের মতামতে অনাদ।
রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর আমি বাইরে
এলাম। পূজা উঠনে মাদুর বিছিয়ে শুয়েছিল।
আমি তার পাশে গিয়ে বললাম, চলো ঘরে। রাত
অনেক হয়েছে সে বলল আমি এখানে ভালো আছি
তুমি আমাকে জোর করো না আমি বললাম আমি জানি
তুমি জেদি কিন্তু এইভাবে চলবে না তখন সে
বলল জোর করলে আমি চিৎকার করব আমি বললাম
ঠিক আছে চিৎকার করো আমি তার মুখ চেপে
ধরলাম এবং শান্তভাবে বললাম তুমি সবসময়
এভাবে আতঙ্কিত হবে না ঠিক তখনই দরজায়
টোকা পড়ল দাদা রমেশ ভাই হয়তো বাইরে
দাঁড়িয়েছিল মা উঠে দরজা খুলতে গেলেন।
আমি দ্রুত পিছু হটলাম এবং পূজা শান্তভাবে
বসে পড়ল পূজা রান্নাঘরে কাজ করছিল হঠাৎ
দরজায় তোকা পড়ল রমেশ ভাই জানালেন ভাবীর
শরীর খারাপ পূজাকে একা রেখে ভাবীকে
ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো জানা গেল
ভাবি মা হতে চলেছেন তবে সম্পূর্ণ বিশ্রাম
প্রয়োজন এরপর ভাবীর দায়িত্ব পূজার উপর
পড়ে সারাদিন পরিশ্রমে ক্লান্ত পূজার
প্রতি আমার আগের ব্যবহারে অনুশোচনা হল আমি
তাকে সাহায্য করতে শুরু করলাম একদিন বললাম
তুমি কি আমার বন্ধু হবে? পূজা দ্বিধায় বলল
তুমি ভালো নও। আগে কেমন ব্যবহার করতে ভুলে
গেছো? আমি আশ্বাস দিলাম ভয় পেও না। আমি
সত্যিই বদলেছি। সময় গড়ালো। পূজা আমার
সঙ্গে স্বাভাবিক হলো। আমরা একসঙ্গে কাজ
করতাম। গল্প করতাম। নয় মাস পর। ভাবীর
প্রসবের সময় মা অসুস্থ থাকায় আমাকে এবং
পূজাকে হাসপাতালে যেতে হল।
ছেলে হলেও ভাবীকে বাঁচানো গেল না। সেই খবর
শুনে আমাদের পৃথিবী যেন থমকে গেল। রমেশ
ভাই নিথর হয়ে গেলেন। পূজাও স্তব্ধ। কেউ
কিছু বলতে পারছিল না। ভাই চিৎকার করে
কেঁদে উঠলো। আমি নিজেও শূন্য মনে বসে
পড়লাম। ডাক্তার জানালেন, ভাবীর রক্তচাপ
হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি সামলানো
যায়নি। এটা খুবই দ্রুত ঘটেছে। আমি দুই
দিক সামলানোর চেষ্টা করছিলাম। একদিকে ভাই,
অন্যদিকে পূজা। কিন্তু দুজনকেই শান্ত করা
আমার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরে বাবা
মা হাসপাতালে এসে পৌঁছালেন। মা পূজাকে
বুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন। এদিকে
নবজাতক তখনো নার্সের কাছে ছিল। আমি তখনো
ভাই এবং পূজাকে সামলাতে ব্যস্ত ছিলাম।
খবরটা পূজার বাবার বাড়িতে পৌঁছাতেই ওর
পরিবারও ভেঙে পড়ল। সবাইকে শান্ত করতে
করতেই রাত কেটে গেল। সময়ের সঙ্গে জীবনে
যেন পাহাড় সম দুঃখ নেমে এসেছিল। ধীরে
ধীরে দিন কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু আমাদের
পরিবারের আনন্দ যেন কোথাও হারিয়ে
গিয়েছিল। সেই ছোট্ট শিশুটিকে পূজা আগলে
রাখতে শুরু করেছিল। ও চুপচাপ হয়ে
গিয়েছিল। আগের মতো হাসাহাসি করতো না।
আমার ভাই রমেশও চুপচাপ থাকতো। কথা বললেই
মনে হতো যে কোন মুহূর্তে কান্না ফেলে
দেবে। আমি চেষ্টা করতাম ওকে সান্ত্বনা
দিতে। দুই মাস কেটে গেল। পূজাকে দেখে মনে
হতো ও যেন নিজের বয়সের চেয়ে অনেক বড়
হয়ে গিয়েছে। সারাদিন কাজ সামলিয়ে রাতে
বিছানায় বসতে না বসতেই ছোট্ট চিন্টু
কান্না শুরু করতো। রমেশ ভাইয়ের ছেলে
চিন্টু। পূজা আবার ওকে সামলাতে শুরু করতো।
আমি ওর প্রতি দয়া অনুভব করতে শুরু করলাম।
বললাম তুমি একটু ঘুমিয়ে নাও। ওকে আমায়
দাও। আমি দেখে রাখবো। পূজা ক্লান্ত চোখে
বলল চিন্টু আমার কাছেই থাকবে। আপনাকে ও
সামলাতে দেবে না। আমি বললাম আমি চেষ্টা
করব। একটু তো বিশ্রাম নাও। এভাবেই একটা
বছর পার হয়ে গেল। আমি পূজার জন্য কষ্ট
পেতাম। কিন্তু ওর যেন কোন ফুরসতি ছিল না।
পুরো সংসার সামলাচ্ছিল সে। ঠিক তখনই ওর
বাবার বাড়িতে আরেকটা দুঃসংবাদ এল। পূজার
বড় বোনের স্বামী একটি গাড়ি দুর্ঘটনায়
মারা গেল। সবাই কেঁদে ভেঙে পড়ল। এক বছরের
মধ্যে দুইটি মৃত্যু তাদের পরিবারকে
বিধ্বস্ত করে দিল। পূজার দিদিকে তার
শ্বশুর বাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনা হলো। তারা
আর তার দায়িত্ব নিতে পারলো না। এই
পরিস্থিতিতে দুই পরিবার মিলে সিদ্ধান্ত
নিল রমেশ ভাইদের বিয়ে পূজার বিধবা দিদির
সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হবে। পূজার দিদির আগের
পক্ষের দুই সন্তানকেও আমরা আপন করে নিলাম।
এভাবেই আমাদের সংসারে নতুন সদস্যরা যোগ
হলো। এটা আমারই প্রস্তাব ছিল। তাই পূজা
আরো বেশি করে আমার কাছাকাছি চলে এল।
আমাদের মধ্যে কথা বাড়তে লাগলো। আমরা ধীরে
ধীরে পরস্পরের প্রতি অনুভূতি প্রকাশ করতে
শুরু করলাম। ছয় মাসের মধ্যেই পূজা
গর্ভবতী হলো। ওদিকে রমেশ ভাই তার নতুন
স্ত্রীকে খুবই সুখে রেখেছিল। তার আগের
সন্তানদেরও বাবা হিসেবে দায়িত্ব পালন
করছিল। এদিকে ছোট্ট চিন্টু বড় হয়ে
উঠছিল। আমাদের সংসারে আবারো হাসি খুশির
দিন ফিরতে শুরু করল। নয় মাস পরে পূজা
একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম দিল। আমার
আনন্দ যেন দ্বিগুন হয়ে গেল। আমি জীবনের
অতীত ঘটনাগুলো মনে করে ভাবি। প্রথমদিকে
আমি ভুল করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে
সবকিছু ঠিকঠাকভাবে সামলে নিতে পেরেছি। এই
গল্পটি জীবনসংগ্রাম, সম্পর্ক এবং
পারিবারিক মূল্যবোধের একটি দৃষ্টান্ত। এটি
দেখায়। সময় ও পরিস্থিতি কখনো কখনো
আমাদের কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং সম্পর্ককে
নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে। আপনাদের মতামত
জানাতে ভুলবেন না। যদি গল্পটি ভালো লেগে
থাকে ভিডিওটি লাইক, শেয়ার এবং আমাদের
চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না।
আমরা আবার আসছি নতুন গল্প নিয়ে। সবাইকে
ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা।
Comments
Post a Comment