মায়ের দুধ চেপে বোদায় থুথু লাগিয়ে..
ছোট ভাই আস্তে আস্তে মা কিন্তু শুনে ফেলতে
পারে কারণ মা ভোরবেলা সজাগ হয়ে যায় ছোট
ভাইটা আমার কথা না শুনে শব্দ করে ফেল
তারপর মা আমাদের দুজনকে একই রুমে ভোর রাতে
হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গা বুঝতে পারলাম ভোর চারটা
বাজে আমার মেয়ে সালমা বলেছিল তাকে
পাঁচটার মধ্যে জিম ক্লাসে যেতে হবে কিন্তু
গভীর ঘুমে ডুবে যাওয়ায় দেরি হয়ে গেল
ভাবলাম সালমারা করবে তাই হোল ঘর থেকে
ডাকতে চেয়েও সরাসরি তার ঘরের দিকে গেলাম
মনে হলো হয়তো সে নিজেই উঠে পড়েছে। ঘরের
কাছে পৌঁছানোর পর দেখলাম দরজাটা খানিকটা
খোলা কেন জানিনা। হঠাৎ আমার মনে হলো একটু
সাবধান হওয়া উচিত। দরজার সামনে পৌঁছানোর
আগে একটু থেমে গেলাম। তারপর ধীরে ধীরে পা
বাড়িয়ে দরজার কাছে পৌঁছালাম। বাইরে থেকে
দেখতে চেষ্টা করলাম দরজার সামান্য ফাঁকা
দিয়ে ঘরের ভিতরে চোখ রাখতেই এমন একটি
দৃশ্য দেখলাম যে আমাকে হতবাক করে দিন আমার
পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। আমি দরজার
পাশে থমকে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমার মেয়ে
সালমা বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল সে পাশ ফিরে
শুয়েছিল। তবে তার শরীরে অর্ধেক ঘুরে
যাওয়ায় সে কিছুটা অন্যদিকে ছিল। তার
পরণে ছিল একটি লাল রঙের টিশার্ট এবং কালো
জিন্স। আমি দেখলাম ঘুমের মধ্যে তার
টিশার্ট কিছুটা উপরে উঠে গেছে। সে বিছানার
এক কোণে শুয়েছিল তার থেকে সামান্য দূরে
প্রায় দেড় ফুট দূরে। আমার ছোট ছেলে
রাসেল দাঁড়িয়েছিল। রাসেল এতটাই কাছে
দাঁড়িয়েছিল যে সে সালমার দিকে এক
দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল। কিন্তু সে শুধু
তাকিয়ে ছিল না যেন কিছু করার চেষ্টা
করছিল। আমি ভেতরে কি ঘটছে তা দেখেই বিষয়
জেনে গেলাম। এই মুহূর্তে আমার মনে হলো হে
ঈশ্বর এখন কি করব? এই ছেলেটি এত সাহস
পেয়েছে যে আমার উপস্থিতিতেও সালমার ঘরে
ঢোকার সাহস দেখাচ্ছে। আমার মনের মধ্যে
আতঙ্ক কাজ করছি। রাসেল যে আমার 18 বছরের
ছেলে। সে কেন সালেমন যে তার 25 বছরের বড়
বোন তার প্রতি এমন আচরণ করছে তার সাহস যে
দিনে দিনে বেড়েই চলেছে এই পরিস্থিতি দেখে
আমার মনে ভয় ঢুকে গেল এমন কিছু যেন না
ঘটে যা তাদের দুজনের জীবনকে নষ্ট করে দিতে
পারে আমি কখনো ভাবিনি যে রাসেল এমন কিছু
করতে পারে তবে এখন সে বড় হচ্ছে আর তার
আচরণ আমাকে চিন্তিত করে তুলেছে আমি আগে
কখনো রাসেলের এমন আচরণের দিকে তেমন মনোযোগ
দিন তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য করলাম।
সেজন্য সালমার প্রতি একটু বেশি মনোযোগী
হয়ে উঠেছে। সালমা ছিল তার থেকে পাঁচ
বছরের বর। তার নিজের একটা ভিন্ন জীবন ছিল
কলেজ। বন্ধু-বান্ধবের আলাদা একজন। তার সেই
যোগাসনের থেকে একেবারেই আলাদা। তারা
একসঙ্গে বেশিরভাগ সময় বাড়িতে থাকতো।
কিংবা আমাদের পুরো পরিবার একসঙ্গে কোথাও
গেলে যেমনটা সাধারণ ভাইবোনেরা করে। তারা
একসঙ্গে হাসি তামাশা করতো। একে অপরকে
ঠাট্টা করতো কিংবা ছোট ছোট দুষ্টুমি করত।
সোমন সবসময় তার সঙ্গে খুব স্বাভাবিক ও
নির্ভিক আচরণ করত। সম্ভবত সালমা এই
নির্ভিক আচরণে রাসেলের মনে তার প্রতি এক
অদ্ভুত আকর্ষণ তৈরি করেছিল। ধীরে ধীরে
রাসেল যে আরো কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা
করতে শুরু করুন। তবে সালমা ছিল তার নিজের
যথে মগ্ন। তার এই ব্যস্ততার কারণে সে কখনো
বুঝতে পারেনি যে রাসেলকে একটু অন্যভাবে
দেখছে রাসেল প্রায় সালমার দিকে তাকিয়ে
থাকতো। বিশেষ করে যখন সে মনোযোগ দিয়ে
কিছু করতো বা নিচু হয়ে কোন কাজ করতো
রাসেলের দৃষ্টি দৃষ্টি চলে যেত সালমার
দিকে মাঝে মাঝে সালমার ঘরে নিয়ে আসার
চেষ্টা করতো এবং আলাপের ছেলে একটু বেশি
ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়তো খুবই লজ্জাজনক ছিল আমার
পক্ষে এটা সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছিল তবে
রাসেলকে পুরোপুরি দোষারোপ করার আগে ও আমার
মনে হয় জন্মান এই আধুনিক যুগে যেখানে
টিভি সিনেমা ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোনের
অতিরিক্ত প্রভাব রয়েছে সেখানে এই ধরনের
আচরণ না হওয়াটা কিভাবে সম্ভব? আমাদের
সন্তানদের মনে এগুলোর প্রভাব পড়বে এটাই
স্বাভাবিক। তবে যা সবচেয়ে কষ্টদায়ক ছিল
তাহলে আমি এ ঘটনা দেখেও কিছুই করতে
পারছিলাম না। নিজের সন্তানদের জন্য আমার
অসহায়ত্ব আমাকে ভেতরে ভেতরে ধ্বংস করে
দিচ্ছিল। আমি কখনো কল্পনাও করিনি যে রাসেল
এমন কিছু করতে পারে। আমার স্বামী রাজ এদিন
রাতে পরিশ্রম করেন। আমাদের সন্তানদের একটি
সুন্দর এবং সুখী জীবন দেওয়ার জন্য যদি
তিনি কখনো জানতে পারেন যে আধুনিক সময়ের
প্রভাব রাসেলের মনকে এমনভাবে দূষিত করছে।
তাহলে তিনি নিশ্চয়ই প্রচন্ড কষ্ট পাবেন।
তবে তার কাছে এই বিষয়ে বলা আমার পক্ষে
সম্ভব ছিল না। যদি তিনি ঘটনা জানতে পারেন
তাহলে তিনি রাসেলের মনস্তত্ব বোঝার চেষ্টা
না করেই হয়তো। রাগের বসে শাস্তি দেবেন বা
তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেবেন এমনটা আমি
কখনোই চাইনি। আমি ভেবেছিলাম সালমাকে
সামান্য ইঙ্গিত দিয়ে বিষয়টি জানানো উচিত
যাতে সে সতর্ক থাকতে পারে এবং রাসেলের
সঙ্গে একটু সাবধানতার সঙ্গে আচরণ করতে
পারে। তবে এর আরেকটি বিপদ ছিল। সালমার মনে
যদি রাসেলের প্রতি ঘৃণা জন্মায় তাহলে
তাদের সম্পর্ক চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে।
এমনকি যদি সালমা রাগের মাথায় রাসেলকে
কিছু বলে ফেলে তাহলে রাসেলও রেগে গিয়ে
কোন ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে যা তাদের
ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ হতে পারে। আমি
কোনভাবেই তাদের ভাই বোনের পবিত্র
সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরাতে চাইনি। তাই
সালমাকে কিছু বলার পরিবর্তে আমি নিজের মত
করে পরিস্থিতি সামলানোর সিদ্ধান্ত নিলাম।
আমি ঠিক করলাম রাসেলকে ঠিক পথে আনার জন্য
সময়মত তাকে বোঝানোর চেষ্টা করব। এখন থেকে
যখনই আমি লক্ষ্য করতাম যে রাসেল চুপি চুপি
সালমার দিকে তাকিয়ে আছে আমি কোন না কোন
অজুহাতে তাকে সেই জায়গা থেকে সরিয়ে
দিতাম। এতে করে তার আচরণ অনেকটাই
নিয়ন্ত্রণে আসতো। তবে আজকের ঘটনা আমাকে
আরো সচেতন করে তুলুন। আমি বুঝলাম বিষয়টি
নিয়ে আমাকে আরো সতর্ক হতে হবে। এবং
উপযুক্ত সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পিছনের সাহস দেখে আমি বুঝতে পারলাম যে আর
দেরি করা ঠিক হবে না। যদি সময়মতো আমি কোন
ব্যবস্থা না নিই তাহলে তার কাজের জীবনে
বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। আমাকে কিছু একটা
করতেই হবে। কিন্তু কিভাবে পরিস্থিতি সামাল
দেবে তা বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমার মনে
হলো সঠিক পদ্ধতিতে তাকে বোঝাতে স্বাভাবিক
হতে পারে। তখন আমি যেটা ঠিক মনে করেছিলাম
সেটাই করার সিদ্ধান্ত নিলাম। যদি হঠাৎ করে
ঘরে ঢুকে যায় তাহলে রাসেল ভয় পেতে পারে।
আর সালমা যদি তাকে এমন অবস্থায় দেখে ফেলে
তাহলে সে আরো হতবাক হয়ে যেতে পারে। তাই
আমি এমন কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলাম। যাতে
সে বুঝতে পারে যে আমি জেগেছি এবং তার ঘর
ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় এসেছে। এই ভাবনা
থেকে আমি রান্নাঘরে গিয়ে ইচ্ছে করে একটি
স্টিলের থালা ফেলে দিলাম। এতে বেশ বটসোট
শব্দ হলো আমার প্রত্যাশা মতো কিছুক্ষণের
মধ্যেই আমি দেখলাম বিষাদের ছায়া পাশের পথ
দিয়ে চলে যাচ্ছে তার চলে যাওয়া দেখে আমি
স্বস্তি পেলাম এরপর আমি সালমাকে ডাকার
জন্য তার ঘরের দিকে এগোলাম ঘরে ঢুকে দেখি
সালমা তখনো গভীর ঘুমে এত বড় আওয়াজ
হওয়ার পরেও সে উঠে বসেনি এটা দেখে আমি
অবাক হলাম মনে হলো সে এতটাই গভীর ঘুমে
থাকে যে রাসেল সহজেই তাকে দেখতে বা কিছু
করার সুযোগ পেতে পারে শেষমেষ আমি তার কাছে
গিয়ে তাকে সরাসরি জাগানোর সিদ্ধান্ত
নিলাম। আমি সালমাকে ডেকে জানালাম সে ঘুম
থেকে উঠে আমার দিকে রাগের দৃষ্টিতে তাকাল।
এবং দেরি হওয়ার জন্য আমাকে 10 দিন। এরপর
সে দ্রুত বাথরুমে। ঢুকে গেল। আমি আবার
আমার কাজে মন দিলাম। কিছুক্ষণ পরে দেখলাম
রাসেল আবার ঘরের দিকে যাচ্ছে। আমি ভাবলাম
হয়তো সালমা তখনো প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই
আমি রাসেলকে থামানোর জন্য ইচ্ছে করে। একটু
শব্দ করলাম। শব্দ শুনে রাসেল বুঝতে পার যে
আমি তার দিকে আসছি। সে আমার দিকে তাকাল।
কিন্তু লজ্জায় তার চোখ নিচের দিকে ঝুকে
গেল। এরপর সে দ্রুত তার ঘরে চলে গেল। আমি
অপেক্ষা করতে লাগলাম। সালমার বাইরে আসার
কিছুক্ষণ পর সালমা পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে
বাইরে এল এবং আমাকে বিদায় জানিয়ে চলে
গেল। তখন আমি রাসেলকে থেকে এর দিকে নিয়ে
আসতে চাইলাম। কিন্তু সে কোন সাড়া দিল না।
তখন আমি তার ঘরের দিকে গেলাম এবং দেখলাম
সে ঘরে নেই। এরপর শুনতে পেলাম সে বাথরুমে
আছে। আমি দরজার কাছে গিয়ে তার আওয়াজ
শুনলাম কিন্তু তাকে বিরক্ত না করে আবার
হলে ফিরে এলাম। কিছুক্ষণ পর রাসেল বাইরে
এল এবং বলল, মা তুমি আমাকে ডেকেছিলে। আমি
তাকে বললাম, হ্যাঁ। এখানে বসো। তোমার
সঙ্গে কিছু কথা বলার আছে। আমার কন্ঠে সুর
শুনে রাসেল বুঝতে পারলামই গুরুতর। কিছু
বলতে যাচ্ছি। সে কিছুটা অস্থির হয়ে ধীরে
ধীরে আমার কাছে এসে বসল। আমি শান্তভাবে
কথা শুরু করলাম। কিন্তু অল্প সময়ের
মধ্যেই তাকে ভর্ষণ করতে শুরু করলাম। আমি
সালমার ঘরে তার গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ
করার বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তবে
ইঙ্গিত করলাম। আমি তাকে বোঝালাম যে আমি
তার এমন আচরণ আগেও লক্ষ্য করেছি। রাসেল
দ্রুত বুঝতে পারে যে তার কাজ আমার চোখে
ধরা পড়েছে। ভয়ে তার মুখ শুকিয়ে গেল।
আমি আরো করা সুরে বললাম যদি সে আবার এমন
কিছু করে। আমি তার বাবাকে সব বলে দেব। এই
কথা শুনে রাসেল কেঁদে ফেলে বলল, মা প্লিজ
এমন কিছু করো না। আমাকে মাফ করে দাও। সে
বারবার আমার কাছে ক্ষমা চাইতে লাগে। এবং
প্রতিশ্রুতি দিল যে সে আর কখনো এমন কিছু
করবে না। সে আমার পা ধরে বলতে লাগল আর
কখনো এমন হবে না। একবার আমাকে সুযোগ দাও।
আমি তার আচরণ দেখে বুঝলাম সে তার ভুল
বুঝতে পেরেছে। আমি তাকে শান্তভাবে বুঝলাম
সে। যা করেছিল তা কতটা ভুল এবং এর ফল কতটা
ভয়াবহ হতে পারতো। আর যদি কেউ জানতে পারে
তাহলে কতটা অসম্মান হবে শেষমেষ আমি তাকে
এই প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য করলাম যে। সে
আর কখনো এমন কাজ করবে না। তারপর আমি তাকে
আর বকাপকি করিনি। আমার মনে হলো সে বার
বুঝতে পেরেছে এবং এমন কিছু আর করবে না।
এরপর সে পুরোপুরি শান্ত হয়ে গেল এবং আমি
তাকে আর কখনো সালমাকে দেখতে দেখিনি। এতে
আমি নিশ্চিত হলাম যে সে তার ভুল বুঝতে
পেরেছে এবং নিজেকে সংশোধন করেছে। এরপর
প্রায় এক মাস। আমি তার থেকে একটু দূরত্ব
বজায় রাখলাম এবং খুব কম কথা বললাম। যাতে
সে বুঝতে পারে যে সে যা করেছিল তা ভুল
ছিল। ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে
গেল। আমরা আবার আগের মত হাসি মুখের সঙ্গে
কথা বলা শুরু করলাম। সবকিছু আগের মতোই
সুন্দরভাবে চলতে লাগলো। কিন্তু একদিন আমি
তাকে আবার সালমাকে দেখতে ধরে ফেললাম। যদিও
সেবার বেশ সতর্ক ছিল। তবু আমি লক্ষ্য
করলাম তখন আবার আমার রাগ হতে শুরু করল।
কিন্তু এবার আমি আগের মতো তাকে বকাঝকা
করিনি।
কারণ তার প্রতি আমার চিন্তা বাড়ছিল। সে
আমাকে বলেছিল যে তার একটি প্রেমিকা আছে
এবং সে তার বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটায়।
তবু কেন সে সালমাকে এভাবে দেখার প্রয়োজন
বোধ করি। তা আমার মাথায় আসছিল না। তখন
আমি ঠিক করলাম এই বিষয়ে আমি আবার তার
সঙ্গে কথা বলবো। তিনদিন পর দুপুরে আমরা
দুজন বাড়িতে একা ছিলাম। সে তার ঘরে ছিল।
আর আমি আমার ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। আমি
ভাবলাম এখন সময় এ বিষয়ে কথা বলার আমি
তার ঘরের দিকে গেলাম। দরজা বন্ধ ছিল। আমি
দরজা খোলার চেষ্টা করলাম কিন্তু সেটি ভিতর
থেকে লক করা ছিল। আমি দরজায় নক করলাম এবং
তাকে ডাকলাম। সে ভেতর থেকে সারাদিন এবং
দরজা খুলে দিন। আমি জিজ্ঞেস করলাম দরজা
বন্ধ করে কি করছিলেন সে বল কিছু না এই
পেপার পড়ছিলাম। তারপর সে বিছানার পাশে
থাকা একটি পেপার দেখান। আমি মনে মনে
ভাবলাম যদি সত্যিই পেপার পড়েছিল তবে দরজা
লক করার কি প্রয়োজন ছিল নিশ্চয়ই কিছু
অন্য কিছু হচ্ছিল কিন্তু এবার আমি শান্ত
থাকতে চাইলাম এবং তাকে বোঝানোর সিদ্ধান্ত
নিলাম আমি সালমাকে নিয়ে কথা বলার জন্য
এসেছিলাম তাই অন্য কিছু না বলেই আমি তার
বিছানার পাশে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কোন
পেপার পড়ছো তারপর তার হাত থেকে পেপার
ছিনিয়ে দেখতে শুরু করলাম এটি তার কলেজের
একটি বুলেটিন ছিল যেখানে ছাত্র দের লেখা
প্রবন্ধ গল্প এবং কবিতা ছিল। আমি পেপারটি
তাকে ফেরত দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কোনটা
পড়ছিল এতে পেপার খুলেছে একটি প্রবন্ধ
দেখিয়ে বলল এটা করছিলাম। আমি বললাম ঠিক
করে বলতো। কি আছে এতে? তারপর আমি তার পাশে
বিছানায় একটু জায়গা নিয়ে শুয়ে পড়লাম।
আমার ছেলে বিছানায় চিত হয়ে শুয়েছিল। আর
আমি তার পাশে শুয়ে থাকে। সেই প্রবন্ধটি
দেখতে লাগলাম। আমরা একসঙ্গে এই প্রবন্ধটি
পড়তে শুরু করলাম। রাসেল বলল, এতে আর কিছু
করার নেই। তুমি কি করতে চাও? তারপর সে
পেপারটি আমার হাতে দিয়ে বলল, আমি বিছানার
কিনারায় শুয়ে বললাম, মনে হচ্ছে পড়তে
পড়তে মনে হয় নিচে পড়ে যাব। এই কথা বলতে
রাসেল তাড়াতাড়ি আমাকে ধরে ফেলার জন্য
হাত বাড়ালো। কারণ আমি খাট থেকে পড়ে
যাচ্ছিলাম। এরপর সে আমায় ধরে উপরে তুলুন।
তার এই আচরণে আমার মধ্যে এক অদ্ভুত শিহরণ
জেগে উঠলো। রাসেল খুব বিব্রত দেখাচ্ছিল।
সে মুখে বলল মা আমি আমি হেসে বললাম আরে
কোন ব্যাপার না বরং তোমাকে ধন্যবাদ বলা
উচিত তুমি যদি আমাকে না ধরতে তাহলে আমি
পড়ে যেতাম আমার কথায় রাসেল ও হেসে উঠল
আর পরিবেশ হালকা হয়ে গেল আমি তাকে বললাম
এবার এটা আমাকে পড়াশোনা ও ছোট অক্ষর আমার
ভালো দেখায় না রাসেল পেপার নিয়ে পড়া
শুরু করল সে আমাকে আরো কাছে টেনে নিয়ে
প্রবন্ধটি পড়ে শোনালেও তারপর বলল এখন
বাকিটা তুমি পড়
আমি পেপারটি হাতে নিয়ে পরের পৃষ্ঠা
উল্টাতে শুরু করলাম। রাসেল আমার খাটে
শুয়ে ছিল। একটি পৃষ্ঠা থেমে আমি মন দিয়ে
পড়তে শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পরে আমি একটু
অস্বাভাবিকতা অনুভব করলাম। প্রথমে বুঝতে
পারিনি। কিন্তু যখন ভালো করে খেয়াল
করলাম। তখন ব্যাপারটা পরিষ্কার হলো। আমি
ভাবলাম সে তো পেপার পড়ছিল তবু এমন। নিচে
তাকিয়ে দেখলাম তার হাত আমার তখন মনে
পড়লো যখন সে আমাকে পড়ে যাওয়া থেকে
ধরেছিল। আমি আস্তে করে রাসেল মুখের দিকে
তাকালাম। তার চেহারা সম্পূর্ণ শান্ত। আমি
ভাবছিলাম সে কি ভাবছে নিজেকে শান্ত
রাখলাম। এবং আবার পেপার পড়তে শুরু করলাম।
মনে মনে প্রার্থনা করছিলাম যে রাসেল এই
পরিস্থিতি নিয়ে। কিছু না বুঝে কি করব
ভেবে পাচ্ছিলাম না। প্রথমে মনে হলো সাথে
সাথে উঠে গিয়ে তাকে দূরে সরিয়ে দেই।
কিন্তু কেন যেন মনে হলো আমি তেমন শক্তি
সঞ্চয় করতে পারছি না যেন কোন অদৃশ্য
শক্তি আমাকে সেখানে আটকে রেখেছে। আমি
চুপচাপ শুয়ে রইলাম। বাইরে থেকে পেপার
পড়ার ভান করছিলাম। সময় যেন থমকে
গিয়েছিল কয়েক মিনিট কেটেছে। কিন্তু মনে
হচ্ছিল যে কয়েক ঘন্টা পার হয়ে গেছে।
অবশেষে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমাকে কিছু
করতে হবে। আমি বললাম রাসেল মনে হচ্ছে আমার
শরীরটা খারাপ লাগছে। তারপর আস্তে আস্তে
নিজেকে সরিয়ে নিলাম। এবং তার থেকে একটু
দূরে সরে গেলাম। কিন্তু রাসেল আমার দিকে
তাকিয়ে রইল। কিন্তু কিছু বলল না। আমি তখন
পরিস্থিতি হালকা করার জন্য তাকে অন্য কোন
বিষয়ে কথা বলতে লাগলাম। আমি রাসেলের দিকে
একবার তাকালাম এবং দেখলাম সে কিছুটা
অস্বস্তি অনুভব করছে। পরিবেশ সহজ করার
জন্য বললাম রাসেল আমার গলা শুকিয়ে গেছে।
তুমি কি আমার জন্য এক গ্লাস জল এনে দেবে?
রাসেল বিছানা থেকে উঠে জল আনতে চলে গেল।
সে রুম থেকে বেরোতেই আমি কিছুটা স্বস্তি
অনুভব করলাম এবং মনে হলো তাকেও নিজের আবেগ
সামলানোর সুযোগ দেওয়া হলো। যখন সে জল
নিয়ে ফিরে এল আমি তার দিকে তাকালাম। এবং
দেখলাম সে এখন অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে।
আমি তার কাছ থেকে জল নিয়ে এক নিঃশ্বাসে
পান করলাম। এটা আমি কিছুটা শান্ত পেলাম।
রাসেল গ্লাসটি নিয়ে একপাশে রেখে আবার
বিছানায় এসে আমার পাশে বসল। আমরা হালকা
ফুলকা বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করলাম।
বন্ধুরা আজকের গল্পটা এখানেই শেষ করলাম।
ভালো লাগলে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে
পাশে থাকবেন। ধন্যবাদ।
Comments
Post a Comment