ভাগ্নি ডাকল অদ্ভুত আওয়াজ মামা ছুটে এল হেডফোন লাগিয়ে দেখুন
আমার মামা হঠাৎ বললেন, আমি তোমাকে প্রথম
দেখাতেই ভালোবেসে ফেলেছিলাম। আমার গা
শিউড়ে উঠলো। বুকের ভেতরটা হঠাৎ হিম শীতল
হয়ে গেল। যেন হাজার ফুট উঁচু থেকে কেউ
আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে। সব
পরিচিতি সব সম্পর্ক সব হিসেব যেন এক
মুহূর্তে লন্ডখন্ড হয়ে গেল। আমি বুঝতে
পারলাম জীবন কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত মোড়
নেয়। যেখান থেকে আর ফিরে আসার পথ থাকে
না। সেইদিন থেকে আমার পৃথিবীটা চিরতরে
বদলে গেল। মায়া ব্লগসে আপনাদের সবাইকে
স্বাগত। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন।
আজকের গল্পটি এমন এক সম্পর্কের যা কেবল
কিছু অসমাপ্ত স্বপ্ন আর অসীম বেদনার রেশ
রেখে যায়। অনুরোধ করবো গল্পটি শোনার সময়
হেডফোন ব্যবহার করুন। কারণ এর প্রতিটি
অনুভূতি আপনাকে গভীর থেকে স্পর্শ করবে। আর
যদি গল্পটি ভালো লাগে তবে অবশ্যই আমাদের
চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে পাশে থাকবেন।
আমার নাম সাবিয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
পড়তাম যখন এই ঘটনাটা ঘটে। আমি তখন সবে
অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষে। জীবনের রঙিন
স্বপ্নগুলো চোখে নিয়ে দিন কাটছিল। আমার
পরিবার বলতে বাবা মা আর এক ছোট ভাই।
আমাদের জীবনটা ছিল ভীষণ ছিমছাম আর গোছানো।
ছুটির দিনে মামার বাড়িতে যাওয়া নানু
নানার আদর মামাতো ভাই বোনদের সঙ্গে
খুনশুটি এসবই ছিল আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য
অংশ আমার মায়ের ছোট ভাই অর্থাৎ আমার মামা
তানভীর মামা তিনি ছিলেন পরিবারের সবার
নয়নের মনি সুদর্শন বুদ্ধিমান আর ভীষণ
মিশুক বড় কোন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে
চাকরি করতেন আর প্রায়ই কাজের সুবাদে ঢাকা
চট্টগ্রাম যাতায়াত করতেন যখনই ঢাকায়
আসতেন একবারের জন্য হলেও আমাদের বাসায়
আসতেন আমার বয়স যখন খুব কম ছিল তখন থেকেই
দেখে আসছি। তানভীর মামা মানেই আমার জন্য
নতুন গল্পের বই, মজার চকলেট আর অফুরন্ত
হাসি। আমি তাকে ভালোবাসতাম ঠিক যেমন একজন
ভাগ্নে তার মামাকে ভালোবাসে। শ্রদ্ধা,
নির্ভরতা আর অফুরন্ত স্নেহ দিয়ে গড়া এক
সম্পর্ক। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমাদের
বাড়ির কাছে একটা বিশাল আমবাগান ছিল।
গ্রীশবকালে আমরা মামার সাথে সেখানে যেতাম।
মামা আমাকে কাঁধে বসিয়ে ঘুরে বেড়াতেন আর
আমি তার চুলে হাত বুলিয়ে দিতাম। তিনি
আমাকে বিভিন্ন গাছের নাম শেখাতেন। পাখিদের
ডাক চিনিয়ে দিতেন। মনে আছে একবার আমি
আমুড়োতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গিয়েছিলাম।
আর আমার হাঁটুতে বেশ চোট লেড়েছিল। তানভর
মামা সেদিন আমাকে কোলে তুলে নিয়ে প্রায়
দৌড়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। তার চোখে আমি ভয়
দেখেছিলাম আমার জন্য। সেইদিন থেকেই মামা
আমার কাছে শুধু একজন মামা ছিলেন না। ছিলেন
আমার রক্ষাকর্তা। আমার নিরাপদ আশ্রয়।
সময় গড়িয়ে চলল আমি বড় হলাম
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম তখন তানভীর
মামা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি হলেন।
তার মানে তিনি এখন প্রায়ই আমাদের বাসায়
আসতে পারতেন কিংবা আমরা তার বাসায় যেতে
পারতাম। তার একটা ছোট ফ্ল্যাট ছিল
বনানীতে। মাঝে মাঝে মা আমাকে পাঠাতেন
মামার জন্য খাবার নিয়ে যেতে কিংবা কোন
কাজের জন্য। আমার এতে কোন আপত্তি ছিল না।
বরং আমি খুশি হতাম। কারণ মামার সাথে গল্প
করতে আমার খুব ভালো লাগতো। তিনি ছিলেন
আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। যাকে আমি সবকিছু
বলতে পারতাম। কিন্তু ধীরে ধীরে আমি কিছু
পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করলাম। মামার
দৃষ্টিতে তার কথায় এমনকি তার নীরবতায়ও।
আগে যেমন তিনি সবার সাথে মজা করতেন
হাসতেন, এখন আমার সামনে তিনি একটু অন্যরকম
হয়ে যেতেন। তার চোখ দুটো যেন আমার উপর
স্থির থাকতো। তার হাসিটা আমার দিকে একটু
বেশিই প্রসারিত হতো। আমি প্রথমদিকে ভাবতাম
হয়তো আমি ভুল দেখছি। হয়তো আমি বেশি
ভাবছি। মামা তো মামাই কিন্তু এই
অস্বস্তিটা ক্রমেই বাড়তে লাগলো। একদিন
বিকেলে আমি মামার ফ্ল্যাটে গিয়েছিলাম
একটা জরুরি কাগজ দিতে। মা পাঠিয়েছিলেন।
মামা তখন সবে অফিস থেকে ফিরেছেন। তিনি
আমাকে দেখে খুব খুশি হলেন বললেন, আয়
সাদিয়া ভেতরে আয়। চা খাবি? আমি ভেতরে
ঢুকলাম। মামা রান্নাঘরে চা বানাতে গেলেন।
আমি ড্রয়ং রুমে বসেছিলাম। বইয়ের তাকে
চোখ বুলাচ্ছিলাম। হঠাৎ মামা আমার পাশে এসে
বসলেন। তার হাতে চায়ের কাপ। তিনি আমার
দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন কি
হয়েছে মামা আমি জিজ্ঞেস করলাম তিনি মৃদু
হাসলেন কিছু না রে সাদিয়া শুধু ভাবছিলাম
তুই কত বড় হয়ে গেলি আমিও হাসলাম হুম
সময় তো আর দাঁড়িয়ে থাকে না মামা
কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন তারপর বললেন তোর
কি মনে হয় আমি খুব ভাগ্যবান আমি অবাক
হয়ে তাকালাম কেন মামা তিনি আমার চোখের
দিকে সরাসরি তাকালেন কারণ তোর মত একটা
ভাগ্নি আছে আমার তার এই কথাগুলো গুলো আমার
বুকে এক অদ্ভুত তোলা দিল। আমার গা কাটা
দিয়ে উঠল। তার চোখের গভীরতা তার
কন্থস্বরের উষ্ণতা সবকিছুই যেন এক ভিন্ন
অর্থ বহন করছিল। আমি তাড়াতাড়ি চোখ
নামিয়ে নিলাম। চা শেষ করে আমি উঠে
পড়লাম। মামা এখন আমি আসি। মা অপেক্ষা
করছেন। মামা আমাকে দরজার কাছে এগিয়ে দিতে
এলেন। তিনি আমার কাঁধে হাত রাখলেন।
সাবধানে যাস। তার হাতের স্পর্শটা আমার
কাছে কেমন অচেনা লাগলো। একটা শীতল অনুভূতি
আমার শীর দ্বারা বেয়ে নেমে গেল। এরপর
থেকে মামার সাথে আমার প্রতিটি সাক্ষাতেই
এই অস্বস্থিটা বাড়তে লাগলো। তিনি যেন
আমাকে একটু বেশি ছুতে চাইতেন। মাথায় হাত
রাখা, কাঁধে হাত রাখা কিংবা আমার হাত ধরে
কোন কথা বলা। আমি জানতাম এসবই স্নেহের
প্রকাশ। কিন্তু কেন জানিনা আমার মন তাতে
সাই দিচ্ছিল না। আমার ভেতরে এক অদ্ভুত
দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল। আমি মামাকে অপছন্দ
করতে পারতাম না কারণ তিনি আমার জীবনের
একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। কিন্তু তার
এই নতুন আচরণ আমাকে ভীষণভাবে বিচলিত
করছিল। আমি নিজেকে প্রশ্ন করতাম এই কেমন
অনুভূতি? আমি কেন এমন অনুভব করছি? আমি
জানতাম মামা ভাগ্নে সম্পর্ক পবিত্র। এখানে
অন্য কোন অনুভূতির স্থান নেই। কিন্তু আমার
মন যেন আমাকে প্রতিনিয়ত ঠকাচ্ছিল। আমি
তার উপস্থিতি উপভোগ করতাম। তার কথা শুনতে
ভালো লাগতো। এমনকি তার স্পর্শ আমার ভেতরে
এক অদ্ভুত শিহরণ জাগাত। আমি নিজেকে ঘৃণা
করতাম এই অনুভূতিগুলোর জন্য। ভার্সিটি
থেকে ফেরার পথে বৃষ্টিতে আটকা পড়েছিলাম।
সেদিন আমার ফোনটাও কাজ করছিল না। আমি একটা
ছোট চায়ের দোকানের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম
যখন হঠাৎ একটা গাড়ি আমার সামনে এসে থামল।
গাড়ির কাজ নামতেই দেখি তানভীর মামা। আরে
সাদিয়া তুই এখানে বৃষ্টিতে ফিরছিস কেন?
আমি অবাক হয়ে বললাম মামা আপনি? তিনি
হাসলেন চল তোকে বাসায় নামিয়ে দিই। আমি
গাড়িতে উঠলাম। গাড়িতে ওঠার পর মামা তার
জ্যাকেটটা খুলে আমার দিকে বাড়িয়ে দিলেন।
ভিজেছিস দেখছি। এটা গায়ে দে। আমি
জ্যাকেটটা নিতে নিতে বললাম, থাক মামা
লাগবে না। আরে বোকা মেয়ে ঠান্ডা লেগে
যাবে তো। নে গায়ে দে। তিনি প্রায় জোর
করেই জ্যাকেটটা আমার গায়ে চাপিয়ে দিলেন।
তার হাতের স্পর্শ আমার গাল ছুঁয়ে গেল।
আমার পুরো শরীর কেঁপে উঠলো। গাড়ির ভেতরটা
যেন হঠাৎ অনেক বেশি উষ্ণ হয়ে উঠেছিল।
আমরা নীরব ছিলাম। শুধু গাড়ির কাছে বাইরে
বৃষ্টির ঝিরিঝিরি শব্দ আর গাড়ির ভাইপারের
ছপছপ শব্দ শোনা যাচ্ছিল। আমি জানালা দিয়ে
বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। কিন্তু আমার মন ছিল
অন্য কোথাও। আমার হৃদপিণ্ড দ্রুত গতিতে
লাফাচ্ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম না এটা ভয়
নাকি অন্য কিছু। হঠাৎ মামা আমাকে ডাকলেন
সাদিয়া। আমি তার দিকে তাকালাম। তার
চোখগুলো আয়নায় আমার চোখে আটকে গেল। তোর
কি কিছু হয়েছে? আমি তাড়াতাড়ি বললাম
নাতো মামা কিছু না তিনি মৃদু হাসলেন আমার
মনে হয় তুই কিছু একটা লুকোচ্ছিস আমি আর
কিছু বলতে পারলাম না আমার গলা শুকিয়ে
গিয়েছিল মনে হচ্ছিল মামা যেন আমার মনের
ভেতরের সব কথা পড়ে ফেলছে সেই দিনের রাত
আমার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ রাত ছিল আমি
বিছানায় শুয়ে কাঁপছিলাম মামার বলা
কথাগুলো আমার কানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল আমি
তোমাকে প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলেছিলাম
এই কথাগুলো আমার বুকের ভেতরটা ছিড়ে
ফেলছিল ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম মামা
সত্যি ভালোবাসেন। আর তার ভালোবাসাটা
একতরফা ছিল না। আমার ভেতরের অবাধ্য মনটাও
তার প্রতি এক ধরনের টান অনুভব করছিল।
কিন্তু এই টান ছিল নিষিদ্ধ। পরের দিন
সকালে মামা চট্টগ্রাম ফিরে গেলেন। নানুর
সাথে দেখা করে তিনি কাউকে কিছু না বলেই
চলে গিয়েছিলেন। আমার আর তার মুখোমুখি
হওয়া হয়নি। আমিও কাউকে কিছু বলতে
পারিনি। আমার ভেতরে এই গোপন কথাটি পাথরের
মত চেপে বসেছিল। এরপর অনেক দিন কেটে গেছে।
এখন আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ
করে একটা চাকরি করছি। জীবনে অনেক পরিবর্তন
এসেছে। কিন্তু সেই দিনের স্মৃতিটা আমার
মনের গভীরে চিরস্থায়ী হয়ে আছে। মামা
তানভীরের সাথে আমার সম্পর্কটা আর আগের মতো
নেই। তিনি এখনো আমাদের বাসায় আসেন।
কিন্তু সেই পুরনো সহযোতাটা আর নেই। তার
চোখে আমি এখনো সেই একই জিজ্ঞাসা আর
যন্ত্রণা দেখতে পাই যা আমাকে প্রতি
মুহূর্তে বৃদ্ধ করে। আমি তার চোখ হেরিয়ে
চলি। আমরা এখন কেবল মামা আর ভাগ্নি কিন্তু
আমাদের দুজনের ভেতরে এক অসমাপ্ত ভালোবাসার
গল্প চাপা পড়ে আছে যা কখনো আলোর মুখ
দেখবে না। আমি বুঝতে পেরেছি জীবন কখনো
কখনো অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়। সেইদিন থেকে
সবকিছু বদলে গেছে। আমার পৃথিবীটা আর আগের
মতো সরল নেই। আমি জেনেছি ভালোবাসা সবসময়
সুন্দর হয় না। কখনো কখনো তা বেদনাদায়কও
হতে পারে। কখনো কখনো ভালোবাসার জন্য
সর্বোচ্চ ত্যাগ হলো তা ছেড়ে দেওয়া।
নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা যেন প্রিয়
মানুষটি অন্তত সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে
পারে। আমি তানভীর মামার জন্য এটাই করেছি
আর নিজের জন্য। আমাদের ভালোবাসার গল্পটা
কেবল আমাদের দুজনের হৃদয়েই লুকিয়ে
থাকবে। এক অসম্ভব নিষিদ্ধ ভালোবাসার গল্প।
প্রিয় দর্শক আশা করি গল্পটি আপনাদের মন
ছুঁয়েছে। জীবন সত্যি অদ্ভুত। কখনো কখনো
এমন কিছু ঘটে যা আমাদের কল্পনারও অতীত।
যদি গল্পটি ভালো লেগে থাকে তবে একটি লাইক
দিতে ভুলবেন না। আপনার মতামত কমেন্টে
জানাতে পারেন। আমরা প্রতিটি মন্তব্য পড়ি।
আর অবশ্যই মায়া ব্লগস চ্যানেলটি
সাবস্ক্রাইব করে আমাদের পাশে থাকবেন। দেখা
হবে পরের গল্পে। ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো
থাকবেন সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ
Comments
Post a Comment