মাকে চু*দলাম একা দেখুন মাল আউট হবে হবে ১০০%
বাড়িতে শুধু আমি আর আমার মা থাকতাম। রাত
হলে আমার বিধবা মায়ের ঘর থেকে উহু আহো
ব্যথা পাচ্ছি। এরকম টাইপের শব্দ আসতো।
একদিন যেন আমি একটা লোককে মায়ের ঘরে
ঢুকতে দেখলাম। আমার সন্দেহ হওয়ায় পরের
দিন আমি ঘরের মধ্যে লুকিয়ে পড়লাম।
কিছুক্ষণ পরে এটা দেখে আমি অবাক হয়ে
গেলাম যে সেই লোকটা আমার মায়ের সাথে খেলা
করছে। আমার নাম শিলা। আমার 10 বছর বয়সেই
আমার বাবা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। বাবা
কোন একটা কাজে মুম্বাই গিয়েছিল। কয়েকদিন
পরে সেখান থেকে খবর এলো যে তিনি আর এই
পৃথিবীতে নেই। সেখানে ভয়াবহ আগুন
লেগেছিল। যার কারণে তার লাশটুকু খুঁজে
পাওয়া যায়নি। আমাদের জন্য এই খবরটা
মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো ছিল। সবার মতো
আমিও আমার বাবাকে ভীষণ ভালোবাসতাম। আমার
মা খুব সুন্দর আর যুবতী। কিন্তু তবুও তিনি
দ্বিতীয় বিয়ের জন্য না করে দিয়েছিলেন।
এই ব্যাপারটায় আমাদের পরিবারের সবাই একটু
অবাক হয়েছিল।
কারণ আমার মা তো বাবাকে ভালোবাসতি না।
উল্টে তার সাথে সারাক্ষণ ঝগড়া করতো।
বাবার কোন ভালো চাকরি ছিল না। আর আমার মা
এক ধনী পরিবারের মেয়ে। দাদু আমাদের
সংসারের পুরো খরচ চালাতেন। আর সারাক্ষণ
আমার বাবার উপর চেচাতেন।
আমার মা ও দাদু একসাথে মিলে বাবার উপর
চেচাতেন। এসবের কারণে আমার বাবা ভীষণ
কষ্টের মধ্যে থাকতেন। আমি প্রায়ই আমার
বাবাকে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদতে দেখতাম। আর
সবসময় খুব টেনশনে থাকতে দেখতাম কখনো কখনো
বাবা আমায় বলতো আমি তোকে ভীষণ ভালোবাসি।
তোর কারণেই ঘর সংসার ছেড়ে কোথাও যেতে
পারছি না। আমি বাবাকে বলতাম এই পৃথিবীর
সবথেকে ভালো বাবা তুমি। আর একজন মেয়ের
জন্য বাবাই তার কাছে সবকিছু। সে তার বাবা
আর যাই হোক না কেন সেই তার সব। বাবা যখন
আমাদের ছেড়ে চলে যান সেই সময় আমি খুব
ছোট। মাকে আমি ততটা ভালোবাসতাম না যতটা
আমি আমার বাবাকে ভালোবাসতাম।
ছোট ছিলাম তাই এই কষ্টটা কোনরকমভাবে আমি
সহ্য করে নিয়েছিলাম। কিন্তু বাবার স্মৃতি
আমার মনের মধ্যে গেঁথে গিয়েছিল আমার অনেক
সমস্যা ছিল। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা
হলো আমার কনফিডেন্সের অভাব। আমি কারো
সামনে ঠিকভাবে কথা বলতে পারতাম না। কারো
সাথে ঠিকভাবে মিশতে পারতাম না। আমি খুব
কষ্ট করে স্কুলে পড়াশোনা করতাম। এখন আমি
বিয়েতে পড়াশোনা করছি। আমাকে প্রায়
বাইরে যেতে হতো। মানুষের সাথে মিশতে হতো।
তাদের সাথে কথা বলতে হতো। কিন্তু আমি
তাদের সামনে এত নার্ভাস হয়ে যেতাম যে
আমার হাত-পা কাঁপতে থাকতো। এতে সকলে অবাক
হয়ে ভাবতো যে একই রকম মেয়ে। যে ঠিকমত
কথা পর্যন্ত বলতে পারে না। সবসময় আমার
মনে হতো যে আমি এই পৃথিবীতে একা আমার কেউ
নেই। কিন্তু আমার মায়ের জীবন বাবার
মৃত্যুর কোনো রকম প্রভাব পড়েনি। মা
সবসময় সেজে গুজে থাকতো। নিজের যত্ন নিত
মাঝেমধ্যেই বাইরে ঘুরতেও যেত। আমি এই সমাজ
আর আমার মায়ের থেকে সবসময় দূরে থাকতে
চাইতাম। সেই কারণেই আমি বাড়িতে অতিথিদের
জন্য যে ঘরটা বানানো হয়েছিল সেই ঘরে
সারাদিন চুপচাপ পড়ে থাকতাম। রাতেও আমি
সেই ঘরে ঘুমাতাম। ঘরটা মেইন বাড়ির বাইরে
ছিল। সেই ঘরের ছাদটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
সে কারণে বর্ষার সময় ঘরের ছাদ দিয়ে জল
পড়তো। তাই একদিন আমার মা বলল যে আমি যেন
ঘর ছেড়ে বাড়ির ভিতরে চলে আসি। কারণ
বাড়িতে অনেক ঘর ফাঁকা আছে। তাই আমার
বাইরে থাকার কোন দরকার নেই। আমি ভিতরে
আসতে চাইছিলাম না। কিন্তু বৃষ্টি হলে ঘরে
জল করে এই একটা সমস্যার কারণে আমাকে ভিতরে
আসতেই হলো। আমার ঘরের সামনে যে ঘরটা
সেটাতে আমার মা থাকতো। আমার ঘর থেকে
মায়ের ঘরের জানলা পরিষ্কারভাবে দেখা
যায়।
ছোটবেলায়ও আমি ও বাবা মায়ের সাথে এই ঘরে
থাকতাম। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পরে এই
ঘরে আসলে তার কথা মনে পড়তো। সেই কারণে আমি
ঘর ছেড়ে বাইরের ঘরে থাকতাম। বাবার মৃত্যুর
পরে আমি পুরো ডিপ্রেশনে ছিলাম। সেই কারণে
আমি ডাক্তারের কাছে চেকআপ করাতে যেতাম।
ডক্টর আমাকে এটাই বলতো যে তুমি তোমার
বাবার মৃত্যুতে হৃদয়ের গভীর আঘাত পেয়েছো।
যা তোমার ভিতরে আতঙ্ক তৈরি করে। এই কারণে
তোমার শরীর খারাপ হচ্ছে কিন্তু তোমাকে
নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। কেননা সে
তো এই পৃথিবীতে নেই। তোমাকে মানুষের সাথে
মিশতে হবে। কথা বলতে হবে কিন্তু তুমি যদি
নিজের উপর কন্ট্রোল না রাখতে পারো তবে
তুমি মানুষের সাথে মিশবে কিভাবে আর তুমি
ঠিকই বা হবে কিভাবে আমি নিজেই নিজেকে
নিয়ে ভীষণ চিন্তায় থাকতাম। আমার বয়স
এখন 20 বছর। আইন অনুযায়ী 18 বছর বয়সে
আমি সাবালিকা হয়ে গেছি। কিন্তু আমি নিজের
কাজ নিজে করতে পারতাম না। তবে এখন আমাকে
নিজের কাজ নিজেই করতে হবে। নিজের ভালো
মন্দের চিন্তা নিজেকেই করতে হবে। এমনিতেও
মায়ের উপর আমি খুব একটা ভরসা করি না।
বাড়ির ভিতরে আসার পর থেকে আমি একটা
অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করেছি যে প্রতিদিন
আমার মনে হয় মায়ের ঘরে কেউ একজন আসে।
প্রথম রাতে ভেবেছিলাম এটা আমার মনের ভুল।
কারণ এই সময় মায়ের ঘরে কে থাকবে। তাই
আমি ব্যাপারটার দিকে তেমন একটা গুরুত্ব
দিলাম না। কিন্তু দ্বিতীয় রাতেও আমি
নিজের কানে কোন পুরুষের গলার আওয়াজ শুনতে
পেলাম। যখন আমার ঘর থেকে বেরিয়ে মায়ের
ঘরের কাছে গিয়ে দেখলাম তার ঘরে আলো
জ্বলছে। এর মানে হলো আমার মা জেগে আছে।
এরপরে আমি মায়ের ঘরের দরজায় টোকা দিলাম
কিছুক্ষণ পরেই মা এমনভাবে বাইরে বেরিয়ে
এল যেন মনে হচ্ছে তিনি সবেমাত্র ঘুম থেকে
উঠে এসেছে। অথচ তার মুখের দিকে ভালো করে
লক্ষ্য করে দেখে মনে হলো না যে তিনি
ঘুমাচ্ছিলেন।
আমি বললাম তুমি কি ঘুমিয়েছিলে? মা বলল যে
তুই এটা জিজ্ঞেস করার জন্য আমাকে ঘুম থেকে
উঠে খালি আমার ঘুমটা নষ্ট করলি। আমি বললাম
আমার ঘুম আসছিল না তাই জেগেই ছিলাম। তোমার
ঘর থেকে একটা আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলাম তাই
তো তোমাকে ডাকলাম। আমার কথা শুনে আমার মা
বলল, তুই পাগল হয়ে যাসনি। তো কিসব ফালতু
কথা বলছিস। আমি বললাম, তাহলে হয়তো তুমি
ঘুমানোর সময় টিভিটা অফ করতে ভুলে
গিয়েছিলে। তাই আমি হয়তো তারই আওয়াজ
শুনেছি। আর তুমি ঘুম থেকে উঠে এক্ষুনি
টিভি বন্ধ করে বাইরে এলে। আমার কথা শুনে
আমার মা রেগে গেলেন। এদিকে মুখ ফুসকে যা
বলে ফেলেছি তাতে আমি লজ্জায় পড়ে গেলাম।
মায়ের রাগ করা স্বাভাবিক। কারণ তার সঙ্গে
আমার এভাবে কথা বলা উচিত হয়নি। যাই হোক
আমি মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম আর
বললাম আর এরকম হবে না। সকালে মা কাজের
জন্য বেরিয়ে গেল। আমি মায়ের ঘরে গেলাম।
মায়ের সাথে রাতে এভাবে কথা বলা আমার উচিত
হয়নি। তাই মনে মনে ভাবলাম আমি যদি মায়ের
ঘরটা সুন্দর করে পরিষ্কার করি তাহলে মা
খুশি হয়ে যাবে। এই ভেবে মায়ের ঘর
পরিষ্কার করতে শুরু করলাম। প্রতিদিন
যেভাবে ঘর পরিষ্কার করা হয়। আমি সেভাবে
মায়ের ঘর পরিষ্কার না করে ঘরটাকে খুব
সুন্দর করে পরিষ্কার করতে চেয়েছিলাম। আমি
সবেমাত্র ঘর পরিষ্কার করা শুরু করেছি। এমন
সময় আমার হাতে এমন একটা জিনিস ছিল যে তার
সাথে মেয়েদের কোন সম্পর্কই নেই। এটা
শুধুমাত্র ছেলেরাই ব্যবহার করে। সত্যি
বলতে কি এটা বিবাহিত ছেলেরা ব্যবহার করে।
আর তা আমার মায়ের ঘরে তাও তার বিছানার
তুষকের নিচে আমি খুব অবাক হয়ে
গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি এ ব্যাপারে আমার
মাকে জিজ্ঞেস ও করতে পারবো না। কেন
জিনিসটা দেখে আমার লজ্জা লাগছিল। কিন্তু
এই জিনিসটা মায়ের ঘরে কিভাবে এলো? হঠাৎ
আমি বাড়ির বাইরের দরজায় যেন আওয়াজ
পেলাম। আমি ভাবলাম হয়তো মা এসে পড়েছে।
তাই ঘর পরিষ্কার না করেই আমি তাড়াতাড়ি
করে আমার ঘরে চলে এলাম। এরপরে আমি ঘর
পরিষ্কার করার ব্যাপারটা আমার মাথা থেকে
বের করে দিলাম। কয়েকদিন পরে আমি আমার
মায়ের একটা সত্যি জানতে পারলাম। সেটা হলো
আমার মায়ের ঘরেতে টিভি আছে। কিন্তু সেটা
খারাপ একেবারে চালু হতো না। এই খবরটা
আমাকে আমাদের বাড়ির চাকরানীর বলেছিল। সে
সপ্তাহে মাত্র একদিন করে কাজে আসতো। সে
আমাকে বলল যে এই টিভিটা তো অনেকদিন ধরে
খারাপ হয়ে পড়ে আছে। তোমার মা টিভির
মেকানিককে ডেকে দেখিয়েছিলেন। কিন্তু সে
বলেছে যে এই টিভিটা ঠিক করতে অনেক টাকা
খরচ হবে। তাই তোমার মা টিভিটা ঠিক করেননি।
তিনি তো আমায় বলেছিলেন যে তুমি টিভিটা
নিয়ে যাও। যদি ঠিক করতে পারো তাহলে তোমার
বাচ্চারা দেখতে পারবে। আমি তাকে বলেছিলাম
যে আমার বরকে বলব টিভিটা নিয়ে যেতে। আমি
আমার বরকে কয়েকবার বলেছিলাম টিভিটা নিয়ে
যেতে। কিন্তু আমার বর টিভিটা নিতে এলোই
না। সে একেবারে কুড়ের বাদশা কোন কাজ করতে
চায় না। চাকরানি তো তার নিজের সংসারের
সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন কথা বলতে শুরু করে
দিল। কিন্তু আমার ধ্যান অন্য জায়গায়
পড়ে। যদি খারাপ হয় তাহলে তো আমার মা কি
সেই রাতেই চালায়নি? তাহলে মায়ের ঘর থেকে
কিভাবে পুরুষ মানুষের গলার আওয়াজ আসছিল?
তাহলে কি মা আমাকে মিথ্যা বলেছিল? আমি তো
ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে আছি। যদিও অনেকগুলো
বছর বাইরের ঘরে কাটিয়েছি কিন্তু এ
ব্যাপারে কিছুই টের পাইনি। যখন আমি ভিতরের
বাড়িতে এলাম তখন এই সমস্ত জিনিস আমি
জানতে পারলাম। আগে আমি বাইরে যে ঘরটা
থাকতাম সেটা বেশ ছোট ছিল। সেখানে বাথরুমটা
বাড়ির বাইরে অনেকটা পিছনের দিকে। শীতকালে
আমাকে বাথরুম করতে বাড়ির বাইরে যেতে হতো।
যদিও বাড়ির ভিতরে এটাচ বাথরুম ছিল।
কিন্তু মা কখনো আমাকে ভিতরে বাথরুম
ব্যবহার করতে বলেনি। মা কখনো আমাকে বলেনি
যে এই শীতের রাতে বাথরুমের জন্য তোর
বাড়ির বাইরে যাওয়া ঠিক না। সর্দি কাশি
লেগে যেতে পারে বা অন্য কিছু হয়ে যেতে
পারে। যদিও আমি তার একমাত্র মেয়ে এখন তো
বাইরের ঘরটা ভেঙে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে
মা আমাকে ভেতরে ডেকেছেন। এই বাড়িটা আমার
দাদুর ছিল। বাড়িটা বহু পুরনো যার এক অংশ
জানিনা কিভাবে অন্য একজন কবজা করে নিজের
নামে করে নিয়েছিল। বাকি অংশটা আমাদের
ছিল। বাড়িটা অনেক বছরের পুরনো। ইংরেজ
আমলে নতুন কেউ বাড়িটা দেখলে হতবাক হয়ে
তাকিয়ে থাকতো। আর বলতো আমাদের একবার
ভিতরে যেতে দাও। আমরা ঘরের ভিতরটা দেখতে
চাই। কিন্তু আমি যেহেতু ছোটবেলা থেকেই
বাড়িটা দেখছি। তাই আমার এই বাড়ির প্রতি
খুব একটা আগ্রহ নেই। আমার দাদু এই পৃথিবী
থেকে চলে গিয়েছিল কিন্তু তিনি ভালোই
সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন যা দিয়ে আমাদের
সংসার খরচ খুব ভালোভাবে চলে যেত। মা
বাড়িতে চাকর রেখেছিলেন। একদিন আমার মা
আমাকে বলল যে তুই একটা অলস মেয়ে সারাদিন
শুয়ে বসে দিন পার করছিস। এখন এখানে এসে
আমার চুলের রং লাগিয়ে দেয়। আমি মাঝে মাঝে
অবাক হয়ে এটাই ভাবতাম যে এই বয়সে আমার
সেজেগুজে কাকে দেখাতে চায়। এত বছর ধরে
বিধবা থাকার পরে আমার মা সবসময় সেজেগুজে
থাকতেন। তার এই বাহারি সাজ দেখে তাকে আমার
একদম ভালো লাগতো না। তিনি এমনভাবে সেজে
থাকতেন যেন তিনি অবিবাহিত একবার তো পূজোতে
মাকে হাতে মেহেদীও করতে দেখেছি। কিন্তু
কোন বিদবার তো ইচ্ছাই করার কথা না এসব
করার। আর যখন তার স্বামী বেঁচে নেই তখন
মেহেদী পড়ে তিনি কাকে দেখাবেন? আমার মা
সে সমস্ত কিছুই করতেন যা কিনা একজন সদবা
মহিলা করেন নিজের খুব যত্ন নিত। আর একবার
যখন মায়ের চুল সাদা হতে লাগলো তখন তো
তিনি চুলে কালার করলেন সাথে ও মেহেদি ও
লাগালেন ভালো কালো রঙের শাড়ি পড়তেন।
নিজের হাত পায়ে নোখে নেল পলিশ লাগাতে।
আমি একটা অবিবাহিত মেয়ে হয়েও নিজেকে এত
খেয়াল রাখতাম না যতটা আমার মা নিজের
খেয়াল রাখতেন। আমি শুনেছিলাম আমার মা আর
বাবা প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। তাইতো
ভালোবাসার টানে বললক মেয়ে আমার মা আমার
গরীব বাবাকে বিয়ে করেছিলেন। না হলে দাদু
এ সম্বন্ধ কোনদিনও মেনে নিতেন না। তিনি
আগে সেনাবাহিনীতে ছিলেন এবং ভীষণ শক্ত
মনের মানুষ। রাতে আবারও মায়ের ঘর থেকে
আওয়াজ আসলো। আমি কান লাগিয়ে শোনার
চেষ্টা করলাম। এটা কিসের আওয়াজ? কিছুক্ষণ
শোনার পরে আমার যেন মনে হলো কোন পুরুষ
মানুষ কথা বলছে। আর আমার মা তার কথা শুনে
হাসছিল, লজ্জা পাচ্ছিল। কথা শুনে মনে
হচ্ছিল যেন লোকটা আমার মায়ের খুব প্রশংসা
করছে। আর এতে আমার মা লজ্জা পাচ্ছে। আমি
শিওর যে ভিতরে কোন পুরুষ মানুষ আছে। যাই
হোক চুপ করে ঘরে এসে শুয়ে পড়লাম।
কয়েকদিন পরে আমার বাবার বাৎসরিক কাজ।
প্রথম থেকে বাবার বাৎসরিক কাজের দিন আমার
মন ভার হয়ে থাকতো। মনে হতো যেন আজকেই উনি
আমাদের ছেড়ে এই দুনিয়া থেকে চলে গেছেন।
বাবার বাৎসরিকের দিন সকালে দেখলাম মা সেজে
গুজে বাইরে বেরিয়ে এলা আমি মাকে বললাম,
আজকের দিনে অন্তত সাদা কাপড় পড়ে আসতে
পারতে। শুনেছি বিদবারা সেজে গুজে থাকলে
তাদের স্বামীর আত্মা কষ্ট পায়। মা বলল,
কি বলতে চাইছিস তুই? আমি বললাম বাবা আজ
বাৎসরিক কাজ আর আজ অন্তত নরমাল ভাবে থাকো।
তখন মা বলল তোর বাবা অনেকদিন আগেই মারা
গেছে। তাই এখন এসব বাৎসরিক তাৎসরিক করে
কোন লাভ নেই। কিন্তু আমি বললাম আমি
প্রত্যেকবারের মত কিছু গরীবদের সাহায্য
করব। মা বলল তাহলে তাই করো। আমি বললাম
তুমি কোথায় যাচ্ছো? মা বলল যে আমার এক
বন্ধুর মেয়ের বিয়েতে যাচ্ছি। আমি বললাম
আজ তো তোমার স্বামীর বাৎসরিক কাজ আর তুমি
আজকে তোমার বন্ধুর মেয়ের বিয়েতে যাচ্ছো।
মা বলল যে বাৎসরিক কাজ প্রত্যেক বছর হয়
কিন্তু বিয়ে প্রত্যেক বছর হয় না। যে
মারা গেছে তার জন্য আমি আমার এত ভালো
বন্ধুকে কষ্ট দিতে পারবো না। তারা খুব
বড়লোক আর তারা শহরে থাকে। আমি তার বড়
ছেলের সাথে তোর বিয়ে দিতে চাই। সবসময়
আমি মাকে বললাম যখন তোমার বন্ধু জানতে
পারবে যে তুমি তোমার বরের বাড়ির কাজের
দিন সেজেগুজে বিয়ে খেতে গেছো তখন তারা
তোমার সম্বন্ধে কি ভাবে তারা তো তোমাকেও
মানুষ ভাববে আমার কথা শুনে মা বলল তুই
ভীষণ বাজে হয়ে গেছিস খবরদার বলছি এরপর
তুই যদি আমার সামনে এই ধরনের বাজে কথা
বলিস তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না
তোর বাবা তো এরকম ছিল না জানিনা তুই কার
মত হয়েছিস আমি বললাম তিনি তোমার স্বামী
আর আমার বাবা ছিল তার জন্য তো তোমার
একটুখানি সময় বের করা উচিত। কিন্তু তুমি
না আমার পরোয়া করো না বাবার পরোয়া করো।
কে থাকল আর কে গেল তাতে আমার কিছু যায়
আসে না। এইবার তো মা কোন কথার জবাব না
দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। কিন্তু ওই
রাতে আমি কিছু এমন দেখলাম যা থেকে আমার
পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেল। রাত্রে
আমার ঘুম আসছিল না বলে আমি জেগেছিলাম এই
দিনটিতে এমনিতে আমার ঘুম আসতো না। আজকের
দিনটা আমার জীবনের সবথেকে বাজে দিন। আমি
যেন মায়ের ঘরের জানলা দিয়ে কোন একটা
লোকের ছায়া দেখতে পেলাম। আমি পুরোপুরি
শিওর হয়ে গেলাম যে আমার মায়ের ঘরে কোন
লোক আছে। আমি তাড়াতাড়ি উঠে এক মুহূর্তও
নষ্ট না করে তার ঘরের সামনে গিয়ে দরজা
ঢোকাতে লাগলাম। মোটামুটি তিন চার মিনিট
পরে আমার মা দরজা খুলল। আমি সিওর ছিলাম এই
ঘরে যে ছিল সে বাইরে বেরোতে পারেনি। ঘরেই
আছে। আমি তাড়াতাড়ি করে ঘরের ভিতরে
গেলাম। কিন্তু ভেতরে গিয়ে যা দেখলাম তাতে
আমার পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে
যাচ্ছিল। কারণ ঘরের ভিতরে কেউ নেই। আমি
ঘরের চারিদিকে দেখলাম কিন্তু কেউ সেখানে
নেই। তাহলে যে লোকটাকে আমি ঘরের ভিতরে
দেখলাম সে গেল কোথায়? তাই কথা ঘোরানোর
জন্য আমার মাকে বললাম বাথরুমে যেতে হবে।
কিন্তু বাইরের নল দিয়ে জল পড়ছে না। তাই
তোমার বাথরুমে যাওয়ার জন্য এসেছি। এরপরে
আমি বাথরুমে ঢুকে সেখানে কাউকে দেখতে
পেলাম না। আমি অবাক হয়ে ভাবছি লোকটা
ছায়া দেখলাম আর আওয়াজ শুনলাম। অথচ ঘরের
মধ্যে সে কোথাও নেই যেন হাওয়ায় মিলিয়ে
গেছে। কিন্তু আমি এ ব্যাপারে আমার মায়ের
সাথে কোন কথা বললাম না। কারণ আমার কাছে
কোন প্রমাণ নেই। আমি এমনি এমনি বলছিলাম যে
আমার বাথরুমের কল খারাপ হয়ে গেছে তাই আমি
এখানে এসেছি। কিছুক্ষণ পরে বাথরুম থেকে
বেরিয়ে আমি আবার আমার ঘরে ফিরে এলাম।
কিছুক্ষণ পরে আবারও আমার মায়ের ঘর থেকে
হালকা হালকা আওয়াজ আসতে লাগলো। আমি মনে
মনে ভাবছি হয় আমার মা পাগল হয়ে গিয়েছে
অথবা আমার মায়ের ঘরে কেউ না কেউ তো
নিশ্চয়ই আছে যার সাথে কথা বলছে কোন এক
ব্যাপার তো নিশ্চয়ই আছে আর তা না হলে
ঘরের মধ্যে কোন ভূতপ্রেত আছে যে আমাকে
দেখলে অদৃশ্য হয়ে যায় কেননা কোন মানুষের
পক্ষে এত তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে
যাওয়া সম্ভব না আর বেরোবেই বা কোথা দিয়ে
ঘরের দরজা দিয়ে যেতে পারবে না কারণ আমি
দরজা দিয়ে ঢুকেছি আর জানলা দিয়েও যেতে
পারবে না কারণ জানাটা খুবই ছোট। এসব
চিন্তা করতে করতে আমার মাথায় যন্ত্রণা
হতে শুরু করল। আর আমি এসব কথা কাউকে বলতে
পারছিলাম না। এতদিন আমি চিন্তায় ছিলাম
এটা ভেবে যে কেন আমার মা এতদিন বিয়ে
করেননি। আর বিয়ে না করেও তিনি সবসময় এত
খুশি থাকেন কি করে। আমি এতদিন ভাবতাম আমার
মা বুঝি এখনো বাবাকে খুব ভালোবাসেন।
সেজন্য আমার মা অন্য কোন পুরুষকে বিয়ে
করেনি। কিন্তু এখন তো বুঝতে পারছি যে
নিশ্চয়ই আমার মায়ের অন্য কোন ব্যাপার
আছে। তার জীবনেও হয়তো কেউ আছে আর সে
হয়তো আমার মায়ের সাথে খুব বাজে কাজ করে।
না হলে সে রাতের বেলা ঘরের মধ্যে কি করে
আমার প্রমাণ দরকার। কেননা আমি আমার মাকে
বোঝাতে চাই যে আমি এখন আর বাচ্চা নই। আমি
সমস্ত কিছু বুঝতে পারি তার যে বিবাহযোগ্য
মেয়ে আছে তার। এসব মানায় না। যদি এমনটা
সত্যি হয় তাহলে আমি আর এখানে থাকতাম না।
এখান থেকে অন্য কোথাও চলে যেতাম। কেননা
আমি এভাবে এখানে থাকতে পারবো না। এসব
চিন্তাতেই রাতে আমার ঘুম আসতো না। মায়ের
ঘরের রহস্য জানার জন্য আমাকে একটা প্ল্যান
বানাতে হবে। আমি মায়ের ঘরে যেতে পারতাম
না। তাই আমাকে বুদ্ধি খাটিয়ে এমন একটা
প্ল্যান বানাতে হবে যাতে ভুলের কোন
সম্ভাবনা না থাকে। শেষ পর্যন্ত আমার
মাথায় এমন একটা প্ল্যান এসে গেল যে তাতে
ভুল হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। কিন্তু যদি
আমি ধরা পড়ে যাই। আর আমি যেটা ভাবছি সেটা
যদি না হয় তবে আমি আমার মায়ের চোখে
চিরদিনের জন্য ছোট হয়ে যাব। কিন্তু
অন্ততপক্ষে আমি সত্যিটা তো জানতে পারব। আর
এমনিতে আমি সিওর ছিলাম যে মায়ের চোখে আমি
ছোট হবো না বরং তিনি আমার চোখে চিরদিনের
জন্য ছোট হয়ে যাবেন। তাই আমি মনে মনে
ভেবে নিয়েছি যে আমাকে কি করতে হবে।
বিকেলবেলা আমি আমার মাকে বললাম যে আজ আমি
এক বন্ধুর বাড়িতে পড়তে যাব আর আমি রাতে
ওখানে থাকবো। আমার মা বলল ঠিক আছে খুব
ভালো কথা। মন দিয়ে পড়াশোনা করো মনে হয়
আমার মা খুব খুশি হয়েছিল যে আমি রাতে
বাড়িতে থাকবো না। যাই হোক আমি বাড়ি থেকে
বেরিয়ে গেলাম এবং কিছু পরে মাকে ফোন করে
বললাম যে আমি আমার বন্ধুর বাড়িতে চলে
এসেছি। যদিও আমি বাড়ি থেকে কোথাও না
গিয়ে বাড়িতে লুকিয়েছিলাম। আমার মা বলল
ঠিক আছে সকালে ঘুম থেকে উঠে ধীরে সুস্তে
বাড়িতে ফিরে আসিস তারা করার দরকার নেই
কিন্তু আমি তো আমার বন্ধুর বাড়িতে যাইনি
আমি তো আমার মায়ের ঘরে লুকিয়ে আছি এমন
জায়গায় লুকিয়েছিল যে ঘরে মা কি করে
সেটা আমি দেখতে পেলেও মা আমাকে দেখতে পাবে
না কিছুক্ষণ পরে মা ঘরে এসে সাজগোজ শুরু
করল এরপরে ঘরের মধ্যে এমন একটা ঘটনা ঘটলো
যেটা দেখে আমার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে
গেল আমার মা অনেক কষ্টে মেঝেতে কার্পেট
সরালো। কেননা কার্পেটটা খুব ভারী। কার্পেট
সরানোর পরে তার নিচে যা দেখলাম সেটা দেখে
আমার মাথা ঘুরতে লাগলো। কার্পেটের নিচে
একটা দরজা ছিল। আমার মা সে দরজা টেনে
খুলল। আর মা দরজা খোলার সাথে সাথে সেখান
থেকে একটা লোক বেরিয়ে এল। আর লোকটা
বেরিয়ে আসার সাথে সাথে আমার মাকে জড়িয়ে
ধরল। এটা দেখে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে
যাওয়ার মত অবস্থা। আমার যেন মনে হলো যে
আমি মাথা ঘুরে পড়ে যাব।
কেননা লোকটা আর কেউ না সে আমার বাবা যে
কিনা অনেক বছর আগে মারা গিয়েছিল তাহলে
আমার বাবা এখনো জীবিত কিভাবে আমি বাবাকে
দেখে হতভম হয়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম তারা
দুজনে আমাকে দেখে অবাক হয়ে আমার দিকে
তাকিয়ে রইল আমি থাকতে না পেরে এগিয়ে
গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম বাবা আমাকে
কিছুক্ষণ আদর করে তারপর জিজ্ঞেস করল কেমন
আছিস মা আমি বললাম বাবা তুমি বেঁচে থাকতেও
মরা নাটক কেন করেছিলে আমার বাবা বাবা বলল
সোনা মা আমার আমরা খুব গরিব ছিলাম আমাদের
কাছে কিছুই ছিল না কিন্তু আমার একটা জিনিস
ছিল আর সেটা হলো আমার জীবনবীমা
যেটা আমার বাবা বেঁচে থাকতে আমার নাম
করেছিলেন। সেই জীবন বীমার টাকা পাওয়ার
জন্য এই দুনিয়ার সামনে আমাকে মরে যেতে
হয়। আমি মরে গেলেই জীবনবীমা থেকে এক কোটি
টাকা পাওয়া যেত। আমার কাছে আর কোন অপশন
ছিল না। তোর দাদুরও সবকিছু বিক্রি করে শেষ
হয়ে গেছিল। তার কাছে আর কিছুই ছিল না।
তাই তোদের ভালোভাবে রাখার জন্য আমাকে নাটক
করতে হয়। এরপর সকলের সাথে সাথে জীবনবীমা
লোকেরাও বিশ্বাস করেছিল যে আমি মরে
গিয়েছি। তাই তারা তোমাকে এক কোটি টাকা
দিয়ে দেয়। আর আমরা কোন কাজ না করেই
সুখের সাথে জীবন উপভোগ করতে থাকলাম। আমি
তোর মায়ের কাছে থাকতাম। সবসময়। আমাকে
কোন কাজও করতে হয় না। এর নিচে আমার ঘর
আছে, টিভি আছে। আমি আনন্দের সঙ্গে জীবন
অতিবাহিত করছি। এই একটা বুদ্ধি খাটিয়ে এত
টাকা পেলাম যা আমি সারাজীবন কাজ করে ইনকাম
করতে পারতাম না। আমি আমার বাবার দিকে অবাক
হয়ে তাকিয়ে রইলাম। আর বললাম তোমার
মৃত্যুতে আমি এতটা দুঃখ পেয়েছিলাম যে
আমার জীবনটা শেষ হয়ে গেছে। এখন আমি একটা
রোগীতে পরিণত হয়েছি। আর তুমি এই ভেবে
খুশি থেকেছো যে তুমি খুব বড় দান মেরেছো।
কিন্তু তুমি তো এই দুনিয়াতে সবথেকে বড়
বোকামি করেছো। আমার বাবা আমাকে বলতে লাগলো
যে তোর ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমি সব করেছি।
তোর পড়াশোনার সাথে সাথে তোর যাবতীয় খরচ
তো সময় মতোই পেয়েছিস। কোনদিন কোন কিছুর
অভাব তো খেয়ে হতে দেইনি। যদি আমি এসব না
করতাম তাহলে আমাদের খেয়ে পড়ে বেঁচে
থাকাই কষ্টকর হতো। আমি আমার বাবাকে অবাক
করে দিয়ে বললাম যে তুমি আমার জীবনটা নষ্ট
করে দিয়েছো। যদি আমি তোমার জায়গায়
থাকতাম তাহলে আমি তিনবেলার পরিবর্তে
একবেলা খাবার খেয়ে থাকতাম। কিন্তু কখনোই
নিজেকে সারা জীবনের জন্য জেলের মধ্যে বন্ধ
করে রাখতে পারতাম না। তুমি নিজের সাথে
সাথে আমার জীবনটাকে নষ্ট করে দিয়েছো। আমি
তোমার কথা ভেবে ভেবে কত রাত জেগে
কাটিয়েছি, লুকিয়ে লুকিয়ে কেঁদেছি।
তোমার কথা ভেবে ভেবে আমি আমার জীবনে কি
অবস্থা করেছি দেখো। তোমার কথা ভেবে আমার
এরকম করা উচিত হয়নি। এবার আমার
আত্মবিশ্বাস আমি ফিরে পেয়েছি। এবার ধীরে
ধীরে আমার সমস্ত দোষ ত্রুটি কেটে যাবে।
এবার আমি বুঝে গিয়েছি যে আমার জীবন নিয়ে
আমাকে কি করতে হবে। ধন্যবাদ বন্ধুরা।
Comments
Post a Comment