সহবাসের আগে যাদের মেশিন দাঁড়ায় না একা দেখুন
আপনাদের সবাইকে আবারও স্বাগতম জানাই।
বন্ধুরা আগের পর্বে আপনারা শুনেছিলেন যে
মায়ের মৃত্যুর পরে আমার ফুফি আমাকে আমার
বোনেদের মা হতে বলেছিলেন এবং বাবারও একই
ইচ্ছে ছিল। আমি নিজেও আমার জীবনে বাবার মত
একজন জীবনসঙ্গী চাইতাম। আর প্রকৃতি
এমনভাবে ব্যবস্থা করল যে বাবাই আমার
জীবনসঙ্গী হয়ে উঠলেন। যারা প্রথম ও
দ্বিতীয় পর্ব দেখেননি তারা নিচে
ডেসক্রিপশন বক্সে এ ভিডিও লিংক পেয়ে
যাবেন। বাবা বললেন প্রিয়া তুমি তো একজন
জাদুকরী। আমি হেসে বললাম আমি আবার কিসের
জাদুকরী? আমি তো কোন জাদু করিনি। তখন বাবা
বললেন ও তাই নাকি? তাহলে শোনো তুমি তো
কিছুই করোনি ম্যাডাম। তোমার ওই এক চাহানি
আমাকে বন্দি করে ফেলেছে আর তুমি বলছ আমি
কিছুই করিনি আমি একটু মুচকি হেসে বললাম
আমি আবার আপনাকে কখন বন্দি করলাম আমার
কাছে এমন কি আছে যে আপনার মত মানুষ আমার
দাস হবে পাশ থেকে বাবা হেসে বললেন প্রিয়া
যা তোমার আছে তা আর কারো নেই তোমার সেই এক
টুকরো হাসি আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড়
সম্পদ আমরা স্বামী স্ত্রীর মত একে অপরের
দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে একটু ঘনিষ্ঠ
হচ্ছিলাম ঠিক তখনই রিংকি হঠাৎ ঘরে ঢুকে
পড়ল। আমরা দুজনেই চমকে গিয়ে দ্রুত আলাদা
হয়ে গেলাম। বাবা তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে
বেরিয়ে গেলেন আর আমি রান্নাঘরের কাজে
ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর আমি রাগে
গট করে বাবার ঘরে গেলাম আর বললাম, বাবা
ফোনটা দিন তো। ফুপির সাথে কথা না বলতে
পারলে শান্তি পাই না। বাবা হেসে বললেন,
থাক না ফোনে কথা কেন? এসো না আমরা দুজন
গল্প করি। বাবার এমন কথা শুনে আমার মাথায়
একটু রাগ উঠে গেল। আমি মুখ ফুলিয়ে বললাম
থাক বাবা আপনার ফোনে আর কথা বলবো না নতুন
ফোন নেব তারপর কথা বলব আমি রাগ দেখিয়ে ঘর
থেকে বেরোতে যাচ্ছিলাম তখন বাবা হঠাৎ কানে
হাত দিয়ে মুচকি হেসে বললেন আরে হুজুর
আপনি কি সত্যিই রাগ করে চলে যাচ্ছেন
আমাদের এমন সাহস কোথায় যে আপনাকে না বলতে
পারি তারপর ফোনটা সামনে ধরে বললেন নিনরানী
সাহেবা এবার এই বেচারাকে কি ক্ষমা করবেন
নাকি আরো শাস্তি হবে বাবার এই অভিনয় দেখে
আমার মুখে হাসি চলে এলো। আমি ফোনটা নিয়ে
দরজার দিকে এগিয়ে গেলাম। বাবা তখনও পেছন
থেকে বললেন, ঠিকঠাক কথা বলতো। আমাদের নামে
কোন অভিযোগ যেন না হয়। এখন থেকে একটু
সাবধানে থাকতে হবে মনে হচ্ছে। আমি দরজার
কাছে পৌঁছে পেছন ফিরে বাবার দিকে তাকিয়ে
বললাম, ভুলটাই কেন করো যে মাফ চাইতে হয়।
বুঝেছো? তারপর দরজার বাইরে বেরিয়ে যেতে
যেতে হেসে বললাম, দিদির সাথে কথা বলে এসে
তোমার জন্য দুধ আনছি। এরপর আমি ফোনটা হাতে
নিয়ে দিদিকে কল করলাম দিদি ফোন তুলছিলেন
না যতক্ষণ না দিদির সাথে কথা বলি আমার যেন
মনেই শান্তি নেই আবার ফোন দিলাম এবার দিদি
ফোন ধরলেন আমি আনন্দে বললাম বুঝলে দিদি
আমি যে শপিংটা করেছি সেটা নিয়ে তোমাকে
বলতে হবে তারপর শুরু হলো কথার লড়াই আমি
জানতাম কথার খেলায় দিদির থেকে যে তা আমার
পক্ষে অসম্ভব তাই আমি সুকুশলে প্রসঙ্গ
ঘুরিয়ে দিলাম আমার আর বাবার বাবার বিয়ে
এখন আর মাত্র চারদিন পরেই। তাই আমি দিদিকে
প্রশ্ন করলাম বিয়ের জন্য কবে আসছো? দিদি
উত্তর দিলেন, আমি তো বিয়ের আগের দিন আসতে
পারব। আর তোমাদের বিয়ে করিয়েই সেদিনই
ফিরে যাব। দিদি কথা শুনে আমার খুব খারাপ
লাগলো। আমি একটু অভিমানী স্বরে বললাম, এত
তাড়াতাড়ি চলে যাবে। এই যে আমার বিয়ের
সব মজা। সব আনন্দ। তুমি কিছুই দেখতে পাবে
না। আমার কথার মধ্যে একটু রাগ ছিল। কিন্তু
দিদি হেসে বললেন আর কি করার? সময়টাই যে
এমন তবে বিয়ের দিনটা স্পেশাল হবে তোমার
মুখের হাসিটাই সেটা প্রমাণ করে এটা শুনে
আমার মেজাজ একটু শান্ত হলো আমি মনে মনে
ভাবলাম ঠিক আছে দিদি বিয়ের দিন সবটুকু
আনন্দ তুমি বুঝতে পারবে আমি একটু রাগ
করেছিলাম দিদি বললেন তোমাদের বিয়ের ঠিক
পরের দিনই তো বাচ্চাদের পরীক্ষা আর আমার
স্বামীরও খুব জরুরি কাজ আছে তাই বেশিদিন
থাকা সম্ভব না আমি একটু অভিমানে বললাম
তাহলে দিদি দিদি বিয়েটা কয়েকদিন পিছিয়ে
দিলে কেমন হয়? দিদি হেসে বললেন, না রে
এটা সম্ভব না। এই শুভ লগ্নে যদি বিয়ে না
হয়। তাহলে পরের চার মাস কোন শুভ সময়
নেই। বলতো বিয়ে কি চার মাস পিছিয়ে
দেওয়া যায়? তোমরা কি চার মাস অপেক্ষা
করতে পারবে? আমি চুপচাপ ভাবতে লাগলাম।
নিজের ব্যাপারে জানিনা। তবে বাবার কথা
ভেবে মনে হলো। উনি তো চার দিন তো দূরের
কথা। চার ঘন্টাও না থাকতে পারেন। এরপর
দিদি বললেন, আসলে ভাইয়া ট্রান্সফার
করানোর চেষ্টা করছেন। কিছুদিনের মধ্যে তো
তোমরা এখানেই চলে আসবে। তখন তো আমরা সবাই
একসঙ্গে থাকবো। আমি হাসিমুখে বললাম, ঠিক
আছে দিদি। তুমি যেমন বলবে। আমার তো এত
আনন্দ হচ্ছে যে ভাষায় বোঝাতে পারবো না।
দিদি মজা করে বললেন, এই আনন্দ কি আমার
জন্য বেশি? না তোমার হবু স্বামীর জন্য?
আমি হেসে বললাম, দুজনের জন্যই। দিদি আবার
হাসতে হাসতে বললেন তাহলে তোমার নতুন
জীবনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখো আমি
বললাম প্রস্তুতি আবার কি তুমি এলে সব
বুঝিয়ে দিও তুমি তো শুধু আমার দিদি নও
আমার সেরা বন্ধু দিদি হেসে বললেন আহা আমার
ভাইয়ের বউ মানে এত দোস্তানা বেশ বেশ
দিদির কথা শুনে আমি হেসে ফোন রেখে দিলাম
এরপর পাপার ফোন ফেরত দিতে তার রুমের দিকে
যাচ্ছিলাম কিন্তু আজ রাতে বাবার রুমের
দিকে যেতে আমার বুকটা অদ্ভুতভাবে ভাবে
ধকধক করছিল। রাতে বাবার ঘরের দিকে যেতে
আমার বুক ধকধক করতে লাগলো। মনে হচ্ছিল যদি
এত রাতে বাবার কাছে যাই উনি হয়তো আমাকে
সাথে থাকার জন্য বলবেন। আমি ভাবতে লাগলাম
আসলে তাতে ভুলটাই বা কোথায়? উনি তো আমার
হবু স্বামী। কয়েকদিন পরেই তো উনার আমার
উপর সম্পূর্ণ অধিকার থাকবে। এইসব ভাবতে
ভাবতে আমি বাবার ঘরে ঢুকলাম। কিছুক্ষণ বসে
গল্প করলাম। তারপর যখন উঠে নিজের ঘরের
দিকে যাচ্ছিলাম বাবা হেসে বললেন এইতো চলে
যাচ্ছো আরেকটু বসো না আমি একটু লজ্জা
পেয়ে মুচকি হেসে বললাম না ঘুম পাচ্ছে
বাবা মজা করে বললেন আরে ম্যাডাম কয়েক
মিনিট তো বসো তারপর বাবা ঘরের মিউজিক
প্লেয়ার চালিয়ে দিলেন। মিউজিকের তালে
তালে বাবা ধীরে ধীরে নাচতে শুরু করলেন।
হঠাৎ বাবার হাত বাড়িয়ে বললেন, চলো না
প্রিয়া একটু নাচ করি। বাবার এই আচরণে আমি
ভেতরে ভেতরে খুব খুশি হচ্ছিলাম। কিন্তু
একটু লজ্জা আর দ্বিধাও ছিল। বাবা আবারও
হাসি মুখে হাত বাড়িয়ে বললেন, চলো না আমি
জানি তুমি নাচতে পারো না কিন্তু আমি
শেখাবো। আমি চুল ঠিক করতে করতে বললাম। আমি
নাচতে কিন্তু পারি না। বাবা হেসে বললেন,
এইতো আমি আছি। একবার চেষ্টা করলেই শিখে
যাবে। বাবা বললেন, তুমি খুব সুন্দর নাচতে
পারো। জানো? আমি একটু লজ্জা পেয়ে হেসে
বললাম, আপনিও না রিঙ্কির বাবা। এই বলে আমি
নিজের ঘরে চলে এলাম। কিন্তু ঘুম কিছুতেই
আসছিল না। হঠাৎ মনে হলো কেননা নতুন কেনা
পোশাকগুলো পড়ে দেখি। কেমন লাগে? আমি
তাড়াতাড়ি শপিং ব্যাগ খুলে একটা নতুন
পোশাক পড়ে নিলাম। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
নিজেকে দেখে নিজেই একটু লজ্জা পেলাম। মনে
মনে ভাবলাম সত্যি কি বাবা আমাকে এই রূপে
দেখার জন্য এতটা উন্মুখ? আমি এই অবস্থায়
তার সামনে কিভাবে যাব? এইসব ভাবতে ভাবতে
কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তা টেরই পাইনি।
এদিকে আমাদের বিয়ের প্রস্তুতি পুরোদমে
চলছিল। তবে আমার একটু মন খারাপ ছিল। কারণ
দিদি বিয়েতে এসে বেশিদিন থাকতে পারছিলেন
না। তখন আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এল।
বাবাকে যদি বলি তাহলে হয়তো বাবা দিদিকে
বলবেন আর উনি থাকতে রাজি হবেন। আমি
সিদ্ধান্ত নিয়ে বাবার কাছে গেলাম। বললাম,
বাবা একটা কথা ছিল। বাবা হেসে বললেন,
হ্যাঁ প্রিয়া বল। আমি একটু ইতস্তত করে
বললাম দিদি বলছেন উনি বিয়ের আগের দিন
আসবেন আর বিয়ের দিনই চলে যাবেন আপনি যদি
একটু বলেন তাহলে হয়তো থেকে যাবেন বাবা
বুঝিয়ে বললেন ওর বাচ্চাদের পরীক্ষা আছে
রে তাই আমি আর জোর করিনি আমি কিছুক্ষণ চুপ
করে রইলাম বুঝলাম হয়তো দিদি ঠিকই বলছেন
বাবা আর আমার বিয়ের দিন দ্রুত এগিয়ে
আসছিল কিন্তু তাড়াহুড়োর মধ্যে সবচেয়ে
জরুরি জিনিস বিয়ের গয়না আর শাড়ি আমরা
আনতেই ভুলে গিয়েছিলাম আমি বাবা বাবাকে
বললাম, শুনছেন? বাবা হেসে বললেন, বলুন
আমার সরকার। আমি তো আপনার সেবায় আছি। আমি
হেসে বললাম, আপনি সবসময় এমন মজা করেন।
বাবা আবার মজা করে বললেন, আরে বলতো কি
সমস্যা হয়েছে? আমি একটু দ্বিধা করে বললাম,
বিয়ের জন্য তো মঙ্গলসূত্র আর শাড়ি কেনা
হয়নি। বাবা অবাক হয়ে বললেন, আরে তোমার
মায়ের পুরনো শাড়ি আর গয়নাই তো আছে। ওগুলো
পড়লেই হবে। আমি মাথা নেড়ে বললাম না বাবা
ওগুলো আমি পড়তে পারবো না বাবা কিছুটা
অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন কেন তাহলে কি
তুমি বিয়ের জন্য রাজি নও আমি মুচকি হেসে
বললাম আমি কখন বললাম বিয়ে করব না কিন্তু
ওই পুরনো শাড়ি আর গয়না আমি পড়বো না
বাবা একটু বিরক্ত হয়ে বললেন কিন্তু কেন
ওই শাড়ি তো তোমার মায়ের আমি শান্ত গলায়
বললাম বাবা ওটা মায়ের ছিল ঠিকই কিন্তু
এখন সেটা অতীতের একটা স্মৃতি আমি চাই না
আমার জীবনের নতুন শুরুটা টা পুরনো কোন
জিনিস দিয়ে হোক বরং আমি একটা নতুন শাড়ি
পড়তে চাই আর নতুন মঙ্গলসূত্রে আমার নতুন
জীবনের শুরু হোক বাবা আমার কথা শুনে চুপ
করে রইলেন। তারপর একটু হাসলেন আর বললেন,
ঠিক আছে যেটা তুমি চাও সেটাই হবে। কালই
আমরা নতুন শাড়ি আর গয়না নিয়ে আসবো। আমি
খুশিতে বাবাকে দেখে হেসে ফেললাম। মনে মনে
ভাবলাম, এটাই আমার নতুন জীবনের সবচেয়ে
সুন্দর দিন হতে চলেছে। বাবা হাসি মুখে
বললেন, এইতো সামান্য ব্যাপার। চলো এখনই
তোমার বিয়ের শাড়ি আর মঙ্গলসূত্র কিনতে
যাই। তোমার মুখে একটু হাসি এনে দেওয়ার
জন্য আমরা সব করতে পারি। তারপর আমি আর
বাবা একসঙ্গে বাজারে চলে গেলাম বিয়ের
কেনাকাটার জন্য। বাজারে গিয়ে আমরা
অনেকগুলো দোকান ঘুরে আমার জন্য একটা খুব
সুন্দর লাল রঙের শাড়ি আর একটি সুন্দর
হীরের মঙ্গলসূত্র পছন্দ করলাম। শাড়িটা
একদম রাজকীয় আর ঐতিহ্যবাহী ছিল।
মঙ্গলসূত্রটা তো দেখে আমার চোখে আনন্দের
ঝলক চলে এলো। সব কেনাকাটা শেষ হওয়ার পর
বাবা হেসে বললেন চলো এবার বাড়ি ফিরি আমি
ঠাট্টা করে বললাম বাবা বিয়ের বেড আর
বিছানার কথা কি ভুলে গেছেন নাকি ভাবছেন
ট্রান্সফার হওয়ার পর সেখানে গিয়ে
সেজেগুজে বসবেন বাবা মজা করে বললেন এই
মেয়ে এত পাগলামো কেন করছো এটা তো ঠিক নয়
তারপর আমরা একটা সুন্দর আরামদায়ক ডাবল
বেগ বেছে নিলাম সব কেনাকাটা শেষ করে বাড়ি
ফেরার পথে আমার মন আনন্দে ভরে গিয়েছিল
অবশেষে সেইদিন চলে এল যেদিন আমার জীবনের
নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। বিয়ের
প্রস্তুতি সম্পূর্ণ আমি আর বাবা একে অপরের
দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলাম। এই মুহূর্তগুলো
সত্যিই আমার কাছে অমূল্য। আমার দিদি আগের
দিন বিকেলেই চলে এসেছিলেন। বাড়ির সব কাজ
অনুষ্ঠান যেন দিদির হাত ধরে প্রাণ
পেয়েছিল। হলুদ, মেহেদির মত রীতি-রেওয়াজ
সবকিছুই আনন্দে পরিপূর্ণ ছিল। রাতে আমি
দিদির সাথে নিজের ঘরে ফিরলাম। ঘরের সবকিছু
গোছানোর ফাঁকে ফাঁকে দিদি নরম গলায় আমাকে
অনেক কথাই বলছিলেন দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে
কিভাবে সম্পর্ককে সুন্দর ও মজবুত রাখা
যায় তার কথা শুনে আমি লজ্জায় লাল হয়ে
গেলাম হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফিসফিস করে
বললাম দিদি আপনি তো আমার গুরু গুরু
দক্ষিণা না দিলে কি চলে দিদি মুচকি হেসে
বললেন এতো শুধু একটা ছোট্ট ট্রিট গুরু
দক্ষিণার কথা পরে ভাববো সময় হলে নিজেই
জানাবো আমি হেসে বললাম ঠিক আছে আছে দিদি
আপনার জন্য যা দরকার হবে দেবো সেই রাতে
দুজনের কথায় সময় কেটে গেল ক্লান্ত শরীরে
ঘুমিয়ে পড়লাম সকালে খুব তাড়াতাড়ি উঠতে
হবে কারণ দিনের আলো ফোটার পরেই ছিল আমার
জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন বিয়ে
পরদিন ভোরে আমি আর দিদি একসঙ্গে রওনা হলাম
পার্লারের দিকে সেখান থেকে সেজে গুজে সোজা
মন্দিরে যাওয়ার কথা ছিল ভাইয়া আর বাবা
বাড়ি থেকে বাচ্চাদের নিয়ে সরাসরি
মন্দিরে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছিলেন আমি
যখন প্রস্তুত হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালাম।
নিজেকে দেখে নিজেরই অদ্ভুত লাগছিল। হাতে
মেহেন্দির রং, গাধ লাল বেনারসি আর গয়না
সজ্জিত আমি যেন পুরোপুরি এক নবধু। মনের
মধ্যে একটু লজ্জা। একটু উত্তেজনা। সব
মিলিয়ে অনুভূতিটা অন্যরকম। মনে হচ্ছিল আজ
সত্যি জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে
চলেছে। দিদির হাত ধরে আমি মন্দিরে
পৌঁছালাম। সেখানে বাবা আর দিদির স্বামী
আগেই সব আয়োজন সম্পন্ন করে রেখেছিলেন।
মন্দিরের সংখ ধ্বনি আর ঘন্টার শব্দে পুরো
পরিবেশ যেন পবিত্রতায় ভরা মেল। আমি ধীর
পায়ে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করলাম। আর
মনের মধ্যে একটাই অনুভূতি নতুন জীবনের পথে
প্রথম পদক্ষেপ। সব আয়োজন শেষ করে আমি যখন
লাল বেনারসি শাড়ি আর সোনার গয়নায় সেজে
উঠলাম। নিজেকে দেখে একটু অবাকই হলাম। দিদি
আর আত্মীয়স্বজনরা আমার দিকে তাকিয়ে
মুগ্ধ হয়ে গেলেন। বাবা তো একদম চুপচাপ
আমার দিকে তাকিয়েই ছিলেন তার চোখে
আনন্দের এক অদ্ভুত ঝলক ছিল ফুল দিয়ে
সুসজ্জিত বিয়ের মন্ডপ যেন এক স্বপ্নের মত
লাগছিল পন্ডিতমশাই এসে বাবাকে মন্ডপে বসতে
বললেন আমি ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে বাবার
পাশে বসলাম দিদি আমার ঘুমটা ঠিক করে
দিলেন। বাবার মুখে এক অদ্ভুত হাসি ছিল এমন
হাসি যেন বলছে। আমার মেয়েটা আজ নবধু আমার
মনে অদ্ভুত আনন্দের শিহরণ বয়ে যাচ্ছিল
ফুফামশাই হেসে বললেন দেখছেন তো ভাই এই
হাসিটা আর লুকানো যাচ্ছে না আজ তো জীবনের
এক নতুন দায়িত্ব শুরু হলো সবাই মিলে হেসে
উঠল আর আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললাম
পন্ডিতমশাই ধীরে ধীরে মন্ত্র পড়তে শুরু
করলেন প্রথমে আমাদের দুজনকে একে অপরকে
মালা পড়াতে বললেন মালা বদলের পর আগুনের
সামনে সমস্ত রীতি শুরু হল হাত ধরায়ার
পর্বে বাবার হাতে স্পর্শ যেন এক অদ্ভুত
স্নেহ আর ভালোবাসা অনুভব করলাম। এরপর
পন্ডিতমশাই আমার শাড়ির আঁচল বাবার
উত্তরীয়ের সাথে বেঁধে দিলেন। সেই
মুহূর্তটা যেন সময় থমকে গিয়েছিল।
মন্ত্রের ধ্বনি, আগুনের শিখা আর ঘন্টার
শব্দে মন্ডপটা যেন পবিত্রতায় ভরে গেল। 15
মিনিটের মধ্যে সবকিছু সম্পন্ন হল। আমাদের
চারপাশের সবাই আনন্দে মুখর হয়ে উঠলো।
শেষে পন্ডিতমশাই বাবাকে বললেন, এবার
কন্যার স্মৃতিতে সিদুর পড়িয়ে দিন। বাবার
হাত কাঁপছিল কিন্তু মুখে ছিল আনন্দের
প্রশান্তি। আমি চোখ বন্ধ করে মাথা নিচু
করলাম। স্মৃতিতে সিদুর পড়িয়ে বাবা আমার
গলায় মঙ্গলসূত্র পড়ালেন। এইভাবে একটা
পুরনো অধ্যায় শেষ হলো। আর শুরু হলো নতুন
এক সম্পর্কের গল্প। আমি আর বাবার মধ্যে আজ
থেকে শুধু বাবা মা মেয়ের সম্পর্কই নয়।
আরো গভীর এক বন্ধনের শুরু হলো। একটা নতুন
পরিবার গঠনের দায়িত্ব আমাদের দুজনের
পন্ডিতমশাই শেষ বাণী দিলেন আজ থেকে তোমরা
স্বামী স্ত্রী বিশ্বাস আর ভালোবাসায়
তোমাদের সম্পর্কের শক্তি হবে একে অপরকে
সম্মান করবে আর জীবনকে সুন্দর করে তুলবে
তারপরে তিনি আমাকে আশীর্বাদ করলেন সুখী হও
মা তোমার নতুন জীবন আনন্দে ভরে উঠুক
এইভাবে আমার বিয়ে সম্পন্ন হলো এক নতুন
পরিচয়ে আমি জীবন শুরু করলাম এক নতুন
দায়িত্ব এক নতুন পথচলা আগের সম্পর্ক ছিল
বাবা মেয়ের। কিন্তু আজ থেকে আমার আর
বাবার মধ্যে এক নতুন সম্পর্কের সূচনা হলো।
নতুন এই সম্পর্কের দায়িত্ব আমি হাসিমুখে
মেনে নিয়েছি। বিয়ে শেষে আমরা যখন বাড়ির
পথে রওনা দিলাম দিদির স্বামী সারাক্ষণ
হেসে মজা করতে লাগলেন। এই যে জামাই বাবু
বিয়ে তো ধুমধাম করে হলো। এখন কবে পার্টি
দিচ্ছেন বলুন তো। বাবা হেসে বললেন, পার্টি
হবে নিশ্চয়ই। পরিবারকে এক রাখার যে
পরামর্শ আর সাহায্য তুমি করেছ। তার জন্য
তোমায় ধন্যবাদ। আমরা তো একে অপরের পাশে
সবসময় থাকবো। আমি শুধু লজ্জায় মাথা নিচু
করে বসে রইলাম। দিদির স্বামীর ঠাট্টা আর
বাবার হাসির মাঝেই গাড়ি বাড়ির সামনে
পৌঁছালো। তখন সন্ধে নেমে গেছে। বাড়িতে
পৌঁছে দেখি দিদি আর জামাইবাবু তাদের বাড়ি
ফেরার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। যাওয়ার আগে
দিদি আমাকে নিজের ঘরে ডেকে নিল। আমাকে
জড়িয়ে ধরে সে বলল, শোনো এখন থেকে এই
বাড়ির দায়িত্ব তোমার। সম্পর্কটা যাতে
সুন্দর থাকে তার জন্য ভালো করে নিজের
দায়িত্ব পালন করতে হবে। স্বামীর মন জয়
করতে হলে একটু বুদ্ধি খাটাতে হয়। তাকে
ভালো খাবার বানিয়ে খাওয়াও। তার খেয়াল
রাখো আর সবসময় তাকে হাসি মুখে সাপোর্ট
করো। মনে রেখো ভালোবাসা আর বিশ্বাসের
সম্পর্কেই সুখের সংসার গড়ে ওঠে। দিদির
কথাগুলো শুনে আমি হেসে বললাম, তুমি তো
আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। তোমার
পরামর্শ আমি সবসময় মনে রাখব। দিদি হাসি
মুখে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল তাহলে
সংসারটা সুন্দর হবে। এখন থেকে এগিয়ে যাও
নতুন জীবনের পথে। দিদি চলে যাওয়ার পর আমি
নতুন জীবনের ভাবনায় ডুবে গেলাম। আজকের
দিনটা আমার জীবনে একটা নতুন অধ্যায়ে
শুরু। নিজের দায়িত্ব পালন করে এই
সম্পর্ককে শক্তিশালী করে তোলার সংকল্প
করলাম। দিদি আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল, তোর
বিয়ে হয়ে গেল। এখন তুই কেমন অনুভব
করছিস? আমি একটু মুচকি হেসে বললাম, আসলে
একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। ভিতরে ভিতরে
একটু ভয়ও লাগছে। নতুন একটা দায়িত্ব
জানিনা কিভাবে সামলাবো। দিদি তখন পাশে এসে
বললেন, কিছু নিয়ে ভয় পাস না। সব ঠিক
হয়ে যাবে। শুরুতে একটু অস্বস্তি লাগলেও
সময়ের সাথে সব সহজ লাগবে। যে কোন
সমস্যায় আমাকে ফোন করবি। তোর পাশে সবসময়
আমি আছি। তারপর দিদি আর আমি বাইরে ড্রইং
রুমে গেলাম। সেখানে দিদির স্বামী অপেক্ষা
করছিলেন। দিদি হাসিমুখে বললেন, চলুন এবার
আমরা ফিরি। বাড়িতে ছেলেমেয়েদের পরীক্ষার
সময় চলছে। তাছাড়া এখানে তো নতুন বইয়ের
খেয়াল রাখার জন্য সবাই আছেন। বাবা তখন
আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি ওনাদের
স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসছি। আমি
শুধু মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালাম। দিদি
তখন আবার আমার কাছে এসে আমাকে জড়িয়ে
ধরল। বিদায়ের সময় দিদি বলল ভালো করে
সংসারটা সামলাবি। নিজের যত্ন নেবি আর নতুন
এই জীবনে পা রেখে মনের জোর হারাবি না। আমি
বললাম দিদি বাড়ি গিয়ে ফোন করো। তোমার
খোঁজ পেতে ইচ্ছে করবে। দিদি হেসে বলল, আরে
ফোন করলে তুই আর জামাইবাবু ব্যস্ত থাকবি
কিনা কে জানে। আমি ফোন করে ডিস্টার্ব করবো
কেন? দিদির কথার ইঙ্গিত বুঝে আমি লজ্জায়
গাল লাল করে ফেললাম। তখন বাবা এসে আমার
পাশে দাঁড়ালেন। দিদি বাবার দিকে তাকিয়ে
বলল, ভাই নতুন জীবন শুরু হয়েছে ওর। ওর সব
খেয়াল রাখবেন। সংসারে যেন কোন কষ্ট না
পায়। তবেই কিন্তু আমার মন ভালো থাকবে।
আমি লজ্জায় মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে
থাকলাম। বিদায়ের পর আমি মনে মনে ভাবতে
লাগলাম, এই নতুন জীবনের পথে এগিয়ে
যাওয়ার জন্য নিজেকে শক্ত করতে হবে।
সংসারের সমস্ত দায়িত্ব আমি হাসিমুখে পালন
করব। বাবা মৃদু হেসে বললেন পূজা এখন থেকে
এই আমার দায়িত্ব। ওর যত্নে কখনো কোন
ত্রুটি হবে না। আমি নিশ্চিত করব যে
তোমাদের কোন অভিযোগের সুযোগই থাকবে না।
তারপর বাবা দিদি আর জামাইবাবুকে স্টেশনে
পৌঁছে দিতে বেরিয়ে গেলেন। দিনের সমস্ত
ব্যস্ততা শেষ করে আমি নিজের ঘরে ফিরতে
চাইলাম। আমার মেয়েরা খুবই ক্লান্ত ছিল।
তাদের গিয়ে শুয়ে দিলাম। কিন্তু আজ একটা
পরিবর্তন এসেছে। আমার নিজের ঘর বদলে গেছে।
এবার আমাকে নতুন ঘরে যেতে হবে। যে ঘরটা
এতদিন বাবার ছিল সেটাই এখন আমার নতুন
জায়গা। সেই ভাবনা মাথায় ঘুরতে ঘুরতে আমি
দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। দরজাটা
খুলতেই অবাক হয়ে গেলাম সারা ঘর জুড়ে
সাদা আর লাল ফুলের অপূর্ব সৌরভ ছড়িয়ে
আছে। ঘরে পা দিয়ে মনে হলো যেন কোন
স্বপ্নের জগতে চলে এসেছি। বিছানার উপর
সুন্দর করে ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে।
ফুলের পাপুড়ির মাঝখানে এক বড় হৃদয় আঁকা
হয়েছে। আর সেই হৃদয়ের মাঝখানে বড় করে
লেখা শুভ নবজীবন।
ঘরের চারপাশে ছোট ছোট আলো আলোকিত পরিবেশ
যেন এক নতুন জীবনের আগমনী বার্তা দিচ্ছিল।
বাবার এই আয়োজন দেখে আমার চোখে জল চলে
এলো। আমি ভেতরে পা রেখে ভাবতে লাগলাম আজ
থেকে একটা নতুন যাত্রা শুরু হলো।
সম্পর্কের নাম বদলে গেলেও সম্মান আর
ভালোবাসা আগের মতোই থেকে যাবে। এই দিনটার
জন্য আমি নিজেকে শক্ত করে তোলার প্রতিজ্ঞা
করলাম। নতুন পথ, নতুন দায়িত্ব সবকিছু
সুন্দরভাবে সামলাতে হবে। রাত গভীর। বাড়ির
সব কাজকর্ম শেষ করে আমি নিজের নতুন ঘরে
বসেছিলাম। একটা অদ্ভুত অনুভূতি মনে কাজ
করছিল। একসাথে উত্তেজনা আর সংকোচ। দরজার
ওপাশ থেকে গাড়ির শব্দ শুনতে পেলাম। মনে
হলো বাবা ফিরে এসেছেন। আমার বুকের
ধুকপুকানি যেন আরো বেড়ে গেল। ধীরে ধীরে
গেটের শব্দ বন্ধ হলো। পায়ের আওয়াজ শুনতে
পেলাম। সেই আওয়াজ ক্রমশ আমার ঘরের দিকে
এগিয়ে আসছিল। আমি শাড়ির আঁচল টেনে ঘুমটা
দিয়ে বসলাম। দরজার সামনে এসে সেই পায়ের
শব্দ থামলো। মুহূর্তের মধ্যেই দরজা খোলার
শব্দ হলো। ঘরের নরম আলোতে আমি বসে রইলাম।
বাবা ঘরে ঢুকে দরজাটা আলতো করে ভেতর থেকে
বন্ধ করলেন। ঘরভর্তি সুগন্ধির সাথে যেন
একটা শান্ত পরিবেশ তৈরি হলো। আমি অনুভব
করলাম তিনি ধীরে ধীরে আমার দিকে আসছেন।
ঘরের নিস্তব্ধতায় শুধু আমাদের দুজনের
নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বাবা আমার
পাশে এসে বসলেন। মাথা নিচু করে আমি তখন
ঘুমটার আড়ালে লজ্জায় সরে যেতে চাইছিলাম।
কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকার পর তিনি মৃদুস
হয়ে বললেন প্রিয়া আজ থেকে আমাদের জীবনে
নতুন এক অধ্যায় শুরু হলো আমি প্রতিজ্ঞা
করছি তোমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আনন্দ
আর ভালোবাসায় ভরিয়ে দেব এই সম্পর্কটা
আমার কাছে শুধু দায়িত্ব নয় এটা আমার
জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ তার কথাগুলো
শুনে আমার চোখের কোণে অজান্তেই জল চলে এলো
একটা আশ্বাসের পরশ পেলাম সেই কথাগুলোয়
নতুন জীবনের এই শুরুটা সুন্দর আর সম্মানের
হবে এমন এমনটাই মনে মনে ঠিক করলাম। বাবা
যেন আরো বললেন, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে
বড় শক্তি। সবসময় তোমার পাশে থাকবো তোমার
সমস্ত ইচ্ছে আর স্বপ্নকে পূরণ করতে। তোমার
হাসিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
সেই মুহূর্তে মনে হলো জীবনের এই নতুন পথটা
সহজ হবে। সম্মান আর ভালোবাসার ভিত্তিতে
তৈরি এই সম্পর্ককে আমি নিজের সমস্তটা
দিয়ে আগলে রাখবো। রাতের পরিবেশ নীরব। আমি
ঘুমটার আডালে বসে আছি মনে এক অদ্ভুত
অনুভূতি কাজ করছে লজ্জা সংকোচ আর নতুন
জীবনের স্বপ্ন বাবা ধীরে ধীরে আমার পাশে
এসে বসলেন ঘরের শান্ত পরিবেশে শুধু
নিঃশ্বাসের আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল বাবা
মৃদুস্বরে বললেন প্রিয়া এটা তোমার জন্য
তোমার নতুন জীবনের প্রথম উপহার তিনি একটি
ছোট বক্স খুলে একটি সুন্দর নকশার গলার হার
আমার সামনে তুলে ধরলেন। সেই মুহূর্তে
আনন্দ আর লজ্জায় আমার মুখে কোন কথা আসছিল
না বাবা হাসিমুখে বললেন এটা শুধু একটা
উপহার নয় এটা আমার ভালোবাসার প্রতীক এখন
বল তুমি কি এই নতুন সম্পর্ক নিয়ে খুশি
আমি লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নিচু স্বরে বললাম
আপনার এই প্রশ্নের কি উত্তর দেব এখন তো
আপনি আমার জীবনের সবকিছু বাবা আমার কথায়
হেসে বললেন তোমার হাসিই আমার জন্য সবচেয়ে
বড় আশীর্বাদ
তিনি হাত বাড়িয়ে আমার হাত ধরলেন যেন
একটি নতুন বিশ্বাসের শুরু। সেই মুহূর্তে
মনে হলো জীবনের এই নতুন অধ্যাসটাকে সম্মান
আর ভালোবাসা দিয়ে পূর্ণ করব। এরপর তিনি
উঠে গেলেন রুমের বাইরে। আমি চুপচাপ বসে
রইলাম। মনে একটা নতুন দিনের স্বপ্ন
আঁকলাম। যেখানে সুখ, শান্তি আর ভালোবাসা
থাকবে। বন্ধুরা কেমন লাগলো আজকের গল্প?
গল্পের পরবর্তী অংশে আরো অনেক সুন্দর
মুহূর্ত আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে যা
আমরা শিঘরি নিয়ে আসবো। যদি আপনারা চান
তাহলে কমেন্টে জানান এবং আমাদের চ্যানেলকে
সাবস্ক্রাইব করে সাথেই থাকুন। আমরা
আপনাদের জন্য আরো নতুন ও মন ছুয়ে যাওয়া
গল্প নিয়ে আসবো।
Comments
Post a Comment