অনেক দিন পর চো*দা খাচ্ছি ফেটে গেল আমার ভো*দা



একদিন আমার কাছে 15 বছর বয়সী ছেলে এসে


হাজির হলো সে এমন একটি ইচ্ছা প্রকাশ করল


যা শুনে আমি কিছুটা অবাক হয়ে গেলাম এত


অল্প বয়সে এতটা সাহসের সাথে নিজের মনের


কথা বলতে পারা সত্যিই অদ্ভুত ছিল আমি


ভাবলাম তার কম বয়স ও সরলতার কথা বিবেচনা


করে আমি চুপ করে থাকাই ভালো মনে করলাম তবে


তখনকার পরিস্থিতি এমন ছিল যে আমার হাতে


কিছুটা অর্থের প্রয়োজন ছিল আমি মনে মনে


ভাবলাম এই ছেলেটি তো আমার কোন বিপদ ঘটাতে


পারবে না। বেশিরভাগ সময় এ ধরনের ব্যাপার


দু এক মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না। তাই


আমার জন্য এটি একটি সুযোগ হতে পারে যেখানে


আমি উভয় দিক থেকেই সুবিধা পেতে পারি।


আমার নাম পূজা। আমি 26 বছরের একজন স্বাধীন


ও আত্মনির্ভরশীল মেয়ে। দেখতে বেশ সুন্দর


এবং আকর্ষণীয়।


ছোট্ট একটি শহরে থাকি যেখানে সবাই সবাইকে


চেনে। আমার বাবা-মা অনেক ছোটবেলাতেই মারা


গেছেন তাই একা থাকার অভ্যাস গড়ে তুলেছি।


আমার জীবনে সাদামাটা জীবনধারার প্রাধান্য


আর নিজেকে নিয়ে গর্ব করার প্রয়োজন বোধ


করি না। শহরের বাইরে আমার শান্তিপূর্ণ


বাড়ি যেখানে গাছপালা ও ফুলের বাগান আছে।


সকালে যোগ ব্যায়াম ও বাগানের যত্ন নেই।


আর্থিক অবস্থা খুব ভালো না হলেও পরিশ্রম


চালিয়ে যাচ্ছি। বই আমার প্রিয় সঙ্গী


বিশেষত রোমাঞ্চ ও প্রেমের গল্প। একা থাকার


জন্য ঘরের কাজগুলো নিজেই করি। সেদিন একটু


গরম থাকায় দোপাট্টা পড়িনি। এমন সময়


দরজায় হালকা টোকা পড়ল। দরজা খুলতেই দেখি


পাশের বাড়ির ছেলেটি যার নাম রাহুল


দাঁড়িয়ে আছে। রাহুল মাঝেমধ্যেই আমার


বাড়িতে আসে। আমাদের মধ্যে একটি ভালো


বোঝাপড়া আছে। আমাদের বাড়ির আশেপাশে


প্রায় একটি ছেলে ঘুরে বেড়াতো। যার বয়স


খুব বেশি হলে 15 বছর হবে। তার চোখে


কৌতুহলের ঝিলিক ছিল। যা যেন অনেক কিছু


বলতে চাইছিল। কিন্তু প্রকাশ করতে পারছিল


না। একদিন সে এসে বলল, দিদি আপনার কাছে


আমার কিছু দরকার আমার। তার চোখে এমন এক


ধরনের উজ্জ্বলতা ছিল যা কিছু লুকানোর


চেষ্টা করছিল। আমি তাকে ঘরে আসতে বললাম


এবং জিজ্ঞাসা করলাম। তোমার কি প্রয়োজন?


ঘরে ঢোকার পর আমি তার চোখে কিছুটা অদ্ভুত


এক ঝিলিক লক্ষ্য করলাম। সে আমার দিকে


এমনভাবে তাকাচ্ছিল যেন কিছু বলতে চাইছিল


কিন্তু বলতে পারছিল না। তার দৃষ্টি বারবার


আমার পোশাকের দিকে গিয়ে আটকে যাচ্ছিল যা


আমাকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলে দিল। সৌজন্য


বিনিময়ের পর সে বলল, আমি একা থাকি এবং


আপনার সাথে একান্তে কথা বলতে চাই। আমি


আপনাকে কোন অসুবিধায় ফেলবো না বরং আপনার


প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হব। আমি ছেলেটিকে


মাথা থেকে পা পর্যন্ত একবার দেখে নিলাম।


উচ্চতায় বেশ লম্বা হলেও বয়সে সে বেশ


তরুণ। আমি তাকে বিনয়ের সাথে জানিয়ে


দিলাম। তুমি এখনো খুব ছোট এবং আমি মনে করি


না যে তোমার বয়স এই ধরনের কাজে উপযুক্ত।


আমি এর মধ্যে নেই। কিন্তু সে হেসে বলল,


আমি ছোটবেলা থেকেই অনেক অভিজ্ঞতা পেয়েছি।


মাত্র এক শূন্য বছর বয়স থেকেই এই কাজ


করছি। আমার কোন পরিবার নেই। আমি একাই


সবকিছু সামলাই। আমাকে বিশ্বাস করুন। আমি


আপনাকে নিরাশ করবো না।


বরং আপনার প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হব।


তার কথা শুনে আমি সত্যিই অবাক হয়ে গেলাম।


সেই ছোট্ট ছেলেটি একা একা এত কিছু কিভাবে


বলতেছে বুঝতে পারছিলাম না। আমি জিজ্ঞেস


করলাম তোমার বাবা মা কোথায়? সে বলল, আমি


একা বাবা মা নেই। অনেক ঘুরে বেরিয়েছি।


তবে এবার এই কাজ শুরু করেছি এবং ভালোই


চলছে। এখন আমি কাজটা আরো বর করতে চাই। তাই


আপনার সাথে কথা বলতে এসেছি। যদি আপনি


সাহায্য করেন তবে আপনার উপকারে আসবো। তার


এই কথা শুনে আমি অবাক হলাম। আসলে আমারও


এমন একজন সহকারীর প্রয়োজন ছিল যে ছোটখাট


কিছু কাজ সামলে দেবে। আর সেও আমাকে এমন


প্রস্তাব দিয়ে দিল পরের কথাটা ছিল। যদি


তার সাথে চুক্তি করি তবে প্রতিমাসে কিছু


অর্থ পাবো যা আমার জীবিকার জন্য বেশ সহায


হবে। তবে এটাও ভাবলাম যদি কোন কারণে সে


সময়মতো অর্থ দিতে না পারে তবে আমার জন্য


সমস্যা হতে পারে। তবে সে ছিল মাত্র 15


বছরের এবং সহজেই তাকে আমার প্রয়োজন


অনুযায়ী পরিচালনা করতে পারব। তাই নিজের


সুবিধা বিবেচনা করে চুক্তি পাকাপাকি


করলাম। আমিও একা ছিলাম তাই দোকানটি তাকে


ভাড়া দিয়ে দিলাম। সে বলল, দোকানেই সে


থাকতেও চায় কারণ তার আপজন বলতে কেউ নেই।


এতদিন রাস্তার উপর কাজ করতো। এখন দোকানেই


সেটি চালাবে। এতে আমারও আপত্তির কিছু ছিল


না। ঠিক আছে। শুধু সময়মতো টাকা দিয়ে


দিও। বললাম তাকে। এরপর সে দোকানে নারীদের


ব্যবহারের কিছু জিনিসপত্র নিয়ে এসে


সাজিয়ে রাখল। দেখতে পেলাম মাত্র


কয়েকদিনের মধ্যেই তার কাজ বেশ ভালোই জমে


উঠেছে। সারাদিন দোকান খোলা রাখতো আর অনেক


মহিলারা তার দোকানে জিনিস কিনতে আসতেন।


রাত হলে দোকানেই ঘুমিয়ে পড়তো। দীর্ঘদিন


ধরে দোকানটি ফাঁকা পড়েছিল। আগেও কয়েকবার


দোকানটি ভাড়া দিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ


বেশিদিন এখানে থাকতে পারতো না। সবাই বলতো


যে এই জায়গাটা ব্যবসার জন্য উপযুক্ত নয়।


এমনকি ভেবেই নিয়েছিলাম এই দোকানটি আর কেউ


ভাড়া নেবে না। কিন্তু এই ছেলে শুধু


ভাড়াতেই নেয়নি বরং দোকানটি চালিয়েও বেশ


জমিয়ে তুলেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো সে


দোকানে নারীদের জন্য জিনিসপত্র রাখতো। আর


মহিলারাই তার ক্রেতা হয়ে আসতেন। দোকানের


কাজের পাশাপাশি সে আমার ছোটখাট কাজগুলোতেও


সহায়তা করত।


বেশ কর্মট এবং বুদ্ধিমান ছিল সে। দোকানে


আসা ক্রেতাদের প্রতি তার আচরণ বেশ সোধে


ছিল। আর জিনিসপত্রগুলো সুশৃঙ্খলভাবে


সাজিয়ে রাখতো। যা আমাকে বেশ মুগ্ধ করেছিল


তার দায়িত্ববোধও সময়ের সাথে বেড়ে


যাচ্ছিল। প্রতিটি জিনিস অত্যন্ত


যত্নসহকারে পরিচালনা করত। ক্রেতাদের


সেবায় মনোযোগী ছিল এবং তার কাজকর্মে ছিল


এক ধরনের সততা ও পরিপাটি ভাবও। সে নিয়মিত


তার ব্যবসা উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়ার


জন্য নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আসতো। নতুন


কিছু কৌশল প্রযোগ করেছিল যার ফলে দোকানের


বিক্রিও বাড়তে শুরু করে। কিছু সময় পর


আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো। আর আমার


ছোটখাট কাজে আমাকে সাহায্য করতো। যখন


খাবার একটু বেশি তৈরি হতো তখন সেটি দোকানে


পাঠিয়ে দিতাম। দোকান আর বাড়ির মাঝে


ছোট্ট একটা দরজা ছিল। প্রয়োজন হলে সেই


দরজা খুলে রাহুলের সাথে কথাও বলতাম। ধীরে


ধীরে আমাদের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা


বাড়তে লাগলো। আমি নিজেও একাকী ছিলাম। তাই


রাহুলের সঙ্গ পেয়ে অনেকটাই ভালো লাগছিল।


আসলে আমার কোন সন্তান ছিল না। আর আমার


স্বামী নরেশ হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে


সজ্যাশায়ী ছিলেন। সংসার চালানো বেশ কঠিন


হয়ে পড়েছিল। কেউ কেউ মাঝে মাঝে সাহায্য


করলেও দোকান থেকে আসার টাকাটা আমার জন্য


বেশ সহায ছিল। তাই রাহুলের সাথে সম্পর্কটা


ঘনিষ্ঠ রাখার চেষ্টা করছিলাম যেন সে দোকান


ছেড়ে না যায় এবং আমার এই ছোট্ট আয়ের


উচটিও বজায় থাকে। তবে আমি জানতাম না যে


ছেলেটিকে আমি ছোট্ট এবং সরল মনে করেছিলাম


সে এতটা সহজ সরল নয়। আমাদের সম্পর্কের


গভীরতা বাড়তে থাকলে আমি তাকে আমার বাড়ির


ভেতর আসার অনুমতি দিলাম। ছোট ছোট কাজের


জন্য সে আমার বাড়িতে চলে আসতো আর বাকি


সময় দোকানেই কাটাতো। আমার স্বামী নরেশেরও


এতে কোন আপত্তি ছিল না। কারণ আমার কাছে সে


তখনো 15 বছরের একটি বাচ্চাই ছিল। বরং


রাহুলের উপস্থিতিতে আমাদের জীবনটা অনেকটাই


জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। আগের মতো একাকিত্ব আর


মনম্রা ভাবটা ছিল না। প্রয়োজন হলে


রাহুলের সাথে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা


করতাম। কিছুদিন পর ঋতু পরিবর্তনের কারণে


নরেশের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে লাগলো। আমার


কাছে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার মত টাকাও ছিল


না। একদিন এমনি একসময় আমি চোখের জল


ফেলছিলাম। রাহুল আমাকে দেখতে পেয়ে জানতে


চাইল, কি হয়েছে? তুমি কাঁদছো কেন? তাকে


সব বললাম, নরেশের অসুস্থতা, হাসপাতালের


খরচের চাপ এবং জীবন নিয়ে আমার একাকিত্বের


অনুভূতি। একজন সন্তানের অভাব আমার জীবনের


শূন্যতাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। রাহুল


আমার কথা শুনে মুচকি হেসে বলল, তাহলে


সন্তান কেন নিচ্ছেন না? এতে সমস্যা কি?


তার এই প্রশ্নে আমি লজ্জায় পড়ে গেলাম।


বুঝিয়ে বললাম যে নরেশ এখন স্যাশায়ী এবং


এমন অবস্থায় সন্তান ধারণ সম্ভব নয়।


বিবাহের প্রথম দিকে নরেশই চেয়েছিল না যে


আমরা সন্তান নেয়ার ঝামেলায় যাই। যখন


আমরা সন্তান নেয়ার প্রয়োজন অনুভব করলাম


তখন নরেশ আর শারীরিকভাবে সক্ষম ছিল না।


তার এই হঠাৎ অসুস্থতা আমাদের জীবনকে


একেবারে পাল্টে দিয়েছিল। নরেশের হার্ট


অ্যাটাক হওয়ার পর থেকেই সে আর সুস্থ


জীবনে ফিরতে পারেনি। ভালোবেসে বিয়ে করলেও


ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক বাধ্যবাধকতার রূপ


নিয়েছিল।


কারণ আমার সামনে অন্য কোন পথ খোলা ছিল না।


রাহুল হয়তো আমার মুখের অভিব্যক্তি বুঝে


ফেলেছিল। সে বলল, আপনাকে চিন্তা করতে হবে


না। আমি তো আপনার পাশে আছি। শীঘ্রই আপনার


সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে। রাহুলের কথায়


আমার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। সে একাই এত


সাহসী যে প্রতিটি সমস্যার মুখোমুখী হতে


পারে।


আর আমি এত বয়স পেরিয়ে এসেও সাহস জোগাতে


পারিনি। রাহুল ছোটবেলায় মাত্র সাত বছর


বয়সে তার বাবা-মাকে হারিয়েছিল। তবুও সে


জীবন সংগ্রামে হার মানেনি। নিজের পথ নিজেই


তৈরি করেছে এবং পাশাপাশি নরেশেরও যত্ন


নিতে শুরু করেছিল। রাহুলের সরলতা ও


সাহসিকতা আমার মন ছুয়ে গেল। তার কথাগুলি


আমাকে সামান্য হলেও স্বস্তি এনে দিল। সে


আমার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিল এবং আমার


একাকিত্বের সঙ্গী হওয়ার প্রস্তাব করল।


এতে আমার মনে কিছুটা সাহস ফিরল। আমি বললাম


রাহুল তোমার প্রতি আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।


তোমার কথাগুলি যেন আমার জীবনে নতুন আসার


আলো নিয়ে এসেছে। আমার কথায় সামান্য


স্বস্তি হচ্ছিল। রাহুল বলল, জীবনে সমস্যা


আসবেই কিন্তু আমরা একসাথে সেগুলো পার করতে


পারব। তোমার একা সবকিছু সামলানোর দরকার


নেই। তোমার পাশে একজন সঙ্গী থাকা উচিত। আর


আমি আছি তোমার সাথে। আমরা একসাথে নরেশের


যত্ন নেব এবং তোমার সমস্যাগুলো দূর করার


চেষ্টা করব। রাহুলের কথায় যে আন্তরিকতা ও


সত্যতা ছিল তা আমাকে গভীরভাবে ছুয়ে গেল।


সে নিজেই অনেক কঠিন সময় পার করেছে তবু


কখনো হাল ছাড়েনি। তার দৃঢ় মনোবল ও


নিষ্ঠা আমাকে অনুপ্রাণিত করল। তার কথাগুলো


আমাকে প্রশান্তি এনে দিল। রাহুলের


সাহসিকতা এবং তার ইতিবাচক মনোভাব আমাকে


আবারো জীবনের প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে দিল।


তোমার সঙ্গ আমার জন্য অনেক মূল্যবান বললাম


রাহুলকে। কিন্তু তোমারও তো নিজের জীবন


আছে। নিজের স্বপ্ন আছে। তোমার এত দায়িত্ব


কাঁধে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বললাম তাকে


চিন্তা ও সম্মানের সাথে। রাহুল শান্তভাবে


উত্তর দিল, আমি অনেক কিছু হারিয়েছি পূজা।


কিন্তু অনেক কিছু অর্জনও করেছি। জীবন


পথচলায় সবসময় সহজ হয় না। কিন্তু যখন


আমরা অন্যের পাশে দাঁড়াই তখন এক বিশেষ


ধরনের আনন্দ পাই। নরেশের যত্ন নেওয়াও


আমার কাছে একটি দায়িত্ব কারণ আমি জানি


তিনি তোমার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার


কথাগুলো শুনে আমি এক মুহূর্তের জন্য থমকে


গেলাম ভাবতে লাগলাম কেউ কি সত্যিই এতটা


নিঃস্বার্থভাবে সহযোগ হতে পারে তবে এসব


চিন্তা এড়িয়ে দিলাম যখনই আমি কোন কাজে


বাইরে যেতাম রাহুলই নরেশের পাশে থাকতো এবং


তার সঙ্গ দিত তাদের মধ্যে ঠিক কি কথোপকথন


হতো আমি জানতাম না তবে আমাকে দেখলে রাহুল


শান্ত হয়ে যেত রাহুল প্রতিশ্রুতি


দিয়েছিল সে আমার সকল অভাব পূরণ করবে। তার


এক কথায় আমার মুখে হাসি ফুটে উঠেছিল। আমি


সন্তানের অভাব অনুভব করছিলাম। আর এই


শূন্যতা পূরণের ইচ্ছে আমার মধ্যে ছিল। তবে


এই ইচ্ছা রাহুল কিভাবে পূরণ করবে সেটি


আমার কাছে ছিল এক প্রশ্ন। তবুও তার


আনন্দের জন্য আমি মনের কষ্টটা গোপন করে


হাসি মুখে ছিলাম। কিছুদিন পর হঠাৎ করে


আমার শারীরিক অবস্থা কিছুটা পরিবর্তন


অনুভব করলাম। অসুস্থ হয়ে পড়লে রাহুলই


আমাকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিল


এবং অর্থসহাযতাও দিল। চিকিৎসকের কাছে গেলে


জানা গেল আমি গর্ভবতী। এটা শুনে যেন মাথার


উপর আকাশ ভেঙে পড়ল। নরেশের স্বাস্থ্যের


অবস্থা বিবেচনায় এটা কিভাবে সম্ভব? আমি


কাঁপা হাতের রিপোর্ট নিয়ে বাড়ি ফিরলাম।


ভয় নিয়ে নরেশকে বিষয়টি জানালে সে মুচকি


হেসে বলল, এটা তো নরেশ হেসে বলল, সম্ভবত


আমি এখন একজন সন্তানের বাবা হওয়ার জন্য


প্রস্তুত। যদি ঈশ্বর আমাদের এই সুব্বর


দিয়ে থাকে তাহলে একে হাসিমুখে গ্রহণ করো।


নরেশের কথায় আমি অবাক হয়ে গেলাম। সত্যিই


কি আমি নরেশের সন্তানের মা হতে যাচ্ছি।


এটা বিশ্বাস করা কঠিন ছিল কারণ তার


স্বাস্থ্যের কোন বড় উন্নতি দেখা যাচ্ছিল


না। তবে আমি মেনে নিলাম যে হয়তো আমি


নরেশের সন্তানের মা হতে চলেছি। এরপর থেকে


নিজের যত্ন নিতে শুরু করলাম। আর রাহুলও


এটা জানতে পেরে ভীষণ খুশি হলো যেন তার


নিজেরই বাড়িতে নতুন অতিথি আসছে। দোকানের


কাছ থেকে ফ্রি হলে রাহুল প্রায়ই আমাদের


বাড়িতে চলে আসতো। সে নিজেই নরেশের যত্ন


নেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিল এবং আমাকে


স্বস্তি দিতে নানা কাজে সাহায্য করতো।


এমনকি আমার জন্য ফল ও জুস নিয়ে আসতো। তার


দোকানও ভালো চলছিল আর দিনগুলো এভাবেই কেটে


যাচ্ছিল। অবশেষে নয় মাস পরে। আমি একটি


সুন্দর শিশুর জন্ম দিলাম। মজার বিষয় হলো


শিশুটি আমার বা নরেশের মতো দেখতে নয় বরং


অনেকটা রাহুলের মতো লাগছিল। আমি কখনো


শিশুর মুখের দিকে তাকাতাম। কখনো রাহুলের


দিকে। হাসতে হাসতে রাহুল বলল, আপনি তো


আমাকে এত দেখেছেন যে আপনার বাচ্চাটাও আমার


মত হয়ে গেছে। কথাই তো আছে। মা যদি


গর্ভাবস্থায় কাউকে বেশি দেখে সন্তানও


অনেক সময় তার মতো দেখতে হয়। রাহুলের এই


কথায় আমি লজ্জায় মাটিতে মিশে গেলাম। এত


কম বয়সে তার এসব বিষয়ে জানা দেখে অবাক


হলাম। আমার কোলে সন্তান আশায় আনন্দে আমার


মন ভরে উঠলো। বাড়িতে ফিরলে মনে হচ্ছিল


জীবন যেন নতুন করে বেঁচে উঠেছে।


কিন্তু সন্তান হওয়ার পর ব্যয় অনেক বেড়ে


গিয়েছিল আর বুঝতে পারছিলাম না কিভাবে সব


সামলালাম। তখন রাহুলই আমাকে সাহায্য করতে


লাগল। সন্তানের খরচের দায়িত্ব সে


নিয়েছিল। আমাদের জন্য সে মোটেই অপরিচিত


ছিল না। আমি তাকে ছোট ভাইয়ের মতোই আপন


ভাবতে শুরু করেছিলাম। তার জন্যই আমাদের


অবস্থা এখন অনেক ভালো। ভাবলাম তাকে ছোট্ট


একটা ধন্যবাদ জানানোর জন্য তার প্রিয়


খাবারগুলো রান্না করে খাওয়াবো। রাহুল


আসার আগে আমি


বাচ্চাটিকে ঘুম পাড়িয়ে আমি রান্নাঘরে


কাজে লেগে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর রাহুল এলো


তার মুখে মিষ্টি হাসি। আমি তাকে সাদরে


অভ্যর্থনা জানিয়ে খাবার পরিবেশন করলাম।


রাহুল খেতে খেতে বলল, আপনি দারুণ রান্না


করেছেন। আপনার সাহায্য করতে পেরে আমি


সত্যিই খুশি। তার কথাগুলো শুনে আমার মন


ছুয়ে গেল। আমি বললাম, রাহুল তোমার


সাহায্য ছাড়া আমার জন্য জীবনটা অনেক কঠিন


হতো। সে বিনয়ের সাথে বলল, আমি যতদিন আছি


আপনার কোন অভাব হবে না তার কথাগুলো আমাকে


আরো আশ্বস্ত করল। রাহুলের সহাযতা ও সমর্থন


আমাকে ও আমার সন্তানকে এক নতুন শক্তি দিল।


সময়ের সাথে সাথে আমার ছেলের সাথে আমার


জীবনেও একটা স্বাভাবিকত্ব চলে এলো। যদিও


রাহুলের সাহায্য সবসময় অমূল্য ছিল। তবু


আমি নিজে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টাও


করছিলাম। কিছুদিন পর যখন আমার সন্তান ছয়


মাস বয়সে পৌঁছালো হঠাৎ জানতে পারলাম আমি


আবার মা হতে চলেছি। এক মুহূর্তের জন্য


অবাক হয়ে গেলাম এত দ্রুত আমি আবার মা হতে


যাচ্ছি। আমার মনে এক ধরনের আতঙ্ক জন্মালো।


এই নতুন সন্তানের দায়িত্ব কিভাবে পালন


করব? আমার প্রথম সন্তানও তো এখনো ছোট। আর


নরেশের দায়িত্ব তো আমাকে পালন করতে


হচ্ছে। আমার চিন্তা দেখে নরেশ বলল, ঈশ্বর


আবারো আমাদের আশীর্বাদ দিতে চলেছেন। এতে


ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমাদের প্রথম


সন্তান যেমন এসেছিল তেমনি দ্বিতীয়টিও


আসবে। আমি মাথা নত করে বললাম, আমাদের


দায়িত্ব সবই রাহুলের কাঁধে। সে আমাদের


কিছু না হলেও তার সাহায্যেই আমরা


দাঁড়িয়ে আছি। এরই মধ্যে আমাদের দ্বিতীয়


সন্তানও এলো। আর আমি দুই সন্তানের


দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। আমি এত


ব্যস্ত ছিলাম যে নরেশের দেখভালের সময়


পেতাম না যা পুরোপুরি রাহুলের উপর


নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। রাহুলের সঙ্গে


আমার গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল যেখানে


আমরা সব কথা শেয়ার করতাম। সারাদিন


সন্তানদের সামলে রাতে ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে


পড়তাম। আর রাহুল অনেক সময় সন্তানদের ঘুম


পাড়াতো। অল্প বয়সেই সে আমাদের পরিবারের


দায়িত্ব নিয়েছিল। যা আমাকে অবাক করতো।


রাহুল কখনো অভিযোগ করতো না। বরং আনন্দ


নিয়ে দায়িত্ব পালন করত। যা আমার জন্য


শান্তির ছিল। তবে মাঝে মাঝে মনে হতো তাকে


এত বোঝা দেওয়া ঠিক কিনা? একদিন রাহুল এসে


বলল, আপনি আমাকে পর ভাববেন না আমি সব করতে


পারি। তার এই কথাগুলো আমাকে আশ্বস্ত করতো।


তিন সন্তানের মা হয়ে আমার জীবন বদলে


গিয়েছিল। ভেতরের পুরনো খালি ভাবটাও মুছে


গিয়েছিল। এই বাচ্চাগুলো আমাকে দাও। তুমি


শান্তিতে ঘুমাতে পারবে। রাহুল হাসিমুখে


বলল, আমি খুশি মনে বাচ্চাগুলো ওর হাতে


তুলে দিলাম। সে প্রতিবারের মতো আমার জন্য


দুধ নিয়ে এসেছিল। আমার দিকে দুধের গ্লাস


বাড়িয়ে দিয়ে বলল, তোমার নিজের যত্ন


নাও। আমি গ্লাস হাতে নিলাম আর তাকে


ধন্যবাদ জানালাম। সে বাচ্চাদের নিয়ে চলে


গেল। দুর্ভাগ্যক্রমে আমার হাত ফসকে


গ্লাসটি পড়ে ভেঙে গেল এবং আমার কাজ


বাড়লো। আমি তাড়াতাড়ি ঘর পরিষ্কার করলাম


এবং ক্লান্ত শরীরে বিছানায় শুয়ে পড়লাম।


কিছুক্ষণ পরেই আমার মনে হলো যেন কেউ আমার


ঘরে এসে উপস্থিত হয়েছে আমার শ্বাস বন্ধ


হয়ে আসছিল মনে হচ্ছিল কেউ ঘরে ঢুকে


পড়েছে হঠাৎ বোধ করলাম কেউ যেন আমার


বিছানার কাছে এসে উপস্থিত হয়েছে ভয়ে আমি


চিৎকার করে উঠলাম আর আমার আওয়াজে নরেশও


জেগে উঠলো আমি তাড়াতাড়ি ঘরের আলো


জ্বালালাম আর তখন যা দেখলাম তাতে আমার


হাতপা ঠান্ডা হয়ে গেল পাড়ার একজন লোক


আমার দিকে তাকিয়েছিল


প্রথমে সে বিব্রত হয়ে কিছুক্ষণ চুপ রইল।


তারপর বলল, আমি তো কিছু করিনি। তোমার


স্বামী আমাকে নিজেই অনুমতি দিয়েছিলেন যেন


আমি প্রতিদিন এখানে এসে সময় কাটাতে পারি।


তিনি বলেন, এভাবেই তিনি কিছু টাকা আয়


করতে পারবেন এবং সংসারের কিছুটা খরচ


মেটাতে পারবেন। লোকটির কথা শুনে আমি হতবাক


হয়ে গেলাম। সে বলল, তোমার স্বামী নিজেই


আমাকে বলেছিলেন, আমি যেন তোমার কাছে এসে


কিছু অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজি। যাতে এই


সংসারের পরিস্থিতি কিছুটা ঠিক করা যায়।


আমার চিৎকার শুনে রাহুল ছুটে ঘরে এসে


ঢুকলো। আর লোকটি তাকে দেখে বলল, রাহুল তুই


তো বলেছিলি যে ও ঘুমিয়ে থাকবে। কিন্তু সে


তো জেগে উঠেছে। এই কথাগুলো শুনে আমার


পায়ের নিচের মাটি যেন সরে গেল। রাহুল ভয়


পেয়ে আমার দিকে তাকালো। আমি বুঝতে


পারছিলাম না ব্যাপারটা আসলে কি। লোকটি


অসন্তুষ্ট হয়ে গালিগালাজ করে বের হয়ে


গেল। আমি বিরক্ত হয়ে রাহুলকে জিজ্ঞেস


করলাম এটা সব কি হচ্ছে? তখন রাহুল বলল,


আপনার স্বামীর কাছে এই ঘর চালানোর মত টাকা


ছিল না। এজন্য তিনি আমাকে বাধ্য করেন


আপনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে। যখন কেউ


ক্রেতা আসতো আমি আপনার সন্তানদের নিয়ে


যেতাম এবং দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আপনাকে


ঘুম পাড়িয়ে দিতাম। তারপর ক্রেতা আর চলে


যেত। এই তিনটি সন্তানও ঠিক একই ধরনের একজন


ক্রেতার। কারণ নরেশ ভাই পিতা হওয়ার মতো


সক্ষম নয়। রাহুল বলল, আমি আপনার সাথে


কিছু খারাপ করিনি। যেটা আপনার স্বামী


বলেছিলেন আমি সেটাই করেছি। আমি আপনাকে


আপনার স্বামীর অনুমতি নিয়ে বিক্রি


করেছিলাম। রাহুলের কথায় আমার পুরো


রক্তক্ষরণ শুরু হলো। আমি অসুস্থ বোধ


করছিলাম। আমি অবাক হয়ে নরেশের দিকে


তাকালাম। সে চোখ এড়িয়ে যাচ্ছিল। পরে সে


বলল আমার অসুস্থতার কারণে বাড়ির


পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেল। আমি তোমাকে


সন্তানও দিতে পারিনি। অর্থাভাব দেখা দিল।


এইসব দেখেও আমার হৃদয় কষ্ট পাচ্ছিল।


কিন্তু আমি কিছু করতে পারলাম না। তাই যখন


আমাকে বোঝা গেল রাহুল কি করছে তখন আমি


বললাম প্রতিদিন তুমি তাকে কোথাও বিক্রি


করে দাও। আমি তো ঘুমের ওষুধের কারণে কিছুই


বুঝতে পারিনি। রাহুল এসে ক্রেতাকে নিয়ে


আসতো এবং সকাল হওয়ার আগেই ক্রেতা চলে


যেত। সন্তান হওয়ার কারণে তুমি খুশি হয়ে


গিয়েছিলে এবং আমাদের জীবনযাত্রাও পাল্টে


গিয়েছিল। আমি শুধুমাত্র এটা চাইতাম


নরেশের কথা শুনে আমি মাথা ধরেছিলাম। আমি


বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে আমার স্বামী


আমার উপর এত বড় অত্যাচার করেছে। ঘরের


পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য এবং সন্তানদের


জন্য রাহুলের সঙ্গে মিলে তিনি আমার জীবনকে


এভাবে বিক্রি করেছেন। আমি কাঁদতে লাগলাম।


যখন কান্না থামিয়ে কিছুটা শান্ত হলাম।


আমি রাহুলের সামনে হাত জোর করে বললাম,


আমাদের জীবন তুমি চলে যাও। তোমার আসার আগে


আমরা অভাবে কাটালেও আমার স্বামী কখনো আমার


সম্মানের সাথে খেলা করেনি। তার মনে কখনো


এমন চিন্তা আসেনি। আমি বুঝতে পারছি তোমার


শিক্ষার কারণে এমন হয়েছে। তুমি যে


নারীদের নিয়ে একটি বিশেষ ব্যবসা শুরু


করেছ। সেটা একটা উপায়। এইভাবে তুমি


নারীদের দুর্বলতা কাজে লাগাচ্ছ। আমি


রাহুলকে অবিলম্বে দোকান খালি করতে বললাম


এবং তার হাত থেকে আমার তিনটি ছোট সন্তানকে


করে নিলাম। তারা আমার সামনে দাঁড়িয়েছিল।


কিন্তু তাদের বাবার পরিচয় আমার কাছে


অজানা ছিল। আমি নিজেকে খুব বোকা মনে


করছিলাম যে এতদিন আমি বুঝতে পারিনি যে এই


সন্তানগুলো আমার স্বামীর নয়। কেন আমি


তাদের দুজনের হাতে এইভাবে প্রতাারিত হলাম


সেটা ভাবতেই আমার মন চুপসে যাচ্ছিল।


রাহুলের জন্য আমার এই সমস্যার সূচনা


হয়েছিল। তবে নরেশও দায়ী। কিন্তু আমি কি


করব? আমি তো নরেশের সাথে বিয়েটা করেছি


এবং তার পরিস্থিতি এমন ছিল যে আমি তাকে


ছেড়ে যেতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়ে আমি


তার সাথে জীবন কাটাতে শুরু করলাম। রাহুল


দোকান ছেড়ে চলে গেল। আমি সেখানে কিছু


টাকা জমা করে নারীদের জিনিসপত্র নিয়ে


দোকান চালানো শুরু করলাম। ক্রেতারা আগে


থেকেই প্রস্তুত ছিল। তাই আমার দোকান চলতে


লাগলো এবং আমি সংসার চালাতে লাগলাম। আমি


আমার সন্তানদের কাছে গিয়ে তাদের নিজেদের


কাছে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। তাদের


বাবার পরিচয় আমি জানিনা। কিন্তু আমি জানি


আমি তাদের নিজের গর্ভে ধারণ করেছি। তাই


তাদের প্রতি আমার ভালোবাসা কমেনি। আমার মন


এখনো সেই ধাক্কা থেকে সেরে উঠতে পারেনি যে


আমার স্বামী এবং তার বন্ধুরা আমার


বিশ্বাসের সাথে এত বড় প্রতারণা করেছে।


কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার জীবনে


নতুন একটি দিশা পেতে চাইছিলাম। আমি আমার


সন্তানদের সঙ্গে নতুন একটি অধ্যায় শুরু


করতে চেয়েছিলাম যাতে তাদের ভবিষ্যৎকে


উন্নত করতে পারি। দোকানটি এখন আমার


দায়িত্ব হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন সকালে


সন্তান স্কুলে পাঠানোর পর দোকানে এসে


ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা আমার দিনচর্যা


হয়ে উঠেছিল। কিছুকাল পর আমি ধীরে ধীরে


আমার কঠোর পরিশ্রম দিয়ে দোকানকে এগিয়ে


নিতে শুরু করলাম। আমার তৈরি করা পণ্যগুলোর


বাজারে বেশ প্রশংসা হতে লাগল এবং আমার


শ্রমের ফলস্বরূপ সবকিছু ভালোভাবে চলতে


শুরু করল। বেশ কয়েক বছর পরে যখন আমি আমার


সাফল্যগুলো দেখি এবং আমার সন্তানদের হাসি


শুনি। তখন বুঝতে পারি যে আমার পরিশ্রম এবং


সংগ্রাম আমার জীবনকে নতুন একটি পথে নিয়ে


গেছে। আমি আমার জীবনে অনেক কিছু হারিয়েছি


কিন্তু এর চেয়েও বেশি পেয়েছি। আমার


সন্তান এখন আমার জীবনের সবচেয়ে বড়


শক্তি। আমি তাদের যথাযথ শিক্ষা এবং ভালো


মূল্যবোধ দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমার এই


জীবন কাহিনী কেবল আমার জন্যই নয়। বরং সকল


নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে


যারা কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আমি


প্রমাণ করতে পেরেছি যে যদি দুই সংকল্প এবং


কঠোর পরিশ্রম থাকে তবে যেকোনো প্রতিকূলতা


অতিক্রম করা সম্ভব। এখন আমি আমার জীবনকে


নতুন স্বপ্ন ও আশা নিয়ে কাটাচ্ছি এবং


আমার সন্তানেরাও তাদের পড়াশোনা ও


ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি তাদের


প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গী। এই গল্প থেকে


আমরা শিখি জীবনের সংগ্রামে আত্মবিশ্বাস,


বুদ্ধিমত্তা ও সাহসের মাধ্যমে


প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব। এটি পূজার


জীবনের লড়াই এবং রাহুলের প্রতি তার


সম্পর্কের আখ্যান যা সম্পর্কের জটিলতা ও


মানবিক বন্ধনকে তুলে ধরে। পূজার গল্পে


দেখা যায় স্বাবলম্বিতা ও দৃঢ় মানসিকতা


কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজেকে টিকিয়ে রাখতে


সাহায্য করে। রাহুল একজন তরুণ হলেও


পরিবারকে সহায়তা ও দায়িত্ব পালন করে। এই


কাহিনী আমাদের শেখায় যে ইতিবাচক মানসিকতা


দিয়ে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা সম্ভব।


এই গল্পটি প্রমাণ করে যে সম্পর্কের সফলতা


শুধুমাত্র বয়স লিঙ্গ বা পারিবারিক


প্রেক্ষাপটে নির্ভরশীল নয় বরং এটি নির্ভর


করে আমরা একে অপরের সাথে কেমন আচরণ করি


এবং কতটা সহানুভূতিশীল হই। গল্পে রাহুল ও


পূজার সম্পর্কের উদাহরণ তুলে ধরে যেখানে


রাহুল তার সততা ও সত্যতার মাধ্যমে পূজার


বিশ্বাস অর্জন করে। রাহুল কখনোই তার


প্রযোজনগুলো গোপন করেনি বরং সৎ থেকে পূজার


জীবনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। গল্পের


মূল শিক্ষা হলো সততা ও সত্যতার চেয়ে


মূল্যবান কিছু নেই। রাহুল একসময়


সমর্থনহীন জীবন কাটালেও পূজার সাহচর্যে


জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছে। তাদের


সম্পর্কটি প্রমাণ করে যে সত্যিকারের


বিশ্বাস ও ভালোবাসা থাকলে সম্পর্কের মধ্যে


কোন সন্দেহ থাকে না। পূজা ও রাহুল উভয়েই


জীবন যুদ্ধে লড়ছে। পূজা তার স্বামীর


অসুস্থতা ও আর্থিক সংকট সামলাতে চেষ্টা


করছে। আর রাহুল তার চ্যালেঞ্জগুলোকে


সাহসের সাথে মোকাবিলা করছে। গল্পটি আমাদের


শেখায় যে জীবনে আসা সমস্যাগুলো এড়ানো


যায় না বরং সাহসের সাথে সেগুলোর মোকাবেলা


করতে হয়। বন্ধুরা আজকের গল্পটা অনেক বেশি


স্পেশাল। আশা করছি তোমাদের ভালো লাগবে।


বাংলা অডিও স্টোরি চ্যানেলে নিয়মিত গল্প


পাবেন। তাই গল্পগুলো ভালো লাগলে ভিডিওটি


লাইক, শেয়ার এবং চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব


করে পাশে থাকুন।



Comments

Popular posts from this blog

ভাই বোনের ওপেন ছুদা-ছুদি

ভাই বোনের আপন ছোট ভাই আমাকে চুদলো

বৃষ্টির রাতে দুধ গুলো আপেলের মতো খাচ্ছিলো