চাচা আমাকে জোর করে টানা ১ ঘণ্টা ছুদলো রাতে দেখুন




আজ চাচা আমাকে রাতের নীরবতায় যখন বললেন


তোমার স্বামী তোমাকে সময় দেয় না আমার


ভেতরে যেন সহস্র কাচের টুকরো ভেঙে পড়ল


আমি উত্তর দিতে পারিনি কোন শব্দই আমার গলা


দিয়ে বের হয়নি শুধু চোখের কনবে একটা


উষ্ণধারা নেমে এসেছিল সেই দিনটার পর আমার


জীবনটা আর আগের মতো নেই কিছু সত্য চিরতরে


গোপনী থেকে যায় আর কিছু সত্যের উন্মোচন


জীবনকে এক নতুন মোড় দেয় যাও অপ্রত্যাশিত


বেদনাদায়ক কিন্তু অনিবার্য। আসসালামু


আলাইকুম। মায়া ব্লগস এর পক্ষ থেকে


আপনাদের সবাইকে জানাই উষ্ণ শুভেচ্ছা। আশা


করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আজ আমি


আপনাদের সাথে আমার জীবনের এক গভীরতম


ব্যক্তিগত এবং হৃদয় বিদারক গল্প শেয়ার


করতে এসেছি। এই গল্পটা শোনার সময় আমি


অনুরোধ করবো আপনারা হেডফোন ব্যবহার করুন।


যাতে এর প্রতিটি অনুভূতি প্রতিটি কষ্ট আর


প্রতিটি নীরবতা আপনাদের মন ছুঁয়ে যেতে


পারে। আর হ্যাঁ গল্পটা ভালো লাগলে অবশ্যই


আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন


না। আমার নাম সাদিয়া। আর এই গল্পটা আমার


আর আমার স্বামী আরিফের। আমাদের ভালোবাসার


শুরুটা ছিল ঢাকার ব্যস্ততম এক


বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। আরিফ


স্থাপত্য বিদ্যার ছাত্র ছিল। আর আমি বাংলা


সাহিত্য নিয়ে পড়ছিলাম। ওর আঁকা ছবিগুলো


আমাকে মুগ্ধা করতো। আর আমার কবিতার প্রতি


ওর ছিল অগাধ শ্রদ্ধা। আমাদের সম্পর্কটা


শুরু হয়েছিল বন্ধুত্ব দিয়ে। যা ধীরে


ধীরে গভীর প্রেমের রূপ নেয়। আরিফ ছিল


আমার স্বপ্নপুরুষ শান্ত সৃজনশীল আর ভীষণ


যত্নশীল। ওর প্রতিটি স্পর্শে প্রতিটি


কথায় আমি খুঁজে পেতাম এক অনাবিল শান্তি।


আমাদের প্রেম ছিল যেন শরতের স্নিগ্ধ


আকাশের মত নির্মল আর বসন্তের প্রথম ফুলের


মতো সতেজ। আমরা স্বপ্ন দেখতাম আমাদের


ছোট্ট একটি সংসারের। যেখানে থাকবে শুধু


ভালোবাসা আর বিশ্বাস। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন


শেষ হওয়ার পর আমাদের বিয়ে হয়। ঢাকাতেই


ছোট্ট একটি ফ্ল্যাটে আমাদের নতুন জীবন


শুরু হয়। আরিফ তখন একটি নামকরা


আর্কিটেকচার ফার্মের জুনিয়ার আর্কিটেক্ট


হিসেবে কাজ শুরু করেছে। আর আমি একটি


বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করি। আমাদের


জীবনটা ছিল এক স্বপ্নের মতো। সকালবেলা


আরিফকে নিজের হাতে চা বানিয়ে দেওয়া,


সন্ধ্যায় ওর ফেরার অপেক্ষায় জানালায়


দাঁড়িয়ে থাকা।


>> রাতের বেলা হাতে হাত রেখে ভবিষ্যতের গল্প


করা। এগুলোই ছিল আমাদের জীবনের অংশ।


আরিফের মুখের হাসি ছিল আমার সবচেয়ে বড়


প্রাপ্তি। আর ওর চোখের দিকে তাকালে মনে


হতো যেন পৃথিবীর সব সুখ আমার হাতের


মুঠোয়। ছুটির দিনে আমরা রিকশায় চড়ে


রমনা পার্কে ঘুরতে যেতাম। অথবা পুরনো


ঢাকার অলিগলিতে হারিয়ে যেতাম বিচিত্র সব


খাবার চেখে দেখতে। আরিফ বলতো, সাদিয়া আমি


এমন একটা বাড়ি বানাবো, যেখানে শুধু আমরা


দুজন থাকবো। আর প্রতিটি ইটে মিশে থাকবে


আমাদের ভালোবাসা। ওর চোখে আমি দেখতাম অসীম


স্বপ্ন। আর আমি নিজেকে তার স্বপ্নের অংশ


ভেবে গর্বিত হতাম। কিন্তু সুখের সেই


দিনগুলো যেন একটা অদৃশ্য মেঘে ঢাকা পড়তে


শুরু করল। আরিফের নতুন প্রজেক্টের চাপ


বাড়তে থাকলো। শুরুতে আমি এটাকে পেশাগত


ব্যস্ততা হিসেবেই মেনে নিয়েছিলাম। দেরিতে


বাড়ি ফেরা, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিসে


যাওয়া এগুলো স্বাভাবিক মনে হতো। কিন্তু


ধীরে ধীরে এই ব্যস্ততা আমাদের সম্পর্কের


উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করল। আরিফ ক্রমশ


নিজের মধ্যে গুটিয়ে যাচ্ছিল। আগের মতো আর


কথা বলতো না। আমার দিকে তাকিয়ে হাসতো না।


এমনকি আমি ওর কাছে ঘেসলে কেমন যেন একটা


বিরক্তি প্রকাশ পেত। রাতের বেলা আমি যখন


ওর পাশে শুয়ে থাকতাম ও হয় ল্যাপটপে কাজ


করতো নয়তো ফোন ঘাটতো। আমাদের মাঝে


শারীরিক দূরত্বটা মানসিক দূরত্বে পরিণত


হতে শুরু করল। আমার মনে অসংখ্য প্রশ্ন


ভিড় করতে লাগলো। আরিফ কি আর আমাকে


ভালোবাসে না? আমার কি কোন ভুল হচ্ছে? আমি


কি যথেষ্ট সুন্দর নই? যথেষ্ট আকর্ষণীয়


নই? আমি নিজেকে আয়নায় দেখতাম আর ভাবতাম


এই মেয়েটাকেই তো আরিফ একসময় পাগলের মত


ভালোবাসতো। এখন কেন সে দূরে সরে যাচ্ছে।


আমি ওর পছন্দের খাবারগুলো বানিয়ে ওর জন্য


অপেক্ষা করতাম। নতুন শাড়ি পড়তাম। আমাদের


পুরনো দিনের স্মৃতিগুলো মনে করিয়ে


দেওয়ার চেষ্টা করতাম। কিন্তু আরিফ শুধু


ক্লান্ত চোখে তাকাতো। খুব টায়ার্ড


সাদিয়া। এখন কিছু ভালো লাগছে না। আমি


প্রতিবাদ করতে পারতাম না। শুধু ভেতরে


ভেতরে ভেঙে পড়তাম। একদিন রাতে আমাদের


বিবাহ বার্ষিকী ছিল। আমি সারাদিন ধরে


আরিফের পছন্দের সব আয়োজন করে রেখেছিলাম।


ঘর সাজিয়েছিলাম বেল। আর মোমবাতি দিয়ে


আমার পছন্দের জামদানি শাড়ি পড়েছিলাম। আর


ওর জন্য নিজের হাতে কেক বানিয়েছিলাম। আমি


ভেবেছিলাম এই দিনটা অন্তত আমাদের পুরনো


দিনগুলো ফিরিয়ে আনবে। ঘড়ির কাটা রাত


10:00 টা পেরিয়ে গেল। 11টা বাজলো কিন্তু


আরিফের কোন খোঁজ নেই। আমার ফোনও ধরছে না।


আমার ভেতরে এক রাস ভয় আর উদ্বেগ দানা


বাঁধতে লাগলো। রাত বারো টার পর ফোন বেজে


উঠলো। ওপাশ থেকে আরিফের ক্লান্ত কন্ঠস্বর।


সাদিয়া আমার ফিরতে আরো দেরি হবে। জরুরি


মিটিং চলছে। তুমি ঘুমিয়ে পড়ো। আমার চোখে


জল এসে গেল। আমি কোন কথা বলতে পারলাম না।


শুধু ফোনটা রেখে দিলাম। সেই রাতে আমি


কেকের সামনে বসে একা একা কেঁদেছিলাম। মনে


হয়েছিল আমার স্বপ্নগুলো মোমবাতির শেখার


মত নিভে যাচ্ছে। আমি আমার বান্ধবী নীলার


সাথে কথা বলতাম। নীলা বলতো সব পুরুষই


বিয়ের পর এমন হয় রে। চিন্তার কিছু নেই।


কাজের চাপ বাড়লে এমনটা হয়ই। কিন্তু আমি


ওর কথা মানতে পারতাম না। কাজের চাপ তো


থাকবেই। তাই বলে কি ভালোবাসা মরে যাবে?


আমি আরিফকে জড়িয়ে ধরলে ও আমাকে সরিয়ে


দিত। আমাদের মধ্যে খুনশুটি, হাসিটা, দীর্ঘ


কথোপকথন, এমনকি ছোটখাটো ঝগড়াও বন্ধ হয়ে


গিয়েছিল। আমাদের ফ্ল্যাটটা যেন এক নীরব


কারাগারে পরিণত হয়েছিল, যেখানে আমি একা


বন্দি। আমি আমার বাবা-মায়ের সাথে দেখা


করতে সিলেটে যেতাম। কিন্তু সেখানেও আরিফির


অনুপস্থিতি আমাকে তাড়া করতো। মা বলতেন


জামাইয়ের তো অনেক কাজ তাই আসতে পারে না।


আমি হাসার চেষ্টা করতাম। কিন্তু সেই হাসি


আমার ঠোঁটে মরে যেত। আরিফের চাচা রহিম


সাহেব আমাদের পাশের ফ্ল্যাটেই থাকতেন।


তিনি আরিফের বাবার বড় ভাই। একসময় আরিফকে


নিজের হাতে মানুষ করেছেন। তিনি ছিলেন আমার


শ্বশুর মশাইয়ের মতো। তিনি আমাকে খুব


ভালোবাসতেন। আর আরিফও তাকে খুব শ্রদ্ধা


করত। চাচা প্রায়ই আমাদের বাসায় আসতেন।


তিনি একজন বিচক্ষণ মানুষ ছিলেন। আমাদের


সম্পর্কের এই শীতলতা তার চোখ হেড়ায়নি।


তিনি আরিফকে খুব অল্প দেখতে পেতেন। আর


আমাকে দেখতেন প্রায়ই একা চিন্তিত। আমি


তার সামনে সবসময় হাসি খুশি থাকার ভান


করতাম। যাতে তিনি কিছু বুঝতে না পারেন।


একদিন সন্ধ্যায়। আরিফ যথারীতি বাড়ি


ফেরেনি। ব্যালকনিতে বসেছিলাম। বাইরে তখন


ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। ঢাকার ব্যস্ত


শহরের কোলা হলো যেন বৃষ্টির ছোঁয়ায়


স্তব্ধ হয়ে গেছে। আমার মনটাও ছিল সেই


স্তব্ধতার মতো। আমি দূরের নিয়ন আলোর দিকে


তাকিয়ে ভাবছিলাম আমার জীবনটা কোন দিকে


যাচ্ছে। হঠাৎ করেই পেছনে পায়ের শব্দ


শুনলাম। ঘুরে দেখি রহিম চাচা হাতে চায়ের


ট্রে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি আমার


পাশে এসে বসলেন। চায়ের কাপটা আমার হাতে


দিয়ে তিনি বললেন, সাদিয়া চা খাও। মনটা


শান্ত হবে। আমি চায়ে চুমুক দিলাম।


কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর চাচা খুব শান্ত


গলায় প্রায় ফিসফিস করে বললেন, তোমার


স্বামী তোমাকে সময় দেয় না তাই না? চাচা


যেন আমার বুকের ভেতরের সবচেয়ে গোপন


কষ্টটা অনাবৃত করে দিলেন। আমার মনে হলো


আমার সব মুখোশ খুলে গেছে। আমি স্তব্ধ হয়ে


গেলাম। আমার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে


গিয়েছিল। কোন শব্দই আমার মুখ দিয়ে বের


হলো না। শুধু চোখের কোন বেয়ে উষ্ণ জলের


ধারা নেমে এল। আমি মাথা নিচু করে ফেললাম।


লজ্জায়, অপমানে, কষ্টে। চাচা আমার মাথায়


হাত বুলিয়ে দিলেন। আমি জানি মা আমি সব


বুঝি। এই বয়সে এসে আর কি বোঝার বাকি আছে


বল? আরিফকে তো আমি নিজের হাতে বড় করেছি।


ও ভালো ছেলে। কিন্তু ওর মধ্যে কিছু একটা


পরিবর্তন এসেছে। এটা আমি বুঝতে পারছি। তার


কথাগুলো আমার কাছে এক মিশ্র অনুভূতি নিয়ে


এলো। একদিকে মনে হলো আমার কষ্টটা একজন


অন্তত বুঝতে পেরেছে। অন্যদিকে মনে হলো


আমার ব্যক্তিগত ব্যর্থতা সবার সামনে


উন্মোচিত হয়ে গেছে। চাচা সেদিন অনেকক্ষণ


আমার পাশে বসেছিলেন। তিনি আমাকে বোঝানোর


চেষ্টা করলেন যে, আরিফের এই পরিবর্তন


হয়তো কোন গভীর কারণে। কিন্তু আমার মন


মানতে পারছিল না। আমার ভেতরে এক অস্থিরতা


শুরু হলো। চাচা যা বলেছেন তা কি সত্যি


নাকি তিনি ভুল বুঝছেন? কিন্তু আমার হৃদয়


তো মিথ্যা বলতে পারে না। আমার মন তো জানে


আমার স্বামী আমাকে সময় দেয় না। সেই রাত


থেকে আমার ঘুম হারাম হয়ে গেল। আমি আরিফের


প্রতিটি গতিবিধি খেয়াল করতে লাগলাম। ও


ফোন এলে আড়ালে চলে যেত। মাঝেমধ্যে গধি


রাতে ফোনে কথা বলতো। ওর ফোনে আমি কিছু


অচেনা নম্বর থেকে আসা মেসেজ দেখতাম।


যেখানে বাবা, হাসপাতাল, টাকা এসব শব্দ


লেখা থাকতো। আমার মনে সন্দেহ দানা বাধতে


লাগলো। এটা কি কোন পরকীয়া নাকি অন্য


কিছু? আমি সিদ্ধান্ত নিলাম। আমাকে সত্যটা


জানতেই হবে। একদিন আরিফ যখন গোসল করছিল


আমি ওর ফোনটা হাতে নিলাম। আমার হাত


কাঁপছিল। আমি কখনো ওর ব্যক্তিগত জিনিসে


হাত দিইনি। কিন্তু আজকের পরিস্থিতি ছিল


ভিন্ন। আমি ওর মেসেজগুলো খুললাম। বেশ কিছু


মেসেজ ডিলিট করা ছিল। কিন্তু কিছু পুরনো


মেসেজ আমি খুঁজে পেলাম। একটি মেসেজ ছিল


একটি বেসরকারি হাসপাতালের নাম আর একজন


ডাক্তারের নাম দিয়ে। আরেকটি মেসেজে লেখা


ছিল আরিফ তোর বাবার অবস্থা ভালো না


তাড়াতাড়ি চিট্টাগং চলে আয় আয় আরেকটি


মেসেজে লেখা ছিল টাকার ব্যবস্থা হয়েছে


ডাক্তার বলেছেন অপারেশন দেরি করা যাবে না


আমার মাথা ঘুরে গেল চিট্টাগং হাসপাতাল


বাবা এসব কি আরিফের বাবা তো সুস্থ আছেন


উনি তো গ্রামে থাকেন আমি ভয়ে কাঁপতে


লাগলাম এসবের মানে কি আমি ছুটে গেলাম রহিম


চাচার কাছে চাচা তখন বারান্দায় বসে


সন্ধ্যা দেখছিলেন


আমি তার পায়ের কাছে বসে পড়লাম। আমার


চোখে তখন জলের ধারা। চাচা আমাকে সব বলুন।


আরিফ কি লুকোচ্ছে? ওর বাবার কি হয়েছে?


চিট্টাগং কেন? চাচা আমাকে উঠিয়ে বসালেন।


তার চোখেও ছিল এক গভীর কষ্ট। তিনি


দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, সাদিয়া, আমি


জানতাম তোমাকে একদিন এসব বলতেই হবে। আরিফ


আমাকে নিষেধ করেছিল। কিন্তু আমি আর


পারিনি। তোমার কষ্ট দেখে আমার বুক ফেটে


যাচ্ছে। চাচা যা বললেন তা শুনে আমার


পায়ের তলার মাটি সরে গেল। আরিফের বাবা গত


ছয় মাস ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। উনার


অবস্থা খুবই গুরুতর। আরিফ কাউকে জানাতে


চায়নি। বিশেষ করে তার মা আর আমাকে। তার


মা এমনিতেই অসুস্থ মানুষ। আর আমাকে সে কোন


দুশ্চিন্তা দিতে চায়নি। আরিফের বাবা


চিট্টাগং একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।


আরিফ নিজের কাঁধে এই কঠিন দায়িত্ব তুলে


নিয়েছিল। সে দিনের পর দিন অফিসে অতিরিক্ত


কাজ করত। রাতের বেলা গোপনে অন্য একটি


প্রতিষ্ঠানে পার্টটাইম কাজ করত। শুধু তার


বাবার চিকিৎসার খরচ যোগাতে। যখনই সময় পেত


সে চট্টগ্রামে ছুটে যেত তার বাবাকে দেখতে।


যে ধূমপানের গন্ধ আমি ওর শরীর থেকে পেতাম


সেটা ওর ছিল না। সেটা ছিল হাসপাতালের


করিডরে বা রোগীর স্বজনদের মাঝে মিশে থাকার


ফল। আমার সাথে তার দূরত্ব, তার নীরবতা,


তার বিরক্তি সবকিছু ছিল তার ভেতরের তীব্র


কষ্ট আর উদ্বেগের প্রতিচ্ছবি। সে নিজের


সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করছিল তার পরিবারকে


রক্ষা করতে। কিন্তু তার বিনিময়ে সে আমাকে


হারানো শুরু করেছিল।


আমার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ছিল।


এ কেমন কষ্ট।


আমি আরিফকে ভুল বুঝেছি।


সে আমাকে ঠকায়নি। সে আমাকে রক্ষা করার


চেষ্টা করছিল। কিন্তু তার এই নীরবতা আমাকে


কতটা কষ্ট দিয়েছে তা সে হয়তো বোঝেনি।


আমি আমার স্বামীকে নিয়ে গর্ভবোধ করতাম।


কিন্তু এখন আমার গর্ভের সাথে মিশে আছে এক


গভীর বেদনা।


কেন সে আমাকে কিছু বললেনি?


কেন আমাকে একা এই কঠিন পরিস্থিতির


মুখোমুখী হতে দিয়েছে?


আমি সেই রাতে আরিফের জন্য অপেক্ষা করলাম।


রাত তখন একটা।


ক্লান্ত শরীর নিয়ে আরিফ ঘরে ঢুকলো।


ওর মুখে একরাশ ক্লান্তি আর হতাশা।


আমাকে জেগে থাকতে দেখে ও অবাক হলো।


সাদিয়া।


তুমি এখনো ঘুমাওনি।


আমি ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম।


আমার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ছিল।


আরিফ


কেন তুমি আমাকে কিছু বলোনি?


কেন?


আমার কথা শুনে আরিফ থমকে গেল। ওর ক্লান্ত


চোখ দুটো বড় বড় হয়ে উঠলো।


সে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।


যেন আমার চোখে সে সব সত্য দেখতে পাচ্ছে।


ওর মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেল।


সাদিয়া


তুমি


তুমি কিভাবে জানলে?


আমি উঠে গিয়ে ওর হাত ধরলাম।


আরিফ


আমি তোমার স্ত্রী।


তোমার ভালোলাগা,


তোমার মন্দ লাগা,


তোমার কষ্ট,


সবকিছুই আমার।


কেন তুমি আমাকে একা ফেলে রেখেছিলে?


কেন আমাকে এই কষ্টগুলো তোমার সাথে ভাগ করে


নিতে দাওনি?


আরিফ আমার হাত ছেলে দিল। সে মেঝেতে হাঁটু


গেড়ে বসে পড়ল। ওর চোখ থেকে টপটপ করে জল


পড়তে লাগল।


সে কেঁদে উঠলো।


শিশুর মত।


আমি তোমাকে বলতে পারিনি সাদিয়া।


আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি।


বাবা অসুস্থ।


তার চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল।


আমি তোমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ফেলতে


চাইনি। ভেবেছিলাম আমি একা সব সামলে নেব।


আমি চাইনি তুমি আমাদের পরিবারের এই কঠিন


সময়টার মধ্য দিয়ে যাও। আমি তোমাকে


সবসময় হাসি খুশি দেখতে চেয়েছি। ওর


কথাগুলো শুনে আমার মনটা আরো ভেঙে গেল। এই


মানুষটা আমাকে এতটা ভালোবাসে যে নিজের সব


কষ্ট একা ভোগ করেছে। আমার কষ্ট ভুল বোঝার


জন্য ওর নীরবতার জন্য আমার ভেতরের অভিমান,


রাগ, কষ্ট সবকিছু এক নিমিষে উবে গেল। শুধু


এক কুখির সহানুভূতি আর ভালোবাসা আমার


হেদারকে গ্রাস করল। আমি ওর পাশে বসে


পড়লাম। ওকে জড়িয়ে ধরলাম। ওর ভেতরের সব


কষ্ট, সব যন্ত্রণা যেন আমার স্পর্শে শান্ত


হতে চাইল। আরিফ আমরা স্বামী স্ত্রী আমরা


এক তোমার কষ্ট আমার কষ্ট তোমার চিন্তা


আমার চিন্তা তুমি কেন আমাকে একাই বোঝা


বইতে দিলে আমি তোমার পাশে থাকতে


চেয়েছিলাম তোমার হাত ধরে এই কঠিন পথ


পাড়ি দিতে চেয়েছিলাম আরিফ আমাকে আরো


শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আলোতে ক্ষমা করো


সাদিয়া আমি ভুল করেছি আমি ভেবেছিলাম এটাই


তোমাকে রক্ষা করার সেরা উপায় সেই রাতে


আমরা অনেক কথা বললাম আরিফ তার বাবার


অসুস্থতার প্রতি বিস্তারিত বর্ণনা দিল তার


সংগ্রামের গল্প শোনালো। আমি ওর প্রতিটি


কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলাম। আর অনুভব করলাম


তার ভেতরের গভীর ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ।


সেই রাতের পর আমাদের সম্পর্কটা আর আগের


মতো রইল না। না এটা খারাপ অর্থে নয়। এটা


আগের চেয়ে অনেক গভীর অনেক পরিণত হলো।


আমাদের মাঝে আর কোন লুকোচুরি রইল না। আমরা


বুঝতে পারলাম ভালোবাসা শুধু সুখের দিনে


হাত ধরে থাকা নয়। দুঃখের দিনেও একে অপরের


শক্তি হওয়া। আমার স্বামী আমাকে সময়


দেয়নি এই কথাটা যখন চাচা আমাকে বলেছিলেন


তখন আমি উত্তর দিতে পারিনি আজ আমি উত্তর


দিতে পারি সে আমাকে সময় দেয়নি কারণ সে


আমাকে রক্ষা করছিল সে আমাকে সময় দেয়নি


কারণ সে আমাকে ভালোবেসেছিল এতটাই


ভালোবেসেছিল যে নিজের সব কষ্ট একা হয়ে


গিয়েছিল এই ঘটনার পর আমি কখনোই আগের মত


হতে পারিনি আমার ভেতরের সেই সরল বিশ্বাস


সেই নির্বিঘ্ন ভালোবাসা এক গভীর ভর


উপলব্ধি


>> আর বেদনায় পরিবর্তিত হয়েছে। কিছু সত্য


চিরতারে গোপনী থেকে যায়। আর কিছু সত্যের


উন্মোচন জীবনকে এক নতুন মোড় দেয় যা


অপ্রত্যাশিত বেদনাদায়ক কিন্তু অনিবার্য।


আরিফের বাবার চিকিৎসা এখনো চলছে। আমরা এখন


একসাথে সেই কঠিন পথ বাড়ি দিচ্ছি। আমাদের


ভালোবাসা আরো শক্তিশালী হয়েছে। কিন্তু


সেই ক্ষত, সেই নীরবতার কষ্ট কিছুটা হলেও


রয়ে গেছে। কারণ কিছু জিনিস একবার ভেঙে


গেলে কখনোই আগের মতো হয় না। শুধু নতুন


রূপে গড়েছে। আমাদের এই গল্পটা আপনাদের


কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।


আপনাদের মতামত আমাদের জন্য খুবই


গুরুত্বপূর্ণ। যদি গল্পটি আপনাদের হৃদয়


ছুয়ে যায় তাহলে লাইক করতে ভুলবেন না এবং


আমাদের চ্যানেল মায়া ব্লগ সাবস্ক্রাইব


করে আমাদের পাশে থাকুন। আপনাদের ভালোবাসা


আমাদের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা। ভালো


থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।


Comments

Popular posts from this blog

ভাই বোনের ওপেন ছুদা-ছুদি

ভাই বোনের আপন ছোট ভাই আমাকে চুদলো

বৃষ্টির রাতে দুধ গুলো আপেলের মতো খাচ্ছিলো