মা ছেলে ছেলে আমাকে টানা ১ ঘণ্টা চুদলো রাতে দেখুন



আপনাদের সবাইকে আবারো স্বাগতম জানাই।


বন্ধুরা আগের পর্বে আপনারা শুনেছিলেন যে


মায়ের মৃত্যুর পরে আমার ফুফির কথায় আমি


বাবাকে বিয়ে করি। বিয়ের সবকিছু ভালোভাবে


শেষ হওয়ার পর সবাই চলে যায়। আমি বসে


সেজে বাবার জন্য তার ঘরে বসে থাকি। এখান


থেকে চতুর্থ পাঠ শুরু হয় যারা প্রথম।


দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্ব মিস করেছেন তাদের


জন্য ভিডিও লিংক নিচে ডিসক্রিপশন বক্সে


দেয়া আছে। তাই পুরো গল্পটা অনুভব করতে সব


পর্ব দেখে নেবেন। বাবা আমাদের জন্য তার


ঘরটি ফুল দিয়ে সাজিয়েছিল। ফুলের সুগন্ধ


আর সাজসজ্জার আভা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছিল।


এসব কিছু আমার ফুপি এখন আমার দিদি। তার


কথায় করেছিলেন। আমি বউ সেজে বাবার জন্য


অপেক্ষা করছিলাম। কারণ বাবা আমার দিদি ও


তার জামাইকে গাড়িতে তুলে দিতে গিয়েছিল।


সেই মুহূর্তগুলোতে আমার মধ্যে নানা


অনুভূতি কাজ করছিল। একটি নতুন অধ্যায়ের


সূচনা হতে চলেছে কিন্তু তার সঙ্গে কিছু


অজানা শূন্যতা যেন আমার মনে দাগ কাটছিল।


কিছুক্ষণ পর বাইরে গাড়ির শব্দ শোনা গেল।


মনে হলো বাবা ফিরে এসেছেন। আমি জানলা


দিয়ে তাকিয়ে নিশ্চিত হলাম। তার পদধ্বনি


শুনে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ আমার মনের মধ্যে


কাজ করতে লাগল। বাবা ঘরের দরজা খুলে ভিতরে


আসলেন। আমার সাজগোজ দেখে তিনি থমকে


দাঁড়ালেন। আমার দিকে তাকিয়ে এক


মুহূর্তের জন্য যেন তার সব কথা থেমে গেল।


এরপর তিনি ধীরে ধীরে আমার কাছে এসে বসলেন।


সেই সময়টাতে সবকিছু যেন নীরব হয়ে গেল।


শুধু আমাদের চোখের ভাষা যেন একে অপরের


কাছে সব কথা বলে দিচ্ছিল। তারপর তিনি আমার


জন্য একটি বিশেষ উপহার নিয়ে এলেন। হাতে


একটি ছোট বক্স। বক্সটি খুলতেই চোখে পড়ল


একটি সুন্দর সোনার হার। সেই মুহূর্তে


আনন্দ এবং লজ্জায় আমার মুখ থেকে কোন কথা


বের হচ্ছিল না। তিনি মৃদু হেসে বললেন, এটা


শুধু একটা সাধারণ উপহার নয়। এটা আমার


স্নেহ আর দায়িত্বের প্রতীক। বলতো তুমি কি


এই নতুন যাত্রায় খুশি? আমি লজ্জায় একটু


মুখ ঘুরিয়ে নিচু স্বরে বললাম, আপনার এই


কথার কি উত্তর দেব? আপনি তো আমার জীবনের


সবকিছু। আমার কথা শুনে তার চোখে আনন্দের


ঝিলিক ফুটে উঠলো।


তিনি আমার মাথায় হাত রেখে বললেন তোমার


হাসি আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এরপর


তিনি আমার জন্য চকলেট আইসক্রিম নিয়ে এলেন


কারণ তিনি জানতেন আমি চকলেট আইসক্রিম খুব


ভালোবাসি। এই ছোট্ট মুহূর্তটি আমাকে


সত্যিই খুব আনন্দ দিল। আমি হাসিমুখে বললাম


এসব আনতে গেলেন কেন? তিনি হেসে বললেন,


তোমার পছন্দের জিনিসগুলো তোমার কাছে নিয়ে


আসাই তো আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। আমি


আনন্দের সাথে চকলেট আইসক্রিম খাচ্ছিলাম।


আর বলছিলাম দিদি আমাদের জন্য সত্যিই অনেক


কিছু করছেন। বাবা একমত হয়ে বললেন তোমার


মা চলে যাওয়ার পর তোমার দিদি আমাদের জন্য


এই সুন্দর দিনটি উপহার দিয়েছে। আমরা তার


প্রতি সত্যিই কৃতজ্ঞ। আইসক্রিম খাওয়া শেষ


হওয়ার পর তিনি আমার দিকে একটু এগিয়ে


এলেন। তার আন্তরিকতা আমাকে ছুঁয়ে গেল।


তিনি বললেন, আজ থেকে আমাদের জীবনে নতুন


একটি অধ্যায় শুরু হচ্ছে। আমি লজ্জায়


একটু মুচকি হাসলাম। তারপর বললাম ঘরের


লাইটটি অফ করে দিন। আমার কথা শুনে তিনি


মৃদু হাসলেন এবং বললেন ঠিক আছে ঘরের আলো


নিভে যেতেই আমাদের আলাপচারিতা আরো গভীর


হলো। আমরা নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে


নিজেদের মধ্যে একান্ত মুহূর্তগুলো


ভাগাভাগি করলাম। আমি কখনো কল্পনা করিনি যে


আমার জীবনে এমন একটি দিন আসবে যেখানে আমার


স্বপ্নের মত একটি মানুষ আমার পাশে থাকবে।


এখন আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হলো আমার


পরিবারকে ভালো রাখা। আমার দুই ছোট বোন


যারা আমাকে মা বলে ডাকে তাদের যেন কোন


কষ্ট না হয় সেটাই এখন আমার সবচেয়ে বড়


দায়িত্ব। সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি বাবা


এখনো ঘুমিয়ে আছেন। আমি কিছুক্ষণ তার দিকে


তাকিয়ে থাকলাম। তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা


এবং ভালোবাসা যেন আরো গভীর হলো। তিনি আমার


জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।


কিছুক্ষণ পর আমি ফ্রেশ হতে বাথরুমে গেলাম।


গোসল শেষে আমি একটি সুন্দর শাড়ি পড়লাম।


যার সাথে ছিল বাবার উপহার দেয়া এক বিশেষ


ব্লাউজ। ব্লাউজটির উপর মায়ের স্মৃতি


জড়ানো সুন্দর হাতের কাজ ছিল যা তিনি


কয়েকদিন আগে আমার জন্য বানিয়ে


দিয়েছিলেন। সেই পোশাকে নিজেকে একদম


নতুনভাবে অনুভব করলাম। যেন জীবনটা নতুন


করে সাজিয়ে নেওয়া শুরু হলো। সকালের


প্রথম আলো ঘরের জানালা দিয়ে এসে বাবার


মুখে পড়ল। আমি তার পাশে গিয়ে বসে বললাম,


উঠো তো। আর কত ঘুমাবে? সকাল হয়ে গেছে


বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছে দিতে হবে মনে আছে


তো আমার কথায় তার ঘুম ভাঙলো তিনি চোখ


মেলে আমাকে দেখলেন ভেজা চুল আর শাড়ি পড়ে


বসে আছি একটু হেসে বললেন আজকের সকালটা তো


যেন একটু অন্যরকম লাগছে তুমি কখন উঠলে আমি


হেসে বললাম একটু আগেই উঠেছি ফ্রেশ হয়ে


নিয়েছি এখন আপনি তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ


হয়ে নিন বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছে দিতে হবে


তো এই বলে আমি বিছানা থেকে উঠতে যাব তখন


তখন তিনি আমার হাত ধরে বললেন, আরেকটু বসো


না। এখনই যাওয়ার দরকার কি তার কথায় আমি


লজ্জায় একটু মুচকি হাসলাম। কিছু না বলে


হাত ছাড়িয়ে উঠে গেলাম। তারপর বাচ্চাদের


ডাকার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে গেলাম। সকালে


বাচ্চাদের ডেকে উঠে ফ্রেশ হতে বললাম।


তারপর রান্নাঘরে গিয়ে সবার জন্য নাস্তা


তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। রান্না শেষ


হলে সবাইকে খেতে ডাকলাম। তখন দেখলাম আমার


স্বামী মাত্রই ফ্রেশ হয়ে এসেছে। আমাকে


দেখে হালকা হাসি দিয়ে বলল, আজ তো সব


দারুণভাবে রেডি করে রেখেছো। সত্যিই খুব


ভালো সামলাচ্ছো সবকিছু। আমি তার কথায়


কিছু না বলে হেসে বললাম, এত কথা বলার


দরকার নেই। তাড়াতাড়ি নাস্তা সেরে


বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে আসো। তারপর যত


খুশি কথা বলো। আমার কথা এসে আর কিছু না


বলে তাড়াতাড়ি খেয়ে নিল এবং বাচ্চাদের


স্কুলে নিয়ে গেল। আমি তখন ঘরের কাজগুলো


গোছাতে লাগলাম। ঘরের কাজ শেষে করে দিদির


কথা মনে পড়ল। তাদের যাওয়ার পর যাওয়ার


পর কোন দিদির সঙ্গে কথা হয়নি। আর টাইমটা


একটু খারাপ খারাপ।


ভাত শেষ করে দিদির সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা


বলব। এই ভেবে আবার কাজে মন দিলাম। সব কাজ


শেষ করে দিদিকে ফোন দিলাম। ফোন ধরতেই দিদি


হাসতে হাসতে বলল। কেমন আছিস? কথা শুনেই


মনে হচ্ছে রাতে ভালো ঘুম হয়নি। কি


ব্যাপার রাতে ঠিকমতো বিশ্রাম পেলি নাকি


আমি জানতাম দিদি ফোন ধরার সাথে সাথেই মজার


চলে এমন কিছু বলবে দিদি সবসময় এমনিই


কথায় অনেক হাসিট্টা মেশানো তার কথা শুনে


লজ্জায় হেসে বললাম দিদি আপনি এসব কি


বলছেন আমাকে তো লজ্জা দিচ্ছেন আমার কথা


শুনে দিদি আরো হাসতে লাগলো এবং বলল আরে


আমি আবার কি বললাম তুই কি মনে করিস বলতো


বিয়ের প্রথম রাত কেমন কাটলো দিদির এমন


সরল মজার কথাগুলো শুনে আমি আরো লজ্জা


পেয়ে গেলাম। তার সাথে কথা চালিয়ে যেতে


থাকলাম আর বুঝতে পারলাম তার হাসির মাঝে


সবসময় ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে। কথার ফাঁকে


আমি দিদিকে বললাম দিদি তুমি কবে আসবে?


তোমাকে অনেক মিস করছি। আমার কথা শুনে দিদি


হেসে বলল, নতুন বিয়ে হয়েছে তাই ভাবলাম


তোমাদের ডিস্টার্বও না করি। কয়েকদিন


নিজেদের মত করে সময় কাটাও। তারপর না হয়


আসবো। আমি বললাম না দিদি এমন কিছু নয়


তুমি চলে আসো তখন দিদি বলল আরেকটু সময়


দাও তোমাদের ভালো সময় কাটাও আমার


বাচ্চাদের পরীক্ষা শেষ হলে আমি চলে আসবো


ততদিন তোমরা নিজেদের মত ঘুরে বেড়াও


একসাথে মজা করো এখন তো এই পরিবারের


দায়িত্ব তোমার উপর তাই সব সামলে নেওয়ার


কাজ তোমাকেই করতে হবে আমি হেসে বললাম


হ্যাঁ দিদি কিন্তু তোমার শাসন ছাড়া কিছু


ঠিকঠাক হবে না এরপর আমরা আরো কিছুক্ষণ


গল্প করলাম


তারপর ফোন রেখে দিলাম। দিদির কথা শুনে


মনটা ভালো হয়ে গেল। কথা শেষ করে আয়নার


সামনে এসে বসেছিলাম। মনের মধ্যে এক ধরনের


অদ্ভুত উত্তেজনা কাজ করছিল। নিজের চেহারা


দেখতে দেখতে লোশন মারতে শুরু করলাম।


আয়নার প্রতিফলনে নিজের দিকে তাকিয়ে মনে


হলো আজ যেন নিজেকেই নতুনভাবে আবিষ্কার


করছি। ভাবছিলাম এত কম বয়সেই জীবনের


এতগুলো দায়িত্ব এসে পড়েছে আমার উপর।


আবার একই সঙ্গে কত কিছু অর্জন করেছি।


সবকিছু এখনো যেন কোন মধুর স্বপ্নের মতোই


মনে হচ্ছে। নিজের মুখটা একটু ভালো করে


লক্ষ্য করলাম। মনে হলো আগের তুলনায়


চেহারায় এক ধরনের নরম উজ্জ্বলতা এসেছে।


হয়তো এটা তার প্রতি ভালোবাসার প্রতিফলন।


আগের চেয়ে নিজেকে একটু বেশি সুন্দর আর


আত্মবিশ্বাসী লাগছে। সময় যেন থমকে


দাঁড়িয়েছে। আর আমি আয়নার সামনে বসে সেই


মুহূর্তটা উপভোগ করছিলাম। একটু পরেই সে


আসবে। এই ভাবনায় মনটা আনন্দে ভরে উঠলো।


দুপুরের খাবার রান্না করছিলাম। আর মনটা


ভরে যাচ্ছিল নানান ভাবনায়। হঠাৎ পেছন


থেকে পরিচিত এক পথচলনার শব্দ শুনে ফিরে


তাকালাম। সে এসে দাঁড়িয়ে আছে দরজায়।


চোখে মুখে ক্লান্তি থাকলেও তার সেই


চিরচেনা হাসিটা যেন চারপাশকে উজ্জ্বল করে


তুলল। বিয়ের কারণে সে কয়েকদিনের জন্য


অফিস থেকে ছুটি নিয়েছে। আর এখন সেই


সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটানোর জন্য


উন্মুখ আমাকে রান্না করতে দেখে একটু


এগিয়ে এসে পাশে দাঁড়ালো। হাসি মুখে বলল,


ম্যাডাম, আজ আপনাকে অসম্ভব খুশি দেখাচ্ছে।


তার কথায় আমি একটু লজ্জা পেয়ে মৃদু হেসে


বললাম, আমার থেকে তো আপনাকেই বেশি খুশি


লাগছে। সে মজা করে বলল, খুশির দিনে খুশি


হব না। তা কি হয়? আমি রান্না চালিয়ে


যেতে যেতে বললাম, দিদির সঙ্গে একটু আগেই


কথা বলেছিলাম। তাকে এখানে আসতে বলেছিলাম


কিন্তু তিনি বললেন তোমরা নিজেরাই সময়


কাটাও তার কথা শুনে সে মিটিমিটি হেসে বলল


দিদি একদম ঠিক বলেছে আমাদের কিছুটা সময়


একান্তে কাটানো দরকার তার এক এ কথায় আমি


একটু লজ্জা পেয়ে হেসে ফেললাম রান্নাঘরটা


যেন মুহূর্তেই আরো উষ্ণ আর প্রাণবন্ত হয়ে


উঠলো আমাদের চোখে মুখে আনন্দের আলো ফুটে


উঠছিল যেন এই ছোট্ট মুহূর্তগুলোই জীবনের


আসল সুখ বিয়ের পর আমার জীবন যেন সম্পূর্ণ


বদলে গেল বাবার সঙ্গে কাটানো প্রতিটা


মুহূর্ত যেন আমাকে নতুন করে বাঁচতে


শিখিয়েছিল। বাবার মুখে সেই আনন্দের


ঝিলিক, তার যত্ন আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা,


সবকিছু আমাকে এক অভূতপূর্ব সুখ এনে


দিয়েছিল। বাবার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি দিন


যেন এক নতুন গল্পের শুরু, রাতে যখন আমি


বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দিতাম, তখন অনেক


সময় একটু দেরি হয়ে যেত। তবুও বাবার ঘরে


গিয়ে দেখতাম তিনি চুপচাপ আমার জন্য


অপেক্ষা করছেন। তার চোখে এমন এক ধৈর্য আর


ভালোবাসা ছিল যা ভাষায় প্রকাশ করা যায়


না। সেই অপেক্ষা আমাকে গভীরভাবে ছুয়ে


যেত। তার এমন ব্যবহার দেখে কখনো লজ্জা


পেতাম। আবার কখনো মনের ভেতর এক অদ্ভুত


প্রশান্তি কাজ করতো। একদিন রাতে যখন আমি


বাবার ঘরে গেলাম। তিনি আমাকে তার পাশে


বসতে বললেন। তার চোখে এক অদ্ভুত নরম ভাব


ছিল। যেন তিনি আমাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ


কথা বলতে চান। আমি চুপচাপ তার পাশে বসলাম।


তিনি গল্প শুরু করলেন তার ছোটবেলার কথা,


তার সংগ্রামের কথা আর আমাকে নিয়ে তার


আসার কথা, তার প্রতিটি কথা যেন আমার


হৃদয়ের গভীরে পৌঁছাতে লাগলো। তিনি বললেন,


তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার।


তোমাকে পাশে পেয়ে আমি যেন আবার নতুন করে


বাঁচতে শিখেছি। এই কথাগুলো শোনার পর আমার


চোখে জল চলে এলো। বাবার এই ভালোবাসা আর


মমতা আমার জীবনে এক নতুন অর্থ এনে


দিয়েছিল। এভাবে প্রতিদিনের ছোট ছোট


ঘটনাগুলো আমার জীবনের বড় বড় সুখের উৎস


হয়ে উঠেছিল। বাবার সঙ্গে কাটানো


মুহূর্তগুলো শুধু স্মৃতি নয় বরং জীবনের


অন্যতম সেরা শিক্ষা। তার ভালোবাসা আমাকে


নতুন করে জীবন বুঝতে শিখিয়েছে। তারপর


তিনি আমাকে নিজের কাছে টেনে নিলেন। তার


মমতা ও ভালোবাসার গভীরতা যেন আমাকে অবাক


করে দিত। এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আমার


হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। প্রতিদিনের


সেই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো আমাদের নতুন


জীবনের গল্প হয়ে উঠলো। কয়েকদিন পর এক


বিকেলে আমি দিদিকে ফোন করলাম। এর মধ্যেও


অনেকবার কথা হয়েছে। কিন্তু সেদিন মন যেন


আরো ভারী হয়েছিল। ফোনে দিদিকে বললাম,


দিদি আর কবে আসবে? তোমাকে ভীষণ মিস করছি।


তোমাকে ছাড়া আর ভালো লাগছে না দিদি


মিষ্টি হেসে বলল যদি যাই তবে তোমাদের নতুন


জীবনের সমস্যা হবে না তো আমি একরকম বায়না


করেই বললাম না কোন সমস্যা হবে না তুমি


দ্রুত চলে এসো আমার এতটুকু কথায় দিদি


হেসে বলল আচ্ছা দুদিন পর আসছি তার এই


কথাগুলো শোনার পর আমার মন ভরে গেল আনন্দে


দিন দুটো যেন কাটতেই চাইছিল না অবশেষে সেই


দিন এলো দিদি আমাদের বাড়িতে এসে পৌঁছালো


তাকে তাকে দেখে আমি যেন নিজেকে আটকে রাখতে


পারলাম না। ছুটে গিয়ে তাকে জড়িয়ে


ধরলাম। আমার এই উচ্ছ্বাস দেখে দিদি মজা


করে বলল, বাহ কয়েকদিনের মধ্যেই বেশ বদলে


গেছো। আমার ভাই নিশ্চয়ই তোমার ভালো


দেখাশোনা করছে। তার এই কথা শুনে আমি


একদিকে লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম। আর


অন্যদিকে হেসে বললাম, দিদি তুমিও না।


সবসময় এমন টিপ্পণ কাটতে পারো। দিদির


সঙ্গে সেই দিনটা কাটলো অনেক আনন্দে। তার


উপস্থিতি যেন পুরো বাড়ির পরিবেশই বদলে


দিয়েছিল। এমন ভালোবাসায় ভরা মুহূর্তগুলো


জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। দিদি হেসে


বলল, তোমার স্বামী কোথায়? আমি মুচকি হেসে


জবাব দিলাম, একটু আগে বাজারে গেছে আমার


জন্য চকলেট আইসক্রিম আনতে। আমার কথা শুনে


দিদি ভ্রু কুচকে বলল, এত আইসক্রিম খেও না।


অসুস্থ হয়ে যাবে তো। আমি হেসে তার কথা


শুনে কিছু বললাম না। শুধু চুপচাপ মনের


মধ্যে আনন্দ অনুভব করছিলাম। কিছুক্ষণ পর


আমার স্বামী বাড়ি ফিরল। দিদি তার সঙ্গে


প্রাণখোলা গল্পে মেতে উঠল। তারা নানা


বিষয় নিয়ে হাসতে হাসতে গল্প করছিল। আর


আমি তাদের জন্য রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে


পড়লাম। রান্না শেষ করে একটু বিশ্রাম নিতে


গোসল করতে গেলাম। গোসল শেষে আমি এক সুন্দর


লাল রঙের শাড়ি আর লাল ব্লাউজ পড়লাম যা


আমাকে যেন আরো উজ্জ্বল করে তুলল। নিজেকে


আয়নায় দেখে এক ঝলক নিজের দিকেই মুগ্ধ


হয়ে গেলাম। এমন সময় দিদি আমার ঘরে


ঢুকলো। আমাকে সাজতে দেখে সে হেসে বলল, বাহ


তোমাকে তো আজ দারুণ লাগছে। এমনভাবেই তুমি


আমার ভাইকে পাগল করে রেখেছো তাই না? তার


এমন কথা শুনে আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে


বললাম এসব তো আপনার কাছ থেকেই শিখেছি


দিদি। আপনি না থাকলে কি আমি এত কিছু বুঝতে


পারতাম? আপনি আমার বড় বোন, আমার পথ


প্রদর্শক। আমার কথা শুনে দিদি হেসে উঠল।


তার হাসির মধ্যে এক ধরনের ভালোবাসা ও


স্নেহ ছিল। সে কিছু না বলে আমার দিকে


তাকিয়ে রইল। আর আমি মনে মনে দিদির


উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম।


তার স্নেহ আর নির্দেশনায় আমার জীবনের


প্রতিটি মুহূর্ত যেন আরো সুন্দর হয়ে


উঠেছে। রাতের সবার খাবার শেষ হলে


বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে নিজের ঘরে ফিরলাম।


দরজা খুলেই দেখি বাবা চুপচাপ বসে আছেন।


হাতে একটা ছোট্ট বক্স। আমাকে দেখে তিনি


মৃদু হাসলেন। তার চোখে যেন এক অদ্ভুত


উচ্ছ্বাস। আমি অবাক হয়ে বললাম, বাবা এত


রাতে আপনি এখানেই বসে আছেন? কিছু দরকার


ছিল। তিনি আমার দিকে বক্সটি বাড়িয়ে


দিয়ে বললেন, এটা তোমার জন্য। তোমার মুখে


হাসি দেখতে চেয়েছিলাম। কথাটা শোনা মাত্রই


আমার হৃদয় ভরে গেল। বক্সটি হাতে নিয়ে


ভেতরে কি আছে দেখতে গিয়ে যেন শিশুর মত


উৎসাহ বোধ করলাম। খুলতেই দেখি ভেতরে একটা


অসাধারণ সুন্দর নাইট ড্রেস। আমি তো


একেবারে হতবাক। আমার মনে হলো এই পোশাকটি


যেন বিশেষভাবে আমার জন্যই তৈরি। আমার


মুখের খুশি দেখে বাবা মুচকি হেসে বললেন,


কেমন লাগছে? আমি আবেগে আপলুত হয়ে বাবাকে


জড়িয়ে ধরলাম। বাবা যখন এমন ভালোবাসা


দিয়ে কিছু করেন তখন বুঝি তিনি আমাদের


সুখের জন্য কতটা যত্নশীল। তবে লজ্জায়


কিছুক্ষণ পর বাবার কাছ থেকে সরে এলাম।


তিনি মৃদু হেসে বললেন এখনই পড়ে দেখোতো


কেমন লাগে তোমাকে এই পোশাকে দেখতে চাই আমি


একটু লজ্জা পেয়ে বললাম এখন পড়তে হবে


বাবা মৃদু হেসে বললেন হ্যাঁ এখনি পরে এসে


বল কেমন লাগছে তারপর আরাম করে ঘুমিয়ে


পড়ো আমি আর কথা না বাড়িয়ে ঘরে গিয়ে


ড্রেসটি পড়ে নিলাম ড্রেসটি সত্যিই অনেক


নরম আর আরামদায়ক ছিল আয়নায় নিজের


প্রতিচ্ছবি দেখে আমি নিজেই অভিভূত হয়ে


গেলাম। যখন বাবার সামনে এসে দাঁড়ালাম


তিনি চোখ বড় করে বললেন, তোমাকে এই ড্রেসে


আরো সুন্দর লাগছে। আমি লজ্জায় মাথা নিচু


করে দাঁড়িয়ে রইলাম। বাবা হেসে বললেন,


লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। তুমি এমনিতেই


সুন্দর। আর এই উপহারটা তোমার জন্য


উপযুক্ত। এবার পাশে এসে বসো। আমি বাবার


পাশে গিয়ে বসলাম। ড্রেসটির নকশা আর


আরামদায়ক গুণ আমাকে খুব ভালো লাগছিল। আমি


বললাম বাবা এটা আমার জীবনের সেরা


উপহারগুলোর একটি বাবা একটু মৃদু গলায়


বললেন তোমার মাও আগে মাঝে মাঝে এমন ড্রেস


পড়তেন আমি ওর কাছ থেকে শিখেছি ছোট উপহারও


কতটা আনন্দ দিতে পারে এই কথায় আমার চোখে


জল চলে এলো বাবার কথাগুলো যেন আমার মনের


গভীরে একটা জায়গা করে নিল সেই রাতে


ড্রেসটিকে শুধু একটা পোশাক নয় বরং বাবার


ভালোবাসার প্রতীক মনে হলো রাতে শুতে


যাওয়ার আগে আমি বাবাকে আবার বললাম বাবা


তোমার এই উপহার আমার কাছে শুধু একটি জিনিস


নয় তোমার মায়া আর ভালোবাসার প্রতিফলন।


বাবা হেসে বললেন তোমরা খুশি থাকলেই তো


আমার জীবনটা সার্থক। সেই রাতে আমি এক গভীর


শান্তি অনুভব করলাম। সকালবেলা ঘুম থেকে


উঠে একটু ঝিম মেরে বসেছিলাম। তখনই মনে হলো


গোসলটা সেরে নেওয়া দরকার। গোসল করার জন্য


বেরোতেই দেখি দিদি উঠানে বসে আছেন। তার


চিরকালী সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস।


আমাকে দেখে মিষ্টি হেসে বললেন, তোর নতুন


ড্রেসটা বেশ সুন্দর লাগছে। আমি একটু লজ্জা


পেয়ে বললাম, দিদি নতুন ড্রেস দেখে তুমি


এত হাসছো কেন? দিদি মৃদু হাসি দিয়ে


বললেন, কি এটা নিশ্চয়ই তোর জামাই কিনে


দিয়েছে তাই না? আমার মুখে এক ঝলক লাজুক


হাসি ফুটে উঠলো। বললাম, হ্যাঁ দিদি। গতকাল


উনি আমার জন্য এই ড্রেসটা নিয়ে এসেছিলেন।


বললেন, আমাকে নাকি এই পোশাকে দেখতে তার মন


চাইছিল। তাই আমি কিছু বলিনি। স্বামীর


ইচ্ছা তো বুয়ে শোনা উচিত তাই না? দিদি


মাথা নেড়ে বললেন, ঠিকই বলেছিস। স্বামীর


কথায় শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা রাখলে সংসার


অনেক সুখের হয়। মনে রাখবি স্বামী স্ত্রীর


সম্পর্কটা যত বেশি বোঝাপড়া আর বিশ্বাসের


হয়। ততই সেটা সুন্দর হয়ে ওঠে। দিদির


কথাগুলো আমার মনে গভীর ছাপ ফেল। আমি মুচকি


হেসে বললাম, ঠিক বলেছো দিদি। সংসারে সুখ


শান্তি ধরে রাখার জন্য একে অপরকে বোঝা খুব


দরকার। তারপর আমি গোসল করতে চলে গেলাম।


গোসল শেষে যখন ফিরে এলাম তখন ঘরের সকালে


নাস্তার আয়োজন চলছিল। আমি হাত মুখ ধুয়ে


নাস্তা খেতে বসে পড়লাম। নাস্তা করতে করতে


মনে হলো বাচ্চাদের এখনো তো ঘুম থেকে


উঠায়নি। তাড়াতাড়ি গিয়ে বাচ্চাদের ডেকে


তুললাম। বললাম, তোমাদের স্কুলে যাওয়ার


সময় হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি উঠে তৈরি হয়ে


নাও। বাচ্চারা একটু গরিমসি করলেও আমার


কথায় উঠে পড়ল। তাদের হাসি মুখ দেখে আমার


সকালটা আরো আনন্দময় হয়ে উঠলো। সকালের


খাওয়া শেষ করার পর বাচ্চারা তাদের


নির্ধারিত স্কুল বাসে করে স্কুলে চলে গেল।


আজ তাদের বাবা যেতে পারবে না। কারণ তিনি


বলে রেখেছেন সারাদিন ঘুমাবেন। আমি আর কোন


জোর করলাম না। বরং চুপচাপ তাকে আরাম করতে


দিলাম। আমি আর দিদি তখন রান্নাঘরে বসে


দুপুরের রান্নার আয়োজন করছিলাম। রান্নার


ফাঁকে ফাঁকেই আমাদের গল্প চলছিল। যেমনটা


সবসময় হয়। গল্পের মাঝেই দিদি একটু


বিষন্ন হয়ে বললেন, তোর মা যখন বেঁচে


ছিলেন, তখন আমিও তার সঙ্গে এভাবেই গল্প


করতাম। আমরা দুজন মিলে হাসিট্টা করতাম। কত


সুন্দর ছিল সেই দিনগুলো। কিন্তু জীবন কখন


কোথায় নিয়ে যায় কেউ বলতে পারে না।


দিদির কথা শুনে আমার বুকটা ভারী হয়ে গেল।


আমি একটু থেমে মৃদু গলায় বললাম, হ্যাঁ


দিদি, ঠিকই বলছো। আমিও ভাবিনি আমার জীবনে


এমন কিছু হবে। মা চলে যাওয়ার পর তো মনে


হয়েছিল সব যেন শেষ। কিন্তু এখন মনে হয়


ধীরে ধীরে সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাচ্ছে। আমি


এখন অনেক খুশি। দিদি মুচকি হেসে বললেন,


তুই সত্যিই অনেক শক্ত মেয়ে। এমনটা খুব কম


দেখা যায় যে কেউ এভাবে পুরো পরিবারের


দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে নেয়। তুই তো


শুধু নিজের দায়িত্বই সামলাস নি। এই


পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে বেঁধে রেখেছিস।


আমি একটু আবেগী হয়ে বললাম মা চলে যাওয়ার


পর ভেবেছিলাম এই পরিবারটা আর টিকে থাকবে


না। কিন্তু আমি চেয়েছিলাম বাচ্চারাও


তাদের নতুন মা হিসেবে আমাকে গ্রহণ করুক।


বাবা যেন তার পুরনো কষ্টগুলো ভুলে নতুন


জীবনে শান্তি পান। জানিনা কতটা পেরেছি।


তবে এখন মনে হয় আমরা সবাই একটা সুখী


পরিবারের মতো এগচ্ছি। দিদি আমার হাত ধরে


বললেন, তুই যা করছিস সেটা সত্যিই অসাধারণ।


কিন্তু তুই জানিস এই পরিবারটা আবার ঘুরে


দাঁড়ানোর পেছনে তোর যতটা ভূমিকা আছে


ততটাই আমারও ইচ্ছা ছিল যে তুই সুখী থাকিস।


তুই সুখী থাকলেই তো পরিবারের সবাই সুখী


হবে। আমি হেসে বললাম দিদি তোমার সাপোর্ট


আর ভালোবাসা না থাকলে আমি একা কিছুই করতে


পারতাম না। তুমি যদি আমার পাশে না থাকতে।


তবে হয়তো আজ এই পরিবার এভাবে গুছিয়ে


তুলতে পারতাম না। সব তোমার জন্যই হয়েছে।


আমাদের এই কথাগুলো যেন পুরো রান্নাঘরের


পরিবেশকে আরো মায়াবী করে তুলেছিল।


রান্নার কাজ শেষ হওয়ার পর আমি আর দিদি


দুজনেই মনের মধ্যে একটা অদ্ভুত শান্তি


অনুভব করলাম। মনে হলো পরিবারের প্রতি


আমাদের ভালোবাসা আর পরিশ্রম কোনদিনই বিথা


যাবে না। দুপুর হয়ে গিয়েছিল কিন্তু বাবা


তখনো ঘুমাচ্ছেন। আমি আর ধৈর্য ধরতে পারলাম


না। দরজার কাছে গিয়ে বললাম, বাবা আর কত


ঘুমাবে? দুপুর গড়িয়ে গেল। ওঠো ফ্রেশ


হয়ে খেতে আসো। আমার কথায় তিনি ধীরে ধীরে


উঠে বসলেন। কিছুটা ক্লান্ত দেখাচ্ছিল


কিন্তু উঠে এসে আমার পাশে বসে গেলেন। আমি


তখন রান্নার কাজ শেষ করে একটু ফ্রেশ হয়ে


হালকা সাজগোজ করেছিলাম। বাবার দৃষ্টি


আচমকায় আমার দিকে আটকে গেল।


তিনি এক দৃষ্টিতে আমাকে দেখতে লাগলেন।


একটু অবাক হয়ে আমি বললাম হয়েছে আর দেখার


দরকার নেই। আমাকে এত কি দেখবেন? তখন তিনি


মৃদু হেসে বললেন, আমি যতদিন বেঁচে আছি


ততদিন শুধু তোমাকেই দেখব। তোমাকে দেখা


কখনোই পুরনো হয় না। আমি একটু লজ্জা পেয়ে


বললাম, উফ এসব নেকামি বন্ধ করো তো। এবার


তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হয়ে আসো। আমার


বকুনি শুনে তিনি তাড়াহুড়ো করে উঠে ফ্রেশ


হতে চলে গেলেন। এরপর সবার জন্য খাবার


পরিবেশন করতে লাগলাম। দিদি এগিয়ে এসে


বললেন, আজ তুই বসে পড়ো। আমি খাবার


পরিবেশন করব। আমি দ্রুত বললাম, না দিদি


আমাকে করতে দাও। তুমি বরং বসে আরাম করো।


কিন্তু দিদি আমার কোন কথা শুনলেন না।


স্নেহময়ী হাসি দিয়ে নিজেই পরিবেশনের


দায়িত্ব নিলেন। সবাই মিলে একসঙ্গে


খাওয়াটা ছিল সত্যিই আনন্দের।


খাওয়া-দাওয়া শেষে আমি সবকিছু গুছিয়ে


নিজের ঘরে ফিরে এলাম। জানিনা কেন আজ


শরীরটা খুব ভালো লাগছিল না। মাথার ভেতর


ভারী একটা ব্যথা অনুভব হচ্ছিল। আমি চুপচাপ


বিছানায় বসেছিলাম। তখনই বাবা এসে আমার


পাশে বসলেন। চোখে চিন্তার ছাপ নিয়ে তিনি


বললেন, কি হয়েছে আমার রানীকে? শরীর খারাপ


লাগছে। আমি মৃদু কন্ঠে বললাম, মাথাটা একটু


ব্যথা করছে। আমার কথায় তিনি কিছু না বলে


উঠে গিয়ে তেল নিয়ে এলেন। ফিরে এসে


বললেন, শুয়ে পড়ো। আমি তোমার মাথায় তেল


মালিশ করে দিচ্ছি। ভালো লাগবে। আমি একটু


লজ্জা পেয়ে বললাম, ঠিক আছে দিন। তারপর


তিনি বিছানায় বসে আমার মাথাটা তার কোলে


রাখলেন। ধীরে ধীরে তেলের মালিশ করতে


লাগলেন। তার স্নেহময় স্পর্শে আমার সমস্ত


ক্লান্তি যেন মিলিয়ে যাচ্ছিল। তেল মালিশ


করার সময় তিনি আমার চুলগুলো আলতোভাবে


ছুয়ে ছুঁয়ে বলছিলেন, তুমি অনেক পরিশ্রম


করো। নিজের যত্ন তো নিতে হবে তাই না? আমি


চোখ বন্ধ করে তার কথা শুনছিলাম আর এক


অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করছিলাম। মনে মনে


ভাবছিলাম এই মানুষটা কতটা ভালোবাসা আর


যত্ন দিয়ে আমাকে আগলে রাখেন। তার এই ছোট


ছোট যত্নের মধ্যেই আমি জীবনের সবচেয়ে বড়


শান্তি পাই। মালিশের আরামদায়ক স্পর্শে


কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম নিজেই জানিনা।


বেশ কিছুদিন ধরে রাতের ঠিকমতো ঘুম হয়নি।


তাই বাবার স্নেহময় স্পর্শে যেন আমার


সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। ঘুমের মধ্যে


মনে হচ্ছিল আমি যেন এক নিরাপদ আশ্রয়ে


রয়েছি। যেখানে কোন কষ্ট নেই বিকালের পর


ঘুম ভাঙল। চোখ খুলে দেখলাম বাবা আমার পাশে


বসে আছেন চোখে মুখে যেন এক ধরনের


প্রশান্তি তিনি হালকা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন


একটু সময় পর দিদি ঘরে এসে বলল তোমাদের


ঘুম ভাঙ্গেনি এখনো আমি হাসতে হাসতে বললাম


ভাঙলো তো একটু শরীরটা খারাপ লাগছিল তাই


শুয়েছিলাম দিদি আমাকে বারান্দায় নিয়ে


গিয়ে বসো আকাশটা তখন লাচে আলোয় ভরা আমি


বললাম দিদি নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে


কষ্ট হচ্ছে কিছুই যেন ঠিকমতো হয় না দিদি


মৃদু হেসে বলল আদুরে বউ প্রথম দিকে একটু


এমন লাগে ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে ভয়


পেও না আমি লজ্জা পেয়ে বললাম তোমার ভাই


তো আমাকে রাতে ঘুমাতেই দিচ্ছে না দিদি


হেসে বলল আমার ভাই না তুমি ঘুমাতে দিচ্ছ


না আমার ভাইকে আমি একদম লজ্জায় লাল হয়ে


গেলাম বললাম দিদি তুমি এমন কেন বল আমি


কিছুই বুঝিনা দিদি হেসে বলল হ্যাঁ হ্যাঁ


তোমার আমার এই অভিনয় আমি বুঝি। নেকামো


করতে হবে না। দুদিন পরে আমাদের দিনগুলো


বেশ আনন্দে কাটছিল। কিন্তু কয়েকদিন পর


দিদি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। আমি তার


হাত ধরে বললাম দিদি আর কয়েকদিন থেকে যাও


না। দিদি মমতায় ভরা গলায় বলল বাড়িতে


আমার বাচ্চারা একা আছে। বেশিদিন থাকলে ওরা


অনেক কষ্ট পাবে। তার কথা শুনে আমার আর


কিছু বলার ছিল না। চোখের জল আড়াল করে


তাকে বিদায় দিলাম। দিদি চলে যাওয়ার পর


বাড়িটা যেন একদম ফাঁকা ফাঁকা লাগতে শুরু


করল। কিন্তু বাবার ভালোবাসা আর যত্ন আমাকে


নতুন করে বাঁচার শক্তি দিল। প্রতিদিন রাতে


বাবা আমাকে একটা ছোট্ট উপহার দিতেন। সেই


উপহারগুলোর কোন মূল্য হয়তো বাজারে ছিল


না। কিন্তু আমার কাছে সেগুলো অমূল্য। কিছু


বিশেষ মুহূর্ত এমন ছিল যা আমার জীবনের


সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে। সেই


মুহূর্তগুলো যেন প্রতিদিন আমাকে নতুন করে


বাঁচার অনুপ্রেরণা যোগাতো। জীবন এক নতুন


রূপে ধরা দিয়েছিল। এভাবেই বাবা মেয়ের


সংসার চলতে থাকলো। পর্বটি এখানেই শেষ হলো।


বন্ধুরা আপনাদের ভালোবাসা আর সমর্থনই


আমাদের অনুপ্রেরণা।


যদি গল্পটা আপনাদের মনে একটু হলেও ছোঁয়া


দিয়ে থাকে। তাহলে লাইক আর কমেন্ট করতে


ভুলবেন না। আপনাদের প্রতিটা মন্তব্য


আমাদের কাছে খুবই মূল্যবান। আপনারা যত


বেশি সাপোর্ট করবেন তত বেশি এ ধরনের


আবেগহঘন এবং হৃদয়স্পর্শী গল্প আপনাদের


সামনে নিয়ে আসতে পারব। ভালোবাসা দিয়ে


পাশে থাকুন। পরবর্তী গল্পে আরো রোমাঞ্চ,


ভালোবাসা আর আবেগ নিয়ে ফিরবো। তাই সবাই


আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন। পাশে


থাকা বেল আইকনটি প্রেস করুন। যাতে করে


আমরা যখনই নতুন ভিডিও আপলোড করি তার


নোটিফিকেশন সবার আগে আপনার কাছে পৌঁছে


যায়। ধন্যবাদ। দেখা হবে আমাদের পরবর্তী


ভিডিওতে।



Comments

Popular posts from this blog

ভাই বোনের ওপেন ছুদা-ছুদি

ভাই বোনের আপন ছোট ভাই আমাকে চুদলো

বৃষ্টির রাতে দুধ গুলো আপেলের মতো খাচ্ছিলো