নিজের বাবা হয়ে নিজের মেয়ে কে চু;দলো



হ্যালো বন্ধুরা আপনারা আমার আগের গল্পের


প্রথম পর্ব শুনেছিলেন যেখানে বলা হয়েছিল


আমার মায়ের মৃত্যুর পরে আমার ফুপি আমাদের


বাড়িতে এসেছিলেন। এরপর তিনি বাবার


অসহাযত্ব দেখে আমাকে বাবার সঙ্গে বিয়ে


করতে বলেছিলেন। এখন গল্পটি এখান থেকে


এগিয়ে চলবে। যারা দেখেননি প্রথম পর্বের


ভিডিওর লিংক নিচে ডেসক্রিপশন বক্সে পেয়ে


যাবেন। আমি বললাম না এমনটা নয়।


ছোটবেলা থেকেই আমি ভাবতাম বড় হয়ে এমন


একজন জীবনসঙ্গী চাই যিনি বাবার মতোই হবেন।


কিন্তু ভাগ্যের কি খেলা আপনাকে আমার


জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি। আমি আপনাকে খুব


ভালোবাসি। বাবা আমি চেষ্টা করবো আপনাকে


সবসময় সুখী রাখতে। বাবা শান্ত স্বরে


বললেন, তোমার কথা ঠিকই আছে। আমি তোমার


বাবা হলেও এখন থেকে আমাদের সম্পর্ক এক


নতুন রূপ নেবে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত যাকে


বাবা বলে দেখেছি তার ভূমিকা আমার জীবনে


এখন বদলে যাচ্ছে। আমি ভেবেছিলাম তাকে বাবা


বলেই ডাকবো। কিন্তু আমাদের সম্পর্ক ধীরে


ধীরে অন্যরূপ নিতে শুরু করেছে। আমি


লাজুকভাবে বললাম, আমি চেষ্টা করব তার মুখে


আনন্দের ঝিলিক ফুটে উঠলো। তিনি আমার মুখ


তুলে বললেন, এবার নিজের মনে একটা বিষয়


স্থির করে নাও। আমি এখন থেকে চাই তুমি


আমাকে এমনভাবে ডাকো যেমন তোমার মা আমাকে


ডাকতেন আমি লজ্জা পেয়ে মৃদু হেসে বললাম


আমি চেষ্টা করব আমার চোখে ধীরে ধীরে তার


প্রতি এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হচ্ছিল


আমাদের সম্পর্ক আর বাবা-মায়ের মধ্যে


সীমাবদ্ধ থাকলো না আমি বুঝে গেলাম এখন


থেকে তিনি আমার জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের


সঙ্গী হতে চলেছেন তার চোখে আমার প্রতি এক


গভীর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যা আমার মনে এক নতুন


অনুভূতির জন্ম দিচ্ছিল আমি নিজের লজ্জা


লুকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। কিন্তু ভেতরে


ভেতরে এক অদ্ভুত উত্তেজনা অনুভব করছিলাম।


যখনই আমাদের চোখে চোখ পড়তো। আমি


লাজুকভাবে চোখ সরিয়ে নিতাম। কিন্তু কিছু


সময় পরে আবার তার দিকে তাকিয়ে দেখতাম।


তিনি মৃদু হাসছেন। এই মুহূর্তগুলো আমাদের


মধ্যে এক নতুন ধরনের সংযোগ তৈরি করছিল।


একদিন ছেলেমেয়েরা একটা জিনিস চাওয়ার


জন্য জেদ করতে লাগলো। বাবা তাদের সেই


মুহূর্তে তা দিতে রাজি হলেন না। তখন দুই


সন্তান আমার দিকে তাকিয়ে বলল, মা তুমি


এনে দাও না। আমি হেসে বললাম, ঠিক আছে


নিয়ে নিও। তারা খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে


উঠলো। কিন্তু তখন ছোট মেয়ে বলল, থাক মা


বাবা রাগ করবেন। আমি হেসে বললাম, বাবা রাগ


করবেন না এবং বাবার দিকে তাকিয়ে একবার


মৃদু হাসলাম। বাবা কিছু বললেন না শুধু


হাসলেন আমাদের সম্পর্কের মিষ্টি


মুহূর্তগুলো এইভাবে এগিয়ে চলছিল। পরে


আমরা একটি আইসক্রিম কাউন্টারে গিয়েছিলাম।


বাবা সবার জন্য আইসক্রিম আনলেন এবং আমাকে


নিজ হাতে আইসক্রিম খাওয়াতে শুরু করলেন।


আমি লজ্জায় একটু হেসে বললাম, এটা বেশ


ভালো লাগছে। বাবা মজা করে বললেন, তোমাদের


মেয়েদের তো ক্রিমি আইসক্রিমই বেশি পছন্দ।


এবার থেকে তোমাকে প্রতিদিন ভালো মানের


ব্ল্যাক চকোবার আইসক্রিম খাওয়াবো। বাবার


কথার অর্থ বুঝতে পেরে আমি একটু লজ্জা


পেলাম। তার চোখে মিষ্টি হাসি দেখে আমি


বুঝতে পারলাম। আমাদের মধ্যে এক নতুন ধরনের


সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আমরা সেদিন অনেকক্ষণ


ঘুরলাম এবং রাতে খাবার প্যাক করিয়ে বাড়ি


ফিরলাম। বাড়িতে আমি খাবার গুছিয়ে সবাইকে


ডাকলাম। বাবা বললেন, নিশি তুমি এসো।


একসঙ্গে খাই। আমি হেসে বললাম, আপনারা খান।


আমি পরে খাবো। বাবা জোর দিয়ে বললেন, না।


তুমি আমার সঙ্গে বসে খাবে। আমি খাওয়ার


টেবিলে খাবার দিতে গিয়ে সামান্য ঝুকলাম।


তখন আমার শাড়ির আঁচল একটু সরে গেল। আমি


তাড়াতাড়ি ঠিক করে নিলাম। বাবা মৃদু হেসে


বললেন, তুমি আসলেই সবকিছু এত যত্ন নিয়ে


করো। সেদিন যখন বাবাকে দেখলাম, তিনি আমার


দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন। আমি লজ্জায়


লাল হয়ে গেলাম। তার চোখ আমার চোখের সঙ্গে


মিলতেই আমি মৃদু হেসে নিজের শাড়ির আঁচল


ঠিক করে নিলাম। বাবা আমাকে পাশে বসতে


বললেন, আর আমি কেন জানিনা না করতে পারলাম


না। আমরা একসঙ্গে একই প্লেটে খেতে শুরু


করলাম। এমন সময় বাবা চুপিসারে আমার হাতে


খাবার দিলেন। আর আমিও তাকে খাইয়ে দিলাম।


এই মুহূর্তগুলো যেন এক অদ্ভুত রোমান্টিক


অনুভূতিতে ভরা ছিল। দুই সন্তান খুব


ক্লান্ত ছিল এবং ঘুমে ঢুল ছিল। আমি বললাম


আমি ওদের ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি। তাদের


শুয়ে দিয়ে এসে দেখি বাবা এখনো বসে আছেন।


আমি বললাম আপনি একটু বিশ্রাম নিয়ে নিন।


বাবা ঘরে চলে গেলেন। আর আমি রান্নাঘরে


বাকি কাজ শেষ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।


রাত হয়ে গেল বাবা ঘুমাননি। আমি বুঝতে


পারছিলাম তিনি বারবার আমার কাছে আসার


চেষ্টা করছেন। আমি ভাবলাম বাবাকে এক কাপ


দুধ দিয়ে আসি। কিন্তু ঘরে গিয়ে বলব নাকি


এখান থেকেই জিজ্ঞেস করব। এ নিয়ে দ্বিধায়


পড়ে গেলাম। অবশেষে বাইরে থেকেই ডেকে


বললাম, শুনছেন? রিংকির বাবা আপনার জন্য কি


গরম এক কাপ দুধ দেব? সেদিন অজান্তে


প্রথমবার আমি তাকে খুকির বাবা উনা ডেকে


খুশু শুনছেন ই বলে ডাকলাম। যেভাবে মা


বাবাকে ডাকতেন সেদিন যখন আমি বাবাকে


ডাকলাম তখন অজান্তে এমন কিছু বলে


ফেলেছিলাম যা আমাকে লজ্জায় ডুবিয়ে দিল


আসলে আমি তাকে প্রথমবার উস্বামী হিসেবে


সম্বোধন করেছিলাম নিজেই নিজের কথায়


লজ্জিত হয়ে পড়েছিলাম বাবা ভেতর থেকে মজা


করে বললেন প্রিয়াজি কি জানতে চাইছেন তার


এমন কথা শুনে আমার লজ্জার দ্বিগুন হয়ে


গেল কিছু বলতে পারলাম না তখনই তিনি বাইরে


এলেন। তার মুখে এক মিষ্টি হাসি ছিল। তাকে


সামনে দেখে আমার হৃদস্পন্দন যেন দ্রুত হতে


লাগলো। আমি ঘাবড়ে গিয়ে এদিক ওদিক


তাকিয়ে কোনভাবে বললাম ওই আমি দুধ দিতে


এসেছি। তিনি মুচকি হেসে আমার কানে ফিসফিস


করে বললেন, প্রিয়াজি আপনার আদেশ আমাদের


মাথায়। আমরা তো আপনার সেবক তার এমন মজার


কথা শুনে আমি লজ্জায় রাঙা হয়ে গেলাম।


কিছু বলতে না পেরে তাড়াতাড়ি স্বরে এলাম।


কিন্তু তার সেই কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল


আর আমি লজ্জায় আর আনন্দে মুচকি হাসছিলাম।


আমি রান্নাঘরে গিয়ে এক গ্লাস দুধ গরম করে


তাকে দিলাম। তিনি বললেন মনে হচ্ছে তুমি


এতে চিনি দাওনি। আমি বললাম না দিয়েছি তো।


তিনি গ্লাসটা আমার দিকে বাড়িয়ে বললেন,


তাহলে নিজেই একবার চেখে দেখো। আমি একটু


চেখে দেখে বললাম, চিনি তো ঠিকই আছে। তখন


তিনি মুচকি হেসে বললেন, তোমার খাওয়ার


পরেই এটা মিষ্টি হয়ে গেছে। তার এমন মজার


কথা শুনে আমি এত লজ্জা পেলাম যে


তাড়াতাড়ি নিজের ঘরে চলে এলাম। তার কথা


মনে পড়তেই আবার মুচকি হাসি ফুটে উঠলো।


বাবা এতটা মজার হতে পারেন তা আগে কখনো


কল্পনা করিনি ঠিক তখনই ফুপির ফোন এলো। আমি


ফোন তুলে গল্প করতে লাগলাম। গল্পের


মাঝখানে ফুপি জিজ্ঞেস করলেন ভাবি সব


ঠিকঠাক তো সেদিন আমি বাইরে গিয়ে ফুপির


সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলাম। তিনি আমাকে


জিজ্ঞেস করলেন ভাবি রিংকি তো বেশ জেদ


ধরেছিল। কোথায় নিয়ে গেলেন? আমি বললাম,


হ্যাঁ ফুপি বাচ্চারা অনেকদিন ধরে বাড়িতে


ছিল। তাই একটু বাইরে আইএস করতে নিয়ে


গেলাম। ফুপি মুচকি হেসে বললেন, ভাবি আমার


ভাই আর আপনার মধ্যে কি কোন নতুন সম্পর্ক


তৈরি হলো? আমি একটু লজ্জা পেয়ে বললাম,


এখনো নয় তবে হয়ে যাবে। আমি জানতাম ফুপি


কোন সম্পর্কের কথা বলছেন। আমি বললাম, দিদি


নতুন সম্পর্ক ঠিকভাবে তৈরি করতে হলে পুরনো


সম্পর্কগুলো ভুলতে হবে। সেটা আমাদের সবার


জন্যই ভালো। ফুপিশায় দিয়ে বললেন, ঠিকই


বলেছ ভাবি। তবে মনে হচ্ছে তোমরা দুজন মিলে


ভালোই সময় কাটিয়েছো। আমি মৃদু হেসে


বললাম আপনি কি বলছেন ফুপি? তারপর পরপর


ফুপি বললেন আমাকে ফুপি না বলে দিদি বলে


ডাকো। ঠিক আছে দিদি এখন থেকে ডাকবো। আমি


বললাম তখন দিদি আমাকে ঠাট্টা করে বললেন


ভাবি আমার ভাই কি তোমার হাত ধরেছেন? আমি


হেসে বললাম উফ দিদি। আপনি কেমন কথা বলছেন?


দিদি বললেন তাহলে তুমি কিভাবে বুঝলে যে


তিনি পুরনো সম্পর্ক ভুলে গেছেন? আমি বললাম


তেমন কিছু নয় দিদি। আমরা যখন বাইরে


আইসক্রিম খেতে গিয়েছিলাম তখন উনি বলছিলেন


তোমাকে রোজ আইসক্রিম খাওয়াবো। আর সেটা


শুনে আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে তিনি কোন


আইসক্রিমের কথা বলছেন দিদি মজা করে বললেন,


আহা ভাবী সেটা তো আসল আইসক্রিম। চোখবার


খুবই মজার জিনিস। এই কথা শুনে আমি লজ্জায়


রাঙা হয়ে গেলাম এবং নিজের ঘরে ফিরে এলাম।


বিছানায় শুয়ে তখনো ফুপি কথাগুলো কানে


বাধছিল। আমি মনে মনে ভাবছিলাম পাপা আমাকে


সত্যি সত্যি চোখবার খাওয়াবেন তারপর নিজেই


উত্তর দিলাম কেন নয় নিজের স্ত্রীকে না


খাইয়ে আর কাকে খাওয়াবেন আমি শুয়ে শুয়ে


ভাবতে লাগলাম দিদি কি পাপার সঙ্গে আমাদের


সম্পর্কের কথা বলেছিলেন পাপার আজকের আচরণ


দেখে মনে হচ্ছে তিনি নিশ্চয়ই কিছু আলোচনা


করেছেন এত ভাবনার মাঝেও একটা প্রশ্ন আমাকে


তারা করছিল পাপা কি সত্যিই আমাকে তার


স্ত্রী হিসেবে ভাবতে শুরু করেছেন সকালবেলা


আমি বসে বসে ভাবছিলাম পাপা কি সত্যিই


আমাকে মাকে তাদের সন্তানদের মা হিসেবে


দেখতে চান? কিছুক্ষণ চিন্তাভাবনার পর


নিজেই উত্তর পেয়ে গেলাম। যদি সেটা না


চাইতেন তবে কেন বলতেন আমাকে পাপা বলে


ডেকোনা। আমি তোমার বাবা নই আমি তোমার


সন্তানের বাবা। এটা পরিষ্কার ছিল যে তিনি


আমাকে সন্তানদের মা হিসেবে দেখতে চান।


পরের দিন সকালে বাচ্চারা স্কুলের জন্য


তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়ল। পাপা তখনো


ঘুমাচ্ছিলেন।


আমি ভাবলাম কেননা বুয়াকে ফোন করে জেনে


নেই।


তিনি পাপার সঙ্গে আমাদের বিয়ের ব্যাপারে


কথা বলেছেন কিনা আমার মনে নানা প্রশ্ন


ঘুরছিল তাই আর অপেক্ষা না করে ফোন করলাম


আমি বললাম দিদি নমস্কার বুয়া হাসতে হাসতে


বললেন কি ভাবি আবার বুয়া ঠিক করে বল আমি


একটু লজ্জা পেয়ে বললাম সরি দিদি দিদি


বললেন বলতো এত সকালে আমাকে কি মনে পড়লো


আমি বললাম দিদি আসলে কিছু বুঝতে পারছি না


কিভাবে আপনার সঙ্গে বলব দিদি মিষ্টি গলায়


বললেন ভাবি কি হয়েছে বলতো


আমি বললাম দিদি আপনার কি পাপার সঙ্গে কোন


কথা হয়েছে দিদি মজা করে বললেন কেন ভাবি


এত তাড়াতাড়ি কিসের এত উৎসাহ আমি লজ্জা


পেয়ে বললাম দিদি তেমন কিছু না আমি জানতে


চাইছিলাম আপনি কি তার সঙ্গে আমাদের


সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন দিদি বললেন


হ্যাঁ ভাবি কথা তো হয়েছেই তোমার কি মনে


হয় আমি তো জানতাম পাপা শুনেই খুশি হয়ে


যাবেন আমি অবাক হয়ে বললাম তবে কি সত্যিই


পাপা রাজি হয়েছেন দিদি মুচকি হেসে বললেন


ভাবি তোমার কি মনে হয় পাপা না বলবেন? এই


কথাগুলো শুনে আমার মন শান্ত হলো। মনে মনে


ভাবলাম পাপা সত্যিই খুশি। হয়তো এটাই


আমাদের নতুন জীবনের শুরু। দিদি বললেন ভাবি


এটা তো সম্ভবই নয় যে কেউ আমার ভাবীর এই


সম্পর্ককে প্রত্যাখ্যান করবে। আরে ভাবী


দাদা তো এত খুশি যে তা ভাষায় বোঝানো যাবে


না। আর শোনো ভাবি তোমাকে একটা কথা বলি।


দাদা নিজেই আমাকে বলেছিল তোমার সঙ্গে কথা


বলতে। বারবার আমাকে জিজ্ঞাসা করছিল সত্যি


করে বলতো প্রিয়া কি এই সম্পর্কে রাজি আছে


দিদি কথা শুনে আমি ভীষণ লজ্জা পেলাম মনে


হলো পাপা আমাকে তার জীবনসঙ্গী বানানোর


জন্য এতটাই উদগ্রিব এমন সময় পাপার গলা


শুনে আমি বললাম দিদি পরে কথা বলব এবং


ফোনটি রেখে দিলাম আমি তখন রান্নাঘরে ছিলাম


হঠাৎ পাপা এসে পিছনে দাঁড়ালেন তিনি বললেন


প্রিয়া বলতো আমি কি তোমার একটু সাহায্য


করতে পারি আমি লজ্জায় কিছু বলতেই


পারছিলাম না। শুধু বললাম আমি করতে পারব।


আপনি যান পাপা হেসে বললেন তাড়াতাড়ি তৈরি


হয়ে নাও। আমরা বাইরে কোথাও ঘুরতে যাব।


এটা বলেই তিনি চলে গেলেন। তার চলে যাওয়ার


পর আমি একটু স্বস্তি পেলাম। আমার মনে


হচ্ছিল এখন আর বেশিদিন নেই। যখন আমার ঘরের


ঠিকানা পাপার ঘরে বদলে যাবে। আমি যখন তৈরি


হয়ে বাইরে বেরোলাম তখন দেখি পাপার কাছে


কারো ফোন এসেছে। সেই ফোন পেয়ে তাকে অন্য


কোথাও কাজে যেতে হলো। আমি তখন জামাকাপড়


বদলে গৃহস্থালীর কাজে মন দিলাম। ঘর


পরিষ্কার করার পর পাপার ঘরে তার কাপড়


আনতে গেলাম। বিকেলে দরজার ঘন্টা বাজলো।


আমি মনে মনে হাসতে হাসতে ভাবলাম তিনি


এসেছেন এবং দরজার দিকে ছুটে গেলাম। মনে


হচ্ছিল বহুদিন পর যেন নিজের প্রিয়জনকে


দেখো। দরজা খুলে দেখি সামনে পাপা নন কেউ


অন্য কেউ দাঁড়িয়ে পাপার বদলে অন্য কাউকে


দেখে আমার মুখ মলিন হয়ে গেল আমি জিজ্ঞেস


করলাম জি আপনি কাকে খুঁজছেন সামনের লোকটি


বলল ম্যাডাম কুরিয়ার আছে এটি এই নামে


পাঠানো একটি চিঠি আমি বললাম উনি তো এখন


বাড়িতে নেই ছেলেটি বলল আপনি কে আমি হেসে


বললাম আমি উনার স্ত্রী এটা বলতে গিয়ে


আমার মনে একটু অন্যরকম আনন্দ হচ্ছিল জীবনে


প্রথমবার কাউকে বললাম যে আমি পাপার


স্ত্রী। কিছুক্ষণ পর পাপা বাড়ি ফিরলেন।


হয়তো কোন জরুরি কাজ ছিল যে কারণে দেরি


হয়ে গেল। উনি ফিরে এসে সোজা নিজের ঘরে


গিয়ে ফ্রেশ হতে লাগলেন। এই ফাঁকে আমি


খাবার টেবিলে সব প্রস্তুত করলাম। সব রেডি


করার পর পাপাকে বাইরে থেকে ডাক দিলাম।


শোনো রিংকির বাবা খাবার রেডি। একদিনের


মধ্যেই আমি যেন মায়ের মত কথা বলতে শিখে


গেছি। এখন আমার আর মায়ের মধ্যে খুব বেশি


পার্থক্য নেই। আমি ভাবছিলাম যা কিছু আগে


মায়ের ছিল এখন সবই যেন আমার হয়ে গেছে এই


বাড়ির প্রতিটি জিনিস বাচ্চারা সোবার ঘর


এমনকি মায়ের জীবনসঙ্গীও


যে হৃদয়ে এতদিন মা বাস করতেন এখন সেখানে


আমি স্থান পেয়েছি এমনকি বলা যায় আমি


সেখানে পুরোপুরি জায়গা করে নিয়েছি


বাচ্চারা ও পাপা সবাই ডাইনিং টেবিলে চলে


আসার পর পাপা মজা করে বললেন কি খবর আমাদের


নতুন সরকার পাপার এমন কথা শুনে আমি


লজ্জায় পড়ে গেলাম আস্তে করে বললাম এই কি


যে বলেন পাপা হাসতে হাসতে বললেন তাহলে আর


কে হবে রিংকির মা এখন তুমিই তো সেই


দায়িত্ব পালন করবে ম্যাডাম আমি হেসে


বললাম হ্যাঁ হ্যাঁ করতে হবে তো তারপর আমি


কিচেনে খাবার আনতে গেলাম আজকাল মনে হয়


বাচ্চারা যেন আমারই সন্তান তারা এমনভাবে


আমার সাথে মিশে গেছে যেন আমি তাদের মা বোন


নয় খাওয়া শেষে বাচ্চারা ঘরে চলে গেলে


পাপা ঘরে যাচ্ছিলেন। আমি তাকে থামিয়ে


বললাম শুনুন তো খামটা তার হাতে দিয়ে


জানালাম এটা সন্ধ্যায় কুরিয়ার থেকে


এসেছে পাপা বললেন আমি বলেছিলাম বাড়িতে


নেই তাই স্ত্রীর হাতে দিয়ে যাও স্ত্রী কি


শব্দে আমি লজ্জায় লাল হয়ে কিচেনে চলে


গেলাম কিছুক্ষণ পর পাপা এসে বললেন প্রিয়া


তোমার দিদির ফোন এসেছে ফোন নিয়ে ঘরে


গিয়ে দিদির সঙ্গে কথা শুরু করলাম দিদি


বলল ভাবি নমস্কার আমি হাসি দিয়ে বললাম


নমস্কার দিদি দিদি মজা করে বলল তোমার


বিয়ে হলে তোমার পাপা খুশি। তিনি বললেন,


নতুন ভাবীর রান্না আর যত্নী দারুণ হবে। এই


কথায় আমি হেসে ফেললাম। দিদি জানালো তার


বাচ্চারা জানে তাদের নতুন মা আমি। দিদির


বয়স তিন দুই। তার দুটি সন্তান রয়েছে


বাচ্চারা আমাদের মতোই। আমাদের ছাড়া তাদের


তেমন কোন অন্য আত্মীয় নেই। আমরা তাদের


জন্য সবকিছু। আর তারা আমাদের জন্য। কারণ


আমাদের সম্পর্ক নিয়ে কারো সন্দেহ করার


সুযোগ নেই।


কেউই আমাদের আসল সম্পর্কের কথা জানে না।


দিদির সঙ্গে কথা বলে আমার খুব ভালো


লাগছিল। এক ধরনের ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি


হচ্ছিল। তখনই দিদি জিজ্ঞেস করল, তুমি এখন


রাতবেলা কি করছো? আমি হেসে বললাম, আমি


বাসন মারছি। এ কথা শুনে দিদি একটু রাগ করে


বলল, তুমি এসব কেন করছো? তার রাগ দেখে আমি


কিছুটা অবাক ও খারাপ বোধ করলাম। আমি উত্তর


দিলাম, দিদি এতো আমার রুটিন কাজ। দিদি বলল


ভাবি এটা ঠিক আছে কিন্তু শোনো তোমার তো


বিয়ে হতে চলেছে এ সময় নিজেকে একটু


সুন্দরভাবে রাখাটা জরুরি জানো যখন একজন


নারী রাতে সাজগোজ করে নিজের স্বামীর সামনে


যায় তখন তা তাদের ভালো লাগে এ কথা শুনে


আমি লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে চাইছিলাম


ধীরে ধীরে বললাম দিদি তুমি এ কি বলছো দিদি


হাসতে হাসতে বলল ঠিকই বলছি এখন থেকে


নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখবে যেন ভাবি


পুরুষদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে তাদের


প্রতি তোমার যত্ন এবং আকর্ষণ ধরে রাখা খুব


জরুরি। আমি মাথা নেড়ে বললাম, ঠিক আছে


দিদি। আমি খেয়াল রাখবো। তারপর দিদি বলল,


ভাবি আরেকটা জরুরি কথা। আমি পন্ডিতজির


সঙ্গে তোমার এবং ভাইয়ার বিয়ের বিষয়ে


কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন আজ থেকে 15


দিন পর তোমাদের বিয়ে ঠিক করা হয়েছে।


দিদি বলছিলেন ভাবি পন্ডিতজি বলেছেন যে এই


দিনটা খুবই শুভ। আর তিনি আরো বললেন যে


তোমার আর ভাইয়ার জুটি খুবই ভালো। তোমাদের


সম্পর্ক বহু জন্মের জন্য স্থায়ী হবে।


দিদির কথা শুনে আমার মনে একটা অন্যরকম


আনন্দ হলো। ভাবছিলাম এটা কি কেবল


কাকতালীয়? নাকি আসলেই আমাদের সম্পর্ক


এতটা গভীর এবং সুন্দর দিদি তখন আমাকে


বললেন, পাপাকে ফোন দাও। আমি ডেকে বললাম,


শোনো এই ফোনটা ধরো। পূজা মজা করে বলল,


ভাবি তুমি কি এখন থেকেই ভাইয়াকে এইভাবে


ডাকার অভ্যাস তৈরি করছো? আমি একটু রেগে


গিয়ে মিষ্টি স্বরে বললাম আরে দিদি তুমি এ


কি বলছো দিদি হেসে বলল ভাবি এখন আমি মজা


করছি কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই তুমি নিজেই


এভাবে ডাকতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে দিদি আর


আমি একসঙ্গে হেসে উঠলাম আমি পাপার ঘরে


গিয়ে ফোন দিয়ে এলাম তারপর নিজের ঘরে এসে


বিছানায় শুয়ে পড়লাম কিন্তু আজ আমার ঘুম


কিছুতেই আসছিল না যে বিছানায় প্রতিদিন


শান্তিতে ঘুমোই আজ যেন সেটাই অস্বস্তি


দিচ্ছিল পরের দিন সকালে আমি খুব খুশি মনে


বাড়ির সব কাজ দ্রুত সেরে ফেললাম। তখন


পাপা ঘুম থেকে উঠে আমাকে বললেন, নিশি রেডি


হয়ে নাও। আজ কোথাও ঘুরতে যাব। আমি একটু


মজা করে বললাম, কেন? আজকেও কি কালকের মতোই


তৈরি হতে হবে? পাপা একটু হাসলেন এবং আমার


সামনে কান ধরে বললেন, সরি। মাফ করে দাও।


কাল জরুরি কাজ ছিল। পাপার এমন ভঙ্গি দেখে


আমার মুখে হাসি চলে এল। আমি আমার ঘরে


গিয়ে ভাবতে লাগলাম আজ ঘুরতে গেলে কি


পড়বো? এমন কিছু পড়তে চাইছিলাম যা পাপার


পছন্দ হবে। কিন্তু আবার কি পড়বো সেটা


বুঝতে পারছিলাম না। ঠিক তখনই পাপা আমার


ঘরে এলেন এবং বললেন, তুমি এখনো তৈরি হলে


না? আমি বললাম, দেখোতো কিছুই বুঝতে পারছি


না। কি পড়বো? তুমি বলো না কি পড়বো? পাপা


মায়ের ওয়ারড্রোব থেকে একটি সুন্দর কালো


শাড়ি বের করলেন এবং আমার দিকে এগিয়ে


দিয়ে বললেন এইটা পড়ো পাপা বললেন এই


শাড়িটা পড়ো তোমার উপর দারুণ মানাবে আমি


পাপার হাত থেকে শাড়িটা নিয়ে তাড়াতাড়ি


তৈরি হতে শুরু করলাম সেদিন মায়ের কালো


রঙের সুন্দর শাড়ি এবং তার সাথে মানানশয়ী


ব্লাউজ পড়েছিলাম শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে


চুরি কানের দুল এবং একটি লাল টিপ


পড়েছিলাম


সাজগোজের পর মনে হচ্ছিল আজ যেন আমার চেয়ে


বয়সে সে বড় দেখাচ্ছে। পরে পাপা এসে


গেলেন। আমি আস্তে করে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি


এসে গেছেন? পাপা হেসে উত্তর দিলেন আর কিছু


না বলে শুধু মিতু হাসলেন। তার হাতে একটি


ছোট বাক্স ছিল। তিনি বাক্সটা আমার দিকে


এগিয়ে দিয়ে বললেন, নিশি এটা তোমার জন্য


উপহার। আমি পাপার হাত থেকে বাক্সটা নিয়ে


মুচকি হেসে খুললাম। বাক্স খুলতেই দেখলাম


তাতে সোনার সুন্দর গয়না। বাক্স খুলতেই


দেখলাম ভেতরে দুটি খুব সুন্দর বালা। বালা


দেখে আনন্দে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বললাম


ওয়াহ কি সুন্দর বালা এগুলো। তারপর বললাম


আপনার জন্য একটু পানি নিয়ে আসি। পাপা


আমাকে থামিয়ে বললেন প্রিয়া দিদির সাথে


কি তোমার কথা হয়েছে আমি বুঝতে পারছিলাম


পাপা কি বিষয়ে জিজ্ঞেস করছেন? তবুও


জিজ্ঞাসা করলাম কোন বিষয়ে পাপা? পাপা


বললেন, পূজা কি তোমাকে কোন তারিখের


ব্যাপারে কিছু বলেছে? আমি মৃদু হেসে।


লজ্জায় মাথা নিচু করে বললাম, জি পাপা আমার


মুখ থেকে জি শুনে পাপা আমার কাছে এগিয়ে


এসে বললেন, প্রিয়া তোমার কোন আপত্তি নেই


তো? আমি কি বলব বুঝতে পারছিলাম না। আমার


লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে গেল। পাপার সামনে


এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে খুব অস্বস্তি


হচ্ছিল। আমার মুখ পুরো লাল হয়ে উঠেছিল।


পাপা কিছু বলার জন্য মুখ খুলছিলেন। ঠিক


তখনই রিংকি এসে পড়ল। লজ্জা লুকিয়ে আমি


বললাম, আমি আপনার জন্য পানি নিয়ে আসছি।


এটা বলে আমি দ্রুত রান্নাঘরের দিকে চলে


গেলাম। রিংকি পাপার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস


করল পাপা আমি কেমন দেখাচ্ছি পাপা তাকে


কোলে তুলে নিয়ে আদর করে বললেন খুব সুন্দর


দেখাচ্ছ তখন রিংকি বলল আমি সুন্দর


দেখাচ্ছি বলেই আপনি আমাকে কোলে তুলেছেন।


তাহলে মাকে সুন্দর দেখাচ্ছিলেন তখন কেন


তাকে কোলে তুললেন না? আপনি কি মিথ্যা


বলছেন যে মা সুন্দর রিংকির প্রশ্ন শুনে


আমি লজ্জায় মাটির সঙ্গে মিশে যেতে


চাইছিলাম। তাকে মৃদু বকাচকা করে বললাম,


তুই কি সব বলিস? যা এখানে থেকে যা। পাপার


দিকে তাকালাম। তিনি মুচকি হাসছিলেন। আমি


আর তার চোখের দিকে তাকাতে পারছিলাম না।


দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে এলাম। কিছুক্ষণ


পর পাপাও তৈরি হয়ে বের হলেন। আমি তখনো


তার চোখে চোখ রাখতে পারছিলাম না। কিন্তু


পাপা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন। তারপর


আমরা সবাই বাজারে কেনাকাটার জন্য বের


হলাম। আজ পাপার সঙ্গে বের হতে এক অদ্ভুত


অনুভূতি হচ্ছিল। আজ শপিং এ যাওয়ার সময়


মনে হচ্ছিল যেন পাপার সঙ্গে নয় আমার


নিজের স্বামী আর সন্তানদের সঙ্গে যাচ্ছি।


আমরা একটি মলে গিয়েছিলাম যেখানে পাপা


আমার জন্য শাড়ি বেছে দিলেন এবং বিয়ের


একটি সুন্দর পোশাকও পছন্দ করলেন। শপিং


করতে গিয়ে আমি বুঝলাম আমার এবং পাপার


পছন্দ একেবারে মিলে যায়। যেই শাড়িটা


আমার পছন্দ হয়েছিল সেটাই পাপারও পছন্দ।


আমাদের পছন্দ এতটা মিলে যাওয়া দেখে মনে


হচ্ছিল আমি সত্যিই পাপার জন্যই তৈরি


হয়েছি। পাপার শাড়ির ব্লাউজগুলো খুবই


সুন্দর ডিজাইন করে সেলাই করার জন্য দিয়ে


দিলেন। এতে আমার কোন আপত্তি ছিল না। কারণ


এগুলো তো তাকে দেখানোর জন্যই পড়বো। আমরা


বাইরে থেকেই খাওয়া-দাওয়া সেরে বাড়ি


ফিরে এলাম। রাতে নিজ বিছানায় শুয়ে পাপ


কথা ভাবতে লাগদম। আমার চোখে ঘুম ছিল না।


তখন উঠে দেখলাম পাপার ঘরের লাইট জ্বলছে।


ভাবলাম পাপাও হয়তো জেগেছেন। হয়তো তারও


আমার মত ঘুম আসছে না কারণ আমাদের বিয়ে হতে


চলছে বিয়ের আগে কালি বা ঘুম আসে সকালে আমি


বাচ্চাদের স্কুলের জন্য প্রস্তুত করছিলাম


রিংকি বায়না ধরল মা আজ তুমি আমাকে স্কুলে


পৌঁছে দাও বাড়ির কাজ থাকায় বোঝালাম তুমি


নিজে চলে যাও কিন্তু সে জিদ ধরে বলল পাপার


সঙ্গে যাব পাপা তখনো ঘুমাচ্ছিলেন।


ঘরে গিয়ে ডাকলাম শুনছো। উঠে বাচ্চাদের


স্কুলে দিয়ে আসো। পাপা বললেন, ওরা তো


ভ্যানে যাবে। আমি জোর দিয়ে বললাম না


তোমাকেই যেতে হবে পাপা কাপড় পড়তে পড়তে


বললেন যা হুকুম সরকার এই কথায় আমি হেসে


বললাম তাড়াতাড়ি করো দেরি হচ্ছে আমি এখন


পাপার সঙ্গে একজন স্ত্রীর মতই আচরণ করছি


যেন বাড়ির সব দায়িত্ব আমার পাপা


বাচ্চাদের স্কুলে ছেড়ে যাওয়ার পর আমি


ঘরের কাজে মন দিলাম পাপার ঘর গুছাতে গিয়ে


মোবাইল বেজে উঠলো দিদি ফোন করেছিল দিদি


হাসতে বললেন ভাবি ভাইয়াকে নিজের ইশারায়


নাচানো শুরু করেছেন নাকি? আমি মুচকি হেসে


উত্তর দিলাম। রিংকি একটু জিদ করছিল। তাই


পাপা ফিরে এসে বললেন, পিয়াজি আজ একটু


ঘুরে আসি। আমি রাজি হয়ে প্রস্তুতি নিতে


গেলাম। হঠাৎ ভাবলাম পাপার পছন্দের পোশাক


পড়ি। তাকে জিজ্ঞেস করলাম। কি হব বলুন তো?


পাপা পাপা লাল শাড়ি বেছে দিলেন। তিনি


আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে হেসে


বেরিয়ে গেলেন। আমি লাল রঙের শাড়িটি পড়ে


নিলাম। আর চুল খুলে রাখলাম। কারণ আমি জানি


পাপা আমার খোলা চুল খুব পছন্দ করেন। আমি


যখন বাইরে এলাম পাপা শুধু আমার দিকেই


তাকিয়েছিলেন।


আমি হাসতে হাসতে বললাম এভাবেই দেখবেন নাকি


খেবেন? পাপা হেসে বললেন চল। তবে আগে পাশে


কিছু টাকা রেখে দাও। আমি জান চাইলাম কত


টাকা? পাপা বললেন সরকার আপনার ইচ্ছেই


রাখুন। শপিং তো আপনি করবেন। আমরা তো কেবল


আপনার চা করো। মালকিনের কাছে এমন কিছু


প্রশ্ন করার সাহস আমাদের নেই। পাপার কথা


শুনে আমার গাল লজ্জায় লাল হয়ে গেল। আমি


মুচকি হেসে বললাম, এইরকম কথা বলা আপনি


শিখেছেন। তারপর আমি আলমারি থেকে কিছু টাকা


নিয়ে পাপার সঙ্গে বেড়াতে বেরিয়ে


পড়লাম। পাপা গাড়ি চালিয়ে শহরের বাইরে


একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে এলেন। সেখানে


একটি পুরনো দুর্গ ছিল। পাপা বললেন,


প্রিয়া তোমার ছবি তোলার জন্যই এখানে


নিয়ে এসেছি। আমি বললাম, এটা তো বাড়িতেও


করতে পারতেন। পাপা হেসে বললেন, বাইরের


সবুজের মধ্যে ছবি আরো সুন্দর আসবে। পাপার


কথা শুনে আমি মৃদু হেসে বললাম ঠিক আছে


চলুন পাপা আমার কানের কাছে এসে ফিসফিসিয়ে


বললেন ভয় লাগছে না তো আমি মুচকি হেসে


বললাম আপনি যখন পাশে আছেন তখন আর ভয় কিসের


পাপা বললেন যে কেউ তোমার প্রেমে পড়তে পারে


আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি যে তুমি


আমাকে পেয়েছো পাপার এই কথা শুনে আমি


লজ্জায় চোখ নামিয়ে বললাম কত মিথ্যা কথা


বলেন আপনি আমি এত সুন্দর নই আমি খুব


সাধারণ চেহারার মেয়ে বাবা বললেন চলো বাইরে


একটু হাঁটি। আমি চুপচাপ সম্মতি দিলাম এবং


বাইরে একটা আম গাছের দিকে ইশারা করলাম।


আমরা গাছটার নিচে গেলাম। বাবা তখন মোবাইল


বের করে বললেন, একটু দাঁড়াও তোমার ছবি


তুলতে চাই। আমি পোজ দিলাম আর বাবা ছবি


তুললেন ছবি তোলার সময় বাবা নিজেও কিছু


পোজে আমার সঙ্গে ছবি তুললেন। হঠাৎ তিনি


পকেট থেকে ছোট্ট একটা বাক্স বের করলেন।


বাক্সটা খুলে দেখলাম একটা আংটি। বাবার


চেহারায় তখন এক অদ্ভুত কোমলতা তিনি বললেন


প্রিয়া এই আংটি তোমার জন্য আমি চাই তুমি


এই সম্পর্ককে নতুনভাবে গ্রহণ করো আমি


হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বাবা আমার হাত


ধরে আংটিটা পড়িয়ে দিলেন লজ্জায় আমি


দৌড়ে চলে এলাম বাবা আমার পেছন পেছন এলেন


এবং বললেন প্রিয়া তোমার উপস্থিতি আমার


জীবনে একটা নতুন অর্থ এনেছে তোমাকে ছাড়া


আমি আর এক মুহূর্ত থাকতে পারবো না এরপর


আমরা অনেক কথা বললাম কিছুক্ষণ পর বাবা


বললেন চলো তোমার জন্য কিছু কেনাকাটা করি।


আমরা বাজারে গিয়ে আমার জন্য সুন্দর কিছু


পোশাক কিনলাম। বাবা বারবার বলছিলেন, তোমার


মত সুন্দর মেয়ে যদি সুন্দর পোশাক না পড়ে


তাহলে কিভাবে হবে? আমি তার কথায় হাসলাম


আবার একটু লজ্জাও পেলাম। বাবার সাথে


কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত যেন বিশেষ হয়ে


উঠছিল। বাবা বললেন, "প্রিয়া আমাদের বিয়ের


পর তোমার পছন্দমত নতুন ফার্নিচার কিনে


তোমার জন্য নতুন ঘর সাজাবো।"


এই কথায় আমি এক মুহূর্ত থেমে তাকে জিজ্ঞেস


করলাম তোমার কি মনে হয় আমি তোমার সঙ্গী


হতে পারব বাবা গভীরভাবে আমার চোখের দিকে


তাকিয়ে বললেন তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড়


প্রেরণা বাবা বললেন চলো বাড়ির জন্য কিছু


নতুন জিনিস কিনি কেনাকাটা সেরে আমরা বাড়ি


ফিরলাম তখনই বাচ্চারা বাড়ি এলো আর আমি


ঘরের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম হঠাৎ বাবার


ফোনে কল এলে তিনি দেখা করতে বাইরে চলে


গেলেন। আমি ঘর গুছানোর সময় ভাবছিলাম এই


বাড়ি এখন আমারও। পুরনো অ্যালবাম দেখতে


গিয়ে বাবার সঙ্গে মায়ের একটি ছবি দেখে


অদ্ভুত অস্বস্তি হলো। মনে হলো বাবার পাশে


থাকার অধিকার কেবল আমার। চিন্তা সরিয়ে


রাতের খাবার তৈরি করতে লাগলাম। কিছুক্ষণের


মধ্যেই বাবা ফিরে এলেন আর আমি খাবার টেবিল


সাজালাম। আমি বাবাকে ডাকার জন্য তার ঘরে


গিয়েছিলাম। তখন বাবা বললেন, নিশি তোমার


কেনা পোশাকগুলো পড়ে দেখেছো? মা ঠিক আছে


তো আমি লজ্জায় মুখ নামিয়ে বললাম হ্যাঁ


সব ঠিক আছে বাবা আবার বললেন একবার পড়ে


দেখো ভালো লাগবে আমি তখন মৃদু হাসলাম এবং


বললাম পরে দেখবো খাবার টেবিলে সবাই


একসঙ্গে বসেছিলাম বাবা মাঝে মাঝে আমাকে


দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন আর আমি লজ্জায় চোখ


নামিয়ে নিচ্ছিলাম সেদিনের পুরো সন্ধ্যাটা


আমার কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছিল মনে হচ্ছিল


আমাদের জীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে


চলেছে


রাতের খাবারের পর আমি বাচ্চাদের ঘুম


পাড়িয়ে রান্নাঘরে কিছু কাজ গুছাতে


গেলাম। হঠাৎ পেছন থেকে বাবার কন্ঠ শুনতে


পেলাম। নিশি তুমি কি জানো তুমি কতটা বদলে


গেছো। আমি ঘুরে তাকালাম এবং মৃদু হেসে


বললাম, আপনার কথার মানে কি? বাবা বাবা


বললেন, তোমার হাসি। তোমার যত্ন। এগুলো যেন


আমার জীবনের সব ক্লান্তি মুছে দেয়। আমি


লজ্জায় মাথা নিচু করে বললাম, আপনি এমন


কথা বলছেন কেন? বাইরে রিংকি যদি শোনে


তাহলে কি ভাববে বাবা আমার দিকে তাকিয়ে


বললেন তোমার উপস্থিতি আমার জীবনের সবচেয়ে


বড় আশীর্বাদ আমি আর কিছু বলতে পারলাম না


শুধু ভেসে রান্নাঘরের কাজ চালিয়ে গেলাম


কিছুক্ষণ পর বাবা আবার বললেন নিশি জানো


আমি তোমার মত জাদুকরী মেয়ে কখনো দেখিনি


তুমি আমার জীবনের সবকিছু পাল্টে দিয়েছো


এই কথা শুনে আমি লজ্জায় রান্নাঘর ছেড়ে


বেরিয়ে এলাম বন্ধুরা আজকের গল্প এখানেই


শেষ কিন্তু এরপর কি হলো সেটা জানতে হলে


অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী পর্বের জন্য।


যদি আপনারা বেশি করে কমেন্ট করেন যে পরের


পর্ব চাই তাহলে দ্রুতই আপলোড করে দেব।


আমাদের চ্যানেলে আরো অনেক সুন্দর গল্প


আপলোড করা আছে। সেগুলো দেখে আসতে পারেন।


আর অন্য কোন বিশেষ গল্প শুনতে চাইলে


অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। আপনাদের মতামত


আমাদের কাছে অনেক মূল্যবান গল্পগুলো ভালো


লাগলে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন


এবং গল্পটি শেয়ার



Comments

Popular posts from this blog

ভাই বোনের ওপেন ছুদা-ছুদি

ভাই বোনের আপন ছোট ভাই আমাকে চুদলো

বৃষ্টির রাতে দুধ গুলো আপেলের মতো খাচ্ছিলো