আপন মাকে ছুদলাম



আমাদের পাশের বাড়িতে একটি খুব সুন্দর


আন্টি থাকতেন। তিনি এতই ফর্সা ও হাসিখুশি


ছিলেন যে, যখনই তাকে দেখতাম আমার মনটা


কেমন জানি করতো। আন্টির স্বামী দেশের


বাইরে থাকতেন তাই আমার মনে হতো যদি তার


সঙ্গে কিছুটা মনের কথা ভাগ করে নিতে


পারতাম। কিন্তু আমি জানতাম না যে তিনি আগে


থেকেই আমার সাথে কথা বলতে চাইছিল। একদিন


আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ আন্টি


আমাকে ডেকে তার বাড়িতে নিয়ে গেলেন। আমি


ঘরে ঢুকে চুপচাপ বসে রইলাম। কিছুক্ষণ পর


আন্টি যখন ঘরে এলেন তখন তিনি হালকা পোশাক


পড়েছিলেন। যা তাকে অসাধারণ লাগছিল। তাকে


দেখে আমি কিছুটা অবাক হয়ে গেলাম। আমি


তাকে বললাম কেন আমাকে ডাকছেন।


তিনি কিছু না বলেই আমার পাশে বসলেন। তারপর


কিছু না বলেই বন্ধুরা আজকের গল্পটি


অনেকটাই স্পেশাল। তাই সবাই রেডি হয়ে যাও।


দয়া করে গল্পগুলো ভালো লাগলে ভিডিওটি


লাইক শেয়ার এবং চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব


করো প্লিজ। আমার নাম কুনাাল বয়স 20 বছর।


সাধারণ এক যুবক। তবে সাধারণ হলেও আমাদের


পাড়ার প্রায় সব মহিলাই যেন আমাকে অন্য


চোখে দেখতেন। প্রায় সবাই ছোটখাট কাজে


ডাকার জন্য আমায় খুঁজতেন। আমি যতবারই


বাড়ি থেকে বের হতাম কোথাও না কোথাও থেকে


একটি ডাক আসতো। কুনাাল একটু এদিকে আসো।


আমাদের একটু সাহায্য দরকার। আমি এসব কাজে


অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম যেন এক ধরনের


আনন্দ খুঁজে পেতাম। আমাদের পাড়ায় এক


আন্টি ছিলেন যার নাম জানার কখনো চেষ্টা


করিনি। শুধু আন্টি বলেই ডাকতাম। তার


স্বামী বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকতেন।


আর আন্টি একাই থাকুকতো। মাঝে মাঝে পাড়ার


লোকেরা তাকে নিয়ে নানা কথা বলতো। কিন্তু


আমি কখনো সেসব নিয়ে মাথা ঘামাতাম না।


একদিন দুপুরে যখন আমি বাড়ি থেকে বের


হচ্ছিলাম। তখন আন্টি আমাকে ডেকে তার


বাড়িতে নিয়ে গেলেন। তার কাছে যাওয়ার


আগে আমার মনে একটু দ্বিধা ছিল। তবে ভাবলাম


পাড়ার অন্যান্য মহিলারাও তো আমায় প্রায়


কাজে ডাকে। আন্টিও হয়তো কিছু জিনিস আনতে


বলবেন। আমি যখন তার দরজার কাছে পৌঁছালাম


তিনি হাসি মুখে বললেন, কুনাাল, তুমি কি


আমার জন্য কাছের দোকান থেকে একটা ডিভিডি


আনতে পারবে? প্রথমে আমি অবাক হয়ে গেলাম।


ভাবলাম এই যুগে ডিভিডি কেন? তবে বিষয়টি


বেশ মজারও লাগলো। মনে হচ্ছিল সবকিছু যেন


একটু অন্যরকম ছিল। আমি ধীরে ধীরে এক


অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে জড়িয়ে


পড়ছিলাম। সন্ধ্যা নামতেই আমি ডিভিডি


দোকানের দিকে রওনা হলাম। সেই দোকানটা আমার


এক বন্ধুর তাই মনে হলো হয়তো সে আমাকে


একটু সাহায্য করবে। দোকানে পৌঁছে আমি


বন্ধুর কাছে ডিভিডি প্লেয়ার চাইলাম।


কিছুটা দ্বিধা করার পর সে বলল, ঠিক আছে।


তবে একে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব কিন্তু


তোমার। আমি তার শর্ত মেনে নিলাম। কারণ আমি


চাইনি যে আন্টিকে হতাশ করতে। ডিভিডি


প্লেয়ার নিয়ে যখন আন্টির বাড়িতে


পৌঁছালাম তিনি আমাকে দেখে মৃদু হেসে


ধন্যবাদ জানালেন। আন্টির চোখে একটি অদ্ভুত


ভাব ছিল। যেন তার কথার পেছনে আরো কিছু


লুকিয়ে আছে। আমি যখন ডিভিডি প্লেয়ারটি


দরজার কাছে দেওয়ার চেষ্টা করলাম। তিনি


বললেন, ভেতরে এসে এটি আমাদের এলসিডির


সঙ্গে সেট করে দাও। কারণ আমি এই ব্যাপারটা


বুঝি না। আমি এসব কাজে দক্ষ ছিলাম। তাই


ভেতরে ঢুকে ডিভিডি প্লেয়ারটি ঠিক করে


দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আন্টির ঘরের


পরিবেশ আর তার আচরণ আমাকে এক ধরনের


আকর্ষণে জড়িয়ে ফেলেছিল। যখন আমি তার


বাড়িতে ঢুকে ডিভিডি প্লেয়ারটি সেট


করছিলাম প্রতিটি মুহূর্তে তার


প্রতিক্রিয়া আমার মধ্যে এক অন্যরকম


অনুভূতি তৈরি করছিল। চা খেতে খেতেই আমি


যখন সিনেমার দিকে তাকালাম দেখলাম একটি


মেয়ে নাচছে। তার নাচ আর সৌন্দর্য আমাকে


অবাক করে দিল। যেন সে অন্য কোন জগতের


মেয়ে চা কখন শেষ হয়ে গেল তা আমি টেরি


পেলাম না। ঠিক তখনই আন্টি মৃদু হেসে


বললেন, ও আমার মেয়ে আজ একটু অসুস্থ তাই


ঘুমাচ্ছে। আমি অবাক হয়ে গেলাম। কারণ আমি


কখনো আন্টির মেয়ের কথা শুনিনি। যখন


প্রথমবার তাকে দেখলাম। তার সৌন্দর্য আমাকে


মুগ্ধ করে দিল। আমি একটু অজুহাত দেখিয়ে


বললাম, আচ্ছা আন্টি এখন আমি যাই। আন্টি


হেসে বললেন, আরে এত তাড়াহুডো কেন? চা তো


খেলে এবার একটু বসো। আমি কোন উত্তর না


দিয়ে উঠে বাড়ির দিকে রওনা হলাম। কিন্তু


বাড়ি ফিরেও আমার মন পুরোপুরি সেই মেয়েটির


ভাবনায় ডুবে গেল। আন্টির মেয়ের চেহারাটা


যেন বারবার আমার সামনে ভেসে উঠছিল। আমি


ভাবতে লাগলাম আন্টির মেয়ে এত সুন্দর।


তাহলে আগে কখনো তাকে দেখিনি কেন? বাড়ি


ফিরে পড়াশোনায় মন দেওয়ার চেষ্টা


করছিলাম কিন্তু বারবার সেই মেয়েটির


হাসিমাখা মুখ আর তার সরলতা আমার চিন্তায়


ভেসে উঠছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম আন্টির


বাড়িতে যাওয়া মানে শুধু তার সঙ্গে দেখা


করা নয়। তার মেয়েরও একটা আকর্ষণ ছিল।


পরের দিন যখন আমি বাইরে যাচ্ছিলাম হঠাৎ


আন্টির কথা মনে পড়ল। আমি জানতাম না কবে


আবার তার সঙ্গে বা তার মেয়ের সঙ্গে দেখা


হবে। কিন্তু এক জিনিস নিশ্চিত ছিল। এবার


আমি আরো বেশি উৎসাহী হয়ে পড়েছিলাম তার


বাড়িতে যাওয়ার জন্য। এটা শুধু তার কাজ


করার কথা নয় বরং একটা অদৃশ্য টান ছিল যা


আমাকে তার দিকে নিয়ে যাচ্ছিল তখনই মনে


পড়লো ডিভিডি প্লেয়ারটি ফেরত নিয়ে আসতে


হবে। সেটাই অজুহাত করে আবার আন্টির


বাড়িতে গেলাম। আন্টি আমাকে দরজার কাছেই


ডিভিডি প্লেয়ারটি দিয়ে দিলেন এবং ভেতরে


আসতে বললেন না। আমি কিছুটা হতাশ হয়ে


গেলাম। কারণ হয়তো অপেক্ষা করছিলাম কখন


আবার তার বাড়িতে ঢোকার সুযোগ পাবো এবং


সেই সুন্দরী মেয়েটিকে দেখতে পাব অবশেষে


কয়েকদিন পরে আবার আন্টি আমাকে ডাকলেন


বাবা আমাদের মেশিনটা ঠিকভাবে কাজ করছে না


একটু দেখে দাও তো আমি তৎক্ষণাৎ তার


বাড়িতে গেলাম মেশিনটি পরীক্ষা করে দেখলাম


ভেতরে একটি কাপড় আটকে আছে কাপড়টি বের


করে মেশিনটি চালু করলাম এবং সেটি আবার কাজ


করতে শুরু করল এটা দেখে আন্টি খুশি হয়ে


বললেন ধন্যবাদ তুমি ঠিক করে দিলে ঠিক


হয়েছে এবার কাপড় ধোয়ার কাজটা করতে হবে


বলার পর আন্টি বললেন এখন আমার মেয়ের ওঠার


সময় হয়েছে আমি যখন উঠতে যাচ্ছিলাম আন্টি


বললেন আরে বসো তোমার জন্য কিছু খাবার


নিয়ে আসছি কিছুক্ষণ পর তিনি চা আর


বিস্কুট নিয়ে এলেন। আমি ভাবতে শুরু করলাম


আন্টির মেয়েও তো এই বাড়িতেই থাকে কিন্তু


তাকে এখনো দেখিনি। মনে মনে আগ্রহ বাড়ছিল


তাকে একবার দেখার জন্য। আমি তাকে বেশ


কয়েকদিন আগে দেখেছিলাম। কিন্তু কখনো


সামনাসামনি দেখা হয়নি। ভাবছিলাম যখন


আন্টি এত সুন্দর তার মেয়ে তো আরো সুন্দর


হবে। তখনই আন্টি বললেন, তুমি একটু বসো।


আমার মেয়েটা এই আসবে। তোমার সঙ্গে আলাপ


করিয়ে দেব। ঠিক সেই সময় তার মেয়ে ঘর


থেকে বেরিয়ে এল। সম্ভবত সে জানতো না যে


আমি এখানে আছি। তাই কোন ওনা ছাড়াই


বেরিয়ে এল। তাকে দেখে আমার চোখ বড় হয়ে


গেল। যেন এক পুড়ি আমার সামনে দাঁড়িয়ে


আছে। তার ভেজা চুল দেখে মনে হলো সে এখনই


স্নান করে এসেছে। সে একটি গোলাপি রঙের


পোশাক পড়েছিল যা তাকে একেবারে অপসার মত


লাগাচ্ছিল। আমি তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ালাম।


আন্টি তার মেয়েকে বললেন, এটা আমাদের


প্রতিবেশী কুনাাল খুব ভালো ছেলে। অনেক


কাজে সাহায্য করে আমাকে এটা শুনে তার


মেয়ে আমাকে একটু দেখে নিল এবং আবার নিজের


ঘরে চলে গেল। আন্টি বললেন, ও অপরিচিতদের


সঙ্গে বেশি কথা বলে না। ছোট বয়সেই অনেক


কষ্ট পেয়েছে ও। এরপর কথায় কথায় আমি তার


স্বামীর কথা জানতে চাইলাম। এই প্রশ্নে


তিনি কিছুটা অস্বস্তি বোধ করলেন। একটা


দীর্ঘশ্বাস নিলেন। তারপর বললেন, উনি গত 10


বছর ধরে বিদেশে আছেন। তবে কখনো আর ফিরে


আসেননি। উনি প্রতি সপ্তাহে টাকা পাঠান।


তাই আমাদের কোন কিছুর অভাব হয় না। আন্টি


বলতে শুরু করলেন। তবে আমার একটাই মেয়ে আর


আমার স্বামীও বিদেশে আছেন। তাই বাড়িতে


একজন পুরুষের উপস্থিতি সবসময় মিস করি।


যদি আমাদের বাড়িতে এমন একজন থাকতো যে সব


বাইরের কাজগুলো করে দিত। তার কথাগুলো বলার


সময় মুখে এক ধরনের অসহায়ত্ব দেখা


যাচ্ছিল। কেন জানিনা সেই মুহূর্তে তার


জন্য আমার মনে খুব মমতা জন্মালো। তাই আমি


বললাম আপনি চিন্তা করবেন না। যখনই কোন


কাজের দরকার হবে আমাকে ডেকে নেবেন। আমি


সবসময় সাহায্য করতে প্রস্তুত। আমার


প্রচুর সময় আছে। আমাকে আপনি নিজের মতোই


ভাবতে পারেন। আমার কথায় আন্টি খুব খুশি


হলেন। এরপর থেকে আমি প্রায়ই আন্টির


বাড়ির আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে শুরু করলাম।


আর তিনিও বাইরে এসে দাঁড়াতেন। যখনই তিনি


আমাকে দেখতেন তখনই বলতেন কুনাাল একটু


এদিকে এসো। আমাকে আটা এনে দাও। বা একটু


দুধ নিয়ে আসবে। আমি সবসময় দ্রুত তার


কাজগুলো করে দিতাম। একদিন আন্টি আমাকে


ডেকে বললেন, কুনাাল, একটু বাজার থেকে সবজি


নিয়ে আসো। মেয়ের জন্য বিশেষ কিছু রান্না


করতে ইচ্ছা করছে। আমি তৎক্ষণাৎ বাজারে


গেলাম। সবজি নিয়ে ফিরে আসার সময় দেখলাম


তার মেয়ে রান্নাঘরে।


সে চুপচাপ রান্না করছিল। তার প্রতিটি কাজ


খুব যত্নশীল আর শান্তভাবে করছিল। আমাকে


দেখে হালকা একটা হাসি দিল। যা আমার মন


ছুয়ে গেল। সে খুবই কম কথা বলতো। কিন্তু


তার চোখগুলো যেন অনেক কিছু বলে দিত। একদিন


আমি যখন আন্টির বাড়িতে গেলাম তিনি আমাকে


চায়ের জন্য ডেকে নিলেন। বললেন কুনাাল আজ


তোমার জন্য বিশেষ চা তৈরি করেছি। এসো বসো।


আমি তার সঙ্গে বসলাম এবং আমরা নানা বিষয়ে


গল্প করতে থাকলাম। আন্টি এখন তার পরিবার


এবং নিজের জীবনের গল্প বলতে শুরু করলেন।


তিনি জানালেন তার মেয়ের নাম তানিয়া। আর


সে তার বাবার খুব কাছের ছিল। যখন তার বাবা


বিদেশে চলে গেলেন তখন তানিয়া তাকে অনেক


মিস করতো এবং ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে


নিতে শুরু করল। আন্টির কথা শুনে তানিয়ার


প্রতি আমার সহানুভূতি আরো বাড়লো। আমি তার


জীবনের কঠিন সময়গুলো বোঝার চেষ্টা


করছিলাম। একদিন আমি তাদের বাড়ির সামনে


দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন এক মিষ্টি কন্ঠ


আমাকে ডাকলো। কুনাাল একটু এখানে আসবে। আমি


তাকিয়ে দেখি সেই ডাক তানিয়া দিয়েছিল।


আমি তার কাছে দৌড়ে গেলাম। তানিয়া বলল,


আজ মা অসুস্থ তাই দয়া করে একটু দুধ নিয়ে


আসতে পারবে। এটা শুনে আমি তৎক্ষণাৎ দোকানে


গিয়ে দুধ কিনে আনলাম। বাড়িতে ফিরে


দরজায় টোকা দিলাম। তানিয়া দরজা খুলল।


আমি বললাম, দুধ নিয়ে এলাম। এই নাও। তখন


তানিয়া একটু হেসে বলল, দয়া করে ভিতরে


এসে দুধটা হাতে দিয়ে যাও। আমি ভেতরে


ঢুকলাম। তারপর সে বলল, মায়ের পাশে একটু


বসে থাকো। আমি আন্টির ঘরে গিয়ে দেখি তিনি


বিশ্রাম নিচ্ছেন কিছুক্ষণ পর তানিয়া


আমাকে জিজ্ঞেস করল কুনাাল চা খাবে তার


স্বরে এমন কিছু ছিল যার কারণে আমার মুখ


থেকে শুধু জি কি শব্দটি বেরল কারণ আমি


কিছুটা নার্ভাস ছিলাম তবে তার মুখে একটা


অদ্ভুত হাসি ছিল যার মানে আমি বুঝতে


পারলাম না কিছুক্ষণ পর সে চা নিয়ে ঘরে


ঢুকলো এবং বলল আমার মা তোমার অনেক প্রশংসা


করছিলেন তুমি আসলে কি করো আমি উত্তরে


বললাম


সারাদিনই অবসরেই থাকি। এটা শুনে তানিয়া


হেসে উঠল। আমি লক্ষ্য করলাম সে যখন হাসে


তখন তাকে আরো সুন্দর দেখায়। তারপর হঠাৎ


তার মুখটা একটু বিষন্ন হয়ে গেল। আমি চা


খাওয়ার সময় আমি ভাবিনি যে ও এতটা কাছে এসে


বসবে। ও হঠাৎ আমার হাতটা ধরল এবং বলল,


কুনাাল, তুমি কাজ কেন করো না। তার এই কথায়


আমার চোখে পানি চলে এলো। আমি বললাম, আমার


বাবা মা মারা গেছেন আমি দিনে দুবেলা খাবার


পাই। তাই আয় করে আর কি করব? এটা শুনে সে


রেগে গিয়ে উঠে দাঁড়াতে লাগল। আমি বুঝলাম


এটাই সুযোগ। তাই তার হাত ধরে তাকে


থামালাম। সে তখন বলল, কুনাাল তুমি বিদেশে


চলে যাও। সেখানে গিয়ে অনেক টাকা কামাও


তারপর নিজের ঘর বানিয়ে নাও এবং বিয়ে করো।


পাড়ার লোক আর কতদিন তোমাকে সাহায্য করবে


এসব কথা বলে সে আলমারির কাছে গেল এবং


সেখান থেকে কিছু গহনা বের করে আমার হাতে


দিল। ও বলল, এগুলো আমার বিয়ের গহনা। এগুলো


এখন আর আমার কোন কাজে আসবে না। তুমি এগুলো


ধার হিসেবে নাও। বিদেশ থেকে ফিরে এসেই


ফেরত দিও। কথাগুলো বলে সে চোখ বন্ধ করল।


তার মুখে এক ধরনের অদ্ভুত শান্তি ছিল। আমি


তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম। এবার আর তাকে না


করবো না। আমি সেই গহনাগুলো নিলাম এবং


বললাম, তোমার এই উপকার আমি কোনদিন ভুলবো


না। এটা শুনে সে বলল, এটা উপকার নয়,


ভালোবাসা।


ভালোবাসার প্রতিদান কেউ দিতে পারে না।


তুমি আমার মায়ের জন্য অনেক কিছু করো। তাই


মা কিছুটা শান্তি পায়। এজন্যই আমি তোমাকে


সম্মান করি। না হলে কখনোই আমি আমার গহনা


কারো হাতে তুলে দিতাম না। তার এই কথাগুলো


আমার হৃদয়ে ঝড় তুলে দিল। আমি কখনো


ভাবিনি যে ও আমাকে এতটা বোঝে এবং এতটা


বিশ্বাস করে। যখন সে তার বিয়ের গহনা আমার


হাতে তুলে দিল এবং বলল, এটা ভালোবাসা, কোন


উপকার নয়, তখন আমি বুঝলাম তার


অনুভূতিগুলো আমার জন্য কতটা গভীর। তার এই


পদক্ষেপ আমার জন্য এক নতুন দিশা এবং নতুন


আশা দিল। আমার মনে তখন একটাই চিন্তা


বিদেশে যাওয়া। কঠোর পরিশ্রম করা এবং এত


টাকা উপার্জন করা যাতে আন্টি তার মেয়ের


বিয়ের জন্য কোন চিন্তা না করে। আমি কখনো


আন্টির দিকে তাকাতাম। আবার কখনো তার


মেয়ের দিকে আর কখনো নিজের দৃষ্টি নিচু


করতাম। আন্টির মেয়ে প্রায় 24 থেকে 25


বছর বয়সী হবে। কিন্তু তাকে দেখতে এতটাই


সুন্দর যে 18 বছরের মনে হতো। আমি তাকে


জিজ্ঞেস করলাম আপনি কি করেন? সে উত্তর দিল


আমি যখন 18 বছর বয়সে ছিলাম আমার বাবার


ইচ্ছায় আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু


বিয়ের কিছু মাসের মধ্যেই আমার স্বামীর


মৃত্যু হয়। আর আমার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা


আমাকে এই বলে বের করে দিল যে আমি নাকি


অমঙ্গল নিয়ে এসেছি। এটা শুনে আমি অবাক


হয়ে গেলাম। কারণ তাকে দেখে কখনোই মনে


হয়নি যে সে বিবাহিত। আমি যখন তার মুখের


দিকে তাকালাম তখন হঠাৎ আন্টির গলা শোনা


গেল। কুনাাল তোমার বিয়ে হয়েছে আমি মাথা


নেড়ে না বললাম তখন আন্টির মেয়ে বলল কেন


আমি বললাম আমি এখন মাত্র 20 বছরের এটা


শুনে সে বলল আজকাল ছেলেরা 18 বছর বয়সেও


বিয়ে করে ফেলে আমি উত্তর দিলাম আমার কোন


কাজকর্ম নেই তাই কি আমাকে বিয়ে করবে এটা


শুনে সে চুপ হয়ে গেল এরপর থেকে আমি কোন


না কোন অজুহাতে প্রায়ই তাদের বাড়িতে


যেতাম আন্টি আমাকে কখনো খোনো ঢুকতে মানা


করতেন না। আর এখন তার মেয়েও আমার সঙ্গে


সহজভাবে কথা বলতো। একদিন সে আমাকে বলল,


কুনাাল তুমি আর কতদিন এভাবে পাড়ার


মানুষের কাজ করে যাবে? নিজের জন্য কোন


কাজকর্ম কেন শুরু করো না যাতে তোমার বিয়ে


হতে পারে? এটা শুনে আমি বললাম, কোন ব্যবসা


বা কাজ শুরু করতে অনেক টাকা দরকার। যা


আমার কাছে নেই। তখন সে বলল, তুমি কি ধরনের


কাজ করতে চাও? আমি বললাম আমি বিদেশ যেতে


চাই কিন্তু টিকিট আর ভিসার জন্য


প্রযোজনীয় টাকা আমার কাছে নেই। এটা শুনে


সে আমার হাত ধরল এবং আমাকে তার ঘরে নিয়ে


গেল। সে তার পুরনো কিছু গয়না বের করে


আমার হাতে দিল এবং বলল এগুলো আমার বিয়ের


গয়না। যা মা আমাকে দিয়েছিলেন। এগুলো


আমার কোন কাজে লাগেনি। আমার ভাগ্যে হয়তো


ছিল না। তুমি এগুলো বিক্রি করে টাকা


যোগাড় করো যাতে তোমার স্বপ্ন পূরণ হয়।


এটা শুনে আমি আতঙ্কিত হয়ে বললাম, না আমি


এটা আন্টি আগেই আমাকে কথাটা বলেছিলেন যদিও


আমাদের পরিচয় বেশি দিনের ছিল না। আমি


ভাবছিলাম


কেন তিনি আমার প্রতি এত আস্থা দেখালেন।


এরপরের দুইদিন ওদের বাড়ির আশেপাশে


যায়নি। হয়তো সংকোচ বা ভয় কাজ করছিল।


তৃতীয় দিন আন্টি নিজেই আমার বাড়িতে এলেন


হয়তো এক ঘেমি কাটাতে। আমি দ্রুত


রান্নাঘরে গিয়ে তার জন্য চা বানাতে শুরু


করলাম। আন্টি হঠাৎ বললেন, দুইদিন হয়ে


গেল। তুমি আমাদের বাড়িতে আসোনি কেন? মনে


মনে আমি যেন এই প্রশ্নেরই অপেক্ষায়


ছিলাম। আমি হেসে বললাম, আপনি কি আমাকে মনে


করেছিলেন? এটা শুনে আন্টি বললেন, আমি আর


আমার মেয়ে দুজনেই তোমাকে খুব মনে করি।


আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার


মেয়েও আমাকে মনে করে। তখন তিনি বললেন,


হ্যাঁ। ওর জীবনে আমার আর তোমার মত আপনজন


ছাড়া আর কেউ নেই। এই পৃথিবীতে আর কে আছে


ওর জন্য?


তিনি একটু হাসলেন এবং বললেন তুমি খুব ভালো


মনের মানুষ। তাই আমরা তোমার সঙ্গে আমাদের


মনের কথা ভাগ করে নিতে পারি। ও তো ভেতর


থেকে অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। আন্টি আরো


বললেন, আমি ওর বাবাকে অনেকবার বলেছি।


মেয়েটার জন্য একটা ভালো ব্যবস্থা করতে।


আর কতদিন এভাবে ঘরে পড়ে থাকবে? মেয়ের


দ্বিতীয় বিয়ের কথা শুনে আমি অবাক হলাম।


আমি ভাবলাম আপনি কি সত্যিই আপনার মেয়ের


দ্বিতীয় বিয়ে দিতে চান? এটা শুনে আন্টি


বললেন হ্যাঁ একদম ও এখনো তরুণী সুন্দরী।


এতে ওর কি কোন ক্ষুত আছে? ওর কেবল ভাগ্য


খারাপ ছিল তাই শ্বশুরবাড়ি থেকে ওকে ফিরে


আসতে হয়েছে। যদি কোন ভালো ছেলে এসে আমার


মেয়ের জন্য প্রস্তাব দেয় আমি তৎক্ষণাৎ


রাজি হয়ে যাব। এটা শুনে আমি আন্টির কাছে


গিয়ে বসলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম আপনি কেমন


ছেলে চান আপনার মেয়ের জন্য? আন্টি বললেন,


একজন ভালো মানুষ। যে ভালো আয় করে। কারণ


আমার মেয়ে আমাদের ঘরেও সুখে থাকে। আমি


চাই ও স্বামীর ঘরেও আরামে থাকুক। ও যেন


কোন কষ্ট না পায় এটা শুনে আমি চুপ করে


গেলাম। সারারাত ভাবতে থাকলাম আমি তো একজন


ভালো মানুষ। কিন্তু এত টাকা কোথা থেকে


পাবো যাতে আন্টি মেয়ের হাত আমার হাতে


তুলে দেয় এই চিন্তায় দুদিন কেটে গেল। আর


আমি হতাশ হতে থাকলাম। হঠাৎ আমার মাথায়


একটা বুদ্ধি এলো। যদি আমি ওর কাছ থেকে


কিছু গহনা নিয়ে বিদেশ চলে যাই এবং


দিন-রাত পরিশ্রম করে নিজের একটা বাড়ি


তৈরি করি তাহলে হয়তো আন্টি রাজি হবেন। এই


ভাবনা আমাকে সাহস যোগিয়েছিল পরের দিন আমি


তাদের বাড়িতে গেলাম। আন্টিকে সালাম করার


পর আমি সরাসরি তাদের মেয়ের ঘরে ঢুকে


পড়লাম। সে তখন বিছানায় শুয়েছিল। তাকে


এভাবে দেখে আমি চোখ সরিয়ে নিলাম। কিন্তু


এখন ফিরে আসতে পারছিলাম না কারণ আমাকে ওর


সঙ্গে কিছু জরুরি কথা বলতে হতো। তাই আমি


সোফায় গিয়ে বসলাম। সে আমার দিকে তাকিয়ে


বলল, "তুমি এতদিন ধরে আমাদের বাড়িতে কেন


আসোনি? আমি তোমার উপর খুব রেগে আছি। এটা


শুনে আমি বললাম, আমি ভয় পেয়েছিলাম। তখন


সে হেসে উঠল, কেন? তুমি কি আমার থেকে ভয়


পেয়েছো? এটা শুনে আমি চুপ হয়ে গেলাম। সে


বিছানা থেকে উঠে এসে সোফায় বসল। তাকে এত


কাছাকাছি দেখে আমি নার্ভাস হয়ে গেলাম।


আমার কপালে ঘাম জমতে লাগলো। আমি ভেবেছিলাম


আমার চেয়ে ভালো কেউ তানিয়ার জন্য হতে


পারবে না। কিন্তু এটা এত সহজ ছিল না।


বিদেশে যেতে হলে আমাকে ভিসা আর প্রচুর


টাকার প্রয়োজন ছিল। এজন্য আমাকে একটা


পরিকল্পনা করতে হতো। সেদিন আন্টির বাড়ি


থেকে বের হয়ে আমি সরাসরি আমার বন্ধুর


কাছে গেলাম যার ভাই বিদেশে কাজ করতো। আমি


কিছু টাকা দিয়ে বললাম, আমার বিদেশে


যাওয়ার ব্যবস্থা করো। সে তার ভাইয়ের


সঙ্গে কথা বলল আর এক মাসের মধ্যেই আমার


বিদেশে যাওয়ার সব ব্যবস্থা হয়ে গেল। আমি


আন্টির বাড়িতে গিয়ে তাদের এই খবরটা


জানালাম। আন্টি একটু দুঃখ পেলেন এবং


বললেন, তুমি চলে গেলে আমাদের বাড়ির কাজ


কে করবে এটা শুনে আমি একটু হাসলাম। এরপর


তানিয়ার ঘরে গেলাম এবং তাকে এই সুখবরটা


দিলাম। সে অনেক খুশি হলো এবং বলল, কুনাাল


মন দিয়ে কাজ করো। আমি মুচকি হেসে বললাম


মন দিয়ে কাজ করবো না কারণ আমি তো আমার মন


এখানে রেখে যাচ্ছি এরপর আমি ফিরে এসে আমার


জিনিসপত্র গোছালাম এবং এয়ারপোর্টের দিকে


রওনা দিলাম প্রথম মাসটা আমার জন্য অনেক


কঠিন ছিল আমি আমার বন্ধুর ভাইয়ের অধীনে


কাজ করছিলাম যিনি আমাকে বিদেশে ডেকেছিলেন।


কাজটা কঠিন ছিল এবং বুঝতে আমার সময়


লেগেছিল। তবে এক মাস পর কাজ পুরোপুরি বুঝে


গেলাম। এরপরেই আমি আন্টিকে ফোন করে


জানালাম আমি সুস্থ আছি আন্টি আমার কথা


শুনে খুশি হলেন এবং অনেক দোয়া দিলেন।


তারপর তিনি ফোনটা তানিয়াকে দিলেন। আমার


বুক ধরফট করতে লাগলো। আমি বুঝতে পারছিলাম


না কি বলব। তানিয়া নিজেই কথা শুরু করল


এবং বলল, টাকা জমাতে থাকো। অথা খরচ করো


না। যেন তাড়াতাড়ি ফিরতে পারো এবং বিয়ে


করতে পারো। এটা শুনে আমি হেসে উঠলাম। মনে


হলো সেও হয়তো আমাকে ভালোবাসতে শুরু


করেছে। প্রতিটি সপ্তাহে আমি আন্টির


বাড়িতে ফোন করতাম। আন্টি কিছুক্ষণ আমার


সঙ্গে কথা বলার পর সবসময় ফোনটা তানিয়ার


হাতে তুলে দিতেন। এরপর আমরা অনেকক্ষণ ধরে


একে অপরের সঙ্গে গল্প করতাম। তানিয়ার


সঙ্গে কথা বললে আমার মন শান্তি পেত। আর


আমি আবার নতুন উদ্যমে কাজ করতে লাগতাম।


যখন প্রথমবার আমার বেতন পেলাম। তখন


তানিয়াকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম। আমি


তোমার জন্য বিদেশ থেকে কি উপহার পাঠাবো


এটা শুনে সে একটু লজ্জা পেল এবং বলল আমার


কিছু দরকার নেই আমি অনেকবার জোর করলাম


কিন্তু সে বারবার এড়িয়ে যেতে লাগলো আমি


মনে মনে ঠিক করলাম সে যেহেতু আমাকে এত


সাহায্য করেছে আমি ওকে অবশ্যই কিছু পাঠাবো


কিন্তু যখনই আমি উপহারের কথা বলতাম সে


লজ্জায় পড়ে যেত আমি প্রতি সপ্তাহে তাকে


ফোন করে জিজ্ঞেস করতাম তোমার জন্য কি


নিয়ে আসবো একদিন সে হেসে বলল যদি জেদ করো


কিছু একটা নিয়ে এসো। আমি হেসে বললাম,


আমারও একটা শর্ত আছে যা ফিরে এসে জানাবো।


সে চুপ হয়ে গেল। দুই বছর কেটে গেল। ভিসার


মেয়াদ শেষ হলেও নবায়ন করলাম কারণ দেশে


ফিরতে চাইছিলাম না। আমার লক্ষ্য ছিল


যথেষ্ট টাকা জমা করা। ব্যাংক ব্যালেন্স


ভালো হলেও মন সন্তুষ্ট ছিল না। ভাবতাম


তানিয়াকে উপহার দিয়ে বলব কত পরিশ্রম


করেছি। সব তোমার জন্য। একদিন কাজ


পর্যালোচনা করে দেখলাম সব প্রজেক্ট শেষ


করেছি। বসকে বেতন বাড়ানোর কথা বললে তারপর


সবকিছু দেখে তিনি পদোন্নতি দিলেন। যা


আমাকে আরো অনুপ্রাণিত করল। এরপর দেশে ফিরে


আন্টির সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি খুব খুশি


হলেন। আন্টি আমাকে দেখে খুশি হয়ে গলা


জড়িয়ে ধরলেন ও বললেন, তুমি তো আরো তরুণ


ও সুন্দর হয়ে গেছো। আমি তার সঙ্গে বসে


বললাম, আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই।


তিনি অবাক হলেও আপত্তি করেননি। কিন্তু মন


ভেঙে গেল যখন তার মেয়ে বলল কুনাাল তুমি


আমার চেয়ে অনেক ছোট এবং বিয়ের প্রস্তাব


প্রত্যাখ্যান করল আমি উপহার বের করে দিলাম


তারা খুশি মনে নিল এরপর পকেট থেকে টাকা


বের করে তানিয়াকে দিলাম যা সে আগে আমাকে


দিয়েছিল সে চুপচাপ টাকা নিয়ে আলমারিতে


রেখে দিল আমি বিদায় নিয়ে বাড়ি ফিরলাম


মন চাইছিল পরের দিনই আমেরিকায় চলে যাই


কারণ এখানে আর কেউ নেই রাতে খেতে ইচ্ছা


করছিল না তাই শুয়ে পড়লাম সকালে পাড়ার


লোকজন বলল, তোমার তো অনেক ভালো ভাগ্য।


কিন্তু ভেতরে ভেঙে পড়েছিলাম। এক সপ্তাহের


ছুটি নিয়ে এলেও দ্রুত ফেরার টিকিট


কাটলাম। যাওয়ার আগে শেষ চেষ্টা হিসেবে


আন্টির কাছে গিয়ে বললাম, আপনার মেয়েকে


রাজি করাতে পারলে সে আমার সঙ্গে সুখে


থাকবে। অবশেষে তানিয়া আমাদের কথা মেনে


নিল। এবার আমার আনন্দের সীমা ছিল না।


আমাদের বিয়ে হলো এবং আমি আমার ভালোবাসাকে


সঙ্গে নিয়ে বিদেশে ফিরে এলাম। এখন আমার


একটি ভালো চাকরি। নিজের একটি ঘর এবং


আমাদের তিনটি সন্তান রয়েছে। আমরা এখন


সুখে শান্তিতে আমাদের জীবন কাটাচ্ছি।


গল্পটা কেমন লাগলো জানাতে ভুলবে না। আরো


মজার মজার রোমান্টিক গল্প শুনতে চাইলে


ভিডিওটি লাইক, শেয়ার এবং চ্যানেলটি


সাবস্ক্রাইব করতে এবং বেল আইকনটি ক্লিক


করতে ভুলবে না। ধন্যবাদ।



Comments

Popular posts from this blog

ভাই বোনের ওপেন ছুদা-ছুদি

ভাই বোনের আপন ছোট ভাই আমাকে চুদলো

বৃষ্টির রাতে দুধ গুলো আপেলের মতো খাচ্ছিলো