যাদের ধন খাড়া হয় না তারা লুকিয়ে দেখুন
আজ আমি আপনাদের কাছে আমার জীবনের একটি
বিশেষ অধ্যায় শেয়ার করতে যাচ্ছি এই
গল্পটি প্রায় দুই বছর আগের যখন আমার বয়স
মাত্র 17 বছর ছিল আমার পরিবারের বাবা মা
এবং আমার দুই ছোট বোন ছিল তবে আমাদের জীবন
একটি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল
আমার বাবা যিনি খুবই সুন্দর এবং
দায়িত্বশীল
তাকে আমি নতুনভাবে দেখতে শুরু করলাম তিনি
এমন একজন যাকে দেখে মনে হতো তিনি এখনো
তরুণ বয়সমাত্র 28 29 এর মত তার
আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব তাকে আরো
আকর্ষণীয় করে তুলত কেন যেন তার
উপস্থিতিতে আলাদা একটা অনুভূতি হয় আমার
যখন আমার ছোট বোন রিঙ্কির জন্মের পর থেকে
মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মায়ের
শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতির পর একদিন
তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান সেই সময় আমি
মাত্র 15 বছর বয়সী ছিলাম মায়ের মৃত্যুর
পর আমাদের পারিবারিক জীবন বেশ কঠিন হয়ে
পড়ে আমাদের আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে
শুধুমাত্র একজন ফুপি আছেন যিনি অন্য একটি
শহরে থাকেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে
তিনি তার সন্তানদের নিয়ে কিছুদিনের জন্য
আমাদের কাছে চলে আসেন। মায়ের
অনুপস্থিতিতে ঘরের সব দায়িত্ব আমার উপর
পড়ে যার কারণে স্কুল ছাড়তে হয়। সময়
কেটে যেত বাড়ির কাজ ও ছোট বোনদের
দেখভালে। এই পরিস্থিতি আমাকে সময়ের আগে
পরিণত করে তুলেছিল। মায়ের সুখ এবং বাবার
ভেঙে পড়া আমাদের সবার জন্য কষ্টদায়ক
হলেও সামনে এগিয়ে যেতে চ্যালেঞ্জ
মোকাবিলা করতে শিখেছি। এইভাবে দিন কেটে
যাচ্ছিল। একদিন আমি এবং ফুপি বাবার ঘর
পরিষ্কার করছিলাম। যখন আমরা বিছানা ঠিক
করছিলাম তখন আমার মনে হলো বিছানার উপর
কিছু পড়ে আছে। আমি হাত দিয়ে স্পর্শ
করতেই দেখি সেটি কিছুটা আলাদা ধরনের।
প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো বাবার হাত থেকে
কিছু পড়ে গিয়েছে। তবে এটি কি? তা জানার
জন্য আমার ভেতরে কৌতুহল জাগে। আমি ফুপিকে
দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ফুপি এটা কি? আর
এটা এখানে কিভাবে এলো? ফুপি একজন বিবাহিত
মহিলা ছিলেন এবং বিশ্বাসটি তিনি দেখে
সঙ্গে সঙ্গে বুঝে যান। তবে তিনি আমাকে
কিছু বলেননি। শুধু বললেন, এটা পরিষ্কার
করে দাও। আমি আর কোন প্রশ্ন না করে সেটি
পরিষ্কার করে দিলাম। সারাদিন ফুপি কিছুটা
অস্বস্তিতে ছিলেন এবং খুব বেশি কথা
বলেননি। পরের দিন রাতে তিনি আমাকে ডেকে
বললেন মা আমি তোমার সঙ্গে কিছু কথা বলতে
চাই। তুমি যদি ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখো
তবে তুমি বুঝবে আমি যা বলছি তা তোমার ভালো
কিছুর জন্যই। আমি মাথা নেড়ে বললাম আপনি
যা বলবেন তাই করব। ফুপি বললেন আমি দুই তিন
দিনের মধ্যেই আমার বাড়িতে ফিরে যাব।
এরপরে এই বাড়ির সমস্ত দায়িত্ব তোমার উপর
থাকবে। ছোট বোনদের দেখাশোনার দায়িত্ব এখন
থেকে তোমাকেই নিতে হবে। একদম মায়ের মতো।
এখন তুমি শুধু তাদের বড় বোন নও। তুমি
তাদের জন্য মা ফুপি আরো বললেন, বাড়ির কাজ
শুধু একজন নারী সামলাতে পারে। তাই তোমাকে
এখন থেকে একটি মেয়ের মতো নয় বরং একজন
নারী হিসেবে বাড়ির দায়িত্ব নিতে হবে।
কারণ তোমার বাবা বাড়ির বাইরের কাজেই
ব্যস্ত থাকেন। এরপর তিনি আমার ছোট দুই
বোনকে ডেকে বললেন, আজ থেকে তোমরা তোমার
দিদিকে মা বলে ডাকবে। তারা দুজন মাথা
নেড়ে রাজি হলো। ফুপি তখন আমার দিকে
তাকিয়ে বললেন এখন তোমার ছোট বোনদের শুধু
একটি বড় বোন নয় বরং মায়ের প্রযোজন
ফুপির কথা শুনে আমি একটু অস্বস্তি বোধ
করলাম মনে হলো ভেতরে ভেতরে কিছু পরিবর্তন
হচ্ছে কিন্তু আমি কিছু বললাম না এরপর ফুপি
বললেন তুমি খাওয়ার প্রস্তুতি নাও তিনি
তার কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলেন আর আমি
রান্নার কাজে লেগে গেলাম রাতের খাবারের
সময় রিংকি বলল মা আমাকে সবজি দাও তার
মুখের মা ডাক শুনে আমি একটু লজ্জা পেয়ে
গেলাম। কারণ বাবাও তখন আমাদের সাথে
বসেছিলেন। বাবা কিছুটা অস্বস্তি বোধ
করলেন। তবে ফুপি তাকে বুঝিয়ে বললেন, বড়
বোন মানে মায়ের মতো। আমি তবুও বাবার দিকে
তাকাতে পারছিলাম না। আর আমার ছোট বোনেরা
আমাকে বারবার মা বলেই ডাকছিল। তবে আজ আমি
বাবার মুখে একটি আনন্দের হাসি দেখতে
পেলাম। যা দীর্ঘদিন পর তার মুখে ফুটে
উঠেছিল। খাওয়া শেষ হলে সবাই নিজেদের ঘরে
চলে গেল। আমি রান্নাঘরে থালাবাসন ধুতে
গেলাম। আজ মনে হচ্ছিল কিছু একটা বদলে
যাচ্ছে। সত্যিই এটি আমার জন্য একটি অদ্ভুত
পরিস্থিতি ছিল। থালাবাসন ধুয়ে আমি বিছানায়
চলে গেলাম। আমার ছোট দুই বোনও আমার সাথে
ঘুমাতে এল। সেদিন রাত্রি আমার জীবনের একটি
নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়ে রইল। মনের ভিতর
বাবার প্রতি আলাদা কিছু একটা কাজ করছে।
কিন্তু আমি তা বুঝতে পারছিলাম না। সারারাত
আমি এক অদ্ভুত চিন্তায় ডুবেছিলাম। পরের
দিন সকালে দুই ছোট বোনকে প্রস্তুত করে
স্কুলে পাঠিয়ে দিলাম। বাচ্চাদের স্কুলে
যাওয়ার পর বাবা বললেন, অর্পিতা আমার জন্য
নাস্তা তৈরি করে দাও। আমাকে অফিসে যেতে
হবে। আমি তাড়াতাড়ি নাস্তা বানিয়ে
দিলাম। আর বাবা চলে গেলেন। বাবার সামনে
আজও আমি চোখ তুলতে পারছিলাম না। কিন্তু
তার চোখে আজ আমি এক অন্যরকম উজ্জ্বলতা
দেখলাম যেন তিনি কিছু খুঁজে পেয়েছেন।
বাবা চলে যাওয়ার পর ফুপি আমাকে বললেন,
অর্পিতা তুমি এখন বেশ ভালোভাবেই বাড়ির
দায়িত্ব সামলাতে শিখে গেছো। তবে আরেকটি
বিষয় আছে তোমার বাবা এখান থেকে অন্য
জায়গায় পোস্টিং করাচ্ছেন। এক দুই
সপ্তাহের মধ্যেই নতুন জায়গায় চলে যাবেন
এবং তার জন্য একটি বাড়িও পেয়ে গেছেন।
আরেকটি কথা তুমি কি মনে করো তোমার মায়ের
মৃত্যুর পর তোমার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে
যাওয়া এবং তোমার উপর এত দায়িত্ব দেওয়া
ঠিক হয়েছে ? এই নিয়ে তুমি কি কিছু মনে
করো? আমি ফুপিকে বললাম, না ফুপি আমি খুশি
যে আমি বাড়ির দায়িত্ব নিতে পেরেছি। ফুপি
হাসলেন এবং বললেন এটা খুব ভালো কথা। এরপর
ফুপি আমাকে বললেন অর্পিতা তোমার বাবা এখন
ভেতরে ভেতরে তোমার মাকে খুব মিস করেন।
মায়ের অভাব তার উপর অনেক প্রভাব ফেলছে
এবং তার শরীরের অবস্থাও তেমন ভালো না। আমি
তার বোন হিসেবে কখনো চাই না যে তিনি তার
জীবন নষ্ট করে দিন। আমি জানি একজন পুরুষের
জন্য একা থাকা কতটা কঠিন। বিশেষত যখন তার
পরিবার রয়েছে। তাই আমি করি বাবার জীবনে
নুন করে সঙ্গী প্রয়োজন। আমি ফুপির কথা
কিছুটা অবাক হলেও বুঝতে পারলাম তিনি বাবার
জন্যই ভাবছেন আমি ফুপিকে বললাম তাহলে আপনি
বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন যাতে তিনি
নিজের জীবন আরো ভালোভাবে কাটাতে পারে ফুপি
তো দিন অর্পিতা আমি তাকে বোঝার চেষ্টা
করছি কিন্তু আমি জানি একমাত্র কোন নারী
তাকে পুরোপুরি বোঝাতে পারবে এতদিন তোমার
মা বেঁচে ছিলেন বলে আমি এ বিষয়ে কিছু
বলিনি কিন্তু এখন তোমার মায়ের অবর্তমানে
আমি ভাবছি তাকে নতুন করে জীবন শুরু করতে
সাহায্য করা উচিত ফুপি আরো বললেন, তোমার
বাবার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার জন্য
সহজ নয়। কিন্তু আমি চাই না তিনি নিজের
জীবন নষ্ট করে ফেলুন। তোমাদের তিন বোনের
ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমি এ সিদ্ধান্ত
নিয়েছি। তাই আমি মনে করি তোমার বাবার
জীবনে একজন নতুন সঙ্গী আসা দরকার। আমি
চুপচাপ ফুপির কথা শুনলাম এবং মনে মনে
বুঝতে পারলাম যে তিনি যা বলছেন তা
পরিবারের মঙ্গলেই বলছেন। ফুপি আমাকে বললেন
অর্পিতা তুমি সত্যিই অনেক ভালোভাবে
দায়িত্ব নিয়েছো। তবে আমি তোমার জন্য
একটু চিন্তিত। তোমার বাবার জীবনে এখন অনেক
শূন্যতা এসেছে এবং আমি চাই সেই শূন্যতা
যেন তাদের জীবনে কোন সমস্যা না নিয়ে আসে।
তোমার মায়ের অনুপস্থিতিতে তোমার বাবা
মানসিকভাবে ভীষণ একা হয়ে গেছেন। আমি
ফুপির কথা মন দিয়ে শুনছিলাম। ফুপি বললেন,
তুমি তো এখন বড় হয়েছো এবং অনেকটা তোমার
মায়ের মতোই দেখতে। তোমার বাবার জন্য একজন
সঙ্গী খুঁজে দেওয়া প্রয়োজন। তুমি কি মনে
করো? আমি একটু দ্বিধায় পড়ে গেলাম এবং
ফুপির কথা ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করলাম
আমি ফুপিকে বললাম ফুপি আমি বুঝতে পারছি
আপনার চিন্তা তবে এটি কিভাবে সম্ভব ফুপি
উত্তর দিলেন আমরা চাই তোমার বাবার জীবনে
কেউ আসুক যিনি তোমার মায়ের অভাব কিছুটা
পূরণ করতে পারবেন এতে করে তোমার বাবার
জীবন আর তোমাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ উজ্জল
হবে আমি ফুপির কথা শুনে ভাবতে লাগলাম তিনি
আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন যে জীবনের
এই শূন্যতা পূরণ করা দরকার
এবং আমি তাদের কথার অর্থ বুঝতে পেরেছিলাম।
তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার
জন্য সময় দরকার। আমি বললাম ফুপি আপনার
কথা আমি বুঝেছি। তবে এই বিষয়ে ভাবার জন্য
আমাকে কিছুটা সময় দিন। ফুপি আমাকে
সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, ঠিক আছে তুমি সময়
নিয়ে ভেবে দেখো। তোমার পরিবারের ভালোর
জন্যই আমি এ কথা বলছি। এরপর দিনগুলো কেটে
যেতে লাগলো। ফুপি আমাদের পাশে থেকে সবসময়
সাহায্য করতেন এবং আমাদের জন্য আরো ভালো
ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিলেন। আমি বুঝতে
পারছিলাম জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা
করতে ধৈর্য আর সহানুভূতি প্রয়োজন। ফুপি
একদিন আমাকে বললেন, নিশি তুমি এখন অনেক
বড় হয়ে গেছো। তোমার উপর দায়িত্ব অনেক
বেড়েছে। আমি তোমার ভালো চাই এবং তোমার
ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি। তোমার বাবার জীবনে
এখন অনেক শূন্যতা এসেছে যা আমাদের ঠিক
করতে হবে। আমি ফুপির কথা শুনে কিছুটা
বিধায় পড়ে গেলাম তিনি আমার দিকে তাকিয়ে
বললেন তোমার বাবার জীবনে একজন সঙ্গী
প্রযোজন তোমার মায়ের অভাব তিনি গভীরভাবে
অনুভব করছেন এবং আমরা চাই তিনি আবার
স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন আমি কিছুটা
অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ফুপি আপনি কি
বলতে চান তিনি বললেন তুমি তো দেখেছো তোমার
বাবা কতটা ভালো মানুষ তবে একা জীবন কাটানো
সহজ নয় যদি তার জীবনে একজন ভালো সঙ্গী
আসে তাহলে তিনি আবার সুখী হতে পারবেন এবং
তোমাদের পরিবারের জন্য এটি ভালো হবে। আমি
ফুপির কথাগুলো মন দিয়ে ভাবতে লাগলাম।
তিনি বললেন, তুমি তো অনেক দায়িত্বশীল।
তোমার ছোট বোনদের দেখাশোনা করছো, ঘর
সামলাচ্ছো। এখন তোমার বাবার জীবনেও কিছু
পরিবর্তন আনতে হবে। আমি শুধু চাই তোমরা
সবাই ভালো থাকো। আমি বললাম, ফুপি আমি
বুঝতে পারছি। তবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত
নিতে আমাকে সময় দিতে হবে। ফুপি বললেন ঠিক
আছে তুমি ভেবে দেখো আমি জানি তুমি সবসময়
সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে আর তোমার বাপকেও
তোমাকেই সামলাতে হবে এরপর আমি অনেক সময়
নিয়ে বিষয়টি নিয়ে ভাবলাম বাবার খুশি আর
আমাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা
সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমি বুঝলাম
জীবন চলতে থাকে এবং অনেক সময় নতুন
সিদ্ধান্তই আমাদের জন্য সঠিক পথ দেখায়
তোমার বাবার মধ্যে এখনো অনেক ভালো মনের
মানুষ আর অনেক সুন্দর এবং আমি মনে করি যদি
তিনি আজ তোমার মত একটি মেয়েকে প্রপোজ
করেন তবে হয়তো কেউ না বলবে না তাহলে তুমি
কেন বলবে না তিনি তোমাকে সবভাবে সুখী
রাখতে পারবেন তোমরা দুজন একে অপরকে খুব
ভালোভাবে জানো একটি কথা মনে রেখো তুমি
একবার বলেছিলে তুমি তোমার জীবনে কখনোই এ
সিদ্ধান্তে অনুতাপ বোধ করবে না তোমার কাছে
এত আনন্দ আসবে বল তুমি কি মনে করো আমি
বললাম তিনি আমার বাবা এবং আমি তার সন্তান
তিনি আমাকে জন্ম দিয়েছেন এবং আমি এখনো
মাত্র 15 বছর বয়সী। আমি তো এখনো হাই
স্কুলও শেষ করিনি। তিনি কখনোই এটা মেনে
নেবেন না। আমাকে কিছু সময় প্রয়োজন
চিন্তা করার জন্য। তখন যদিও আমার ফুপি বলল
দুই ঘন্টা পরে তোমার বাবা বাড়ি ফিরবে এবং
আমাকে বাস স্ট্যান্ডে নামিয়ে দেবে।
সুতরাং তোমার উচিত এখনই চিন্তা করা। আমি
বললাম এটা তো খুবই কম সময়। ফুপি বলল,
শুধু দুই ঘন্টার মধ্যেই তোমাকে সিদ্ধান্ত
নিতে হবে। তুমি আমার ভাইয়ের বউ হবে না
আমি তোমার ফুপি হিসেবেই থাকবো এরপর ফুপি
অন্য ঘরে গিয়ে প্যাকিং শুরু করল এবং আমি
আমার ঘরে বসে বাবার কথা ভাবতে লাগলাম আমার
বাবার উচ্চতা প্রায় 5 ফুট এক ইঞ্চি তিনি
লম্বা এবং শক্তপোক্ত এবং তার চেহারা একদম
সঞ্জয় দত্তের মতো বয়সও 28 বছরের মত মনে
হয় আজ কেন যেন তার উপস্থিতিতে আলাদা একটা
অনুভূতি হচ্ছে এভাবেই এগিয়ে গেল আমার
চিন্তা আমার জীবনে অনেক কিছু পরিবর্তন
এসেছে বোনেরা যখন আমাকে মা বলে ডাকতে শুরু
করল তখন থেকেই মনে হচ্ছিল যেন আমি আরো
পরিণত হচ্ছি। বাড়ির দায়িত্ব নেওয়া
ছোটদের দেখভাল করা সবকিছু আমাকে বড় হতে
শিখিয়েছে। কিন্তু একটি অদ্ভুত অনুভূতি
আমার মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল আমার বাবা।
যিনি অসম্ভব রূপবান এবং দায়িত্বশীল তাকে
আমি অন্য এক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শুরু
করলাম।
তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যাকে দেখলে
মনে হতো তিনি এখনো তরুণ মাত্র 28, 29 বছর
বয়সের। তার আত্মবিশ্বাস এবং ব্যক্তিত্ব
তাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলুত। একদিন
বাড়িতে ফুপি আমাকে বললেন, তোমার বাবা
তোমাকে খুব গর্বিত করে তুলবে। তিনি তোমার
জন্য সবকিছু করতে পারবেন। এই কথা শোনার পর
আমি ভীষণ লজ্জিত হয়ে গেলাম। ফুপির কথার
গভীরতা বুঝতে পারলেও আমি নিজের মধ্যে সেই
অনুভূতি নিয়ে নীরব ছিলাম। সেদিন আয়নার
সামনে দাঁড়িয়ে লাল রঙের সালোয়ার কামিজ
পড়া অবস্থায় নিজেকে দেখে মনে হলো আমি কি
সত্যি এত বড় হয়ে গেছি আমার মনে প্রশ্ন
জাগলো আমি কি আসলেই কাউকে জীবনসঙ্গী
হিসেবে পাওয়ার যোগ্য হয়ে উঠেছি এই
ভাবনাগুলো আমাকে বিভ্রান্ত করতো আমি
বাবাকে সবসময় একজন শক্তিশালী এবং
নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবেই দেখতাম
কিন্তু আজ এই ভাবনাগুলো আমার মনের গভীরে
নতুন প্রশ্ন তৈরি করছিল আমি কি নিজেকে
বুঝতে পারছি নাকি এই অনুভূতিগুলো কেবল
মনের এক ধরনের খেলা। আমার মন যখন এসব
ভাবনায় ডুবেছিল তখন মনে হলো এই
অনুভূতিগুলোকে কেবল একটি দায়িত্বপূর্ণ
সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখতে হবে।
কারণ বাবা হলেন এমন এক ব্যক্তি যিনি
পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে ভালোবাসার
শক্তিতে বাঁধতে পারেন। তার প্রতি আমার
শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা আমার মনকে আরো শান্ত
এবং সুস্থির করে তুলল। আমার জীবনে এক
অদ্ভুত সময় এসেছে। ফুপি মাঝে মাঝে এমন
কিছু কথা বলেন যা আমাকে গভীরভাবে ভাবতে
বাধ্য করে। আজ তিনি বললেন, তুমি এখন একজন
পরিপূর্ণ নারী। তুমি নিজেই নিজের জীবন
গড়তে পারবে। এই কথাগুলো আমাকে ভাবিয়ে
তুলল। আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের
প্রতিচ্ছবি দেখছিলাম। নিজেকে দেখে হঠাৎ
মনে হলো আমি কি সত্যি একজন জীবনসঙ্গী
খোঁজার উপযুক্ত হয়ে গেছি? বাবা সবসময়
বলতেন নিজের যোগ্যতা এবং স্বপ্নের প্রতি
সৎ থেকো। এই কথাগুলোই আমাকে অনুপ্রাণিত
করতো। বাবা যিনি আমাদের পরিবারের মজবুত
ভিত্তি তাকে দেখে সবসময় মনে হতো তিনি
কেবল একজন আদর্শ মানুষই নন বরং একজন আদর্শ
জীবনসঙ্গী হিসেবেও অনন্য। তার দৃঢ
ব্যক্তিত্ব এবং কোমল হৃদয় আমাকে ভাবিয়ে
তুলতো। আমি কখনোই এই দৃষ্টিকোণ থেকে
বাবাকে ভাবিনি। কিন্তু ফুপির কথাগুলো যেন
আমার মনের গোপন দরজাগুলো খুলে দিয়েছে।
আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুল ঠিক
করছিলাম। তখন মনে হলো এমন একজন জীবনসঙ্গী
পেলে কেমন হয় যিনি বাবার মত দায়িত্বশীল
যত্নশীল এবং শক্তিশালী। সেই ভাবনা আমাকে
আরো সাহস দিল, কারণ জীবনে এমন একজন সঙ্গীর
প্রযোজন যিনি শুধু ভালোবাসা দেবেন না বরং
জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জে পাশে
দাঁড়াবেন। হঠাৎ আমার চোখ পড়লো টেবিলে
রাখা বাবার ছবির দিকে।
ছবিটি হাতে তুলে নিয়ে আমি গভীরভাবে দেখতে
শুরু করলাম ছবির প্রতিটি ভাত যেন তার
জীবনের গল্প বলছিল তার আত্মবিশ্বাসী হাসি
তার দৃঢ চাহনি সবকিছু আমাকে গভীরভাবে
মুগ্ধ করল বাবার প্রতি আমার শ্রদ্ধা এবং
ভালোবাসা নতুনভাবে জাগ্রত হলো আমি বুঝতে
পারলাম জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো
এমন একজন সঙ্গী খুঁজে পাওয়া যিনি
শুধুমাত্র ভালোবাসবেন না বরং জীবনের
প্রতিটি মুহূর্তে সমানভাবে পাশে থাকবেন
সকালে রোজ জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকছি ছিল। আর
আমি বিছানায় বসে ভাবছিলাম জীবন কিভাবে
পরিবর্তন আনতে পারে। ফুপি সেদিন আমাকে
বলেছিলেন,
তুমি এখন এমন একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে
নেওয়ার জন্য প্রস্তুত যিনি শুধু তোমার
নয় তোমার পরিবারের জন্যও দায়িত্ব নেবেন।
এই কথা আমার মনকে অনেক প্রশ্নে জড়িয়ে
ফেলল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের
প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো আমি কি সত্যিই এত
বড় হয়ে গেছি যে আমার নিজের ভবিষ্যৎ
নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফুপির কথা
আমাকে অনেক কিছু ভাবতে বাধ্য করেছিল?
তিনি সবসময় চাইতেন আমি এমন কাউকে বেছে
নিই যিনি আমাদের পরিবারের প্রতি
দায়িত্বশীল হবেন একদিন বাবা একটু
তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলেন। তিনি ফুপিকে বাস
স্ট্যান্ডে পৌঁছে দিতে যাবেন। আমি বাবাকে
দেখে ভীষণ খুশি হলাম। তার উপস্থিতি সবসময়
আমাকে আনন্দ দেয়। আজ যেন সেই আনন্দের
মাত্রা আরো বেড়ে গিয়েছিল। ফুপি আমার ঘরে
এসে বললেন, তুমি কি ভাবছো? তুমি কি এমন
একজন জীবনসঙ্গী চাও যিনি তোমার বাবার মত
দায়িত্বশীল এবং সৎ? আমি লজ্জায় মাথা
নিচু করলাম। ফুপি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি
হেসে বললেন, তোমার মতামত জানানো খুব
জরুরি। তুমি কি সেই দায়িত্ব নিতে
প্রস্তুত? আমি লাজুকভাবে মাথা নেড়ে
সম্মতি জানালাম। ফুপি খুশিতে আমাকে
জড়িয়ে ধরে বললেন, এই সিদ্ধান্ত তোমার
জীবনে সুখ বয়ে আনবে। তুমি একজন শক্তিশালী
নারী। এবং তোমার নির্বাচিত পথেই তোমার
ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। বাবার দিকে তাকিয়ে
আমার মনে হলো তিনি শুধু একজন আদর্শ পিতা
নন বরং এমন একজন মানুষ যিনি যে কারো জীবনে
স্থিতিশীলতা আনতে পারেন। তার প্রতি আমার
শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা আরো বেড়ে গেল। আমি
নিজের মনে প্রতিজ্ঞা করলাম জীবনে যাই
আসুক। আমি সবসময় পরিবারের প্রতি
দায়িত্বশীল থাকবো। ফুপি আমাকে মুচকি হেসে
বললেন নিশি তুমি এখন শুধু এই পরিবারের
সদস্য নও বরং এর মেরুদন্ড তোমার দায়িত্ব
এখন অনেক বড় তার কথাগুলো শুনে আমি প্রথমে
কিছুটা অবাক হলাম আমি বললাম ফুপি আপনি কেন
এত আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলছেন আপনি আমাকে
তুমি বলুন না এতে আমি স্বস্তি পাই ফুপি
আমার মাথায় হাত রেখে বললেন না এখন থেকে
আমি তোমাকে সম্মানের সঙ্গে তুমি না বলে
আপনি বলব কারণ তুমি এখন এই পরিবারের কর্তা
এবং আমাদের সবার সম্মান তোমার প্রতি রইল
আমি তার কথার অর্থ বুঝতে পারছিলাম না তাই
অবাক হয়ে তার দিকে তাকালাম তিনি আমার
কাঁধে হাত রেখে বললেন তুমি জানো পরিবারের
সবাই তোমার উপর নির্ভরশীল তোমার উপস্থিতি
শুধু এই বাড়ির নয় এই পরিবারের শক্তি
তোমার এই জায়গা পেয়ে আমি গর্বিত আমি
লজ্জায় মুখ নিচু করে বললাম ফুপি আমি কি
সত্যিই এত বড় হয়ে গেছি ফুপি আমার মুখের
দিকে তাকিয়ে বললেন তুমি জানো বাড়ির
মেয়ে হওয়ার পাশাপাশি তুমি এই পরিবারের
সবার ভর্ষার জায়গা। তোমার দায়িত্ব শুধু
নিজের জন্য নয় পুরো পরিবারের জন্য। তারপর
ফুপি আমাকে মায়ের পুরনো আলমারির কাছে
নিয়ে গেলেন। তিনি আলমারির একটি অংশ খুলে
বললেন, এই জিনিসগুলো সব তোমার জন্য রেখে
গিয়েছেন। এগুলো এখন তোমার। তুমি যেমন
আমাদের বাড়ির লক্ষ্মী তেমনি এই পরিবারের
ভবিষ্যৎ তোমার হাতে। আমি তার কথায়
আবেগপ্রবণ হয়ে গেলাম। মনে হলো আমি সত্যিই
এমন একটি সম্পর্কের মধ্যে আছি যা আমাকে
আরো শক্তিশালী করে তুলছে। ফুপির কথাগুলো
আমার মনের গভীরে গিয়ে পৌঁছালো।
তিনি আবার মুচকি হেসে বললেন তোমার
দায়িত্ব শুধু বাড়ি সামলানো নয়
সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা। আমি জানি
তুমি সেটা করতে পারবে। আমি লজ্জায় মৃদু
হেসে বললাম, ফুপি আমি চেষ্টা করবো। একদিন
সন্ধ্যায় ফুপি আমাকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে
গেলেন। ঘরে ঢুকেই তিনি আলমারির একটি দরজা
খুললেন এবং ভেতর থেকে একটি পুরনো গয়নার
বাক্স বের করলেন। তিনি সেটি আমার হাতে
তুলে দিয়ে বললেন, এই হাড়টি আমাদের
পরিবারের বুদের দেওয়া হয়। এটি এখন
তোমার। তুমি আমাদের বাড়ির নতুন লক্ষ্মী।
আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকালাম।
তিনি আলমারির ভেতর থেকে আরো কিছু শাড়ি
বের করে বললেন, এই শাড়িগুলো তোমার জন্য
রাখা হয়েছে। দেখো সব ব্লাউজ তোমার মাপ
অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। আমি লজ্জায়
নিচু হয়ে বললাম, ফুপি এসব কেন করছেন? আগে
তো বাবার সঙ্গে কথা বলুন তার মতামত নেওয়া
দরকার। ফুপি মুচকি হেসে বললেন, তুমি এত
ভাবছো কেন? আমি জানি তিনি রাজি হবেন। আর
যদি না হন, তবে সেটা আমার দায়িত্ব। তুমি
শুধু নিজের উপর বিশ্বাস রাখো। তার কথায়
আমার মনে একটি দ্বিধা কাজ করছিল। আমি
বললাম ফুপি যদি এই সম্পর্ক হয় তবে রিংকি
আর পিঙ্কির ভবিষ্যৎ কি হবে? আমি কি তাদের
মা হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারব? ফুপি আমার
হাত ধরে বললেন, তুমি আগে থেকেই তাদের মা।
তোমার প্রতি তাদের যে ভালোবাসা সেটা কখনোই
কমবে না। আর ভবিষ্যতে যদি তোমরা নিজের
সন্তানও আনো তবু সেই ভালোবাসায় কোন ভাগ
হবে না। সম্পর্কের মাধুর্য কেবল ভালোবাসা
দিয়ে বাড়ে কমে না। আমি তার কথায় কিছুটা
শান্তি পেলাম। কিন্তু লজ্জায় মুখ নিচু
করে বললাম, ফুপি আমি এই সম্পর্কের জন্য
যোগ্য হতে চাই। আমাকে কিছু সময় দিন। আমি
চাই সবাই আমাকে গ্রহণ করুক। ফুপি হেসে
বললেন, সময় তো সব ঠিক করে দেবে। তবে একটি
কথা মনে রাখবে
দায়িত্ব আর ভালোবাসা একসঙ্গে চলতে পারে।
তুমি নিজের প্রতি এবং পরিবারের প্রতি
আস্থা রাখো। তুমি এই পরিবারের নতুন শক্তি।
আমি তার কথায় একটি নতুন দায়িত্ব অনুভব
করলাম। মনে হলো এই নতুন সম্পর্ক শুধু আমার
নয় পুরো পরিবারের মঙ্গলের জন্য। আমি ধীরে
ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করব এবং সবাইকে
নিয়ে সুখী পরিবার গড়ে তুলব। সন্ধ্যার
সময় ফুপি বললেন, নিশি তুমি আমাদের সঙ্গে
বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত চলো। ফুপিকে বিদায়
জানাতে হবে। আমি একটু ইতস্তত করলাম। তবে
ফুপির কথা মেনে নিলাম। বাবা গাড়ির ডিগিতে
ফুপির ব্যাগ রেখে দিলেন। ফুপি বললেন, তুমি
সামনের সিটে বসো। আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে
সামনের সিটে বসে পড়লাম। আজ জেন এই সামনের
সিটে বসে আলাদা একটা অনুভূতি হচ্ছিল বাস
স্ট্যান্ডে পৌঁছে ফুপিকে বিদায় জানিয়ে
আমরা বাড়ি ফিরলাম পথে বাবা গাড়ি চালানোর
সময় মৃদু গুনগুন করছিলেন মাঝে মাঝে চোর
দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন এ দৃশ্য
আমাকে খানিকটা লজ্জায় ফেলল বাড়ি পৌঁছে
বাবা নিজের ঘরে চলে গেলেন আমি তখন
বাচ্চাদের জন্য দুপুরের খাবার তৈরি করতে
ব্যস্ত ছিলাম সন্ধ্যায় আমি রান্নাঘরে কাজ
করছিলাম আমরা সবাই একসঙ্গে বসে খাই কিন্তু
আজ আমি আগে বাবাকে এবং বাচ্চাদের খাইয়ে
দিলাম। বাবা আমাকে একসঙ্গে বসে খেতে
বললেন। আমি লাজুক হাসি দিয়ে বললাম,
আপনারা খান আমি পড়ে খাচ্ছি। সবাই খেয়ে
নিজের নিজের ঘরে চলে গেল। বাবার প্লেটগুলো
উঠাতে গিয়ে আমি হঠাৎ থেমে গেলাম। আমি
ভাবলাম কেননা বাবার বেঁচে যাওয়া খাবার
থেকেই আজ আমি খাই। আমি বাবার গ্লাসে পানি
ঢেলে সেটা নিজের ঠোঁটে ছুঁয়ে নিলাম। তখন
যেন আমার ভেতরে একটা অদ্ভুত অনুভূতি কাজ
করল। কেন জানি মনে হলো এটা যেন আমার
দায়িত্ব ফুপির কথাগুলো মনে পড়লো তুমি
একদিন এই বাড়ির সবকিছু বুঝে নেবে
সম্পর্কের মানে বুঝতে সময় লাগবে কিন্তু
তুমি সফল হবে ফুপির ওই কথাগুলো মনে করিয়ে
দিল সম্পর্কের গভীরতা শুধু দায়িত্বে নয়
সেখানে আবেগও জড়িয়ে থাকে এই ভেবে আমি
নিজেকে শক্ত করলাম এবং মনে মনে বললাম আমি
নতুন দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত এই সম্পর্ককে
ভালোবাসা এবং দায়িত্ব দিয়ে সফল করতে আমি
চেষ্টা করব সন্ধ্যার পর ভাবতে বসেছিলাম
ফুপির কথাগুলো কতটা সঠিক। ফুপি আমাকে নতুন
সম্পর্কের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা
বলেছিলেন। কিন্তু বাবা কি আসলেই এই
সম্পর্কে রাজি হবেন? আমার মনে দ্বিধা ছিল।
ফুপি কি এই বিষয়ে বাবার সাথে কথা বলেছেন?
বাবার ঘরের সামনে দাঁড়ালাম। দরজার ফাঁক
দিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম। বাবার ঘরের
জানালাটা খোলা ছিল তাই দূর থেকেই স্পষ্ট
দেখতে পেলাম। বাবা একা বসে কি যেন
ভাবছিলেন। হঠাৎই মনে হলো ফুপির কথাগুলো
শুধুই কল্পনা নয়। বাবা হয়তো অনেক আগে
থেকেই এই নতুন সম্পর্কের কথা ভেবেছেন।
সকালবেলা বাবার যে দৃষ্টি আমার দিকে ছিল
তা আজ আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল। সেটা
শুধুই বাবার স্নেহময় দৃষ্টি ছিল না। বরং
যেন এক নতুন দায়িত্ব এবং সম্পর্কের প্রতি
প্রস্তুতির ইঙ্গিত। ফুপি নিশ্চয়ই বাবার
সাথে কথা বলেছিলেন। আর তাতেই বাবা এই
সিদ্ধান্তে এসেছেন আমি নিজের ঘরে ফিরে
এলাম। কিন্তু ঘুম যেন হারিয়ে গেছে। বাবার
মুখটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। তার
চোখের মৃদু হাসি, তার চিন্তাগ্রস্ত মুখ
সবকিছুই আমাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য
করছিল। বুঝলাম ফুপির সিদ্ধান্তের সাথে
সাথে বাবাও নিজের মনের মধ্যে এই নতুন
সম্পর্ককে গ্রহণ করেছেন। আস্তে আস্তে আমি
নিজের দায়িত্ব বুঝতে পারলাম। ফুপি আমাকে
যে শাড়িগুলো দিয়েছিলেন সেগুলো আলমারি
থেকে বের করলাম। একটি সুন্দর শাড়ি আর
মানানসি ব্লাউজ বেছে নিলাম। বাথরুমে ঢুকে
শাড়ি পড়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালাম। নতুন
এই সাজে নিজেকে দেখে আমার মনের মধ্যে এক
অন্যরকম অনুভূতি হলো। নিজেকে মনে হলো যেন
এই বাড়ির একজন নতুন সদস্য নতুন দায়িত্ব
নিতে প্রস্তুত। বুঝতে পারলাম ফুপি এবং
বাবা দুজনেই আমাকে এক ভিন্ন দৃষ্টিতে
দেখছেন। আমি নিজেকে সাহস দিলাম এই
সম্পর্ককে সুন্দর করে গড়ে তোলার দায়িত্ব
আমার। আমি সেটা অবশ্যই পালন করব। সকালে
ফুপির দেওয়া শাড়ি পড়ে ড্রেসিং টেবিল
টেবিল সামনে দাঁড়ালাম।
শাড়ির সঙ্গে মায়ের গলনাগুলো পড়তে ইচ্ছা
হলো। একে একে সেগুলো পড়তে লাগলাম। গলায়
হার, হাতে সোনার চুরি, পায়ে নুপুর। শেষে
মায়ের রেখে যাওয়া সিদুর আর মঙ্গলসূত্রটা
গলায় পড়ে নিজেকে আয়নায় দেখলাম। যেন
নতুন কণের মতো লাগছিলাম। নিজেকে এই রূপে
দেখে নিজের মধ্যে একটু লজ্জা আর একটু
আনন্দ অনুভব করছিলাম। পরের দিন রবিবার।
বাবা এসে বললেন, অর্পিতা আজ বাইরে একটু
ঘুরে আসি। বাবার মুখে এই প্রস্তাব শুনে
অবাক হলাম। তিনি আজ এত খুশি কেন? তার চোখে
এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস। আমিও মুচকি হেসে
বললাম, ঠিক আছে বাবা বাচ্চারা আর আমি তৈরি
হয়ে নিচ্ছিলাম। এরই মধ্যে বাবা আমার হাতে
একটা প্যাকেট দিলেন। বললেন, এটা তোমার
জন্য। পরেই দেখো। আমি প্যাকেটটা খুলে
দেখলাম ভেতরে লাল রঙের একটি ড্রেস আর কিছু
মানানশীয় চুরি। বাবার কথা শুনে লাল
ড্রেসটি পড়ে চুরিগুলো হাতে পড়ে নিলাম।
গাড়িতে ওঠার সময় রিঙ্কি বলল আমি সামনের
সিটে বসবো বাবা বললেন না রিংকি তোমার মা
সামনের সিটে বসবে মায়েরা সবসময় সামনেই
বসে আমি সামনের সিটে বসে বাবার পাশে বাবা
হাসি মুখে বললেন অর্পিতা একটা কথা বলি যদি
কিছু মনে না করো আমি বললাম বলুন বাবা তিনি
বললেন তোমার বাচ্চারা তোমাকে মা বলে ডাকে
তাই আমি মনে করি তুমি আমাকেও আর বাবা বলে
ডাকবে না আমি অবাক হয়ে বললাম তাহলে কি
বলব বাবা মৃদু হেসে বললেন, ঠিক যেমন তোমার
মা আমাকে ডাকতেন। তুমি আমাকেও সেইভাবে
ডাকতে পারো। আমি লজ্জায় পড়ে মৃদু হেসে
বললাম, এটা তো একটু কঠিন হবে। বাবা বললেন,
তাহলে তুমি কি আমাকে এখনো মেনে নাওনি? আমি
একটু থেমে বললাম, না বাবা ব্যাপারটা ঠিক
তা নয়। ছোটবেলা থেকেই আমি আপনার মত একজন
জীবনসঙ্গী চেয়েছিলাম।
কেমন করে যেন প্রকৃতি নিজেই আপনাকে আমার
জীবনের সঙ্গী বানিয়ে দিয়েছে। এভাবেই
বাবা মেয়ের সম্পর্ক চলতে থাকলো। বন্ধুরা
এই গল্পের দ্বিতীয় পার্ট দেখতে চাইলে
কমেন্টে জানাও। বন্ধুরা এই গল্পটি কেমন
লাগলো তা আমাদের জানাতে ভুলবেন না। আপনার
মতামত আমাদের খুবই প্রিয়। যদি আমাদের
চ্যানেলে নতুন হয়ে থাকেন। তাহলে
সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাপোর্ট করুন।
আমরা আপনাদের জন্য আরো সুন্দর গল্প নিয়ে
আসবো। ধন্যবাদ।
Comments
Post a Comment