ধনে থুথু মেখে আপন মায়ের বোদা পকাৎ পকাৎ করে ছুদলাম
আমার পাশের বাড়ির আন্টি আমাকে বিনা
টাকায় লেখা পড়া শেখাতেন। তিনি একটা
বাসায় ভাড়া করে একা থাকতেন। আমি তখনও
বুঝতাম না আন্টি কেন আমাকে নিজের টাকা খরচ
করে আমাকে পড়াতেন। আমি আন্টির কাছে পড়তে
চাইতাম [মিউজিক] না। পড়ুয়া মা বলতো তিনি
যখন টাকা ছাড়া তোকে পড়াচ্ছে তাহলে পড়লে
সমস্যা কি? কিন্তু মা তো আন্টির মনের ভেতর
কি চলছে তা জানতো না। একদিন আন্টির বাড়ির
কাছের একটা [মিউজিক] ছেলে আমাকে বলল, তুমি
যে এখানে পড়তে আসো। একদিন বুঝবে সেদিন
থেকে আমার মনে একটা সন্দেহ লাগলো। তারপর
আমি অন্যর কাছে পড়তে যেতাম না। ফোন দিলে
ফোনও ধরতাম না। কারণ আমি বুঝতে পারতাম না
কেন আন্টি আমাকে টাকা ছাড়া [মিউজিক]
পড়াতে চান। কিন্তু সেদিন আন্টি আমাদের
বাড়িতে চলে আসলেন। আর মায়ের কাছে বললেন,
আপনার ছেলে দুইদিন হলেও পড়তে যাচ্ছে না।
কি হয়েছে তার? তারপর [মিউজিক] সেদিন মা
বলল, তোর আন্টির সাথে এক্ষুনি লেখাপড়া
শিখতে যা। দিন দিন ছেলেটা লেখাপড়ায়
অমনোযোগ হয়ে যাচ্ছে। তারপর [মিউজিক]
সেদিন মায়ের কথায় আন্টির বাসায় পড়তে
গেলাম। আর সেদিনই তো বন্ধুরা গল্পটি
সম্পূর্ণ শুনতে থাকুন। আমি নয়ন আমার
পৃথিবীতে ছিল ছোট ভাঙ্গা টিনের চালের একটা
ঘর দুইটা [মিউজিক] ছোট জানালা আর তার
লেখাপড়া সামান্য কিছু বইপত্র এই নিয়েই
তার জগৎ বাবা দ্বীনমুজুর মা অন্যের
বাড়িতে কাজ [মিউজিক] করেন দুজনের
হাটভাঙ্গা খাটুনি টাকা দিয়ে সংসার
চালানোই কঠিন। সেখানে ছেলের পড়াশোনার খরচ
জোগানো যেন এক আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন তবুও
নয়নের বাবা মায়ের জেদ ছিল ছেলে [মিউজিক]
তাদের মত হবে না। সে পড়াশোনা করে বর হবে
মানুষের মত মানুষ হবে নয়ন ও বাবা মায়ের
স্বপ্ন কি নিজের স্বপ্ন বানিয়ে নিয়েছিল
এবারের ইন্টার পরীক্ষায় সে বেশ ভালো
[মিউজিক] ফল করেছে কিন্তু এরপর ভালো কোন
বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হওয়ার মত
আর্থিক সামর্থ্য [মিউজিক] তাদের ছিল না এই
চিন্তায় নয়েনের রাতের ঘুম প্রায় উড়ে
গিয়েছিল একদিন বিকেলে নয়ন যখন বাড়ির
উঠুনে বসে কথা ভাবছিল তখন পাশের বাড়িতে
নতুন ভাড়া আসা শিমলা আংটি তাদের বাড়িতে
এসে হাজির হলে নয়নের আগে তাকে দু একবার
দেখেছে কিন্তু কথা হয়নি। ভদ্র মহিলা
দেখতে বেশ সম্ভ্রান্ত এবং তার ব্যক্তিত্বে
একটা আলাদা গাম্ভীর্য আছে। নয়নের মা
শিমলা আন্টিকে দেখে কিছুটা অবাক হলেন।
আসুন ভেতরে আসুন নয়নের মা তাকে একটা
পিডিয়ে এগিয়ে দিয়ে বললেন, শিমলা আন্টি
বসলেন এবং মিদু হেসে বললেন, [মিউজিক] আমি
নয়নের ব্যাপারে কথা বলতে এসেছি। নয়নের
বাবাও কাছ থেকে ফিরে হাত মুখ ধুছিলেন।
তিনিও এসে বসলেন। নয়নের মনের ভিতরটা কেমন
জেনে ধুকপুক করতে লাগল। সে কি কোন ভুল
করেছে? শিমলা [মিউজিক] আন্টি বলতে শুরু
করলেন, আমি শুনেছি আপনাদের ছেলে
পড়াশোনায় খুব। ইন্টার পরীক্ষায়ও নাকি
ভালো ফল করেছে। নয়নের বাবা লজ্জিত হেসে
বললেন, আপা আপনাদের দোয়ায় ভালোই করেছে।
কিন্তু এখন তো আর পড়ানোর ক্ষমতা [মিউজিক]
আমাদের নেই। যা আয় করি তাতে সংসারই চলে
না। শিমলা আন্টি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।
তারপর নয়নের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি
একটি সরকারি কলেজের ইংরেজির অধ্যাপিকা।
আমি জানি অর্থের অভাবে অনেক মেধাবী
ছাত্র-ছাত্রীর স্বপ্ন অঙ্কুরেই ঝরে যায়।
আমি চাই না নয়নের স্বপ্নটাও সেভাবে
হারিয়ে যাক। আপনারা যদি কিছু মনে না করেন
আমি নয়নের পড়াশোনার সমস্ত দায়িত্ব
[মিউজিক] নিতে চাই। তার ভর্তি বইপত্র
যাতায়াত সব খরচ আমি দেব। কথাটা শুনে
নয়নের বাবা মা যেন আকাশ থেকে পড়লেন।
একজন অচেনা [মিউজিক] মানুষ কেন তাদের
ছেলের জন্য এত কিছু করতে চাইবে? তাদের
হতভম্ব চেহারা দেখে শিমলানটি আবার বললেন,
দেখুন আপনারা আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমাদের
সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে যারা সুযোগের
অভাবে একুতে পারে না। আমি শুধু [মিউজিক]
একজন শিক্ষক হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন
করতে চাই। নয়নের মত একটা মেধাবী ছেলে
হারিয়ে যাক এটা আমি চাই না। নয়নের মা
বললেন কিন্তু আপনি কেন আমাদের ছেলের জন্য
[মিউজিক] এত টাকা খরচ করবেন? আমরা তো
আপনাকে কিছুই দিতে পারবো না। আন্টি
শান্তভাবে উত্তর দিলেন [মিউজিক] আমার কিছু
যাওয়ার নেই। শুধু চাই ছেলেটা যেন মন
দিয়ে পড়াশোনা করে মানুষের মত মানুষ হয়
এটাই হবে আমার জন্য সবচেয়ে [মিউজিক] বড়
পাওয়া। বাবা-মা শেষ পর্যন্ত রাজি হয়ে
গেলেন এমন সুযোগ হাতছাড়া করাবো আমি। তারা
আন্টিকে বারবার কৃতজ্ঞতা জানালেন। কিন্তু
নয়নের মনের ভেতর একটা সন্দেহ শুরু হলো এই
যুগে। নিঃস্বার্থভাবে কেউ কাউকে সাহায্য
করে। বিশেষ করে এমন একজন অচেনা মানুষ
[মিউজিক] তার মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক
খাচ্ছিল। বিশ্বাসটি যেন সহজভাবে গ্রহণ
করতে পারছিল না। আন্টির উদ্দেশ্যটা ঠিক কি
সেটা সে কিছুতেই বুঝতে পারছিল না। পরদিন
থেকে নয়নের নতুন জীবন শুরু হলো শিমলা
আন্টির কথামতো সে শহরের সবচেয়ে ভালো
কলেজগুলোর একটিতে ভর্তির জন্য আবেদন করল
এবং সহজে সুযোগ পেয়ে গেল। ভর্তির টাকা
থেকে শুরু করে মাসিক বেতন বইপত্র কেনার
সবকিছুর দায়িত্ব সিমলা আন্টি নিজের কাঁধে
তুলে নিলেন। শুধু তাই নয় তিনি নয়নকে
প্রতিদিন বিকেলে তার বাসায় এসে পড়তে
বললেন। যেহেতু তিনি ইংরেজির অধ্যাপিকা তাই
নয়নের ইংরেজির ভিত্তিটা আরো মজবুত করে
দিতে চাইলেন। নয়নের বাবা-মা তো মহাখুশি
তারা আন্টির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু
নয়নের মনের সন্দেহটা কিছুতেই যাচ্ছিল না।
সে প্রতিদিন বিকেলে আন্টির বাসায় পড়তে
যেত। আন্টির বাসাটা খুব সুন্দর করে গোছানো
ছিমছাম [মিউজিক] পরিপাটি। কিন্তু পুরো
বাড়িটার মধ্যে কেমন যেন একটা শূন্যতা
খেলা করতো। আন্টি একা [মিউজিক] থাকতেন
নয়ন একদিন কৌতুহল বসে জিজ্ঞেস করেই ফেলল
আন্টি আপনি এখানে একা থাকেন শিমল আন্টি বই
থেকে চোখ না তুলেই বললেন হ্যাঁ আমি এখানেই
থাকি এখান থেকে আমার কলেজে যেতে সুবিধা
হয় নয়ন আরো জানতে চাইল আপনার [মিউজিক]
বাড়ি কি এখান থেকে অনেক দূরে হ্যাঁ অনেক
দূরে আন্টি সংক্ষিপ্ত উত্তর নয়ন বুঝতে
পারছিল আন্টি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে
খুব বেশি কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ [মিউজিক]
বোধ করেন না সে আরো খোঁজ নিয়ে জানতে পারল
আন্টির কোন স্বামী নেই পাড়ার লোকেরা রা
বলতো তার স্বামী [মিউজিক] অনেক আগেই পরলোক
গমন করেছেন। এরপর থেকে তিনি একাই জীবন
কাটাচ্ছেন। এই তথ্যটা নয়নের সন্দেহকে আরো
বাড়িয়ে দিল একজন [মিউজিক] একা মহিলা।
কেন একজন অচেনা ছেলের জন্য এত কিছু করবে?
পড়ানোর সময় আন্টি খুব মনোযোগী থাকতেন।
তার পড়ানোর ভঙ্গি ছিল অসাধারণ কঠিন
বিষয়গুলো তিনি খুব সহজে বুঝিয়ে দিতেন।
কিন্তু মাঝে মাঝে নয়নের মনে হতো আন্টি
পড়াতে পড়াতে অন্যমনস্ক হয়ে যান। তার
চোখে মাঝে মাঝে এমন একটা শূন্যতা থাকতো
যেন অতীতের কোন স্মৃতি ভাসছে। নয়নের
কিছুটা অস্বস্তি লাগতো। কারণ সে বুঝতে
পারতো না। অন্য মনের [মিউজিক] ভাব তার মনে
হতো আন্টি হয়তো তাকে কিছু বলতে চান
কিন্তু বলতে পারেন না। একদিন নয়নার
[মিউজিক] থাকতে না পেরে সরাসরি জিজ্ঞেস
করল। আন্টি আমি আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস
করতে [মিউজিক] চাই যদি কিছু মনে না করেন।
আন্টি তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন বল
কোন সমস্যা নেই। নয়না একটু ইতস্তত করে
বলল, আপনি কেন আমার জন্য এত কিছু করছেন?
কেন আমাকে বিনা টাকায় পড়াচ্ছেন?
[মিউজিক] সত্যি করে বলুন আপনি কেন এত
সাহায্য করছেন জানতে ইচ্ছে করে। শিমলান্টি
নয়নের চোখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে
থাকলেন। [মিউজিক] তার চোখে একটা বিষন্নতার
ছায়া নেমে এল। তিনি শান্ত স্বরে বললেন,
মানুষ মানুষকে [মিউজিক] সাহায্য করলে
সৃষ্টিকর্তা খুশি হন। পরবারে ভালো থাকা
যায়। এর বাইরে আমার আর কোন উদ্দেশ্য নেই।
বাবা আন্টির কথায় একটা দর্শন ছিল। একটা
গভীরতা ছিল। নয়ন তার কথায় মুগ্ধ হতো।
কিন্তু তার মনের ভিতরের সন্দেহটা [মিউজিক]
কিছুতেই দূর হচ্ছিল না। সে ভাবতে এই জগতে
স্বার্থ ছাড়া কেউ এক পাও চলে না। আন্টি
নিশ্চয়ই ব্যতিক্রম নন। তার এই উপকারের
পিছনে এমন কোন উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে যা সে
[মিউজিক] ধরতে পারছে না। একদিন বিকেলে নয়ন
পড়তে যাওয়ার পর শিমল আন্টি তাকে [মিউজিক]
বললেন, উন্নয়ন তুমি আমার একটা উপকার করবে
নয়। অবাক হয়ে বলল, অবশ্যই করব। আন্টি আপনি
আমার জন্য যা করছেন তার তুলনায় এটা তো
কিছুই না বলুন কি করতে হবে আন্টি [মিউজিক]
একটা বাজারের ব্যাগ আর কিছু টাকা এগিয়ে
দিয়ে বললেন আজ বাজার থেকে আমাকে কিছু
প্রযোজনীয় জিনিস [মিউজিক] এনে দেবে আমার
শরীরটা ভালো লাগছে না বাইরে যেতে ইচ্ছে
করছে না এটা কোন কাজ হলো অন্য আপনি শুধু
বলবেন কি কি লাগবে নয়ন সানন্দে রাজি হয়ে
গেল আন্টি তাকে একটা তালিকা ধরিয়ে দিলেন
তালিকায় বেগুন আলু পটল ঝিঙ্গার মত সাধারণ
কিছু তরকারির নাম লেখা ছিল নয়ন ব্যাগ আর
টাকা নিয়ে বাজারের দিকে রওনা দিলে
বাজার থেকে ফিরতে তার প্রায় ঘন্টাখানিক
সময় লাগলো। ঘরে ফিরে এসে দেখো সিমলা
আন্টি বিছানায় শুয়ে আছেন। তার মুখটা
কেমন ফ্যাকাসে দেখাচ্ছে। নয়ন উদ্বিগ্ন
হয়ে জিজ্ঞেস করল, [মিউজিক] আন্টি আপনার
কি শরীর বেশি খারাপ লাগছে? আমি বাজার
নিয়ে এসেছি। আন্টি দুর্বল গলায় বললেন,
হ্যারে তুমি চলে যাওয়ার পর থেকে শরীরটা
হঠাৎ খুব খারাপ হয়ে পড়েছে। মাথাটা ঘুরছে
বিছানা থেকে উঠতেই [মিউজিক] মন চাইছে না।
নয়ন ব্যস্ত হয়ে বলল, তাহলে আপনার জন্য
ডাক্তার ডেকে আনি বা কোন ওষুধ নিয়ে আসি
না। ডাক্তার লাগবে না। অন্য বললেন, তুমি
ওই ড্রয়ারটা খোলো। ওখানে আমার একটা
হ্যান্ডব্যাগ আছে। ওই ব্যাগের ভেতরে কিছু
ওষুধ আছে। ওগুলো এনে দাও। নায়েম দ্রুত
ড্রয়ারের দিকে এগিয়ে গেল।
ড্রয়ার খুলে সে একটা সুন্দর লেডিস
হ্যান্ডব্যাগ দেখতে পেল। সে ব্যাগটা খুল।
ওষুধ খোঁজার জন্য ব্যাগের একটা ছোট পকেটে
ওষুধের স্ট্রিপের [মিউজিক] সাথে আরো কিছু
জিনিস ছিল। একদিন পড়া শেষ করে এন্টির বাসা
থেকে বাড়ি ফেরার পথে ঘটনাটা ঘটলো। সে যখন
গলি থেকে বট রাস্তায় উঠবে ঠিক তখন একটা
ছেলে [মিউজিক] তাকে পেছন থেকে ডাক দিল। এই
যে ভাই দাঁড়ান ডাক শুনে নয়ন পেছনে ফিরল
ছেলেটার বয়স। নয়নের মতোই হবে পরণে জিন্স
আর টিশার্ট চেহারা দেখে এলাকার ছেলে বলেই
মনে হলো নয়ন তাকে আগে কখনো দেখেনি আমাকে
ডাকছেন। নয়ন জিজ্ঞেস করলো ছেলেটি তার কাছে
এগিয়ে এসে বলল, হ্যাঁ, আপনাকে আপনার নাম
কি? আমার নাম নয়ন কেন বলুন? তো নয়নের গলায়
কিছুটা সতর্কতার সুর ছেলেটি কেমন যেন
রহস্যময় একটা হাসি দিয়ে বলল, আপনি যার
কাছে প্রতিদিন বিকেলে পড়তে যান ওই মহিলা
আপনার কি হয় নয়নের মনের ভেতরটা ধক করে
উঠল। সে আমতা আমতা করে বলল উনি আমার আন্টি
হন আমাকে পড়াশোনায় সাহায্য করেন ছেলেটি
আবার হাসল এবার তার হাসিতে স্পষ্ট ব্যাঙের
ছোঁয়া কিছুই হয় না অথচ পড়াশোনায়
সাহায্য করছেন। এত টাকা খরচ করছেন।
ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত না। নয়ন কি বলবে
ভেবে পেল না ছেলেটি তার মনের কথাগুলোই জেন
[মিউজিক] বাইরে থেকে বলে দিচ্ছে। নয়ন
কিছুটা রুক্ষস স্বরে বলল, দেখুন এটা
আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আপনি কি আর এসব
জিজ্ঞেস [মিউজিক] করছেনই বা কেন ছেলেটি
কাজ ঝাঁকিয়ে বলল আমি যেই হই না কেন
আপনাকে শুধু একটা কথা বলতে এসেছি একটু
সাবধানে থাকবেন সাবধানে থাক মানে কি বলতে
চান আপনি নয়নের কপালে ভাজ পড়ল ছেলেটা
[মিউজিক] নিচু গলায় বলল বেশি কিছু বলব না
শুধু এইটুকু বলছি একদিন বুঝবে ওই মহিলার
কাছে পড়তে গেলে একদিন ঠিকই বুঝবে কেন
তিনি তোমার জন্য এত কিছু করছেন। এই বলে
ছেলেটা আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না। দ্রুত
হেঁটে গলির অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। নয়নের
মাথাটা ঘুরতে শুরু করল। একদিন বুঝবে এই
কথাটার মানে কি? ছেলেটা [মিউজিক] কি বলতে
চাইল তার কথাগুলো যেন নয়নের মনের সন্দেহ
আরো বাড়িয়ে দিল। ছবিটা আন্টির অদ্ভুত
আচরণ। আর এখনই ছেলেটার রহস্যময়
সতর্কবার্তা।
সবকিছু মিলেমিশে তার মনে এক গভীর আশঙ্কার
জন্মদিন। তার মনে হতে লাগলো ঘটনাগুলো যেন
অন্যরকম দিকে মর নিচ্ছে। এই ভয়টা তাকে
এতটাই গ্রাস করল যে সে সিদ্ধান্ত নিল। আর
শিমলা আন্টির [মিউজিক] বাসায় পড়তে যাবে
না সেই রহস্যময় ছেলেটির সাথে দেখা হওয়ার
পর। নয়নের পৃথিবীটা জেন ওল্ডপাল্ট হয়ে
গেল। তার মনে হলো শিমলা আন্টির হাসির
আডালে [মিউজিক] তার সাহায্যের পেছনে
নিশ্চয়ই কোন কোন উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে।
নয়ন পরের দিন থেকে আন্টির বাসায় যাওয়া
[মিউজিক] বন্ধ করে দিল। প্রথমদিন বিকেলে
যখন সে গেল না তখন তার মা জিজ্ঞেস করলেন,
কিরে নয়ন আজ পড়তে গেলি না? নয়ন শুকন
মুখে উত্তর দিল না মা আন্টি আজ একটু
ব্যস্ত [মিউজিক] আছেন। বলেছেন দু একদিন
আসতে হবে না। মা সরল মনে ছেলের কথা
বিশ্বাস করলেন। কিন্তু একদিন দুইদিন
তিনদিন কেটে গেল নয়নার আন্টির বাসার দিকে
পা বাড়াল না। এমনকি আন্টি কয়েকবার ফোনও
করেছিলেন। নয়ন ভয়ে ফোন ধরেনি। তার মনে
হচ্ছিল ফোন ধরলেই সে আবার কোন বাধে পড়ে
যাবে। তার মা এবার চিন্তিত হয়ে পড়লেন।
কি ব্যাপারে তুই তো তিনদিন ধরে পড়তে
যাচ্ছিস না। তোর আন্টি ফোন করেছিল।
[মিউজিক]
তুই ফোনও ধরছিস না। কোন সমস্যা হয়েছে
নাইন কি বলবে ভেবে পেল না সে তার মনের
ভেতরের ভয় আর সন্দেহের কথা বাবা-মাকে
বলতে পারছিল না। বললে তারা হয়তো বিশ্বাসই
করবে না। উল্টো তাকেই বকাবকি করবে। তাই সে
আবারও একটা মিথ্যা কথা বলল না। মা তেমন
কিছু না পড়ার চাপ খুব বেশি। তাই নিজেই
পড়ছি। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তের দরজায়
করা নাডা শব্দ হলো নয়নের মা দরজা খুলতেই
দেখলেন শিমলা আন্টি দাঁড়িয়ে আছেন। তার
চোখে মুখে স্পষ্ট উদ্বেগের [মিউজিক] ছাপ
আন্টিকে দেখে নয়নের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে
গেল। সে অবাক হয়ে গেল। শিমলা আন্টি ভেতরে
এসে সরাসরি নয়নের মায়ের কাছে গেলেন। আপা
নয়ন দুই তিনদিন ধরে আমার বাসায় পড়তে
[মিউজিক] যাচ্ছে না। কেন কি হয়েছে ওর আমি
কতবার ফোন করলাম ফোনও ধরছে না। আমি ভাবলাম
হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই চিন্তা
হচ্ছিল [মিউজিক] তাই চলে আসলাম। নয়নের
মায়ের মুখটা কঠিন হয়ে গেল। তিনি ছেলের
দিকে তাকিয়ে কঠোর গলায় বললেন, নয়ন তুই
তো কোনদিন মিথ্যে কথা বলিস নি। তাহলে
[মিউজিক] আজ কেন আমাকে মিথ্যে কথা বললি?
নয়ন চুপ করে রইল তার কাছে কোন উত্তর ছিল
না। শিমলা আন্টি এবার নয়নের কাছে এগিয়ে
এসে কিছু বলতে চাইলেন। কিন্তু নয়ন ভয়ে
পিছিয়ে গেল তার এই আচরণে শিমলা আন্টি
ভীষণ কষ্ট পেলেন। তার মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে
গেল নয় ওনা। আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলো
না তার মনের ভেতরের সমস্ত ভয় আর খুব জেন
একসাথে বেরিয়ে এল। প্রায় কান্না করে
বলল, আন্টি আমি আপনার [মিউজিক] কাছে আর
পড়তে যাবো না। আপনার কোন সাহায্যের আমার
দরকার নেই। দয়া করে আপনি এখান থেকে
[মিউজিক] চলে যান। এই কথাগুলো জেন একটা
চাবুকের মত শিমলা আন্টিকে আঘাত করল। তার
চোখ দুইটা ছলছলো করে উঠলো। নয়নের মা
ছেলের এই ব্যবহারে হতবাক হয়ে গেলেন। তিনি
নয়নকে ধমক দিয়ে বললেন, এটা তুই কি
[মিউজিক] বলছিস যার জন্য তুই আজ এত ভালো
জায়গায় পড়ার সুযোগ পেয়েছিস তাকে তুই
অপমান করছিস। কিন্তু নয়ন তখন কোন কিছুই
শুনতে বা [মিউজিক] বুঝতে চাইছিল না। তার
মাথায় শুধু ঘুরছিল সেই ছেলেটার কথা।
একদিন বুঝবে নয়নের কথায় শিমলান্টি
স্তব্ধ হয়ে [মিউজিক] গেলেন তার মুখ দিয়ে
কিছুক্ষণ কোন কথা।
তিনি এমনটা একেবারেই আশা করেননি। তার
সুন্দর শান্ত চোখ দুটোতে রাজ্যের বিশ্বয়
আর কষ্ট এসে ভর করল কেন নয়ন কেন তুমি পড়বে
না? আমি কি তোমার সাথে কোন খারাপ ব্যবহার
করেছি বা আমার পড়ানোতে কি কোন সমস্যা
হচ্ছে? আন্টির কন্ঠস্বর কান্নায় ভেঙে
পড়ছিল। নয়ন মুখ ফিরিয়ে [মিউজিক] নিল। সে
আংটির চোখের দিকে তাকাতে পারছিল না। সে
দৃঢ গলায় বলল, আমি সেটার উত্তর [মিউজিক]
দিতে চাই না। তবে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি
আমি আর আপনার কাছে যাবো না। আপনি আর আমাকে
নিতে আসবেন না। আপনার সাহায্য আমার লাগবে
না। নয়নের মা ছেলের এই উদ্যত আচরণে ভীষণ
রেগে গেলেন তিনি। এগিয়ে এসে নয়নের হাত
ধরো। বললেন, তোর এত বড় সাহস তুই আমাদের
সম্মান ডুবিয়ে [মিউজিক] দিবি। উনি আমাদের
জন্য যা করেছেন তার প্রতিদান তো এইভাবে
দিচ্ছিস। শিমলা আন্টি নয়নের মাকে থামিয়ে
দিলেন। তিনি বললেন, আপাওকে বকবেন না। আমি
বুঝতে পারছি নিশ্চয়ই কোন গুরুত্বর কারণ
আছে। তোমাকে কেউ কি আমার [মিউজিক]
ব্যাপারে কিছু বলেছে? নয়নের বুকের ভেতরটা
কেঁপে উঠলো। আন্টি ট্রিটি ধরে ফেলেছেন। সে
চুপ করে রইল [মিউজিক] আন্টি। আবার বললেন,
চুপ করে থেকো না। বাবা বলো কি হয়েছে?
তুমি যদি আমাকে না বলো আমি এখান থেকে যাবো
না। তোমার মনের ভয়টা দূর করা আমার
দায়িত্ব। দেখল [মিউজিক] আন্টি যাওয়ার
পাত্রী নন। তিনি সত্যিটা জেনেই ছাড়বেন।
বাবা মাও তার উপর প্রচন্ড রেগে আছেন। শেষ
পর্যন্ত সে বলতে বাধ্য হলো আপনাকে আমার
ব্যাপারে কেউ কিছু বলেছে। আন্টি আবার
জিজ্ঞেস করলেন, নয়ন দ্বিধা নিয়ে মাথা
নাডল। হ্যাঁ। কে বলেছে? কি বলেছে আন্টির
কন্ঠে অধীর আগ্রহ। আমি তাকে চিনি [মিউজিক]
না। নয়ন বলল, একটা ছেলে সে আমাকে আপনার
বাসা থেকে ফেরার পথে থামিয়েছিল। কি বলেছে
সে তোমাকে নয়ন ইতস্তত করে বলল আমাকে
পরিষ্কার করে কিছু বলেনি তবে সে আমাকে
আপনার থেকে সাবধানে থাকতে বলেছে আর বলেছে
একদিন [মিউজিক] বুঝবে আপনার কাছে পড়তে
গেলে নাকি আমি একদিন সব বুঝতে পারব কিন্তু
সে কি বোঝাতে চেয়েছিল সেটা আমি জানিনা
তার কথা শুনে আমার ভয় করছে সিমলা
[মিউজিক] আন্টি সবটা শুনলেন। তার মুখের
অভিভক্তি বদলে গেল। তিনি কিছুক্ষণ গভীর
চিন্তায় ডুবে রইলেন। তারপর নয়নের দিকে
তাকিয়ে বললেন, [মিউজিক] আমি বুঝতে পেরেছি
তোমাকে হয়তো কে এই কথা বলেছে। তুমি কি
আমাকে [মিউজিক] সেই ছেলেটিকে একবার দেখাতে
পারবে? আমি শুধু একবার তার সাথে কথা বলতে
চাই। নয়নের দ্বিধা হচ্ছিল কিন্তু
[মিউজিক] আন্টির কন্ঠে এমন একটা দ্বিধাতা
ছিল যে সে না করতে পারে না। তার নিজেরও
মনে হলো সত্যিটা জানা দরকার। এই রহস্যের
[মিউজিক] শেষ কোথায় সেটা তাকে দেখতেই
হবে। সে মাথা নেড়ে সম্মতি জানা।
ঠিক আছে চলুন [মিউজিক] আমি তাকে চিনি না
কিন্তু সে কোথায় থাকে সে এলাকাটা আমি
চিনি নয়নশিমলা [মিউজিক] আন্টিকে সাথে
নিয়ে সেই গলির দিকে রওনা দিল যেখানে
ছেলেটির সাথে তার দেখা হয়েছিল নয়নের মাও
তাদের সাথে যেতে চাইলেন। কিন্তু আন্টি
তাকে আশ্বস্ত করে বললেন যে কোন সমস্যা হবে
না। তারা দ্রুতই ফিরে আসবেন। পুরো রাস্তা
নয়নার [মিউজিক] সিমলাটির মধ্যে কোন কথা
হলো না। নয়নের মনে হচ্ছিল সে একটা নাটকের
শেষ দৃশ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আজ হয়তো
সব রহস্যের সমাধান হবে অথবা সে নতুন কোন
বিপদে পড়বে। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর
নয়ন ছেলেটিকে দেখতে পেয়ে সে একটা চায়ের
দোকানে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল নয়ন
দূর থেকে আন্টিকে [মিউজিক] ইশারা করে
দেখালো আন্টি। ওই ছেলেটা শিমলা আন্টি
ছেলেটিকে দেখে এক মুহূর্তের জন্য চমকে
উঠলেন। তারপর তার মুখে একটা চেনার আগের
ছাপ ফুটে উঠলো। তিনি দ্বিধ পায়ে [মিউজিক]
ছেলেটির দিকে এগিয়ে গেলেন আকাশ। আন্টির
গম্ভীর কন্ঠস্বর শুনে ছেলেটি এবং তার
বন্ধুরা সবাই ঘোরে তাকাল শিমলা আন্টিকে
[মিউজিক] দেখে ছেলেটির মুখটা ফ্যাকাসে
হয়ে গেল। সে তো ঘাবড়ে গেছে। ম্যাডাম
আপনি এখানে আকাশ তোতলাতে শুরু করল। শিমল
আন্টি কঠোর গলায় বললেন, আমি কেন এখানে
সেটা বট কথা নয়। বট কথা হলো তুমি নয়নকে
আমার সম্পর্কে কি বলেছো? কেন বলেছ? আকাশ
প্রথমে অস্বীকার করার চেষ্টা করল।
[মিউজিক] আমি আমি তো কিছু বলিনি। মিথ্যে
কথা বলবেন আকাশ। আন্টি ধমক দিয়ে উঠলেন
নয়না আমাকে সব বলেছে তুমি ওকে বলেছো
একদিন বুঝবে কি বোঝাতে চেয়েছো তুমি বলো
আন্টি তেজ [মিউজিক] দেখে আকাশের বন্ধুরা
একে একে সরে পড়ল আকাশ একা হয়ে গেল সে
মাথা [মিউজিক] নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল
শিমল আন্টি এবার নয়নের দিকে তাকিয়ে
বললেন নয়ন তুমি যাকে নিয়ে এত ভয়
পাচ্ছিলে সে হলো আকাশ ও আমার কাছে ইংরেজি
প্রাইভেট পড়তো কিন্তু পড়াশোনায় তার
একদম মন ছিল না মাসের পর মাস আমি চেক
করেছি কিন্তু সে বারবার পরীক্ষায় ফেল
করতো। বাড়ির কাজ করতো না, পড়াও শিখতো না
শেষ পর্যন্ত। আমি ওর বাবাকে ডেকে বললাম যে
ওকে পুড়িয়ে আমার সময় নষ্ট করার কোন
মানে হয় না। তাই আমি ওকে আমার কাছে পড়তে
আসতে বারণ করে দিয়েছিলাম। সেই হিংসা
থেকেই হয়তো ও তোমাকে আমার ব্যাপারে এসব
মনবডা কথা বলে ভয় দেখিয়েছে যাতে তুমিও
আমার কাছে পড়া ছেড়ে। দাও। ঘটনাটা শুনে
নয়ন অবাক হয়ে গেল। তাহলে পুরো ব্যাপারটা
শুধু এক ছাত্রের [মিউজিক] ব্যক্তিগত
আক্রোশে আকাশের দিকে তাকাল। আকাশ লজ্জিত
মুখে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু নয়নের মনের
সব প্রশ্নের উত্তর সে পেল না। আকাশের
[মিউজিক] বিশ্বাসটা না হয় মিটল। কিন্তু
তার মূল সন্দেহটা তো অন্য জায়গা। সেই
ছবিটা আন্টিরে একাকিত তার প্রতি শিমলা
আন্টিকে বলল, আন্টি আমি ওর কথা না হয়
বিশ্বাস করলাম। কিন্তু আমার আরো একটা
প্রশ্ন আছে আপনি যদি সত্যি করে উত্তর দেন
তাহলে হয়তো আমার মনের সব দ্বিধা দূর হয়ে
যাবে শিমলা আন্টি [মিউজিক] তার দিকে
তাকিয়ে বললেন বল কি প্রশ্ন তোমার নয়ন
গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে বলল সত্যি করে বলুন
আন্টি আপনি কেন আমাকে সাহায্য করছেন কেন
বিনা টাকায় পড়াচ্ছেন আপনার আসল
উদ্দেশ্যটা কি [মিউজিক] আমি আপনার
ড্রয়ারে একটা ছবি দেখেছি এই কথাটা বলার
সাথে সাথেই শিমলা আন্টির হাসি খুশি ভাবটা
মিলিয়ে গেল তার চোখ দুইটা আবার সেই পুরনো
বিষন্নটাই ছেয়ে গেল
তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, চলো
আমার বাসায় চলো। আজ তোমাকে আমি সব সত্যি
কথা বলব। নয়নার শিমলা আন্টি যখন তার
বাসায় ফিরলো তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে।
ঘরের ভেতরটা কেমন যেন আরো [মিউজিক] বেশি
নিঃসঙ্গ আর ভারী মনে হচ্ছিল। শিমলা আন্টি
নয়নকে বসতে বলে ভেতরে গেলেন এবং কিছুক্ষণ
পর সেই ছবিটি হাতে নিয়ে [মিউজিক] ফিরে
এলেন। তিনি ছবিটি নয়নের হাতে দিয়ে
সোফায় বসলেন। তার চোখ চলছল।
ধরা গলায় তিনি বলতে শুরু করলেন, তুমি
জানতে চেয়েছিলে আমার আসল উদ্দেশ্য কি তাই
না? আজ আমি তোমাকে সব বলব। আমার কোন খারাপ
উদ্দেশ্য ছিল না। বাবা ছিল শুধু একজন
অসহায় মায়ের হাহাকার। তিনি ছবির দিকে
তাকিয়ে বললেন, ছবিতে যাকে [মিউজিক] দেখছে
সে আমার স্বামী। আর এই ছোট ছেলেটা ও আমার
একমাত্র সন্তান। আমার অপু এই কথা বলেই
তিনি কান্নায় ভেঙে পড়লেন। নয়ন হতভম
হয়ে বসে রইল। সে বুঝতে পারছিল সে এমন
কিছু শুনতে চলেছে যা তার [মিউজিক] জীবনকে
বদলে দেবে। কান্না থামিয়ে শিমলান্টি আবার
বলতে লাগলেন, আমার স্বামী প্রায় 10 বছর
আগে একটা দুর্ঘটনায় আমাদের ছেড়ে চলে
যান। তারপর থেকে আমার পৃথিবীটা ছিল শুধু
অপুকে ঘিরেও ছিল। আমার সব পড়াশোনায় খুব
ভালো ছিল। ঠিক তোমার মত ওরও স্বপ্ন ছিল বর
হয়ে একজন ইঞ্জিনিয়ার [মিউজিক] হবে। আমি
আমার সমস্ত স্বপ্ন ওর মধ্যেই দেখতাম।
তিনি চোখ মুছে বললেন, কিন্তু ভাগ্য আমার
সহায় ছিল। আজ থেকে [মিউজিক] পাঁচ বছর আগে
আমি যখন ক্লাস 10 এ পড়ে তখন স্কুল থেকে
ফেরার পথে একটা দুর্ঘটনায় সে আমাদের
ছেড়ে চলে [মিউজিক] যায়। আমি আমার সবকিছু
হারিয়ে ফেলি। নয়না আমার স্বামী আমার
সন্তান আমার আর কেউ রইল না। অন্যর কথাগুলো
শুনে নয়নের বুকের ভেতরটা মুছ দিয়ে উঠলো।
তার নিজের চোখ দিয়েও পানি গড়িয়ে পড়ল।
শিমলান্টি বললেন তারপর থেকে আমার জীবনটা
অর্থহীন হয়ে গিয়েছিল। কলেজের চাকরিটা
ছিল বলেই হয়তো বেঁচে আছি। এই শহরে আমি
বাসা ভাড়া নিয়েছি। শুধু অতীতকে ভুলে
থাকার জন্য। কিন্তু সন্তানের স্মৃতি কি
ভোলা যায়? [মিউজিক] তিনি নয়নের দিকে
তাকিয়ে বললেন, যেদিন আমি তোমাকে প্রথম
দেখি সেদিন আমি চমকে উঠেছিলাম। তোমার
চেহারা তোমার হাঁটা চলা। তোমার চোখের
দৃষ্টি সবকিছু আমার অপুর মতো আমি জানি এটা
অবিশ্বাস্য। কিন্তু তোমাকে দেখলে আমার মনে
হতো আমার অপু যেন আমার সামনে দাঁড়িয়ে
আছে। আমি খোঁজ নিয়ে জানলাম তুমিও
[মিউজিক] পড়াশোনায় খুব ভালো। কিন্তু
তোমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তখন আমার
মনে হলো ঈশ্বর হয়তো আমাকে একটা সুযোগ
[মিউজিক] দিয়েছেন। আমার অপূজা হতে
পারিনি। ওর যে স্বপ্নটা পূরণ হয়নি সেই
স্বপ্নটা আমি তোমার মাধ্যমে পূরণ করতে
পারব। তোমাকে পড়াশোনা শিখিয়ে অনেক বর
করে তুলতে পারলে আমি ভাববো আমার অপুই বর
হয়েছে। তিনি বললেন [মিউজিক] আমার কোন
অন্য উদ্দেশ্য ছিল না। বাবা আমি শুধু
তোমার মাঝে আমার সন্তানের ছায়া দেখতে
পেয়েছিলাম। তোমাকে দেখলেই আমার সন্তানের
কথা মনে পড়ে যেত। তাই আমি চেয়েছিলাম
তোমাকে লেখাপড়া শিখিয়ে অনেক বড় করে
তুলতে। আমি ভেবেছিলাম একদিন সঠিক [মিউজিক]
সময় তোমাকে সবটা খুলে বলব। কিন্তু তার
আগেই তুমি আমাকে ভুল বুঝলে শিমলা আন্দির
কথা শুনে নয়নের আর নিজেকে ধরে রাখার
ক্ষমতা রইল না। সে কান্নায় ভেঙে পডল তার
নিজের প্রতি প্রচন্ড ঘৃণা হতে লাগলো। সে
একজন সন্তান হারা মাকে কতটা কষ্ট দিয়েছে
এটা ভেবে তার বুক ফেটে যাচ্ছে। সে দৌড়ে
গিয়ে শিমল আন্টির পায়ে পড়ে গেল। আমাকে
ক্ষমা করে দেন আন্টি। আমি আপনাকে বুঝতে
পারিনি। আমি অনেক বর ভুল করেছি। আমি
আপনাকে ভুল বুঝেছি। দুজনের চোখ দিয়েই তখন
অঝরে পানি ঝরছে। নয়ন কান্না ভেজা গলায়
বলল, আজ থেকে আমি আপনাকে আর আন্টি বলে
ডাকবো না। আপনি আমার মা। আমি আপনার
হারিয়ে যাওয়ার সন্তান। তার কথা শুনে
শিমলা আন্টির মুখে বহু বছর পর এক অনাবিল
শান্তির হাসি ফুটে উঠলো। তিনি নয়নের
মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, হ্যাঁ
বাবা সত্যি তুই আমার সন্তান আমার অপু
সেদিন থেকে তাদের সম্পর্কটা এক নতুন নাম
পেল। নয়না একজন মা খুঁজে পেল আর সিমলা
আন্টি খুঁজে পেলেন। তার হারিয়ে যাওয়ার
সন্তান সন্দেহের কালো মেঘ কেটে গিয়ে এক
সুন্দর পবিত্র সম্পর্কের সূর্য উঠলো তাদের
জীবনে।
Comments
Post a Comment