আরো জোরে ঢুকাও আমার সোনা জ্বলতাছে ১ ঘণ্টা চুদলো



মাত্র 12 বছর বয়সে আমি এমন একটি কঠিন


পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম যেখানে থেকে বের


হওয়া আমার জন্য কঠিন হয়ে গিয়েছিল।


প্রতিটি রাতে অচেনা মানুষ আসতো যেন তারা


নতুন কোন দুঃস্বপ্ন নিয়ে আসতো। আমি


বারবার অপমানিত হতাম এবং আমার আত্মসম্মান


প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হতো। আমার জীবন


তখন শুধুই বেদনায় ভরা ছিল। প্রতিদিন নতুন


নতুন পরিস্থিতি আমাকে আরো বিপর্যস্ত করে


তুলতো। আমার অন্তরের যন্ত্রণা আমি কারো


সাথে ভাগাভাগি করতে পারতাম না। আমি চুপচাপ


আমার দুর্ভাগ্যের জন্য চোখের জল ফেলতাম


কিন্তু সেই কান্না শোনার মত কেউ ছিল না।


তবে একদিন এমন কিছু ঘটলো। যা আমার পুরো


জীবনকে বদলে দিল। সেই ছেলেটি যার বয়স


আনুমানিক 24 বছর। আমার জীবনে এক নতুন


অধ্যায়ের সূচনা করল। আমার নাম নেহা। আমি


একটি ছোট গ্রামে থাকি। আমাদের পরিবারে ছিল


চারজন। মা বাবা আমার ছোট ভাই আর আমি খুব


সুখী পরিবার ছিলাম আমার ভাইয়ের বয়স ছিল


14 বছর আর আমার 12 বছর সবাই বলতো আমি


দেখতে খুব সুন্দর আমার গায়ের রং ছিল


দুধের মত সাদা মা বাবা আমাদের দুই


ভাইবোনকে খুব ভালোবাসতেন বাবা ছিলেন একজন


দ্বীন মজুর এবং যা আয় করতেন তা দিয়েই


আমাদের সংসার চলতো বাবা প্রায় বলতেন নেহা


তুমি আমার জীবনের আলো তোমার জন্যই আমাদের


জীবনে আনন্দ আছে। আমাদের জীবনে সবকিছু


ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন আমাদের


সুখের উপর কালো মেঘ নেমে এলো। বাবার একটি


বড় দুর্ঘটনা ঘটে যা আমাদের জীবনকে


সম্পূর্ণ বদলে দিল। বাবা আমাদের ছেড়ে এই


পৃথিবী থেকে চিরতরে চলে গেলেন। তার


মৃত্যুর পর মা অনেক কষ্টে আমাদের দুই


ভাই-বোনকে সামলানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু


বাবার চলে যাওয়ার পর মাও বেশ অসুস্থ হয়ে


পড়লেন। আমার ভাই যে খুব বেশি লেখাপড়া


জানতো না, ছোটখাট কাজ করে কিছু টাকা


রোজগার করতো। সেই টাকায় আমাদের দিন চলতো।


তবে মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে


থাকে এবং কয়েক মাস পর মাও আমাদের ছেড়ে


চলে গেলেন। এখন আমরা দুই ভাইবোন পুরোপুরি


অনাথ হয়ে গেলাম। আমাদের একমাত্র আত্মীয়


ছিলেন আমাদের বিধবা মাসি। তার কোন সন্তান


ছিল না। তিনি একাই থাকতেন। মাসি সিদ্ধান্ত


নিলেন আমাকে নিজের কাছে রাখার। আমার ভাই


অমিত আমাকে বলল, তুমি মাসির কাছে থাকো।


আমি বাইরে কাজ করতে যাব। টাকা রোজগার করে


তোমার জন্য পাঠাবো। আমি মাসির কাছে থাকতে


শুরু করলাম। মাসি খুব একা ছিলেন এবং তার


কোন কাজ করার লোকও ছিল না। আমি তখন ছোট


ছিলাম তাই বুঝতে পারতাম না মাসি কিভাবে


নিজের জীবিকা নির্বাহ করেন। কিছুদিন পর


আমি লক্ষ্য করলাম মাসি প্রায়ই খুব সাজগোজ


করে বাইরে যান এবং ফেরার সময় তার কাছে


অনেক টাকা থাকে। আমি প্রায়ই জিজ্ঞেস করতাম


মাসি তুমি কি কাজ করো? মাসি উত্তর দিতেন


ছোটখাট কাজ করি। তাই দিয়েই দিন চলে যায়।


আমি তখন এতটাই ছোট ছিলাম যে মাসির


কথাগুলোর আসল মানে বুঝতে পারিনি। আমার


সময় মাসির সঙ্গে ভালোই কাটছিল। মাসি


আমাকে অনেক ভালোবাসতেন। সবসময় আমার যত্ন


নিতেন এবং নানা রকম সুস্বাদু খাবার খেতে


দিতেন। তিনি বলতেন তুমি ভালো করে খাবে


তাহলে বড় হতে পারবে। আর যখন তোমার


স্বাস্থ্য ভালো হবে তখন তুমি আরো সুন্দর


দেখাবে। আমি মাসিকে বলতাম মাসি বড়


দেখানোর কি দরকার? আমি তো এমনিই ভালো আছি।


কিন্তু মাসি রেগে গিয়ে বলতেন আমি যা বলছি


সেটা করো। তুমি কি চাও না অন্য মেয়েদের


মত সুন্দর ও আকর্ষণীয় হতে আমার মাসির


ভালোবাসা এবং যত্ন আমাকে সবসময় আশ্চর্য


করতো। তিনি আমাকে নানা রকম পুষ্টিকর খাবার


খাওয়াতেন এবং আমার প্রতিদিনের দেখভাল


করতেন। মাত্র 12 বছর বয়সে আমার শরীরের


গঠন অনেকটা বড়দের মতো হয়ে গিয়েছিল।


দেখতে আমি যেন 18 বছরের একটি মেয়ের মত


হয়ে গিয়েছিলাম। আমার সৌন্দর্যক্রমেই


বাড়ছিল আর সেই কারণে আশপাশের মানুষের নজর


পড়তো আমার দিকে তবে একটা বিষয় আমার কাছে


অস্বাভাবিক লাগছিল মাসির আচরণ এমন ছিল যেন


তিনি আমাকে বড়দের মতো দেখানোর জন্য আলাদা


পরিকল্পনা করছেন। দিনে দিনে তার অদ্ভুত


আচরণ আরো স্পষ্ট হতে লাগলো। একদিন হঠাৎ


আমি মাসিকে ফোনে কথা বলতে শুনলাম। তার


কথাগুলো শুনে আমি ভয়ে কেঁপে উঠলাম।


তিনি ফোনে বলছিলেন সব টাকা একবারেই দিতে


হবে। কম নয় পুরো 2 লাখ। মেয়ে পুরোপুরি


প্রস্তুত। তাড়াতাড়ি টাকা নিয়ে এসো।


তারপর যা করার করো। এই কথাগুলো শোনার পর


আমার মনের মধ্যে সব পরিষ্কার হয়ে গেল।


আমি বুঝতে পারলাম মাসি আমার জীবন নিয়ে


ভয়ঙ্কর এক পরিকল্পনা করছেন। তিনি আমাকে


অন্য কারো কাছে তুলে দেওয়ার জন্য এসব


প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই সত্য জানতে পারার


পর আমি আর দেরি করলাম না। আমি সিদ্ধান্ত


নিলাম কোনভাবেই আমি এই পরিস্থিতির শিকার


হব না। আমি আমার জীবনের দায়িত্ব নিজেই


নেব এবং যেভাবেই হোক এই দুঃস্বপ্ন থেকে


মুক্তি পাবো। এখন আমি জানতাম এই জায়গা


থেকে বের হওয়া আমার জন্য খুবই জরুরি। যেই


মুহূর্তে মাসি তার কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলেন


আমি চুপচাপ বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলাম। আমি


দ্রুত স্টেশনে পৌঁছালাম এবং যে প্রথম


ট্রেনটি এলো সেটিতে উঠে পড়লাম। আমি


জানতাম না এই ট্রেন কোথায় যাচ্ছে বা


আমাকে কোথায় নামতে হবে। ট্রেনে কিছুক্ষণ


বসে থাকার পর আমার চোখ লেগে গেল। যখন ঘুম


ভাঙলো। তখন দেখলাম ট্রেন থেমে গেছে। আমি


ট্রেন থেকে নেমে এলাম। কিন্তু তখন তীব্র


ক্ষুধা লাগছিল। আমি কিছু মানুষের কাছে


সাহায্য চাইলাম এবং তারা আমাকে কিছু টাকা


দিল। সেই টাকা দিয়ে আমি রুটি কিনে খেয়ে


নিলাম। পরবর্তী দুই তিন দিন আমি এদিক ওদিক


ঘুরে বেড়ালাম। আমি একেবারেই বুঝতে


পারছিলাম না। কোথায় যাব বা কি করব। রাত


হলে আমি স্টেশনেই ঘুমিয়ে পড়তাম। একদিন


রাতে যখন আমি স্টেশনে শুয়েছিলাম তখন একজন


যুবক আমার কাছে এসে দাঁড়ালো। সে আমার


সাথে কথা বলতে শুরু করল এবং জানতে চাইল


আমি কেন এখানে আছি আমি তাকে সবকিছু খুলে


বললাম কিভাবে আমি এত ছোট বয়সে এত কষ্ট


পেয়েছি কিভাবে মাসি আমাকে প্রতারণা


করছিলেন এবং কেন আমি তার বাড়ি ছেড়ে


পালিয়ে এসেছি সব কথা বলার পর আমি তাকে


বললাম ভাইয়া আমার কিছুই বুঝতে পারছি না


এখন আমি কোথায় যাব কি করব যুবকটি আমাকে


শান্ত করে বলল তুমি চিন্তা করো না আমি


তোমার নিজের মানুষের মত তুমি আমার সঙ্গেই


চলো। আমি তোমাকে আমার বাড়িতে নিয়ে যাব।


তুমি আমার বাড়িতে নিরাপদে থাকতে পারবে।


তার কথা শুনে আমার মনে একরকম স্বস্তি এল।


মনে হচ্ছিল অবশেষে আমার সমস্যার সমাধান


মিলেছে। কিন্তু তারপর আমার মনের সন্দেহ


জাগল। যাকে আমি আমার মসিহা ভেবেছিলাম সে


কি সত্যিই আমার জন্য ভালো কিছু করবে? নাকি


এটা নতুন কোন ফাদ যে ভয়াবহ জায়গা থেকে


আমি পালিয়ে এসেছিলাম? এখন মনে হচ্ছিল আমি


আবার সেই অন্ধকারে ফিরে যাচ্ছি। আমি


ভেবেছিলাম যে ওই আঙ্কেল আমার জন্য


ত্রাণকর্তা হয়ে এসেছেন। কিন্তু বাস্তবতা


ছিল ভিন্ন তার আসল উদ্দেশ্য আমি তখনো


বুঝতে পারিনি। আঙ্কেল আমাকে তার বাড়িতে


নিয়ে গেলেন। বাড়িতে পৌঁছানোর পর আমি


প্রথমেই হাত মুখ ধুয়ে নিলাম। আঙ্কেল


আমাকে একটি সুন্দর পোশাক দিলেন এবং বললেন,


এটা পড়ে নাও। তারপর তিনি বললেন তিনি


বাজার থেকে খাবার নিয়ে আসছেন। আমি তখন


পোশাক পরে তৈরি হচ্ছিলাম। নতুন পোশাকে


নিজেকে আয়নায় দেখে খুব সুন্দর লাগছিল।


কিছুক্ষণ পর আঙ্কেল ফিরে এলেন। তার হাতে


ছিল প্রচুর খাবার। আমি তখন বেশ ক্ষুধার্থ


ছিলাম। তাই ভালো করে পেট ভরে খেলাম এবং


আরামে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরদিন সকালে যখন


ঘুম ভাঙল চারপাশে এক অদ্ভুত নীরবতা


দেখলাম। ঘুড়ি দেখলাম তখন সকাল 10:00 টা।


কিন্তু আঙ্কেলের কোন খোঁজ নেই। আমি ভয়


পেয়ে গেলাম ভেবে দেখলাম তিনি আমাকে একা


ফেলে কোথায় গেলেন। ঠিক তখনই দরজার দিকে


নজর পড়ল। দেখলাম আঙ্কেল আর তার সঙ্গে এক


মহিলা আসছেন। তারা ঘরে ঢুকলেন। আঙ্কেল


বললেন, এটা মিনা তাই। উনার কোন সন্তান


নেই। আর উনি চান তোমাকে নিজের মেয়ে


হিসেবে দত্তক নিতে। এটা শুনে আমার মনের


মধ্যে মিশ্র অনুভূতি জন্ম নিল। আমি বুঝতে


পারছিলাম না এই প্রস্তাব কি সত্যিই আমার


জন্য ভালো নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য


কোন উদ্দেশ্য মিনা তাই আমাকে দত্তক নিতে


চান শুনে আমি কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেলাম


আমি সেই মহিলার দিকে তাকিয়ে রইলাম তিনি


দেখতে কিছুটা অদ্ভুত ছিলেন খুব মোটা আর


মুখে পানের রং লেগেছিল কেন জানিনা কিন্তু


তাকে দেখে আমার মনে এক ধরনের ভয় কাজ


করছিল এরকম অনুভূতি আগে কখনো হয়নি আমি


আঙ্কেলকে বললাম আঙ্কেল আপনি কি আমাকে


আপনার কাছে রাখতে পারবেন না? আঙ্কেল


বললেন, না আমি তোমাকে আমার কাছে রাখতে


পারবো না। আমার স্ত্রী আর সন্তান আছে। যদি


তুমি আমার সঙ্গে থাকো তাহলে আমার স্ত্রী


আমাকে নিয়ে ঝগড়া করবে। আমি আমার


স্ত্রীকে খুব ভালোবাসি। তারপর তিনি আমাকে


আশ্বস্ত করে বললেন, তুমি একদম চিন্তা করো


না। মিনা তাই তোমাকে নিজের মেয়ের মতো


রাখবেন। তুমি তার সঙ্গে খুব ভালো থাকবে।


আমি তবুও চিন্তিত ছিলাম। মিনা তাইয়ের


চোখে এমন কিছু ছিল যা আমার অস্বস্তি


বাড়িয়ে তুলছিল যদিও আঙ্কেল আমাকে


নিশ্চিত করলেন যে আমি সুখে থাকবো আমার মনে


হচ্ছিল এই সিদ্ধান্ত হয়তো আমার জন্য সঠিক


নাও হতে পারে আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম


তখন সেই মহিলা বলল হ্যাঁ মা আমি তোমাকে


নিজের মেয়ে করে রাখবো তুমি একবার আমার


সঙ্গে চলো দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে আমি


মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম কারণ আমার


সামনে আর কোন পথ খোলা ছিল না আমি কোথায়


যেতাম বা কার কাছে যেতাম। একেবারে অসহায়


অবস্থায় ছিলাম। আমার তখন প্রচন্ড পিপাসা


পেয়েছিল। তাই আমি আঙ্কেলকে বললাম, আঙ্কেল


একটু পানি দিতে পারবেন? আঙ্কেল বললেন,


কিচেন ওদিকে গিয়ে নিয়ে নাও। আমি কিচেনে


গিয়ে পানি খেলাম। যখন পানি খেয়ে কিচেন


থেকে বের হচ্ছিলাম। তখন হঠাৎ আঙ্কেল আর


সেই মহিলার কথোপকথনের শব্দ আমার কানে এলো।


সেই মহিলা বলছিলেন এইবার যে মেয়ে নিয়ে


এসেছো তার সৌন্দর্যের যতই প্রশংসা করি কম


হবে সেই মহিলা বলতে লাগলেন এইবার তুমি


সত্যিই আমার মন জয় করেছ আমার কাছে হাজারো


মেয়ে আছে কিন্তু এই মেয়েটির সৌন্দর্যের


তুলনা হয় না আমি এই মেয়ের জন্য তোমাকে


পুরো তিন লাখ টাকা দেব এরপর সেই মহিলা চেক


বই বের করে চেক সাইন করে আঙ্কেলের হাতে


তুলে দিলেন। আঙ্কেলের চোখে মুখে খুশি


স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। আমি তখন পুরো


ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম।


আমি উপলব্ধি করলাম যে ভয়াবহ জায়গা থেকে


আমি পালিয়ে এসেছিলাম আবার সেখানেই ফিরতে


চলেছি তাদের কথা শুনে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম


যে আমাকে যেকোনোভাবে এখান থেকে পালাতে হবে


কিন্তু হঠাৎ সেই মহিলার লোকজন আমাকে ধরে


ফেলল জোর করে আমাকে গাড়িতে বসিয়ে দিল


সেই নারী তার সঙ্গে থাকা লোকজন নিয়ে


গাড়িতে উঠে বসলেন। আমি এতটাই ভয়ে কেঁদে


ফেললাম এবং চিৎকার শুরু করলাম। তখন সেই


নারী আমার দিকে তাকিয়ে কঠোর স্বরে বললেন


তোমার মুখ থেকে আর একটি শব্দ বের হলে


তোমার কি হবে তুমি জানো না আমার লোকজন


তোমার সাথে যা করার করে ফেলবে আর কেউ কোন


খবরও পাবে না চুপচাপ বসে থাকো তার এমন


হুমকির পর আমি এতটাই আতঙ্কিত হয়ে


পড়েছিলাম যে আর কিছু বলার সাহস পায়নি


ভয়ে আমি নিঃশব্দে বসে থাকলাম এরপর সেই


নারী আমাকে একটি অন্ধকার এবং নোংরা


জায়গায় নিয়ে গেলেন। সেখানে পৌঁছে আমি


দেখতে পেলাম কিছু মেয়ে অদ্ভুত পোশাক পড়ে


দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের


চেহারায় অস্বস্তি আর আতঙ্ক স্পষ্ট ছিল।


দেখে মনে হচ্ছিল তারা এই জায়গায় থাকতে


একেবারেই স্বাচ্ছন্দবোধ করছে না। আমরা


রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন হঠাৎ গাড়ি


থামলো। গাড়ি থেকে মহিলা বের হয়ে আমার


দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে শুরু করলেন। তার


চোখে এক অদ্ভুত দৃষ্টি ছিল যা আমাকে হতবাক


করেছিল।


কিছুক্ষণ পর সেই মহিলা আমাকে বললেন তার


গাড়ি থেকে নামতে। আমি প্রথমে কিছু বুঝতে


পারিনি এবং তাতে রাজি হয়নি। তখন তার সাথে


থাকা কয়েকজন আমাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে


নামিয়ে নিল। আমি চিৎকার করে বললাম আমাকে


ছেড়ে দিন। আমি কোথাও যেতে চাই না। কিন্তু


তারা আমাকে শোনেনি। মহিলাটি আমাকে একটি


ঘরে নিয়ে গেলেন। ঘরের দরজা খুলে তিনি


একটি মেয়ে যার নাম বৈশালী তাকে ডাকলেন।


মহিলাটি বৈশালীর দিকে তাকিয়ে বললেন, এখন


থেকে এই মেয়েটির সমস্ত দায়িত্ব তোমার।


তার খাবার-দাবার যত্ন সবকিছু তুমি দেখবে।


একথা বলেই মহিলা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।


আমি ভেতরে বসে কান্নায় ভেঙে পড়লাম। তখন


বৈশালী আমার কাছে এসে বলল, কাঁদলে কোন লাভ


নেই। যারা এখানে আসে তারা এখান থেকেই আর


যেতে পারে না। এখান থেকে মুক্তির কোন


উপায় নেই। আমি ক্ষোবে চিৎকার করে বললাম


এটা অন্যায়। কারো স্বাধীনতা এভাবে কেড়ে


নেওয়া যায় না। বৈশালী শান্ত স্বরে বলল।


রাগ করলে নিজের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই হবে


না। যদি তুমি পালানোর চেষ্টা করো তবে


তোমার জন্য পরিণাম ভালো হবে না। যদি


বাঁচতে চাও তবে যা বলা হবে তাই করতে হবে।


তারপর বৈশালী আমাকে জিজ্ঞাসা করল তোমার


নাম কি আমি ধীরে ধীরে বললাম আমার নাম নেহা


বৈশালী মুচকি হেসে বলল তুমি সত্যিই খুব


সুন্দর আর এটাই তোমার বৈশালীর কথার অর্থ


বোঝার চেষ্টা করতে করতে আমি আরো হতবাক


হয়ে পড়লাম তার হাসির মধ্যে লুকানো রহস্য


আমাকে আরো সংকিত করে তুলল তারপর সে আমাকে


আমার বয়স জিজ্ঞাসা করল আমি বললাম আমার


বয়স 12 বছর বৈশালী বলল কিন্তু তোমাকে


দেখে কেউই বলবে না যে তোমার বয়স 12 বছর।


তুমি একদম 18 বছরের মেয়ের মতো দেখাও। আমি


বললাম আমি ছোট দেখাই বা বড় তা কোন বিষয়


নয়। ভাগ্য আমাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে


এসেছে যা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। যাকে


আমি আমার সাহায্যকারী ভেবেছিলাম সেই আমাকে


ধোঁকা দিয়ে এই পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে।


বৈশালী চুপচাপ ছিল। কিছুক্ষণ পর সে আমার


জন্য খাবার নিয়ে এলো। কিন্তু আমার রাগ


এতটাই ছিল যে আমি সেই খাবার ফেলে দিলাম


এবং এক কোণে গিয়ে মুখ গোমড়া করে বসে


পড়লাম ঠিক তখনই হঠাৎ মিনা তাই সেখানে


এলেন। তিনি আমাকে কঠিন গলায় বললেন তুমি


যে জায়গায় এসেছো এটা এমন এক জায়গা


যেখানে প্রতিদিন নতুন নতুন লোক আসে। তারা


এখানে এসে মেয়েদের সঙ্গে সময় কাটায়।


এখানকার নিয়ম অনুযায়ী তোমাকেও এই কাজের


সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। তিনি আরো যোগ


করলেন, যদি তুমি বেশি রাগ দেখাও বা


পালানোর চেষ্টা করো। তবে এর ফল খুবই খারাপ


হবে। এখানে যারা পাহারায় আছে তারা তোমাকে


এমন শাস্তি দেবে যা তুমি কল্পনাও করতে


পারবে না। আপাতত কয়েকদিন সময় নাও আরাম


করো এবং পরিস্থিতি বুঝে নাও। আমি তার কথা


শুনে একদম স্তব্ধ হয়ে গেলাম। আমার মনে


হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগলো। এটা কি


সত্যিই আমার জীবনের ভবিষ্যৎ হয়ে যাবে?


শুরুর দিকে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমার


চারপাশে যা ঘুরছিল তা এক অজানা


দুঃস্বপ্নের মতো লাগছিল। তবে ধীরে ধীরে


আমি পরিস্থিতি বুঝে নিতে শুরু করলাম।


এখানে প্রতিদিন নতুন নতুন লোক আসতো আর


আমাকে তাদের সামনে উপস্থাপন করা হতো।


কিন্তু সেই মহিলাটি যাকে সবাই দিদি বলে


ডাকতো। আমার মূল্য এত বেশি নির্ধারণ


করেছিল যে কোন গ্রাহকই সেই পরিমাণ অর্থ


দিতে পারছিল না। তাই এতদিনে কেউ আমাকে


স্পর্শ করার সাহস দেখায়নি। এইভাবে প্রায়


এক সপ্তাহ কেটে গেল। তবে আজকের দিনটি ছিল


পুরোপুরি ভিন্ন এক দীর্ঘদেহী ও বলিষ্ঠ


মানুষ এসে দিদিকে একটি বড় অংকের টাকা


দিলেন। আমাকে সাজিয়ে একটি ঘরে বসিয়ে


রাখা হলো যেন আমি কোন বিশেষ অনুষ্ঠানের


জন্য প্রস্তুত। আমার মন তখন ভয়ে


পরিপূর্ণ। আর মনে আসছিল অসংখ্য প্রশ্ন।


এখন কি হবে? এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি


পাওয়ার উপায় কি? রাত গভীর হলে একজন


মধ্যবয়সী লোক ঘরে প্রবেশ করল। তাকে দেখে


আমার হৃদয় জোরে ধুকপুক করতে লাগলো আর


পুরো শরীর ভয়ে কাঁপছিল। আমি বিছানা থেকে


উঠে দাঁড়িয়ে গেলাম। লোকটি দরজা বন্ধ করে


আমাকে শান্ত গলায় বলল, ভয় পেজো না। বসো।


আমি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বললাম, দয়া করে


আমার কাছাকাছি আসবেন না। লোকটি হেসে বলল,


তোমার জন্য আমি অনেক টাকা খরচ করেছি। তুমি


জানো এই সময়ের জন্য কত অর্থ দিয়েছি। আমি


কান্নায় ভেঙে পড়ে বললাম, দয়া করে আমাকে


ছেড়ে দিন। আমি এমন কিছু সহ্য করতে পারবো


না। লোকটি বলল, তুমি ভয় পাচ্ছ কেন? এখানে


আসা মানেই এটাই। যদি না আসতে চাইতে তবে


কেন এখানে এসেছো? আমি কাঁদতে কাঁদতে


বললাম, আমি এখানে স্বেচ্ছায় আসিনি। আমাকে


জোর করে আনা হয়েছে। আমি মাত্র 12 বছরের


মেয়ে। আমি এসব বোঝার মত বয়সে নেই। দয়া


করে আমাকে ছেড়ে দিন। আমি তার পায়ে পড়ে


অনুরোধ করলাম। আপনার যদি মেয়ে থাকে তাহলে


তাকে কেমন দেখতে চান? আমাকে সেভাবে ভাবুন।


আমি আপনার মেয়ের মত। দয়া করে আমাকে


মুক্তি দিন। আমি আশা করেছিলাম আমার কথা


তার হৃদয় স্পর্শ করবে। কিন্তু তার চোখে


যে দৃষ্টি ছিল তাতে বুঝতে পারলাম সে আমার


কথায় কান দিচ্ছে না। তার মনের ভাবনা


সম্পূর্ণ অন্যরকম।


সেই ব্যক্তি আমার কম বয়স নিয়ে খুব খুশি


ছিল। সে বলল, তোমার মত কম বয়সী মেয়ে


আমার খুব পছন্দ। তোমার সঙ্গে সময় কাটানো


দারুণ হবে। যদিও তোমার বয়স কম কিন্তু


তোমাকে দেখে তা বোঝা যায় না। তুমি খুবই


সুন্দর। আমি তার সামনে হাত চোট করে অনুরোধ


করলাম দয়া করে আমাকে ছেড়ে দিন। কিন্তু


সে আমার অনুরোধ শুনল না। বরং আমাকে জোর


করে বিছানায় শুয়ে দিল। আমি চিৎকার


করছিলাম কিন্তু আমার কন্ঠস্বর শোনার মতো


এখানে কেউ ছিল না। সকালের দিকে আমি এতটাই


দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম যে বিছানা থেকে


উঠতে পারছিলাম না। সে চলে যাওয়ার সময়


আমার মনে হলো সে মানুষ নয় বরং একটি দানব।


আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম


যে নারী আমাকে এখানে এনেছিল সে বলল তাকে


কয়েকদিন বিশ্রাম নিতে দাও। তারপর ও আবার


ঠিক হয়ে যাবে। আমাকে চার পাঁচ দিনের জন্য


বিশ্রাম করতে দেওয়া হল। কিন্তু কিছুদিনের


মধ্যেই আমাকে আবার সেই একই কাজ করতে বাধ্য


করা হলো। নতুন নতুন লোক আসতে শুরু করল। আর


আমার জীবন আবার সেই চক্রে ফিরে গেল। আমার


জীবনটা যেন একটা গল্প হয়ে গিয়েছিল।


সবারই আমাকে কাছে পেতে ইচ্ছে করত। ধীরে


ধীরে এটাই আমার জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল।


সময় কেটে গেল পাঁচ বছর কিভাবে পার হয়ে


গেল বুঝতেই পারিনি। এই পাঁচ বছরে আমি অনেক


কিছু সন্য করেছি। মনে হতো হয়তো কেউ একদিন


আমাকে এখান থেকে মুক্ত করে নিয়ে যাবে তবে


সেই আশা পূর্ণ হয়নি আমি তখন 17 বছরে পা


দিয়েছি এর মধ্যে আমার একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধু


হয়েছিল যার নাম ছিল বৈশালী বৈশালী আমার


সঙ্গে মনের কথা ভাগ করে নিতে পারতো আর আমি


তার সঙ্গে একদিন বৈশালী আমার কাছে এক


জোড়া নুপুর নিয়ে এসে বলল চল আমরা নাচি


আমি বললাম আমার তো নাচতে পারি না বৈশালী


হাসি দিয়ে বলল তোমাকে শুধু আমাকে কে দেখে


দেখতে হবে আমি যেমন করব তুমিও তেমন করো।


ধীরে ধীরে সব শিখে যাবে। বৈশালী অনেক


জোরাজোড়ি করলো। সে বলল যেখানে আমরা নাচবো


সেখানে আগে থেকেই অনেক মেয়েরা নাচ করে।


অনেক ধনী আর ক্ষমতাবান মানুষ সেখানে আসে।


তারা প্রচুর তাকা বিলায়। তুমি চেষ্টা


করলে ভালোই লাগবে। বৈশালীর কথা শুনে আমার


মনে হলো এতে আপত্তির কিছু নেই। তাই তার


কথায় রাজি হয়ে গেলাম। নুপুর পরে আমি


মেয়েদের সঙ্গে মঞ্চে নাচতে শুরু করলাম।


আমি নাচছিলাম আর হঠাৎ যেন আমার জীবনের


পুরনো স্মৃতিগুলো আমার সামনে এসে


দাঁড়ালো। আমার মাথা যেন এক মুহূর্তের


জন্য শূন্য হয়ে গেল। আমি বুঝতে পারছিলাম


না আমার অতীত কেন আমার সামনে ফিরে আসছে।


আমার পা চলছিল কিন্তু মন যেন অন্য কোথাও


ছিল সেই সময় আমার মনে ঠিক কি চলছিল তা


স্পষ্ট মনে নেই। কিন্তু আমার চোখের সামনে


আমার অতীতের সব ঘটনা যেন ভেসে উঠছিল। আমি


কিভাবে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছিলাম


কিভাবে এই জায়গায় পৌঁছেছিলাম আর তারপর


যা কিছু ঘটেছিল সব মনে পড়ছিল নাচতে নাচতে


আমার পায়ে বাঁধা নুপুর খুলে মাটিতে পড়ে


গেল হঠাৎ আমার মাথা ঘুরতে শুরু করল আর আমি


মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম সারা ঘর নিস্তব্ধ


হয়ে গেল ঠিক সেই সময় একজন ছেলে এসে আমার


দিকে হাত বাড়িয়ে দিল সে আমাকে তুলতে


সাহায্য করল এবং জিজ্ঞেস করল তুমি ঠিক আছো


তো আমি হালকামা মাথা নেড়ে বললাম, হ্যাঁ,


আমি ঠিক আছি এর মধ্যেই বৈশালী এসে আমার


হাত ধরে আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে


যেতে লাগলো। যাওয়ার সময় পেছন ফিরে দেখি


সেই ছেলে শুধু তাকিয়ে ছিল। তার হাসি যেন


আমাকে ভেতরে ভেতরে অদ্ভুত এক বার্তা


দিচ্ছিল। আমি বুঝে গেলাম এই ছেলেও আমাকে


নিয়ে রাত কাটানোর পরিকল্পনা করেছে। এখানে


প্রতিদিন যা ঘটে এও তার বাইরে নয়। সেই


রাতে ছেলেটি আমাকে এক রাতের জন্য কিনে


নিয়েছিল। আমি জানতাম আমার সৌন্দর্য এমন


যে একবার কেউ আমাকে দেখলে সে মুগ্ধ হয়ে


পড়ে তার জন্য আমি তার কাছে এক লাখ টাকা


মূল্যের ছিলাম যখন সে ঘরে এলো আমি


সোজাসুজি বললাম দ্রুত কাজ শেষ করো আর চলে


যাও সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল তুমি কি


বলছো এমন কেন বলছো আমি বললাম আমি ঠিকই


বলছি তুমি তো আমাকে টাকা দিয়ে কিনেছো


কিন্তু তুমি আমার কথা শুনতে টাকা দাওনি


তাই কাজ সেরে চলে যাও সে হাসতে হাসতে বলল


তুমি রাগ করেছ নাকি তুমি কি সবার সঙ্গে


এমন করো নাকি শুধু আমার সঙ্গেই আমি বিরক্ত


হয়ে বললাম আমি তোমার অপ্রযোজনীয় কথা


শুনতে চাই না তোমার কাজ করো আর চলে যাও


এরপর সে আবার বলল তুমি কি মনে করছো আমি


কেন তোমার কাছে এসেছি আমি বললাম যার জন্য


তুমি টাকা দিয়েছো সেই কাজ করার জন্য সে


হাসি দিয়ে বলল আমি তো শুধু সে এসে বলল


তোমার সঙ্গে একটু কথা বলতে এসেছি আর কিছু


নয় তোমার চোখে অনেক বেদনা দেখেছি তোমাকে


দেখে আমার মনে হলো তোমাকে আরো ভালোভাবে


জানা উচিত। এটা বলেই সে হেসে উঠল। আমি


বললাম, তাহলে এখানে কেউ কি হৃদয়ের কথা


শুনে? সে বলল, কেন নয়? তারপর সে আমাকে


জিজ্ঞেস করল, বলতো তুমি কি ইচ্ছা করে


এখানে এসেছো? নাকি কোন বাধাবাধকতার কারণে?


আমি শান্ত স্বরে বললাম, আমার ইচ্ছায় নয়।


আমার ভাগ্য আমাকে এখানে টেনে এনেছে। এরপর


আমি আমার জীবনের পুরো গল্প তাকে জানালাম।”


আমরা কথা বলতে বলতে রাত কেটে গেল। ভোর হলে


সে বলল আবার আসবো এবং চলে গেল। তার চলে


যাওয়ার সময় আমি শুধু মুচকি হাসলাম। এই


ঘটনাটি এক সপ্তাহ আগের। একদিন আমি আমার


ঘরে বসেছিলাম তখন সে আবার এল। দরজা বন্ধ


করে সে আমাকে দেখল। আমি বললাম, তাহলে


সেদিন কিছু ইচ্ছে ছিল না। আর আজ পুরো


প্রস্তুতি নিয়ে এসেছো সে হেসে বলল, আজ


আমি শুধু তোমার সঙ্গে কিছু সময় কাটাতে


চাই। আমি কি তোমার কোলে মাথা রেখে একটু


শুতে পারি আমি বললাম অবশ্যই পারো এতে


অনুমতির কি প্রয়োজন তুমি তো এর জন্য


মূল্য দিয়েছো সে আমার কথার মাঝখানে হাত


তুলে বলল থাক আর বলো না তোমার শুধু


মূল্যটাই চোখে পড়ে আমার চোখে তাকিয়ে


দেখো আমি কি শুধুই একজন ক্রেতা সে আমাকে


বলল তোমার কাছে আমি আসি কারণ আমি সত্যিই


তোমাকে ভালোবাসি আমি তোমার জন্য কিছু


অনুভব করি যা আমি আর কাউকে কখনো অনুভব


করিনি আমি নীরব হয়ে গেলাম। তারপর সে


সরাসরি বলল, আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।


তুমি কি আমার সঙ্গে থাকতে রাজি? তার


প্রস্তাব শুনে আমি কিছুটা অবাক হলেও মনে


মনে খুশি হলাম। কোথাও যেন তার জন্য আমার


মনের ভেতরে একটি জায়গা তৈরি হয়ে


গিয়েছিল। তাই আমি সম্মতি জানালাম। সে


বলল, তুমি যদি আমার পাশে থাকো। তবে আমি


তোমাকে এখান থেকে মুক্ত করতে চাই। আমি


বললাম, এখান থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ নয়।


তুমি তো দেখছো এখানে কত বড় বড় দেহরক্ষী


রয়েছে তারা আমাকে মারতে পিচপা হবে না সে


আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলল তুমি চিন্তা করো


না আমি তোমাকে যে কোন মূল্যে এখান থেকে


বের করব এরপর সে চলে গেল এক সপ্তাহ কেটে


গেল কিন্তু তার কোন খবর পেলাম না আমি


চিন্তিত হয়ে পড়লাম একদিন আমি ঘরে


বসেছিলাম তখন বাইরে হঠাৎ হইচই শোনা গেল


আমি বাইরে গিয়ে দেখি পুলিশ সবদিক থেকে


জায়গাটা ঘিরে রেখেছে আমি ঘাবড়ে গেলাম


ঠিক তখনই পুলিশের সঙ্গে সেই ছেলেটিকে


দেখলাম। সে আমার দিকে এগিয়ে এসে বলল, আমি


পুলিশকে নিয়ে এসেছি। আমি বিস্মিত হয়ে


জিজ্ঞেস করলাম, তুমি এটা কেন করলে? সে


শান্ত গলায় বলল, তুমি ভয় পেও না। আমি সব


ঠিক করে ফেলব। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই


পুলিশ প্রধান মিনার এবং তার লোকদের আটক


করল। পুলিশ এসে মিনা এবং তার সহযোগীদের


গ্রেপ্তার করল। তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া


হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা নিজেদের


সব অপরাধ স্বীকার করল। এখানে অনেক মেয়ে


ছিল যারা বাধ্য হয়ে এই কাজ করছিল। ঈশান


আমাকে আগে থেকেই বলেছিল তুমি পুলিশকে


সবকিছু সত্যি বলবে। আমি মাথা নেড়ে সম্মতি


জানালাম। এরপর সে আমার হাত ধরে পুলিশ


অফিসারের কাছে নিয়ে গেল। ঈশান বলল, এই


মেয়েটিকে আমি এখান থেকে মুক্ত করতে চাই


এবং নিজের জীবনের অংশ করতে চাই। পুলিশ


অফিসার জিজ্ঞাসা করল তুমি কি নিশ্চিত যে


তুমি এই মেয়েটিকে এখান থেকে বের করে অন্য


কোথাও নিয়ে গিয়ে কিছু খারাপ কাজে জড়াবে


না তুমি কি এর সঙ্গে বিয়ে করতে চাও ঈশান


স্পষ্টভাবে বলল হ্যাঁ আমি এটাই চাই আমি এই


মেয়েটিকে ভালোবাসি এবং এর সঙ্গেই আমি


বিয়ে করব পুলিশ এরপর আমার দিকে তাকিয়ে


জিজ্ঞাসা করল তোমার মতো কি আমি তাদের আমার


পুরো গল্প জানালাম এবং বললাম আমি ওর সঙ্গে


বিয়ে করতে প্রস্তুত পুলিশ অফিসার বললেন


এটি খুবই খুবই ভালো ব্যাপার। এখানে অনেক


মেয়ে আছে। যারা নিজের ইচ্ছায় নয় বাধ্য


হয়ে এই কাজ করছে। আমরা তাদের সবার সঙ্গে


কথা বলবো এবং তাদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে


দেবো। যারা এখান থেকে চলে যেতে চায় তারা


যেতে পারবে। যারা থাকতে চায় তারা এখানেই


থাকতে পারবে। এরপর ঈশান আমার হাত ধরে বলল,


চলো এখান থেকে বেরিয়ে যাই। সেই দিনটির পর


আমি পুরোপুরি এই অভিশপ্ত জায়গা থেকে


মুক্তি পেলাম। আমি এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন


আর আমার নতুন জীবনের শুরু হলো ঈশানুর


সঙ্গে আমার নতুন জীবনের শুরু নিয়ে আমি


খুবই উত্তেজিত ছিলাম পরের দিনই আমাদের


বিয়ে সম্পন্ন হলো আমরা একসঙ্গে খুশিতে


দিন কাটাতে লাগলাম একদিন ঈশান আমাকে বলল


আমি তোমার সঙ্গে আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর


পরিচয় করাতে চাই সে আমার জীবনের খুব


কাছের একজন মানুষ ঈশানও সেই বন্ধু ছিল একা


তার জীবনে কেউ ছিল না শুধু একটি বোন ছিল


কিন্তু সে অনেক আগে আগেই হারিয়ে


গিয়েছিল। তার ভাই অনেক চেষ্টা করেও তাকে


খুঁজে পায়নি। আমি ঈশানকে বললাম, কোন


অসুবিধা নেই। তুমি তোমার বন্ধুকে বাড়িতে


নিয়ে এসো। আমি প্রার্থনা করব যেন তার


হারিয়ে যাওয়া বোনকে সে খুঁজে পায়। এরপর


ঈশান তার বন্ধুকে আমাদের বাড়িতে আমন্ত্রণ


জানালো। আমি মনে মনে আশা করলাম আমাদের


সঙ্গে সময় কাটিয়ে তার মনে শান্তি আসবে


এবং আমরা তার জীবনে কিছুটা সুখ আনতে পারব।


আমি সবসময় প্রার্থনা করতাম যেন তার


হারিয়ে যাওয়া বোন তাকে দ্রুত খুঁজে


পায়। পরের দিন ঈশান তার বন্ধুর সাথে


বাড়ি এল। আমি যখন তার বন্ধুকে দেখলাম তখন


আমার চোখ বিশ্বয়ে বড় হয়ে গেল এবং চোখ


থেকে জল গড়িয়ে পড়ল। আমি হতবাক হয়ে


গেলাম কারণ সেই ব্যক্তি আর কেউ নয় আমার


নিজের ভাই। সে শহরে কাজের জন্য গিয়েছিল


এবং আমাকে দেখে সে আমাকে জড়িয়ে ধরল।


আমরা দুই ভাইবোন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে


কান্নায় ভেঙে পড়লাম। সে বলল আমি তোমাকে


সর্বত্র খুঁজেছি। মাসিকে কতবার জিজ্ঞাসা


করেছি কিন্তু সে কিছুই বলেনি। শুধু বল


তুমি কোথায় যেন হারিয়ে গেছো। আমি তখন


তাকে আমার পুরো পরিস্থিতি বললাম। আমার ভাই


নিজেকে দোষ দিতে শুরু করলো এবং বলল, আমাকে


তোমাকে ছেড়ে যেতেই উচিত ছিল না। কিন্তু


আমি তাকে বোঝালাম, ভাই, যা হয়ে গেছে তা


ভুলে যাও। এখন ঈশান আমার জীবন। আর আমি তার


সাথে খুব সুখে আছি। আমার ভাই আমার মাথায়


হাত বুলিয়ে দিল এবং তারপর ঈশানকেও


জড়িয়ে ধরল আমাদের বিয়ের এক বছর


পেরিয়েছিল


এবং একদিন আমাদের একটি ছেলে হলো আমি তার


নাম রাখলাম পার্থ এখন আমি আমার ছেলে এবং


স্বামীর সাথে খুব সুখে আছি এরপর আমি আমার


ভাইয়ের বিয়ে করিয়ে দিলাম আমার সেই


বান্ধবী বৈশালীর সাথে বৈশালী আমার ভাইয়ের


চেয়ে পাঁচ বছরের বড় ছিল কিন্তু তাও আমার


ভাই তাকে জীবনের সঙ্গী হিসেবে মেনে নিল


এখন আমরা চারজন একসাথে খুব সুখে ও আনন্দে


দিন কাটাই। আমাদের জীবনে শুধুই সুখ আর


সুখ। বন্ধুরা এই ছিল আজকের গল্প। গল্পটি


কেমন লাগলো জানাতে অবশ্যই কমেন্ট করুন। আর


যদি আপনি আমাদের চ্যানেলে নতুন হয়ে থাকেন


তাহলে আমাদের ভিডিওটি লাইক, শেয়ার ও


সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন।



Comments

Popular posts from this blog

ভাই বোনের ওপেন ছুদা-ছুদি

ভাই বোনের আপন ছোট ভাই আমাকে চুদলো

বৃষ্টির রাতে দুধ গুলো আপেলের মতো খাচ্ছিলো