বাবার বন্ধু বড় বড় দুদু দেখে ছুদলো



আমি সবসময় একটু বেশি বয়সের পুরুষদের


প্রতি আকৃষ্ট হতাম আর আমার মন বাবার এক


বন্ধুর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল আমি


তাকে মন থেকে ভালোবেসেছিলাম


তার বয়স আনুমানিক 33 বা 35 বছর হবে নাম


ছিল কুনাাল তার শক্তপক্ত গড়ন আর


আত্মবিশ্বাসী চেহারা আমাকে এক বিশেষ


অনুভূতির মধ্যে আবদ্ধ করেছিল মনে হতো তার


উপস্থিতিতে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত


এবং আমি নিরাপদ বোধ করতাম সেই সময় আমার


বয়স ছিল কেবলমাত্র 20 বছর। আর আমি ছিলাম


বাবার খুব প্রিয় মেয়ে, বাবা আমাকে


সবসময় ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখেছিলেন।


যদিও তখন 20 বছর বয়স, কিন্তু মনটা ছিল


এখনো সরল এবং নিষ্পাপ। কিন্তু একদিন এমন


একটা ঘটনা ঘটলো, যা আমার জীবনকে পুরো


পাল্টে দিল। হঠাৎ করেই মনে হলো, আমি যেন


20 থেকে এক লাফে 25 বছর বয়সের হয়ে গেছি।


আমার জীবনে এমন এক সময় এল যখন আমি নিজের


থেকে আরো বড় হতে শুরু করলাম বিশেষ করে


ভালোবাসার অনুভূতির মধ্যে পড়ে আমি বাবার


এক বন্ধুর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলাম


যার বয়স ছিল 33 বছর হয়তো এটি ছিল আমার


অপরিপক্ষ বয়সের আবেগ যেটা সামলাতে আমি


ব্যর্থ হয়েছিলাম কিংবা বলা যায় সেটিই


আমার প্রথম ভালোবাসা ছিল তিনি বয়সে


অনেকটাই বড় ছিলেন। কিন্তু আমার হৃদয়ের


আবেগকে কিভাবে দমন করতাম। তাকে দেখলেই


হৃদস্পন্দন বেড়ে যেত। মনে হতো যেন ভিতরে


এক প্রবল ঝড় বইছে। মনে হতো এই মানুষটির


সাথেই আমার ভবিষ্যৎটা জড়িয়ে আছে। আমি


বুঝতে পারলাম কুনাালকে আর নিজের কাছ থেকে


দূরে সরিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই সে


দিন-রাতে আমি তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে


বন্ধুরা আজকের গল্পটা স্পেশাল। তাই কেউ


মিস করো না। দয়া করে গল্পগুলো ভালো লাগলে


ভিডিওটি লাইক, শেয়ার এবং চ্যানেলটি


সাবস্ক্রাইব করো প্লিজ। আমার নাম তানিয়া।


বয়স তখন কমই ছিল। আমি দেখতে অনেক সুন্দর


ছিলাম। গায়ের রং ছিল ফরসা। যে কেউ আমাকে


দেখলে মগ্ধ হয়ে যেত। বাবা ছিলেন একজন সফল


ব্যবসায়ী এবং কুনাাল কাকু ছিলেন বাবার


ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ব্যবসায়িক সঙ্গী। তাই


তিনি প্রায়ই আমাদের বাড়িতে আসতেন


সেদিনের কথাই বলছি। যেদিন প্রথম আমার


বাবার সাথে দেখা হলো কুনাাল কাকুর। বাবা


তখন মজা করে বললেন, এই হলো আমার ছোট্ট


পাখি। আমার মেয়ে তানিয়া আমি তো কুনাাল


কাকুর ব্যক্তিত্ব দেখে হতবাক হয়ে


গিয়েছিলাম কোথাও থেকেই তিনি আমার বাবার


সমবয়সী বলে মনে হচ্ছিলেন না বাবার বয়স


ছিল প্রায় 40 42 আর কুনাাল কাকুর বয়সও


তেমনিই হওয়া উচিত ছিল কিন্তু তিনি তার


বয়সের তুলনায় অনেক ছোট দেখাচ্ছিলেন তার


সুঠাম গরম দেখে আমি বিশ্বয় তাকিয়ে রইলাম


বাবা বললেন তানিয়া কাকুকে নমস্কার করো


আমি নমস্কার করেছিলাম কিন্তু তাকে কাকু


বলতে পারিনি আসলে কিছুই বলতে পারছিলাম না।


শুধু চুপচাপ তাকিয়েই রইলাম। তখন তিনি


মুচকি হেসে বললেন, তানিয়া কি হলো? কিছু


বলতে চাও কি? আমি কি বলব বুঝতে পারছিলাম


না। কিন্তু তার মেয়ে বলা আমার মনে কেমন


যেন লাগলো। কেন জানিনা তার মুখ থেকে মেয়ে


শুনে ভালো লাগছিল না। সেদিন আমি চুপচাপ


ঘরে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেইদিন থেকেই


কুনাাল কাকুর প্রতি আমার একটা অন্যরকম


অনুভূতি কাজ করতে শুরু করেছিল।


তিনি এমন একজন আকর্ষণীয় মানুষ ছিলেন যাকে


দেখে তরুণরাও লজ্জা পেত। এরপর থেকে আমার


দিন-রাত তার কথা ভাবতে থাকলাম। আমি


প্রায়ই দেখতাম কখনো কুনাাল কাকু আমাদের


বাড়িতে আসতেন আবার কখনো বাবার সাথে অফিসে


আমি যাওয়ার বায়না করতাম। যাতে তার সাথে


দেখা হয়। নিজের এই অনুভূতির জন্য আমি


নিজেই অবাক হতাম। ধীরে ধীরে নিজের প্রতি


আরো বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করলাম। কিন্তু


তিনি যখনই আমাদের বাড়িতে আসতেন খুব


স্বাভাবিকভাবেই থাকতেন বাবার সাথে কথায়


ব্যস্ত থাকতেন কাজ নিয়ে আমার দিকে


তাকাতেনও না যদিও আমি নানা অজুহাতে তার


কাছে যাওয়ার চেষ্টা করতাম কিন্তু তিনি


সবসময় আমার পড়াশোনা নিয়ে কথা বলতেন তার


সেই আচরণ আমার একদমই ভালো লাগতো না তিনি


আমাকে ছোট বাচ্চার মতো ট্রিট করতেন আমি


মাঝে মাঝে সাজগোজ করে তার সামনে আসতাম


বিভিন্ন কথা বলতাম


তিনি আমাকে ছোট বাচ্চা মনে করে আমার


কথাগুলোকে হাসি দিয়ে উড়িয়ে দিতেন একদিন


আমি খুব অস্থির ছিলাম কারণ আট দিন হয়ে


গিয়েছিল কিন্তু তার সাথে আমার দেখা হয়নি


তাই বাধ্য হয়ে আমি তার অফিসে চলে গেলাম


তিনি আমাকে দেখে বললেন তুমি আমার কেবিনে


বসে থাকো না হলে বোর হয়ে যাবে আমি তার


কথামতো কেবিনে গিয়ে বসে পড়লাম কিছুক্ষণ


পর তিনি এলেন আর তাকে দেখেই যেন আমার মন


শান্ত হয়ে গেল আমি চুপচাপ তাকে দেখতেই


থাকলাম তখন তিনি মুচকি হেসে বললেন কি হলো


তানিয়া কোন কাজে এসেছো নাকি কি জন্য দেখা


করতে এলে কিন্তু আমি তার কোন প্রশ্নের


উত্তর না দিয়ে সরাসরি বললাম আপনাকে আমার


খুব ভালো লাগে নিজের মনের কথাটা বলে দিলাম


আমি আমার মনের কথা জানিয়ে দিয়েছিলাম


কিন্তু মনে হলো তিনি হয়তো আমার কথার


গভীরতা বুঝতে পারেননি তিনি শুধু হেসে


বললেন তুমিও আমাকে খুব ভালো লাগো তুমি খুব


মিষ্টি কথায় বলে মানুষের ভাষার চেয়ে তার


ভঙ্গিমা অনেক কিছু বলে দেয়া তখনই বুঝতে


পেরেছে ছিলাম। তিনি আমার মনের কথা বুঝতে


পারেননি এবং তার বলা কথাগুলিও কেবল আদরের


ছিল ভালোবাসার নয়। হয়তো তিনি আমাকে ছোট


একটি মেয়ের মতোই দেখছিলেন কিন্তু এই


ছোট্ট মেয়েটি তার ভালোবাসায় পুরোপুরি


মগ্ন হয়ে পড়েছিল। আমি তাকে বোঝাতে


পারছিলাম না যে আমি তাকে কতটা ভালোবাসি।


আমি যেন কোন কিছুতেই আর পিছপা হতে


চাইছিলাম না। একদিন এই কথা আমি আমার বাবার


সাথে শেয়ার করলাম। কারণ বাবাই ছিলেন আমার


জীবনে একমাত্র ভর্ষা। আমার মা বহু আগেই


মারা গিয়েছিলেন। আমি বাবার একমাত্র মেয়ে


ছিলাম আর আজ পর্যন্ত তিনি আমার কোন কথাই


না করেননি। আমি যা চেয়েছি তিনি সবই করে


দিয়েছেন। এমনকি আমি যদি আকাশের চাঁদও


চাইতাম। মনে হয় সেটাও এনে দিতেন। কিন্তু


সেদিন যখন আমি বাবাকে বললাম, বাবা আমি


আপনার বন্ধু কুনাালকে পছন্দ করি এবং আমি


তাকে বিয়ে করতে চাই। বাবার মুখ দেখে মনে


হলো তিনি যেন অবাক হয়ে গেলেন। বিশ্বাস


করতে পারছিলেন না যে আমি এমন কিছু বলেছি।


আমার কথায় তিনি রেগে গিয়ে বললেন তুমি কি


মজা করছো? আমি জবাব দিলাম। না বাবা আমি


কোন মজা করছি না। আমি সত্যিই কুনাালের


সাথে বিয়ে করতে চাই এবং তার সাথে সংসার


করতে চাই। আমার এই কথা শুনে বাবা হতবাক


হয়ে গেলেন কারণ তার জীবনে আমি ছাড়া আর


কেউ ছিল না। তিনি সবকিছুই আমার জন্য


করতেন। যখন আপনার নিজের সন্তান এমন কিছু


বলে যে সে তার জীবন শেষ করে দেবে। তখন


একজন পিতার মন কিভাবে ভেঙে যায় তা আপনি


কল্পনা করতে পারেন। তবুও বাবা আমাকে


বোঝানোর চেষ্টা করলেন। তার মনে হলো হয়তো


এটা আমার মাথায় সাময়িক একটা বাতিক। আমি


আসলে এমন কিছু করবো না। কিন্তু যখন আমি


দুই-নতিন দিন ধরে কিছু খাইনি, তখন একদিন


আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। বাবা তাড়াতাড়ি


আমাকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গেলেন।


ডাক্তার বললেন, আপনার মেয়ের অবস্থা


গুরুতর হতে পারে। আপনি কেন ওকে খাওয়াতে


দিচ্ছেন না তাকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করুন।


এই কথা শোনার পর আমার বাবা খুবই চিন্তিত


হয়ে পড়লেন এবং বুঝতে পারলেন যে


ব্যাপারটা আসলেই গুরুতর।


তিনি আমাকে একবার ভালো করে বোঝালেন


আরেকবার রাগ দেখিয়ে বললেন তুমি যা


সিদ্ধান্ত নিয়েছো সেটা একদমই ঠিক নয়


তোমার কি হয়েছে কেন তুমি এতদূর পর্যন্ত


পাগলামি করে ফেলছো তোমার বয়স এখনো এসব


বিষয়ের জন্য নয় তুমি মাত্র 20 বছরের আর


এর মধ্যেই তুমি এসব ভালোবাসার বিষয়ে


চিন্তা করতে শুরু করে দিয়েছো বাবা আরো


বললেন ঠিক আছে যদি তোমার বয়সের কারো কথা


বলতে তাহলে একটা কথা ছিল কিন্তু তুমি যাকে


নিয়ে কথা বলছো সে কুনাাল যার বয়স 33 বা


35 বছরের মত তার বয়স তোমার থেকে


দ্বিগুণেরও বেশি বাবা আমাকে বোঝাতে শুরু


করলেন কুনাালের বয়স তোমার থেকে অনেক বেশি


তুমি কখনোই তার সঙ্গে সুখী হতে পারবে না


আমার তো মনে হচ্ছে তুমি একদম পাগল হয়ে


গেছো আমার চোখে জল এসে গিয়েছিল আর আমি


কাঁদতে কাঁদতে বললাম বাবা আমি কুনাালকেই


বিয়ে করতে চাই ওর ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো


না যদি আমার বিয়ে ওর সঙ্গে না করাও তাহলে


আমি কি করতে পারি তা তুমি নিজেই দেখতে


পাবে বাবা তখন ব্যাপারটা বোঝেন কারণ তিনি


জীবনের অনেক কিছু দেখেছেন। তিনি কুনাাল


কাকুকে সব খুলে বলেন আর কুনাাল ও খুব অবাক


হলেন। তিনিও সরাসরি না করে দেন। কুনাাল


কাকু বলেন, তুমি কি বলছো? সে তো একেবারে


ছোট মেয়ে। যদি আমার মেয়ে থাকতো, তারও এই


বয়স হতো। আমি কিভাবে ওকে আমার জীবনের


সঙ্গী হিসেবে মেনে নিতে পারি? আমার তো মনে


হচ্ছে তুমি আর তোমার মেয়ের উপর দিয়ে কি


ঝড় যাচ্ছে তা বুঝতে পারছো না কেন তুমি


এমন অসহায় অবস্থায় এসে পড়লে বাবা তখন


বলেন অসহায় তো আমি হয়েই গেছি তাই তোমার


কাছে এসেছি তুমি বুদ্ধিমান পরিণত তুমি এখন


ওকে বিয়ে করে নাও আমার মেয়ের জীবন


বাঁচানোর জন্য তোমার সাহায্য চাইছি হয়তো


সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওর মাথা থেকে এইসব


কিছু সরে যাবে তখন তুমি চাইলে আলাদা হতে


পারবে আর আমি ওর ওর বিয়ে কোন উপযুক্ত


ছেলের সঙ্গে দিয়ে দেবো। কিন্তু তার আগে


যদি ও নিজেকে কিছু করে বসে কিছু করে ফেললে


পরে আমি কি করব? মানুষ তো শুধু কথা বানাতে


থাকে। এসব কিছু কার জন্য? কার জন্য আমি এত


কিছু অর্জন করছি। যদি সেই বিশেষ মানুষটা


এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। তাহলে আমার


জীবনে কিছুই আর বাকি থাকবে না। আমার বাবার


জন্য তার বন্ধুকে বুঝিয়ে রাজি করানো সহজ


ছিল না। কিন্তু এবার ব্যাপারটা আমার বাবার


কাছেও পৌঁছে গিয়েছিল। তাই তিনিই ছিলেন


একমাত্র ব্যক্তি যিনি এটি করতে পারতেন।


যাই হোক কোনভাবে আমার বাবা সেই বন্ধুকে


রাজি করাতে সক্ষম হয়েছিলেন। সম্ভবত সেই


বন্ধুটিও ভেবেছিল, যদি তার অস্বীকারে আমি


বর কোন ভুল করে বসি, তাহলে সারাজীবন সে


নিজেকে দোষী মনে করবে।


কারণ তার জন্যই কারো জীবন শেষ হয়ে যেত।


শেষ পর্যন্ত সে রাজি হলো আর আমার সঙ্গে


তার বন্ধুত্ব আবার নতুন করে শুরু হলো।


বিয়ে হয়ে গেল আর আজ আমাদের বিবাহিত


জীবনের প্রথম রাত। আমি নবধুর সাজে আমার


ঘরে বসেছিলাম। কুনাালও আমার বাবার মতোই


ধনী ছিলেন কারণ তিনি আমার বাবার ব্যবসার


পার্টনার ছিলেন। তার আগে তিনি একবার বিয়ে


করেছিলেন। তবে সেই সম্পর্ক এক বছরের


মধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের কোন


সন্তানও হয়নি। যখন আমার বাবা আমাকে


বিদায় দিচ্ছিলেন তখন তিনি বলছিলেন তুমি


হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত নাওনি কিন্তু মনে


রেখো তোমার জন্য আমি সবসময় আছি যদি


কোনদিন তোমার মন বদলে যায় এবং এই সম্পর্ক


থেকে বেরিয়ে আসতে চাও তবে আমার কাছে ফিরে


এসো আমি জানতাম তিনি একজন পিতা তার মনে


অনেক কথা চলছিল তবে আমি তাকে কি বলতাম এখন


আমি তো কুনাালের সঙ্গেই আমার জীবন কাটানোর


সিদ্ধান্ত নিয়েছি কুনাাল শুধু আমার


স্বামী নয় তিনি আমার জীবনের প্রধান


প্রধান আশ্রয় হয়ে উঠেছেন। আমি তো একজন


নারী এবং আমরা নারীরা আমাদের স্বামীদের ঘর


থেকে শুধুমাত্র চূড়ান্ত বিদায় বের হই।


আমার বয়স বেশি না হলেও আমি মনে মনে ঠিক


করেছিলাম যে আমি কুনাালকে খুশি রাখার


সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। একজন ভালো স্ত্রী


হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করব যাতে তিনি একদিন


বুঝতে পারেন যে আমাকে বিয়ে করার


সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। সে ভেবেছিল এই


সিদ্ধান্তটাই তার জীবনের সবচেয়ে সঠিক


হবে। আমি কুনাালের অপেক্ষায় ছিলাম মনের


মধ্যে নানা রকম স্বপ্ন আর আশার জাল বুনে


তাকে ভাবলেই আমার ভিতরে এক অদ্ভুত


রোমাঞ্চের অনুভূতি তৈরি হতো হৃদয়ের


ধূপকানি যেন থামছিল না কিন্তু বিয়ের


প্রথম রাতেই এমন একটি ঘটনা ঘটলো যা আমাকে


পুরোপুরি অবাক করে দিয়েছিল যখন কুনাাল


ঘরে প্রবেশ করলেন আমি স্বরে গিয়ে বসে তার


দিকে তাকিয়ে ছিলাম যেন প্রথম কথাটি শোনার


অপেক্ষায় ভেতরে ভেতরে আশা করছিলাম তিনি


আমার ঘুমটা সরিয়ে আমাকে দেখে মুগ্ধ হবেন।


হয়তো প্রশংসা করবেন। তখন আমার বয়স কম ছিল।


আর নিজের সৌন্দর্য নিয়েই আমি মোহিত ছিলাম।


বিয়ের সাজে নিজেকে আরো আকর্ষণীয় লাগছিল।


কিন্তু কুনাাল যা বললেন তাতে আমার সব আশা


যেন মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। তিনি বললেন,


তুমি এখনো জেগে আছো কেন? আমি ভেবেছিলাম


তুমি ঘুমিয়ে পড়েছো। আমি হালকা হাসি দিয়ে


বললাম, কিভাবে ঘুমাই? আজ তো আমাদের বিয়ের


প্রথম রাত। আমি তোমার অপেক্ষায় ছিলাম না


চাইলেও আমার মুখ লজ্জায় রঙিন হয়ে উঠলো।


কিন্তু কুনাালের চোখে ছিল এক অদ্ভুত


কঠোরতা। কিছুক্ষণ নির্বে তাকিয়ে থেকে


তিনি বললেন, তোমার ইচ্ছের জোরেই এই বিয়ে


হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা এখানে


নাটকের মত সম্পর্কের অভিনয় করব। এসব ভুলে


যাও। আর এখন গিয়ে পোশাক বদলে বিশ্রাম


নাও। এই ঘর এখন থেকে তোমারই আমার ঘর উপরে।


কোন কিছু দরকার হলে জানিয়েও কুনাালের


কথায় আমি অবাক হয়ে গেলাম। হতাশা ভরা


কন্ঠে বললাম, আপনি কি বলছেন? আজকের রাত


আমাদের জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত হতে


পারতো যা আমরা চিরকাল মনে রাখতাম। আপনি কি


সত্যিই অন্য ঘরে যাচ্ছেন? অথচ নতুন


দম্পতির তো একই ঘরে থাকার কথা। আপনি এমন


ব্যবহার করছেন কেন? আমি তো আপনাকে


ভালোবাসি। তিনি গভীর শ্বাস ফেলে বললেন,


দেখো তোমার বাবাকে আমি কখনো এতটা অসহায়


দেখিনি। সে নিজেই নিরুপায় ছিল আর তুমি


তাকে আরো বেশি নিরুপায় করে তুলেছিলে


তোমার কারণে এই বিয়েটা হয়েছে তার কথা


শুনে মনে হল তিনি কিছু বলার চেষ্টা


করছিলেন যেন আমাকে বুঝাতে চাইছিলেন যে এই


পরিস্থিতি তার জন্য সহজ নয় কিন্তু শেষমেষ


তিনি বললেন যদি তুমি সত্যিই একটা বুঝদার


হতে তবে হয়তো আজকের রাতটা এমন হতো না


এখানে বসে থাকো না ঘুমাতে যাও তিনি বললেন


এবং আমার উত্তর শোনার আগেই চলে গেলেন। তার


ঘর উপরের তলা ছিল। সকালে একজন কাজের লোক


আমাকে জানালেন সাহেবের ঘর তো উপরের দিকে


উনি আমাদের বলেছিলেন নিচে একটি ঘর


পরিষ্কার করে দিতে তাই আমরা এই ঘরটি


সাজিয়ে রেখেছিলাম তবে এখনো বুঝতে পারছি


না সাহেব কার সাথে বিয়ে করেছেন আর কেন


আপনার ঘর নিচে রাখা হয়েছে কিন্তু উনি যা


বলেন আমরা সেটাই করি আমার স্বপ্ন যেন


মুহূর্তেই ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল মনে হলো


সব আশা মুছে গেল এমন অবস্থায় কিভাবে


জীবনের পথে চলবো কিন্তু বাবাকে তো সব কিছু


বলা সম্ভব নয়। কিছু কথা শুধু


স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা


উচিত। তাই তাকে কিছুই জানায়নি বরং


এমনভাবে আচরণ করলাম যেন আমি খুবই সুখী।


বাইরে থেকে সবাই মনে করল আমি খুশি। কিন্তু


বাস্তবের সেই গল্প অন্যরকম।


আমি সবসময় ভাবতাম আজ না হয় কাল আমি তাকে


নিজের করেই পাবো।


কারণ হয়তো সে আমাকে এখনো ছোট বাচ্চা মনে


করে আছে কারণ আমার বয়স তার থেকে অনেক কম


বলে হয়তো এমনটা সে ভাবছে আমার একজন


বান্ধবী ছিল যে অনেক আগে থেকেই বিবাহিত


আমি তাকে আমার সব কথা বললাম সে হেসে বলল


আচ্ছা তোমাকে তো একটু গাইড করতেই হবে শোনো


নিজেকে একটু বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং


পরিণতভাবে উপস্থাপন করো সবসময় সালোয়ার


কামিজ পড়ে থেকো না মাঝে মাঝে শাড়ি পড়ে


স্বামীর সামনে যাও দেখবে পরিবর্তন আসবে আর


হালকা সাজগোজ করতে ভুলবে না তাতে


পরিস্থিতি অনেক ভালো হবে তোমাকে একটু


পরিণতভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে আর


কথা বলার সময় আরো স্বচ্ছন্দভাবে কথা বলো


চুলটা খোপা করে বাঁধো যেন তোমাকে পরিণত


দেখায় সে এখনো তোমাকে ছোট ভাবছে তাই এমন


আচরণ তাই এমন আচরণ কিন্তু তোমাকে বুঝিয়ে


দিতে হবে যে তুমি আর ছোট নেই বান্ধবীর


কথাগুলো শুনে মনে হলো সে সঠিক বলেছে যেমন


কিছু ক্ষেত্রে স্বামীরা বয়সে বড় হলে


নিজেদের আকর্ষণীয় রাখতে চুলে রং করে।


তেমনি আমিও বয়সে তরুণী হলেও নিজেকে


কিছুটা পরিণতভাবে উপস্থাপন করা উচিত। যাতে


সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় থাকে। বান্ধবীর


পরামর্শ মেনে আমি শপিং এ গেলাম। সুন্দর


কিছু শাড়ি কিনলাম। সন্ধ্যায় নিজেকে


সাজিয়ে গুছিয়ে রান্না করে স্বামীর


অপেক্ষায় বসে থাকলাম। তিনি ঘরে ঢুকতেই


আমার মুখে এক মৃদু হাসি ফুটে উঠলো। আমি


বললাম শুনুন খাবার তৈরি আছে আপনি হাত মুখ


ধুয়ে নিন তারপর আসুন এসে খেতে বসুন আমার


এই কথায় তিনি কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন


তার মুখে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞ ফুটে উঠছিল


তিনি নিজের পকেট থেকে একটি চকলেট বের করে


আমার হাতে দিলেন আর তারপর হাসতে শুরু


করলেন তিনি বললেন বড় বড় কথা বললেই কেউ


বড় হয়ে যায় না তুমি কথায় অনেক বড় বড়


কথা বলো এখন কাজেও কিছুটা বড় হতে শিখেছো


তবে এটা ভুলোনা আমার কাছে তুমি এখনো সেই


ছোট্ট মেয়েটি আছো। আমি চকলেটটি হাতে


নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। আর মনে মনে


ভাবলাম জীবনটা আসলে এমনই যতই বড় হই না


কেন। প্রিয়জনের কাছে আমরা সবসময় ছোট


থেকে যাই। আমি কান্নায় ভেঙে পড়লাম। বুক


ফেটে কাঁদতে শুরু করলাম। নিজের ঘরে এসে


তাড়াতাড়ি চুলের খোপা খুলে দিলাম


শাড়িটাও বদলে ফেললাম। আয়নার সামনে


দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখতে লাগলাম আর


ভাবছিলাম ভালোবাসা কি সত্যি এত বড় অপরাধ।


সবাই তো বলে ভালোবাসা বয়সের হিসাব করে না


তাহলে আমি কি এমন ভুল করলাম যে এই মানুষটি


আমার সাথে এমন আচরণ করছে এই কষ্টের কথা


কারো সাথে শেয়ার করতে পারছিলাম না মনে


হচ্ছিল আমি গভীর সমস্যায় পড়ে গেছি


নিজেকে নিয়ে কি করব সেটাই বুঝতে পারছিলাম


না একদিন তো সীমা ছাড়িয়ে গেল আমি শুনতে


পেলাম তিনি কারো সাথে ফোনে কথা বলছিলেন আর


সেই কথায় আমার নাম উঠে আসছিল তিনি


বলছিলেন পুরোদমে শিশু মনে হয় এমন কিছু


কথা যা আমার আত্মবিশ্বাস কে ভেঙে দিচ্ছিল


সে তো একদম ছোট মেয়ের মত আচরণ করে তার


চিন্তাভাবনাও শিশুর মতো আমি কিভাবে তাকে


আমার স্ত্রী হিসেবে মেনে নেব এটা সবই তার


বাবার জোড়াজোড়ির ফল না হলে আমি তার


মেয়ের সাথে বিয়ে করতাম না তার বাবা যদি


আমার সাথে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ভেঙে


দিত তাহলে আমাদের নতুন প্রকল্প বন্ধ হয়ে


যেত তাই বাধ্য হয়ে আমাকে এই বিয়ে করতে


হয়েছে নিজের ইচ্ছেতে নয় বরং পরিস্থিতির


চাপে পড়ে এইসব কিছু করতে হল এই কথাগুলো


শুনে আমার মনে হলো তার বিয়ে করার কারণ


ভালোবাসা নয় বরং ব্যবসায়িক স্বার্থ ছিল।


সে আমার বাবার সাথে নতুন ব্যবসায় শুরু


করতে চেয়েছিল তাই আমাকে বিয়ে করার


সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমার জন্য সে শুধু এক


ধরনের দায়িত্ব মনে করতো একটি প্রয়োজনের


মতো যা তাকে পূরণ করতে হয়েছিল। বলা হয়


যখন আপনি যার সাথে ভালোবাসা করেন তার


সম্পর্কে খারাপ কিছু শুনেও আপনার ভালোবাসা


শেষ হয় না আমার ক্ষেত্রেও তাই হলো


ভালোবাসা মুছে যায়নি কিন্তু বাস্তবতা


সম্পর্কে আমার চোখ খুলে গিয়েছিল আমি


বুঝতে পেরেছিলাম এই মানুষটি যেমন বাইরে


থেকে দেখায় ভিতরে তেমন নয় সে আমার


বাবাকে বলেছিল আমি তোমার মেয়ের জীবন


বাঁচানোর জন্যই তাকে বিয়ে করছি না হলে


তুমি নিজেই বলেছিলে যে সে নিজের ক্ষতি


করতে পারে কিন্তু আমার জন্য এটি একটি কঠিন


সিদ্ধান্ত। আমার বাবা তখন তাকে


প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমি সারাজীবন


তোমার পাশে থাকবো। সে আমার বাবাকে তার


ঋণের ভারে চাপা দিতে চেয়েছিল, যেন বাবাকে


তার দয়া দেখিয়ে যে কোন সিদ্ধান্ত সহজেই


মেনে নিতে বাধ্য করতে পারে। কিছুদিন পরেই


আমি বুঝতে পারলাম যে নতুন ব্যবসায় সে


নিজেকে 75 শতাংশের মালিক বানিয়ে নিয়েছে


এবং আমার বাবাকে মাত্র 25 শতাংশ দিয়েছে।


কারণ হিসেবে বলেছে এখন তো আমি তোমার


জামাই। এটা ঘরের ব্যাপার। আমার হৃদয়ে


তখনো কুনাালের প্রতি ভালোবাসা ছিল কিন্তু


আমি বুঝতে পারছিলাম যে আমার ভালোবাসাকে


এখন একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমি সেই


সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সেটা এমন ছিল যে যদি


এখনই সবাইকে বলি তবে সবাই অবাক হয়ে যাবে


একদিন আমি তার সামনে গিয়ে বসলাম এবং


বললাম আপনি কি সত্যিই আমাকে স্ত্রী হিসেবে


মেনে নিতে রাজি আছেন সে তো ব্যবসার লোক


আমার সুরেও যেন ব্যবসার ছাপ ছিল সে হেসে


বলল এই প্রশ্নের উত্তর আমি কি দেয়ালে


লিখে দেব তুমি তুমি কি জানো না এখন চলে


যাও যা খুশি করো কিন্তু আমার জীবনের সাথে


তোমার খেলা সম্ভব নয় আমি বললাম আমি


আপনাকে একটি সুযোগ দিতে চাই সে তখন বলল


সুযোগ আমাদের সম্পর্কটা শুধু বাধ্যতার উপর


দাঁড়িয়ে আছে এর বেশি কিছু নয় এবং কখনো


হবে না হয়তো তোমার মনে হয় আমি তোমার


পছন্দের লোক হতে পারি কিন্তু তোমার বয়স


এখনো অনেক কম তুমি কি ভাবো যে যদি তুমি


কারো প্রতি ভালোবাসা অনুভব করো তবে সে


তোমার প্রতি একইভাবে ভালোবাসা অনুভব করবে


এমন কোন নিয়ম নেই যে সবাই তোমাকে


ভালোবাসবেই। তুমি তোমার বাবাকে মানসিকভাবে


চাপে ফেলেছিলে আর তিনি আমাকে চাপে


ফেলেছেন। এভাবেই তুমি আমার জীবনে ঢুকেছো।


কিন্তু তুমি কখনোই আমাকে জয় করতে পারবে


না। আমি তোমাকে কখনো স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ


করবো না। আর তোমাকে এটুকুই বলবো যে তোমার


মনে এমন কোন কল্পনা আনো না। তোমার মত


মানুষ আমি অনেক দেখেছি। আমি যখন চাই যার


সঙ্গে ইচ্ছা সম্পর্ক রাখতে পারি। তুমি কি


মনে করো আমার জীবনে মেয়েদের অভাব আছে তার


এমন কঠোর কথা শুনে আমার মন ভেঙে গেল চোখ


থেকে অস্ত্র ঝরছিল হয়তো আমার ভালোবাসায়


দুর্বল যদি আমার ভালোবাসা শক্তিশালী হতো


তবে আজ তুমি আমার পাশে থাকতে সে বলল তুমি


যে ভাবনা নিয়ে আছো এগুলো হয়তো কোন


সাধারণ গল্পের বই থেকে পড়েছো কিন্তু


বাস্তব জীবন এমন নয় আমার আর তোমার বয়সের


পার্থক্য বোঝো আর বাবার বাড়িতে ফিরে


যাওয়ার প্রস্তুতি নাও


নইলে তোমার পুরো জীবন এই বাড়িতে এমনই


কাটবে। তুমি এখনো তরুণ তোমার জীবন নষ্ট


করো না। সেই রাতে আমি অনেক কেঁদেছিলাম


এতটাই যে মনে হচ্ছিল যেন শেষবারের মতো


কাঁদছি। এরপর যেন আর এক ফোঁটা কান্নার


শক্তিও থাকবে না। মনটা খুব অশান্ত ছিল।


সকাল থেকে রাত হয়ে গেছে কিন্তু কুনাালকে


একবারও দেখিনি। কোথায় ছিল সে কিছুই


জানতাম না। কিছুক্ষণ পরে একজন কর্মচারী


এসে জানালো যে কুনাালের একটি ভয়াবহ


দুর্ঘটনা ঘটেছে আর সে এখন হাসপাতালে। এই


খবর শুনে আমার বুকটা একেবারে ধক করে উঠলো।


আমি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গেলাম এবং গিয়ে


দেখলাম ডাক্তার বললেন, তার অবস্থা খুবই


সংকটজনক।


শরীরের অর্ধেকটাই অকার্যকর হয়ে গেছে। পা


দুটো এখন আর কাজে আসবে না। সে আর কখনো


নিজের পায়ে হাঁটতে পারবে না। ডাক্তার


বললেন যে চিকিৎসা করা হলে হয়তো কিছুটা


উন্নতি হতে পারে কিন্তু খুব বেশি আশা নেই।


দুর্ঘটনা এতটাই গুরুতর ছিল যে পা দুটোতে


খুব বেশি আঘাত লেগেছে। কুনাালের অবস্থা


দেখে আমি অঝরে কেঁদেছিলাম। কিছুদিন আমি


হাসপাতালেই কাটালাম তার সঙ্গে। এরপর আমি


তাকে বাড়ি নিয়ে এলাম আমি নিজেই তার


দেখাশোনা শুরু করলাম আমি দিন-রাত তার যত্ন


নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম কুনাাল আমাকে এক


অদ্ভুত দৃষ্টিতে দেখতো কিন্তু কিছু বলতো


না আমি তার প্রতি ভালোবাসায় মগ্ন হয়ে


গিয়েছিলাম আর দিন-রাত এক করে তার সেবায়


লেগে থাকতাম প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার তার


পায়ে মালিশ করতাম আর তাকে ধরে হাঁটার


চেষ্টা করাতাম কুনাাল কখনো আমাকে কিছু


বলতো না কিন্তু মাঝে মাঝে তার চোখে জল চলে


আসতো যা সে তাড়াতাড়ি লুকি ফেলত। প্রায় ছ


মাস পর তার পায়ে একটু নড়াচড়া শুরু হয়।


একদিন সে নিজে থেকেই উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা


করল। এটা দেখে আমি খুশিতে চিৎকার করে


উঠলাম এবং দৌড়ে গিয়ে কুনাালের বুকে লেগে


গেলাম। এইবার কুনাাল আমাকে দূরে ঠেলে


দেয়নি। বরং আমাকে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরল।


সে বলতে শুরু করল, তানিয়া আমাকে ক্ষমা করে


দাও। আমি ভাবতাম তোমার ভালোবাসা কেবল


আবেগের তরুণ বয়সের ম। আমি মনে করেছিলাম


কয়েকদিনের মধ্যেই তোমার এই ভালোবাসা কমে


যাবে আর তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে। তাই


আমি কখনো তোমার সঙ্গে কোন সম্পর্ক গড়তে


চাইনি। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে তোমার মনে ভুল


ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করেছিলাম যেন তুমি


ভাবো আমার বিয়ে করার কারণ শুধুমাত্র


তোমার বাবার সঙ্গে ব্যবসার উন্নতি। কিন্তু


তবুও তুমি আমার প্রতি খারাপ মনোভাব পোষণ


করোনি। আমার কঠিন সময়েও তুমি পাশে ছিলে।


তানিয়া তোমার ভালোবাসার প্রতি আমি মুগ্ধ।


এই কথা বলতে বলতে কুনাাল আমার কপালে আলতো


করে একটি চুমু দিল। এতদিনের পরিশ্রমে


অবশেষে আমি সফল হলাম। কুনাালের ভালোবাসা


আমি অর্জন করলাম। কিন্তু কুনাাল বেশি সময়


দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না। সে বিছানায়


বসে পড়ল। তার পায়ে তখনো কিছুটা দুর্বলতা


ছিল। ধীরে ধীরে আমার ভালোবাসা আর যত্ন কাজ


করতে শুরু করল। একদিন কুনাাল নিজে নিজেই


উঠে দাঁড়ালো এবং হাঁটা শুরু করল। এটা


দেখে আমি এতটাই আনন্দিত হলাম যে আমার চোখে


জল এসে গেল। এমন পরিবর্তন দেখে ডাক্তাররাও


অবাক হয়ে গেলেন। এখন কুনাাল পুরোপুরি


সুস্থ। সেই রাতে রাতের খাবার খাওয়ার পর


আমি আমার ঘরে চলে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ কুনাাল


আমার হাত ধরল এবং বলল, তানিয়া এখন থেকে


তোমার জায়গা ওখানে নয় আমার ঘরে। তুমি আজ


থেকে আমার ঘরে থাকবে এই বলে সে আমার হাত


ধরে আমাকে তার ঘরে নিয়ে গেল ঘরে প্রবেশ


করতেই দেখি তাজা গোলাপের সুগন্ধ আমার নাকে


এল পুরো ঘরটি যেন নতুন বউয়ের মত সাজানো


ছিল আমি অবাক হয়ে কুনাালের দিকে তাকালাম


তার চোখে এক ধরনের গভীরতা ছিল আর তার


অভিপ্রায় বুঝে আমি লজ্জায় তার বুকে মুখ


লুকিয়ে ফেললাম সেও আমাকে তার বাহুতে


জড়িয়ে নিল সেই রাতে আমাদের জীবনের নতুন


অধ্যায় শুরু হলো


বিয়ের এক বছর পর কুনাাল আমার ভালোবাসা


গ্রহণ করল এবং আমাকে তার স্ত্রী হিসেবে


সম্মান দিল। কুনাাল আমি কুনাালের সঙ্গ


পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হলাম। ঘুমিয়ে থাকা


কুনাালের মুখে এক অদ্ভুত নির্দোষতার ছাপ


ছিল। আমি তার মুখের দিকে তাকালাম আর আমার


হৃদয় ভালোবাসায় ভরে গেল। আমি নিজেকে


প্রতিজ্ঞা করলাম সারাজীবন কুনাালের পাশে


থাকবো। এবং প্রার্থনা করলাম যেন প্রতিটি


জন্মে কুনাালের মত একজন সঙ্গী পাই। গল্পটা


কেমন লাগলো জানাতে ভুলবে না। আরো মজার


মজার রোমান্টিক গল্প শুনতে চাইলে ভিডিওটি


লাইক, শেয়ার এবং চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব


করতে এবং বেল আইকনটি ক্লিক করতে ভুলবে না।


ধন্যবাদ।



Comments

Popular posts from this blog

ভাই বোনের ওপেন ছুদা-ছুদি

ভাই বোনের আপন ছোট ভাই আমাকে চুদলো

বৃষ্টির রাতে দুধ গুলো আপেলের মতো খাচ্ছিলো